অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে।
কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।
আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।
তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’
তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।
ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।
জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।
তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।
অভিনেতা রণবীর কাপুর ও অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ
বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর ও অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের সম্পর্কের শুরু ‘আজব প্রেম কি গজব কাহানি’ সিনেমার সেট থেকে। দীর্ঘ প্রায় সাত বছরের সম্পর্কের পর ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের প্রেমের সেই গোপন দিনগুলোর নানা ঘটনা এখনো বলিউডপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবারও পুরোনো সেই স্মৃতি আলোচনায় এসেছে। গোপনে চলা সেই সম্পর্কের এক নাটকীয় ঘটনা সম্প্রতি স্মৃতিচারণ করেছেন এক সাংবাদিক।
কোনো একদিন ক্যাটরিনার বাড়ি থেকে গভীর রাতে বের হওয়ার সময় রণবীর সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিলেন এবং পরে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সাংবাদিকদের ধাওয়া করে ক্যামেরা, ব্যাগ ও সরঞ্জাম কেড়ে নিয়েছিলেন।
ওই সাংবাদিক বলেন, অভিনেতা রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনার সম্পর্কের বিষয়টি যখন গোপন রাখার চেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই এক রাতে খবর আসে ক্যাটরিনার বাড়িতে যাচ্ছেন রণবীর কাপুর। খবর পেয়ে গভীর রাতে সেখানে ওঁৎ পেতে বসেন সাংবাদিকরা। রাত দেড়টার দিকে ক্যাটরিনার বাড়ি থেকে বের হন অভিনেতা।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্যাপ দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ঘটে যায় নাটকীয় ঘটনা। হুট করেই আবার ফিরে আসেন রণবীর কাপুর।
এরপর সাংবাদিকদের গাড়ির দরজা খুলে ক্যামেরা, ব্যাগ ও সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম নিয়ে নেন রণবীর কাপুর। তবে সাংবাদিকদের দৃঢ় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সরঞ্জামগুলো ফেরত দিতে বাধ্য হন অভিনেতা।
ওই সাংবাদিক আরও বলেন, আরেকবার একটি শেষকৃত্য থেকে ফেরার সময়ও ক্যাটরিনার বাসায় রণবীরের গোপনে প্রবেশের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেছিলেন তারা। সেবারও বেশ কৌশলে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছিলেন অভিনেতা।
২০১৬ সালে এ তারকা জুটির সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। এরপর দুজনেই নিজেদের জীবনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। রণবীর কাপুর বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে। অন্যদিকে ক্যাটরিনা কাইফ জীবনসঙ্গী করেছেন অভিনেতা ভিকি কৌশলকে।
সিডনি সুইনি
সিডনি সুইনি মানেই যেন আলোচনা। কখনও তাঁর পর্দায় নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক হয়, কখনও আবার বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ‘দ্য হাউসমেইড’ থেকে ‘ইউফোরিয়া’। গত এক বছরে দুটি আলোচিত প্রকল্পে অভিনয় করে নিজের জনপ্রিয়তা যেন আরও বাড়িয়েছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। সম্প্রতি নতুন স্পোর্টস ট্রেডিং ও প্রেডিকশন অ্যাপ ‘নোভিগ’-এর বিজ্ঞাপনে প্রায় পুরোপুরি নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হন তিনি। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর তাঁর উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বিজ্ঞাপনটির ধরন এবং সুইনিকে উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
বিজ্ঞাপনটিতে সুইনিকে দেখা যায় বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জামের সঙ্গে। কোথাও বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢেকেছেন, কোথাও আবার হকি গোলপোস্ট, ফুটবল প্যাড, বেসবল ক্যাচারের হেলমেট কিংবা হকি গোলকিপারের মাস্ক ব্যবহার করেছেন।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এখানে আসলে কী বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে?’ আবার কেউ বিজ্ঞাপনটিকে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত আবেদনময় বলেও মন্তব্য করেছেন।
