‘মাইকেল’–এ জাফর জ্যাকসন
সমালোচকেরা পাত্তা না দিলেও মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম দিনেই প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে ছবিটি। সপ্তাহান্তে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ৯৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। এর আগে ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ বা ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’ যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, তা সহজেই ছাপিয়ে গেছে এই ছবি।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবির দাপট সমান। ৮০টির বেশি দেশে মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী আয় ২০০ মিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। মহামারির পর প্রযোজনা সংস্থা লায়নসগেটের কোনো সিনেমার এটিই সবচেয়ে বড় ওপেনিং, যা স্টুডিওটির জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা।
দর্শকের উচ্ছ্বাস বনাম সমালোচকের সংশয়
মজার বিষয় হলো, সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। অনেকেই মনে করছেন, ছবিটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের অভিযোগগুলো নিয়ে ছবিতে খুব বেশি গভীরে যাওয়া হয়নি।
কিন্তু দর্শকের প্রতিক্রিয়া একেবারেই ভিন্ন। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের নাচ–গানের সঙ্গে গলা মেলানো—সব মিলিয়ে যেন একধরনের উদ্যাপনের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং ‘একটি অভিজ্ঞতা’—একটি নস্টালজিক টাইম মেশিন, যা দর্শককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ‘বিলি জিন’ কিংবা ‘থ্রিলার’-এর যুগে।
নির্মাণের পেছনের গল্প
ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকোয়া, যিনি এর আগে ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’–এর মতো অ্যাকশন চলচ্চিত্রে সফলতা পেয়েছেন। প্রযোজনায় ছিলেন ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র গ্রাহাম কিং। আগেরটির মতো এবারও তিনি আরেকটি সফল সংগীত বায়োপিক উপহার দিতে চলেছেন।
সবচেয়ে বড় চমক, ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁরই ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। তাঁর পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে—বিশেষ করে মাইকেলের নাচ, ভঙ্গি ও কণ্ঠস্বর অনুকরণের নিখুঁততার জন্য।
বিতর্ক, কাটছাঁট এবং পুনর্নির্মাণ
এই ছবির পথ মোটেও সহজ ছিল না। নির্মাণের মাঝপথে আইনি জটিলতা, তৃতীয় অঙ্ক পুনর্নির্মাণ—সব মিলিয়ে বাজেট বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে। এমনকি ছবির একটি বড় অংশ পুনরায় শুট করতে হয়। কারণ, বাস্তব জীবনের একটি মামলার প্রসঙ্গ দেখানোর ক্ষেত্রে আইনি বাধা ছিল।
মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়—বিশেষ করে ১৯৯৩ সালের অভিযোগ—প্রথমে গল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে আইনি জটিলতার কারণে তা বাদ দিতে হয়েছে। ফলে নির্মাতাদের গল্পের ফোকাস সরিয়ে আনতে হয়েছে তাঁর পরিবার, বিশেষ করে বাবা জো জ্যাকসনের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে, যা ছবির আবেগঘন স্তরকে আরও গভীর করেছে।
সিনেমাটির নির্মাণপ্রক্রিয়াও ছিল জটিল ও বিতর্কে ঘেরা। এই ছবিতে সংগীতের স্বত্ব, বিশাল কনসার্টের দৃশ্য এবং পুনরায় শুটিং—সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে কয়েক ধাপে। বিশেষ করে ছবির তৃতীয় অংশ নিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
এ জায়গাই ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কারণ, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের আলো-অন্ধকার বুঝতে গেলে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ককে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কঠোর ও নিয়ন্ত্রণমূলক বাবার ছায়া তাঁর শৈশব ও ক্যারিয়ারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ছবিটি সেই দিককেই নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
কেন এত বড় সাফল্য
এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করেছে—প্রথমত, মাইকেল জ্যাকসনের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা। তাঁর গান, নাচ, স্টেজ পারফরম্যান্স—সবকিছুই এখনো বহু প্রজন্মকে আকর্ষণ করে।
দ্বিতীয়ত, ছবিটি তৈরি হয়েছে একধরনের ‘ফ্যান সার্ভিস’ হিসেবে, যেখানে দর্শক তাদের প্রিয় তারকার উজ্জ্বল দিকগুলোই বেশি দেখতে পায়।
তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবির প্রচারণা ছিল ব্যাপক। মুক্তির আগেই ট্রেলার ও গানগুলো কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
বক্স অফিসের দিকে তাকালে বোঝা যায়, এই ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কতটা প্রবল। ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ বা ‘প্রজেক্ট হেল মেরি’ ছবি দুটি ভালো ব্যবসা করলেও ‘মাইকেল’–এর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। এটি প্রমাণ করে, শক্তিশালী একটি ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক গল্প এখনো দর্শকদের হলে টানতে পারে।
