আবেদনময়ী রূপে জয়া
দুই বাংলার পর্দায় যিনি আবির্ভাব করলেই প্রতিভার আলো ছড়িয়ে পড়ে, তিনি জয়া আহসান।
সময়ের নিয়ম যেন তার সৌন্দর্যের কাছে বারবার পরাজিত- অভিনয়ের গভীরতা আর চিরযৌবনা রূপে আজও মুগ্ধ কোটি ভক্ত। ট্র্যাডিশনালের নীরব আভিজাত্য হোক কিংবা ওয়েস্টার্নের সাহসী ছোঁয়া- প্রতিটি লুকে নিজস্ব ফ্যাশন স্টেটমেন্টে অনন্য জয়া।
আর এবার সেই চেনা মার্জিত সৌন্দর্য ভেঙে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদনময়ী রূপে ধরা দিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন এই সুন্দরী।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন জয়া আহসান। তাতে দেখা যায়, একটি হালকা সোনালি রঙের স্লিভলেস গাউন পরেছেন অভিনেত্রী।
মেকআপ রুমের আয়নার সামনেও পোজ দেন; ফুটে ওঠে তার চোখের তীক্ষ্ণ চাহনি, যা আরও নজরকাড়া করে তোলে।
ছবিগুলো পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজার হাজার প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে প্রশংসায় ভরে ওঠে তার মন্তব্য ঘর। বিশেষ করে ছবিতে তার চিরযৌবনা রূপ দেখে নেটিজেনরা রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন।
নেটিজেনদের অনেকেই তার বয়সের ছাপহীন সৌন্দর্যের প্রশংসা করে তাকে ‘টাইমলেস বিউটি’ বা কালজয়ী সুন্দরী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, ‘জয়ার রূপ এখনো আগের মতোই’।
এদিকে পর্দার জয়াকে দেখার অপেক্ষাও ফুরাচ্ছে ভক্তদের। জয়া অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিনেমা ‘ওসিডি’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি।
ওপার বাংলার নির্মাতা সৌকর্য ঘোষালের পরিচালনায় এই সিনেমায় জয়াকে দেখা যাবে ‘শ্বেতা’ নামের একজন চিকিৎসকের চরিত্রে। ট্রমা আর সামাজিক সংগ্রামের এক জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মাঝেই এখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন জয়া। ‘গেরিলা’,‘বিসর্জন’ কিংবা ‘রবিবার’-এর মতো চলচ্চিত্রে তার শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
নতুন এই সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য পালক যোগ করবে বলে আশা দর্শকদের।
সঞ্জয় দত্ত। ছবি: সংগৃহীত
এক দশক পর কারাগার জীবন নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। অস্ত্র আইনের মামলায় ২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। ভালো আচরণের জন্য সাজা মওকুফ পাওয়ার পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনের ইয়েরওয়াড়া কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
শেখর সুমনের টক শোতে কারাগারে কাটানো সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন সঞ্জয় দত্ত। তিনি জানান, পরিস্থিতির এত বড় পরিবর্তনও তাকে বিচলিত করতে পারেনি।
কারাগারে অন্য বন্দিদের সঙ্গে একই সেলে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, স্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে উঠলেও আশপাশের মানুষের চেয়ে নিজেকে কখনোই শ্রেষ্ঠ মনে করতেন না।
সঞ্জয় বলেন, ‘তারকাখ্যাতি নিয়ে অহংকার আমার মধ্যে নেই। অনেকবার শুটিং সেটে মাটিতে বসে আমরা খাবার খেয়েছি। সেটে কর্মীদের সঙ্গেও বহুবার বসে খাবার খেয়েছি। এসব বিষয় নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না।’
সঞ্জয় দত্ত জানান, একজন তারকা হিসেবে তিনি যে আরাম-আয়েশে অভ্যস্ত ছিলেন, সেগুলো কেড়ে নিলে শেষ পর্যন্ত তিনি ভেঙে পড়বেন—কারাগার কর্তৃপক্ষ এমনটাই ধরে নিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার কিছুই হয়নি। কারণ আমি ভেঙে পড়িনি। তারা হতবাক হয়ে গিয়েছিল। তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করত। তাদের মধ্যে একজন আমার কাছে এসে বলল, ‘এখানে তুমি কোনো সিগারেট পাবে না। এখন কী করবে?’