চলমান সমালোচনার মধ্যে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নতুন এ বিজ্ঞাপনটির কিছু ছবি শেয়ার করেন সুইনি। পরে সেরেনা উইলিয়ামস, রোন্ডা রাউসি, সু বার্ড, মেগান র্যাপিনো, রব গ্রঙ্কোস্কি ও জেসন কেলসির মতো তারকা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ফটোশুটের ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর এসব পোস্টকে অনেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে চলা সমালোচনার পরোক্ষ জবাব হিসেবে দেখছেন।
যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে নিজের অবস্থান অবশ্য আগেই জানিয়েছেন সুইনি।
‘নোভিগ’-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল একটি মজার ধারণাকে সামনে আনা। ধারণাটি খুব সহজ। সব ধরনের কোলাহল সরিয়ে পুরো মনোযোগ ক্রীড়ার দিকে দেওয়া।’
সুইনি আরও জানান, বিজ্ঞাপনটির সৃজনশীল পরিকল্পনার সঙ্গে শুরু থেকে তিনি যুক্ত ছিলেন। ‘নোভিগ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাকব ফোর্টিনস্কিও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা অনুমান ও ভবিষ্যদ্বাণী করা হলে সুইনি অস্বস্তি বোধ করতেন।
ছবি : সংগৃহীত
নতুন ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ওয়েব ফিল্মের নাম ‘সেপারেশন’। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর শুটিং। এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ।
বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বর্তমানে ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে।
গতকাল রোববার নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানান পরীমণি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।
গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এবার এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন তিনি। তবে ‘সেপারেশন’-এ পরীমণির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও মুখ খোলেননি নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে।
ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। তবে কবে নাগাদ ‘সেপারেশন’ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মারিয়া শান্ত, সারিকা সাবাহ ও সাদনিমা বিনতে নোমান
একই নাটকে এবার দেখা মিলতে যাচ্ছে এ সময়ের আলোচিত তিন তারকা সাদনিমা বিনতে নোমান, সারিকা সাবাহ ও মারিয়া শান্তর। যেখানে তুলে ধরা হচ্ছে এ তিন তারকার ভিন্ন রকম ভালোবাসার গল্প। নাটকের নাম ‘লাভ স্টোরিস’। ‘নীল সুখ’-এর পর আরও একবার ভালোবাসার গল্প পর্দায় তুলে ধরতে নাটকটি নির্মাণ করেছেন নন্দিত পরিচালক ভিকি জাহেদ।
এতে মারিয়া শান্তকে তিনি উপস্থাপন করেছেন তানিয়া নামের এক তরুণীর চরিত্রে। যে দমবন্ধকর জীবনে প্রতিনিয়ত কী যেন একটি সুর খুঁজে বেড়াচ্ছে। সাদনিমা বিনতে নোমানের অভিনীত রূপা চরিত্রটিতে দেখা যাবে জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে এ উপলদ্ধি করতে যে, সব আগন্তুক ভালোবাসা বয়ে আনে না, কারও আগমনে থাকে ভয়, কৌতূহল আর অজানা দুশ্চিন্তা।
অন্যদিকে সারিকা সাবাহর পর্দায় তুলে ধরা নাযাহ চরিত্রটির হাসিখুশি চেহারার পেছনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে মন ভাঙার এক গল্প। এ তিনটি অভিনয়চরিত্র একেবারে নতুন বলে স্বীকার করেছেন মারিয়া, সাদনিমা ও সারিকা। তাদের কথায়, ভিকি জাহেদের কাজ অন্য সবার চেয়ে একেবারে আলাদা। ভালোবাসার গল্প নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাঁর বাছবিচারও চমকে দেওয়ার মতো। যে কারণে এ কাজটি নিয়ে তারা প্রচণ্ড আশাবাদী।
এ সময়ের আলোচিত তিনি তারকা সাদনিমা বিনতে নোমান, সারিকা সাবাহ ও মারিয়া শান্ত ছাড়াও ‘লাভ স্টোরিস’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রান্তর দস্তিদার, সাদ নাওভী, ইয়ামিন প্রমুখ।
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথায়, যেকোনো কাহিনি ও চরিত্র উপস্থাপনে ভিকি জাহেদ বারবার নতুনত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন। যদিও ডার্ক থ্রিলার, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আর রহস্যময় গল্প এই নির্মাতার নাটক, টেলিছবিতে প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ‘চিহ্ন’, ‘শব্দপ্রেম’, ‘তিথিডোর’, ‘কুয়াশা’, ‘ইরিনা’, ‘বাঁচিবার হলো তার সাধ’, ‘কাজলের দিনরাত্রি’, ‘দ্বিতীয় সূচনা’, ‘সেদিন ছিল শুক্রবার’, ‘খোয়াবনামা’, ‘অন্ধ বালক’, ‘প্রাকৃতজন’, ‘কালো বরফ’, ‘চোখ’, ‘মাজনু’, ‘ছন্দপতন’, ‘লাভারস ফুডভ্যান’, ‘কায়কোবাদ’, ‘চরের মাস্টার’, ‘ভুলজন্ম’, ‘পুনর্জন্ম’, ‘জন্মদাগ’, ‘চিরকাল আজ’ থেকে শুরু করে এ নির্মাতার অন্য কাজগুলোর দিকে নজর দিলে তার প্রমাণ মেলে।