এই সাফল্যের আরেকটি দিকও আছে। সাম্প্রতিক সময়ে হলিউডে বায়োপিকের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ফ্রেডি মার্কারি থেকে শুরু করে হিপহপ গ্রুপ—বিভিন্ন শিল্পীর জীবন নিয়ে নির্মিত ছবি দর্শকপ্রিয় হয়েছে। তবে ‘মাইকেল’ সেই ধারার এক উচ্চতর উদাহরণ, যেখানে শুধু একজন শিল্পীর জীবন নয়, বরং পুরো একটি যুগকে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে।
এই ছবির সাফল্য কি শুধু নস্টালজিয়ার ফল, নাকি এটি সত্যিই এক শক্তিশালী চলচ্চিত্র? তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে আপাতত নিশ্চিত করে বলা যায়, ‘কিং অব পপ’ রাজত্ব হারাননি।
অভিনয়শিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা
অভিনয়শিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থায়ও কাজ করছেন। এবার পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন এই অভিনয়শিল্পী। ব্র্যাকের সঙ্গে প্রায় দুই দশকের কাজের অভিজ্ঞতা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন তিনি। এক ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন মিথিলা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মিথিলা লিখেছেন, আজ থেকে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ সহযোগী গবেষণা বিজ্ঞানী (অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট) হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সেখানে নিউইয়র্কভিত্তিক ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রকল্পের নকশা ও মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
মিথিলা জানালেন, প্রকল্পটি শিশুর প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ (ইসিডি), পারিবারিক সম্পৃক্ততা ও কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। জন্মের পর থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের পরিবারকে তাদের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। স্থানীয় মানুষের চাহিদার সঙ্গে গবেষণার লক্ষ্যের সমন্বয় এবং তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিজের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান মিথিলা।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কেও (সিইউএনওয়াই) শিক্ষকতা শুরু করেছেন তিনি। সেখানে ‘অ্যাডজাংক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট পড়াবেন। বাস্তব জীবনে ননপ্রফিট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়াই হবে তাঁর শিক্ষকতার অন্যতম দিক।
নতুন এই পেশাগত যাত্রা নিয়ে মিথিলা তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রায় দুই দশক ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি, এর মধ্যে ১৫ বছর কাজ করেছেন ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে। নিজের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে মিথিলা লিখেছেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা অবকাঠামো এবং মেধাবী গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ তাঁর কর্ম-অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন খাত ও শিক্ষাঙ্গনে মিথিলার এই নতুন পথচলায় শুভকামনা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মিথিলার এমন সাফল্যে তাঁরা নিজেরাও আনন্দিত।
স্বরা ভাস্কর। ছবি: ফেসবুক
বলিউডে যৌন হয়রানি বা কাস্টিং কাউচ দীর্ঘদিনের গুরুতর সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে এর আগে মুখ খুলেছেন বহু তারকা অভিনেত্রী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। এবার নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এমন এক ঘটনা তুলে ধরলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর।
স্বরার দাবি, বিগ বাজেটের একটি সিনেমায় কাজ করার সময় ওই সিনেমার পরিচালক মাঝরাতে মদ্যপ অবস্থায় তার দরজায় কড়া নেড়েন। এমনকি দরজা খুললে তাকে জড়িয়ে ধরার আবদারও করেন পরিচালক।
স্বরা জানান, ‘তনু ওয়েডস মনু’ সিনেমার সাফল্যের পর একটি বড় বাজেটের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ওই সিনেমার পরিচালক তাকে নিয়ে একাধিকবার অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছেন। সিনেমার দৃশ্যের মহড়ার কথা বলে পরিচালক তাকে একা ডেকে পাঠাতেন। ব্যক্তিগতভাবে তাকে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি কবিতাও পাঠাতেন। একদিন একটি রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হয়।
স্বরা বলেন, “আমি আগে জিজ্ঞেস করি, মহড়ার সময় আর কারা থাকবেন? ওই পরিচালক আমাকে বলেন, ‘তুমি আর আমি, আমরা দুজনে আলোচনা করব।’ আমি বলেছিলাম—না। আপনি অভিনেতা ও ক্যামেরাপারসনকে ডেকেছেন। যদি মহড়া হয়, তাহলে সবার সেটা করা উচিত। আমরা একা কেন মহড়া করব?”