সঞ্জয় দত্ত জানান, এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘স্যার, এখানে বিড়ি তো পাওয়া যাবে।’
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইটে ঘটা গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের সময় সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেওয়ায় ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলিউডের দুই মেগাস্টার শাহরুখ খান এবং সালমান খান।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইট চলাকালীন ককপিটের ভেতর সহ-পাইলটের আকস্মিক হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন মচ্ছার। তবে নিজের আঘাত ও শারীরিক যন্ত্রণার তোয়াক্কা না করে তিনি অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় ক্রু ও যাত্রীরা দ্রুত হস্তক্ষেপে সক্ষম হন। পরবর্তীতে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান থেকে সালমান, সকলেই সেই পাইলটের বন্দনায় মেতেছেন! শাহরুখ লিখেন, ভারতীয় এই পাইলট যাত্রীদের রক্ষায় সাহস ও দায়িত্ববোধের দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।
শাহরুখ খান লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আপনি দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন! প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে নিজের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা সহজ নয়। কিন্তু যাত্রীদের রক্ষায় আপনি ঠিক সেটিই করেছেন এবং একজন ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব কী- তা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।”
তিনি বলেন,“এটি সাহস ও দায়িত্ববোধের সত্যিকারের দৃষ্টান্ত। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। গোটা দেশ আপনাকে নিয়ে গর্বিত।”
শাহরুখ খানের এই পোস্টের এক দিন আগে অভিনেতা সালমান খানও মাচ্ছারের প্রশংসা করেন। তার সঙ্গে উড়োজাহাজে ভ্রমণ করতে পারলে আনন্দিত হবেন বলেও জানান সালমান।
এক্সে তিনি লেখেন, “কামাল করে দিয়েছেন পাইলটজি, আমরা সবাই আপনাকে স্যালুট করি। আপনার সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারলে আনন্দের হবে। দারুণ করেছেন ভাই।”
মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন বলিউডের আরও কয়েকজন তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন রণবীর সিং, ভিকি কৌশল, সানি দেওল, তামান্না ভাটিয়া ও অনিল কাপুর।
রণবীর ক্যাপ্টেন স্মিতকে ‘সাহসী’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, ভিকি কৌশল তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ককপিটে থাকা পাইলটের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “সাহসী হৃদয়ের মানুষ! ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার।”
সানি দেওলও পাইলটের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ সাহস ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। আপনি একটি বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছেন। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। স্যালুট।”
হামলার সময় নিজের আহত অবস্থার মধ্যেও মাচ্ছার যাত্রীদের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটি তুলে ধরেন তামান্না ভাটিয়া।
তিনি লেখেন, “ভাবুন তো, নিজে আহত, নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করছেন, তারপরও আপনার ওপর নির্ভরশীল ১৭৪ জন মানুষের কথা ভাবছেন। ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার, আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। আপনার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।”
অনিল কাপুরও মাচ্ছারের একটি ছবি শেয়ার করেন। তিনি তাঁর বন্ধু জালালের সঙ্গে হওয়া একটি কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন। জালাল ফ্লাইং স্কুলে পড়ার সময় থেকেই স্মিতকে চিনতেন।
অনিল কাপুর লেখেন, “ঘটনাটি যখন ঘটে, জালাল আমাকে বলেছিল, সে ফ্লাইং স্কুল থেকেই স্মিতকে চেনে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে যাকে পাশে চাইবে, স্মিত সবসময়ই তেমন একজন মানুষ ছিল। বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছে- শুরু থেকেই স্মিতের মধ্যে কতটা সাহস থাকতে পারে, যে তার আশপাশের মানুষ এত আগেই তা বুঝতে পেরেছিল।”
তিনি আরও লিখেন, “সেই মুহূর্তে স্মিত যা করেছেন, তা অসাধারণের চেয়েও বেশি কিছু। নিজে এত ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও দৃঢ় থাকা এবং অন্যদের নিজের আগে রাখার জন্য অসীম সাহসের প্রয়োজন। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা এবং দ্রুত সুস্থতার শুভকামনা।”