এবার সেই জায়গা থেকে একটু সরে এসে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন ভিকি জাহেদ।
‘লাভ স্টোরিস’ নিয়ে নির্মাতাদের ভাষ্য, মহাকালের কাছে মানুষের সবচেয়ে বড় অহংকার তার প্রেম, আবার সবচেয়ে বড় পরাজয়ও তার প্রেম! নিয়তি আর অনুভূতির এক জটিল গোলকধাঁধায় পথ হারানোর এক গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ভিন্নধাঁচের এ নাটকটি; যা দর্শকমনে দারুণভাবে ছাপ ফেলবে বলে আশা করছেন তারা। নাটকটি দর্শকের জন্য কে এস এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক মুহামাদ কামরুজ্জামান।
মিমি চক্রবর্তী
ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের গুঞ্জনে উত্তাল পুরো টলিপাড়া। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমা থেকে শুরু করে শাকিব খানের ‘তুফান’, দুই বাংলার দর্শকের মন জয় করা এই অভিনেত্রী এবার জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।
ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষেই জীবনের নতুন এই ইনিংস শুরু করতে পারেন অভিনেত্রী।
টলিপাড়ার এক সূত্র বলছে, আগামী ডিসেম্বর মাসেই নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন মিমি চক্রবর্তী। চোখজুড়ানো পাহাড়ের কোলে কালিম্পংয়েই বসতে পারে তার বিয়ের জমকালো আসর।
কাকে বিয়ে করছেন নায়িকা? শোনা যাচ্ছে, তিনি ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন; ভারতের নৌবাহিনীতে কর্মরত। নাম সিদ্ধার্থ। এটাই আপাতত গুঞ্জন।
২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। গতানুগতিক ছকের বাইরে গিয়ে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমা তাকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। অভিনয়ে সফলতার পর ২০১৯ সালে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন এবং যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সাংসদ হন।
বর্তমানে সৃজিত মুখার্জির ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমা এবং নতুন একাধিক কাজের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিমি। আগামী দুর্গাপূজাতেই প্রেক্ষাগৃহে আসবে তার নতুন এই ছবি। পেশাগত এত সব ব্যস্ততার আড়ালেই নিঃশব্দে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি বিনোদন জগতের বড় একটি অংশের। ভক্তদের ধারণা, খুব শিগগিরই নিজ মুখে এই সুখবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন মিমি।
রিভেঞ্জ ড্রেসে প্রিন্সেস ডায়ানা
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয়, প্রভাবশালী এবং মানবতাবাদী সদস্য প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার বহুল আলোচিত কালো গাউনটি (রিভেঞ্জ ড্রেস) প্রায় ৩০ বছর পর আবারও নিলামে উঠতে যাচ্ছে। বিখ্যাত এ পোশাকটির মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার। পোশাকটিকে ডায়ানার আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ভাবা হয়।
গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্টাম্বোলিয়ানের নকশা করা কালো রঙের অফ-দ্য-শোল্ডার সিল্কের এ বিশেষ গাউনটি ১৯৯৪ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরেছিলেন লেডি ডায়ানা স্পেন্সার (প্রিন্সেস ডায়না)। ওই রাতেই ডায়ানার সাবেক স্বামী এবং তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর পর থেকেই ডায়ানার ওই পোশাকটি পরিচিতি পায় ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’ নামে।
এ বছর ৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে সোথবির আয়োজনে বিশেষ ফ্যাশন নিলামে পোশাকটি তোলা হবে। এটি হবে প্রিন্সেস ডায়ানাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি স্বতন্ত্র ফ্যাশন নিলামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
নিলামকারী সংস্থা সোথবির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে স্মরণীয় ও পরিচিত ফ্যাশন মুহূর্তগুলোর একটি। পোশাকটি পরা ডায়ানার ছবি বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার প্রকাশিত হয়েছে।
সোথবির জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ শুরু হওয়ারও আগে এবং তারকাদের ছবি মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার আগে ডায়ানা একটি গাড়ি থেকে নেমেই যেন একটি ‘ভাইরাল ফ্যাশন মুহূর্ত’ তৈরি করেছিলেন।
নিউইয়র্কে নিলামে ওঠার আগে প্রিন্সেস ডায়ানার ঐতিহাসিক পোশাকটি লন্ডন, হংকং ও জেনেভায় প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ।
সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট