ছবি : সংগৃহীত
মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে।
কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে।
স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি।
সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়।
বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।
তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।
ছবি : সংগৃহীত
প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম কৌশলগত বোমারু বিমান। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
রুশ সামরিক বাহিনীর বরাতে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সেস’-এর একটি কমিশনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে জ্বলন্ত বিমান থেকে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
রাশিয়ার ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ সোভিয়েত আমলে তৈরি বিশাল আকারের একটি কৌশলগত বোমারু বিমান। এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন, নিক্ষেপ ও সরবরাহে সক্ষম। বিমানটি প্রথম আকাশে ওড়ে ১৯৫২ সালে এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বিমানটি এখনো রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে এবং নিয়মিত সামরিক মহড়ায় এটি ব্যবহার করা হয়।
রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের জুলাইয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিন্দা শহরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ‘আন্তোনভ এএন-২৪’ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা ৪৮ জনের সবাই নিহত হন।
এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি ‘মিল এমআই-৮’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই হেলিকপ্টারের অধিকাংশ আরোহী ছিলেন পর্যটক।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
বাংলাদেশের এক মন্ত্রী সম্প্রতি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) ঢাকা সফরের খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা হালনাগাদ খবর নেই।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আবারও জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের কোনো অধিকার বা এখতিয়ার নেই।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে ভারত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রকাশিত আইবিএসএ যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে।
ভারত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কোনো আলোচনা করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানে অটল রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ভারতের ছয়টি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে ১২টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত এসব নাবিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্প্রতি হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এসসিওতে নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
ঈদে ছুটি মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ায়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাষ্ট্রীয় ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মুসলিমদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এর আগে অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির আইনে দুই ঈদের পৃথক স্বীকৃতি ছিল না।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ শীর্ষক অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭ (এবি ২০১৭)-এ স্বাক্ষর করেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি বিলটি উত্থাপন করেন।
তবে এই স্বীকৃতির অর্থ ঈদের দিন ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি দপ্তর, স্কুল, আদালত, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে- এমন নয়। আইনে সরকারি ক্যালেন্ডারে ঈদকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মী, স্কুল জেলা ও কমিউনিটি কলেজের জন্য কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনকে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখকে ঈদুল আজহা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ঈদের তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো ইংরেজি তারিখের পরিবর্তে ইসলামি মাসের তারিখকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।
আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এটি মূলত বেসামরিক বা সরকারি ক্যালেন্ডারভিত্তিক স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আচার বা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না।
মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন আইনে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সেটিকে অনুমোদিত অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
ফলে ঈদের দিন ক্লাস, পরীক্ষা বা অন্য কোনো শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অনুপস্থিতির সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের দিন স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
তবে স্কুল বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক নয়। সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। একইভাবে কমিউনিটি কলেজগুলোও স্থানীয় চুক্তির মাধ্যমে ঈদের দিন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করতে পারবে।
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাট হ্যানি এবি ২০১৭ উত্থাপন করেন। বিভিন্ন কমিটির অনুমোদনের পর ২৬ মে অ্যাসেম্বলিতে বিলটি ৬৪-১ ভোটে পাস হয়।
পরে সিনেটের অনুমোদন এবং সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতির পর ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এতে স্বাক্ষর করেন।
আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন ও আইশা ওয়াহাবসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। কেয়ার-ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স এবং মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিলও বিলটির পক্ষে কাজ করেছে।
নতুন আইনের ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঈদের দিনের অনুপস্থিতির জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি হলো এবং সরকারি কর্মীদের জন্যও ঈদের স্বীকৃতি সরকারি কাঠামোয় যুক্ত হলো। স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয়ভাবে ঈদের দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে ঈদের স্বীকৃতি পাওয়ার পরও আদালত, সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি বা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সেটি বাংলাদেশে আসেনি। তবে কেন বাংলাদেশের ওই বিমানটিকে উড়তে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের দাবি, আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যে বিষয়টির কথা বলছে, সেটি মূলত ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত।
এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাকিস্তান বলেছে, বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।
কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। তখন পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয় বলে জানান রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
তবে রোসাটম জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হয়ে বছরের শেষ নাগাদ সব চালান সম্পন্ন করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।
আমেরিকা যখন ইরানের বিমান খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সাফল্য উদযাপন করছে, ইরান অপরদিকে দাবি করছে- তারা শুধু তেহরান থেকেই প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে আমেরিকা ইরানের পুরো বিমান খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, এ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে "অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ" করা। ওয়াশিংটন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল নিয়ম মেনে চলার জন্য।