‘এফ জেড ১০৭৩’ ফ্লাইটে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার। সেই ফ্লাইটে ১৭৪ জন আরোহী, যার মধ্যে ২৭ জন শিশু ছিল। বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠানোর পর দ্রুত উচ্চতা কমাতে থাকে। পরে সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরের দিকে সেটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।
আমি কোনো যাত্রীকে মরতে দিতে চাইনি
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট (৪ হাজার ২৬৭ মিটার) নিচে নেমে যায়। পিটিআই জানিয়েছে, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমেছিল।
অভিনয়শিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা
অভিনয়শিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থায়ও কাজ করছেন। এবার পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন এই অভিনয়শিল্পী। ব্র্যাকের সঙ্গে প্রায় দুই দশকের কাজের অভিজ্ঞতা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন তিনি। এক ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন মিথিলা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মিথিলা লিখেছেন, আজ থেকে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ সহযোগী গবেষণা বিজ্ঞানী (অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট) হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সেখানে নিউইয়র্কভিত্তিক ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রকল্পের নকশা ও মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
মিথিলা জানালেন, প্রকল্পটি শিশুর প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ (ইসিডি), পারিবারিক সম্পৃক্ততা ও কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। জন্মের পর থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের পরিবারকে তাদের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। স্থানীয় মানুষের চাহিদার সঙ্গে গবেষণার লক্ষ্যের সমন্বয় এবং তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিজের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান মিথিলা।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কেও (সিইউএনওয়াই) শিক্ষকতা শুরু করেছেন তিনি। সেখানে ‘অ্যাডজাংক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট পড়াবেন। বাস্তব জীবনে ননপ্রফিট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়াই হবে তাঁর শিক্ষকতার অন্যতম দিক।
নতুন এই পেশাগত যাত্রা নিয়ে মিথিলা তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রায় দুই দশক ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি, এর মধ্যে ১৫ বছর কাজ করেছেন ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে। নিজের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে মিথিলা লিখেছেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা অবকাঠামো এবং মেধাবী গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ তাঁর কর্ম-অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন খাত ও শিক্ষাঙ্গনে মিথিলার এই নতুন পথচলায় শুভকামনা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মিথিলার এমন সাফল্যে তাঁরা নিজেরাও আনন্দিত।
স্বরা ভাস্কর। ছবি: ফেসবুক
বলিউডে যৌন হয়রানি বা কাস্টিং কাউচ দীর্ঘদিনের গুরুতর সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে এর আগে মুখ খুলেছেন বহু তারকা অভিনেত্রী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। এবার নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এমন এক ঘটনা তুলে ধরলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর।
স্বরার দাবি, বিগ বাজেটের একটি সিনেমায় কাজ করার সময় ওই সিনেমার পরিচালক মাঝরাতে মদ্যপ অবস্থায় তার দরজায় কড়া নেড়েন। এমনকি দরজা খুললে তাকে জড়িয়ে ধরার আবদারও করেন পরিচালক।
স্বরা জানান, ‘তনু ওয়েডস মনু’ সিনেমার সাফল্যের পর একটি বড় বাজেটের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ওই সিনেমার পরিচালক তাকে নিয়ে একাধিকবার অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছেন। সিনেমার দৃশ্যের মহড়ার কথা বলে পরিচালক তাকে একা ডেকে পাঠাতেন। ব্যক্তিগতভাবে তাকে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি কবিতাও পাঠাতেন। একদিন একটি রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হয়।
স্বরা বলেন, “আমি আগে জিজ্ঞেস করি, মহড়ার সময় আর কারা থাকবেন? ওই পরিচালক আমাকে বলেন, ‘তুমি আর আমি, আমরা দুজনে আলোচনা করব।’ আমি বলেছিলাম—না। আপনি অভিনেতা ও ক্যামেরাপারসনকে ডেকেছেন। যদি মহড়া হয়, তাহলে সবার সেটা করা উচিত। আমরা একা কেন মহড়া করব?”