এরপরও পরিস্থিতি বদলায়নি। স্বরা জানান, একটি অতিথিকক্ষে গিয়ে তিনি দেখেন, পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফার সেখানে বসে মদ্যপান করছেন। সেখানে চিত্রনাট্য পড়েন তিনি। এরপর কোনোভাবে পরিস্থিতি সামলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
তবে ঘটনার শেষ সেখানেই হয়নি। সেদিন মাঝরাতে ওই পরিচালক তার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল- পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারেন।
স্বরা বলেন, “মাঝরাতে ওই পরিচালক আমার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটা ভয়ানক হয়ে উঠেছিল যে, আমার মনে হয়েছিল, পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়বেন। শেষ পর্যন্ত দরজা খুলতে বাধ্য হই। এরপর মদ্যপ অবস্থায় ওই পরিচালক আজব আবদার করে বসেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি কি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি?”
স্বরা বলেন, ‘সেদিন আমি ওই পরিচালকের সেই প্রস্তাবে সাড়া দেইনি। বরং তাকে কোনোভাবে বুঝিয়ে দ্রুত বিদায় করেছি। পরে তার সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে।’ সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সাদিয়া জাহন প্রভা
দেশের আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। কালেভদ্রে পর্দায় দেখা গেলেও স্যোশাল মিডিয়ায় নিয়মিতই সরব এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও বেড়ে ওঠার সময়কার নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন প্রভা। জানিয়েছেন, একসময় তার পছন্দ ছিল গরিব ছেলে।
পডকাস্টে নিজের পছন্দের কথা বলতে গিয়ে সাদিয়া জাহান প্রভা বলেন, ‘আমার সব সময় গরিব ছেলে পছন্দ ছিল এক সময়, আমাকে অভাবের কথা বললে, না খেয়ে ছিলাম কষ্টে বড় হয়েছি বাবা ভাই বোনদের এভাবে মানুষ করেছে। মিথ্যা কথা এটা আরও বেশি দুষ্টু হয়। আমি বেশ আল্মাদী ছিলাম, এরকম একটা সময় ছিল প্রপারলি কথা বলতে পারতাম না।
তিনি আরও বলেন, ‘এতো কিউট হয়ে আমতা আমতা করে কথা বলতাম। কথা অর্ধেক বোঝা যেত। প্রত্যেকটি জায়গাতে আমাদের আত্মীয় থেকে শুরু করে, আমার বাবা-মা একটা সময় গিয়ে আমি যখন বড় হচ্ছি আমার বন্ধুদের বাবা-মার অবধি আদর করতো, সেজন্য আমার ম্যাচিউরিটি অনেক পরে এসেছে, স্পষ্ট কথা বলতে শিখেছি অভিনয় করতে এসে।’
এদিকে, অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছে প্রভার। কিছুদিন আগে নতুন দুটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একটি সাদেক সিদ্দিকীর ‘দেনা পাওনা’। সিনেমাটির অনেকখানি শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের শুটিং এ সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ‘দুই পয়সার মানুষ’ নামের আরও একটি সিনেমা রয়েছে প্রভার হাতে। দুটি সিনেমাই সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে।
লালসালু ও চিত্রা নদীর পারে সিনেমার দৃশ্য
দেশীয় চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের কালজয়ী দুটি সিনেমা ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ বাংলাদেশ বিমান দীর্ঘকাল ধরে তাদের ফ্লাইটে প্রদর্শন করে আসছিল। হঠাৎ করেই আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই নির্মাতা তার ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানালেন চলচ্চিত্র দুটি এক অজ্ঞাত কারণে প্রদর্শন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয় নির্মাতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সাড়া মেলেনি। ‘লালসালু’ চলচ্চিত্রটি আটটি ক্ষেত্রে এবং ‘চিত্রা নদীর পারে’ সাতটি ক্ষেত্রে জাতীয় পুরষ্কার লাভ করেছিল। তানভীর মোকাম্মেলের এই দুটি কালজয়ী চলচ্চিত্র দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
লালসালু চলচ্চিত্রটি ২০০১ সালে মুক্তি পায়। এটি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একই নামের ধ্রুপদী উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, মুনিরা ইউসুফ মেমী, চাঁদনী, রওশন জামিল, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মৌসুমী, তামান্না ইয়াসমিন, মাসুদ আলী খান, সাইদুর রহমান বয়াতি প্রমুখ। পরিচালকের ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমাটি মুক্তি পায় নব্বইয়ের শেষের দিকে। এতে অভিনয় করেনে মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকির আহমেদ, রওশন জামিল, সুমিতা দেবী প্রমুখ।
অভিনেত্রী পরীমনি
জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে চিত্রনায়িকা পরীমনির দেওয়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। পডকাস্টটির সঞ্চালক রুম্মান রশীদ খানের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অতীত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও সাবেক স্বামী শরীফুল রাজকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, রাজকে বিয়ে করা বা জীবনের কোনো সিদ্ধান্তকেই তিনি ‘ভুল’ হিসেবে দেখেন না। তার কাছে জীবনের প্রতিটি ঘটনা একেকটি অভিজ্ঞতা।
পরীমনি জানান, এর আগে অন্য প্রাক্তনদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার সময়ও অসৌজন্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বা আত্মসম্মানে আঘাত লাগার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই সেসব সম্পর্কের ইতি টেনেছেন তারা। ফলে পরবর্তী সময়ে কোথাও দেখা হলেও মুখোমুখি হতে অস্বস্তিতে পড়তে হয়নি।
তবে শরীফুল রাজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানান পরীমনি।