এরপর বেসেন্ট ঘোষণা দেন, সারাবিশ্বে ইরানের সমস্ত এয়ারলাইন্সের "কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি তারা অবতরণ করে, তবে আপনি তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবেন না, অবতরণ পরিষেবা দিতে পারবেন না, এমনকি তাদের কাছে টিকিট বিক্রি পারবেন না- অন্যথায় আপনাকে ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে।'
মার্কিন এ পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে তেহরান সোমবার জানায়, তারা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তেহরানের ফ্লাইট অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর
তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনের দৈনিক গড় ফ্লাইট সংখ্যা (৮০ থেকে ৯০টি)-র তুলনায় এটি অনেক কম। ইরানের প্রধান দুটি এয়ারলাইন্স- জাতীয় পতাকাবাহী 'ইরাম এয়ার' এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন 'মাহান এয়ার' এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ৫টি মাহান এয়ার এবং ২টি ইরান এয়ার পরিচালনা করেছে। অথচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে তারা প্রত্যেকে গড়ে প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। এই পরিসংখ্যানটি বেসেন্টের দেওয়া তথ্যের (যিনি বলেছিলেন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে) চেয়ে বেশি, তবে তেহরান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি করা ৬০টি ফ্লাইটের চেয়ে কম।
বিমানবন্দরের পরিচালককে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে যে, 'এখনও ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে।'
চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করছে তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক মিত্র বেইজিং মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাকে "অবৈধ এবং একপাক্ষিক" হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মাহান এয়ারের ফ্লাইটগুলো আগের মতোই চীনের বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াত বজায় রেখেছে।
রাশিয়া এবং পাকিস্তানেও ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে, যদিও কোনো দেশই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
তবে মাহান এয়ার জানিয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা তুরস্কে তাদের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে। তা সত্ত্বেও জাতীয় পতাকাবাহী ইরান এয়ার ইস্তাম্বুলে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে, পাশাপাশি ইরানের আরও কয়েকটি ছোট এয়ারলাইন্স তুরস্কের অন্যান্য শহরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ এবং মালয়েশিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রয়োগ করা হয়নি, যেখানে মূলত ইরানের ছোট এয়ারলাইন্সগুলো সেবা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, তা তারা এখনো ঘোষণা করেনি।
গাল্ফ বা পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ ইউরোপ, এশিয়া কিংবা আফ্রিকায় যেতে ইচ্ছুক ইরানি যাত্রীদের জন্য অন্যতম প্রধান সংযোগকেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ডে ইরানের সব ধরনের আসা-যাওয়ার ফ্লাইট "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" স্থগিত করেছে। কুয়েতের সিভিল এভিয়েশনের ডিরেক্টরেট জেনারেলের একটি সূত্র সোমবার এএফপি-কে জানান, সাত মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর কুয়েতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও তাদের বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে। ইরানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা 'আইএসএনএ' জানিয়েছে, ইরানি ফ্লাইটগুলো এখন আর আজারবাইজান ও জর্জিয়া এবং ইরাকে যেতে পারছে না। তবে ইরাক এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ছাড় চাইছে ইরাক। ইরাক সরকার শনিবারে জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রোগী, শিক্ষার্থী ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখা থেকে বলা হয়েছে, 'ইরাকের কয়েকটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরকে এসব বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ইরাক সরকার মার্কিন পক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা করছে।'
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি ছাড় পেলে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থসহ মানবিক কারণে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
ইরানি এয়ারলাইন্সগুলো মূলত ইরাকি শিয়া পুণ্যার্থীদের ইরানের পবিত্র শহরগুলোতে কিংবা ইরানিদের ইরাকের তীর্থস্থানগুলোতে যাতায়াতের সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়া এ ফ্লাইটগুলো ইরানে পড়তে যাওয়া ইরাকি শিক্ষার্থী এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের যাতায়াতে সাহায্য করে।
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপের একটি হাসপাতালে সামরিক সরকারের বিমান হামলায় রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বজনসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এ হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সোমবার গভীর রাতে ম্রাউক-ইউ জেনারেল হাসপাতালে সামরিক বিমানের ফেলা বোমা আঘাত হানে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানান, হামলায় হাসপাতালটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালে সরাসরি বোমা আঘাত করায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তুর্কের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের। তবে মিয়ানমারে বিদ্যমান ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’র কারণে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালত বা ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’-এর মতো ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুসও হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা ও অস্ত্রোপচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল হাসপাতালটি। হামলায় এর অপারেশন থিয়েটার ও রোগীদের প্রধান ওয়ার্ড পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
টেডরস জানান, এ বছর মিয়ানমারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা কর্মীদের ওপর এটি ৬৭তম নিশ্চিত হামলা। স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রতিটি হামলা মানেই মানবতার ওপর হামলা।
ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং জানান, হামলার সময় ৩০০ শয্যার হাসপাতালটি রোগীতে পূর্ণ ছিল। চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ ছিল বেশি। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং ৬৮ জন আহত হয়েছিলেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৩ জনে দাঁড়ায়।
হামলার পর হাসপাতালটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ছাদ ধসে পড়ে এবং স্তম্ভ ও বিম ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে হতাহতদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ম্রাউক-ইউয়ের ২৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, সোমবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে হাসপাতালটিতে আগুন জ্বলতে এবং অনেক মরদেহ ও আহত মানুষ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
মিয়ানমারে সামরিক সরকার বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা বাড়িয়েছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত সরকার ২ হাজার ১৬৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের হামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১৬টি।
২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মিসহ বড় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বেঁধে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আরাকান আর্মি রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে এবং বেলজিয়ামের চেয়েও বড় একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপ গত বছর থেকেই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কোনো লড়াই হয়নি।