এরপরও পরিস্থিতি বদলায়নি। স্বরা জানান, একটি অতিথিকক্ষে গিয়ে তিনি দেখেন, পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফার সেখানে বসে মদ্যপান করছেন। সেখানে চিত্রনাট্য পড়েন তিনি। এরপর কোনোভাবে পরিস্থিতি সামলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
তবে ঘটনার শেষ সেখানেই হয়নি। সেদিন মাঝরাতে ওই পরিচালক তার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল- পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারেন।
স্বরা বলেন, “মাঝরাতে ওই পরিচালক আমার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটা ভয়ানক হয়ে উঠেছিল যে, আমার মনে হয়েছিল, পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়বেন। শেষ পর্যন্ত দরজা খুলতে বাধ্য হই। এরপর মদ্যপ অবস্থায় ওই পরিচালক আজব আবদার করে বসেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি কি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি?”
স্বরা বলেন, ‘সেদিন আমি ওই পরিচালকের সেই প্রস্তাবে সাড়া দেইনি। বরং তাকে কোনোভাবে বুঝিয়ে দ্রুত বিদায় করেছি। পরে তার সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে।’ সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সাদিয়া জাহন প্রভা
দেশের আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। কালেভদ্রে পর্দায় দেখা গেলেও স্যোশাল মিডিয়ায় নিয়মিতই সরব এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও বেড়ে ওঠার সময়কার নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন প্রভা। জানিয়েছেন, একসময় তার পছন্দ ছিল গরিব ছেলে।
পডকাস্টে নিজের পছন্দের কথা বলতে গিয়ে সাদিয়া জাহান প্রভা বলেন, ‘আমার সব সময় গরিব ছেলে পছন্দ ছিল এক সময়, আমাকে অভাবের কথা বললে, না খেয়ে ছিলাম কষ্টে বড় হয়েছি বাবা ভাই বোনদের এভাবে মানুষ করেছে। মিথ্যা কথা এটা আরও বেশি দুষ্টু হয়। আমি বেশ আল্মাদী ছিলাম, এরকম একটা সময় ছিল প্রপারলি কথা বলতে পারতাম না।
তিনি আরও বলেন, ‘এতো কিউট হয়ে আমতা আমতা করে কথা বলতাম। কথা অর্ধেক বোঝা যেত। প্রত্যেকটি জায়গাতে আমাদের আত্মীয় থেকে শুরু করে, আমার বাবা-মা একটা সময় গিয়ে আমি যখন বড় হচ্ছি আমার বন্ধুদের বাবা-মার অবধি আদর করতো, সেজন্য আমার ম্যাচিউরিটি অনেক পরে এসেছে, স্পষ্ট কথা বলতে শিখেছি অভিনয় করতে এসে।’
এদিকে, অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছে প্রভার। কিছুদিন আগে নতুন দুটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একটি সাদেক সিদ্দিকীর ‘দেনা পাওনা’। সিনেমাটির অনেকখানি শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের শুটিং এ সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ‘দুই পয়সার মানুষ’ নামের আরও একটি সিনেমা রয়েছে প্রভার হাতে। দুটি সিনেমাই সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে।
লালসালু ও চিত্রা নদীর পারে সিনেমার দৃশ্য
দেশীয় চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের কালজয়ী দুটি সিনেমা ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ বাংলাদেশ বিমান দীর্ঘকাল ধরে তাদের ফ্লাইটে প্রদর্শন করে আসছিল। হঠাৎ করেই আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই নির্মাতা তার ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানালেন চলচ্চিত্র দুটি এক অজ্ঞাত কারণে প্রদর্শন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয় নির্মাতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সাড়া মেলেনি। ‘লালসালু’ চলচ্চিত্রটি আটটি ক্ষেত্রে এবং ‘চিত্রা নদীর পারে’ সাতটি ক্ষেত্রে জাতীয় পুরষ্কার লাভ করেছিল। তানভীর মোকাম্মেলের এই দুটি কালজয়ী চলচ্চিত্র দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
লালসালু চলচ্চিত্রটি ২০০১ সালে মুক্তি পায়। এটি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একই নামের ধ্রুপদী উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, মুনিরা ইউসুফ মেমী, চাঁদনী, রওশন জামিল, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মৌসুমী, তামান্না ইয়াসমিন, মাসুদ আলী খান, সাইদুর রহমান বয়াতি প্রমুখ। পরিচালকের ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমাটি মুক্তি পায় নব্বইয়ের শেষের দিকে। এতে অভিনয় করেনে মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকির আহমেদ, রওশন জামিল, সুমিতা দেবী প্রমুখ।