তার ভাষ্য, যার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রাক্তনের কাছ থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি অপমানিত হয়েছেন। অথচ তাদের বিচ্ছেদ আরও সুন্দর ও সম্মানজনকভাবে হতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিয়ে করেন শরীফুল রাজ ও পরীমনি। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান তারা।
বিচ্ছেদের পর ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পুণ্যকে একাই লালন-পালন করছিলেন পরীমনি। পরে সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম নামে একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন এই অভিনেত্রী।
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন বর্ধিত করার আবেদন করেন তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন। পরে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ গঠনের শুনানিও পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে নতুন তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সকাল পৌনে ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছান তানজিন তিশা। কিছুক্ষণ পর মামলাটির শুনানি শুরু হলে তিনি প্রথমে বেঞ্চের সামনে বসেছিলেন। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর কথা বলেন। এরপর কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান অভিনেত্রী।
তিশার পক্ষে আইনজীবী খোরশেদ আলম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে বলেন, তার মক্কেল আগেও আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
এ সময় আসামিপক্ষ থেকে তিশাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। আইনজীবী বলেন, তাকে অপমান করার উদ্দেশেই এভাবে দাঁড় করানো হয়েছে। জবাবে বিচারক বলেন, তিনি যেহেতু আসামি, তাই এ বিষয়ে কথা না বলাই ভালো।
শুনানির একপর্যায়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে জামিনের শর্তের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, জামিনে থাকার সময় তিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভেরিফায়েড পেজ থেকে আইনজীবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
তখন বিচারক অভিযোগটি লিখিত পিটিশন আকারে দাখিল করতে বলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মামলার অভিযোগ গঠনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে তিশার আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, মামলাটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য সময় দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
পরে আদালত তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আসামিপক্ষের আবেদনও গ্রহণ করেন।
এদিকে আদালতে শুনানি শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের মামলাটিকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। তানজিন তিশা বলেন, ভক্ত ও বিভিন্ন অনলাইন পেজ থেকে তিনি প্রায়ই উপহার পান। উপহার পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্টোরিও দেন। এই শাড়িটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, তিনি শাড়িটি কিনতে চেয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী তাকে ফোন করে শাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরিচিত এক বড় বোনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট কথা হয়। পরে সুসম্পর্কের জায়গা থেকেই শাড়িটি পরে ছবি দেওয়ার কথা জানান তিনি। তিশা বলেন, ‘সোলজার’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শাড়িটি পরে ছবি দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে এর জন্য ব্লাউজ বানিয়ে রেখেছিলেন এবং এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাড়িটি নিয়ে স্টোরিও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা না বলে হঠাৎ সংবাদমাধ্যমে তাকে ২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এতে তার সম্মানহানি ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
তিশা আরও বলেন, তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর পেছনে চলচ্চিত্র অঙ্গনের কোনো বিরোধ বা কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, সেটিও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এ সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিশা। একই শাড়ি নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে আরেকটি মামলা করানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিষয়টি একটি ‘সিন্ডিকেটের’ মতো মনে হচ্ছে। তিশা বলেন, কেউ নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করুক এটি তিনি সমর্থন করেন না। সাধারণ নাগরিক হিসেবেও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি তিনি আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন বলে জানান।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে তানজিন তিশা বলেন, তার কাছে প্রকৃত ক্ষমতা হলো দর্শক ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। মামলাটির বিষয়ে আদালতের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেন বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি করেন অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, পেজটি থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেওয়ার পর সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করে।
মামলার পর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিশা। পরে মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়।
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি প্রতারণা করেননি।