সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বিসিবি।
গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরাসরি কারও নাম মুখে আনতে চাইছিলেন না।
সংবাদমাধ্যমের বারংবার সরাসরি প্রশ্নে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল এক পর্যায়ে বলেন, "তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।"
ফয়সাল জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় তাদের সিদ্ধান্ত। বিসিবি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত করেননি।
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।"
২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।
যুব ও ক্রীড়া সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজোয়ান উজ জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।
তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।
যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমের বক্তব্য এই তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, "যুব ও ক্রীড়া সচিবকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকার পর আসিফ নজরুল নিজেই তার সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে ক্রীড়া সচিব পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যেহেতু বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে সাবেক বিসিবি সভাপতি বুলবুল প্রবল চাপে ছিলেন, যেহেতু তিনি আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছিলেন না। বিসিবির সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত।"
ওই সময়ের বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন তদন্ত কমিটির কাছে বলেন, "ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে সরকার যদি এরকম সিদ্ধান্ত নেয়, ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।"
আসিফ নজরুলের সাড়া না পেয়ে ওই সময়টায় সংবাদমাধ্যমে তার বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমের লেখা, এসবকে তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয় তদন্ত কমিটি।
বিশেষজ্ঞদের বরাতে কিছু পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি, যেখানে আছে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রবেশ, আইসিসি বনাম বিসিবির 'পাওয়ার ইমব্যালান্স' এবং বিসিবির অব্যবস্থাপনা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমস্যা ফুটে ওঠার কথাও বলা হয়।
চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিশ্বকাপে না খেলার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, "রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ, আইসিসির গভর্ন্যান্স সংঘাত, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থ আলোচনা।"
এই অধ্যায়েই 'সম্ভাব্য মূল কারণ' হিসেবে বিভিন্ন কারণগুলোর র্যাঙ্কিং করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভেন্যু বদলে আইসিসির অপারগতা ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ, এসবকে র্যাঙ্কিং করা হয়েছে 'অতি উচ্চ' হিসেবে। বিসিবির কূটনৈতিক দক্ষতার ব্যর্থতাকে বলা হয়েছে 'উচ্চ' কারণ আর যোগাযোগ ভেঙে পড়াকে বলা হয়েছে 'মাঝারি' কারণ।
পরিসমাপ্তিতে বলা হয়েছে, "সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল, ক্রিকেটাররা এবং সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন।" তামিম ইকবালের বরাতে সেখানে উল্লেখ করা হয়, "সমাধান বের করার জায়গা ছিল।"
ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনগনকে ভাবনায় রেখে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কখনও একজন না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত বলে সেখানে বলা হয়।
সবশেষে কিছু সুপারিশও করে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে আছে ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা, বিসিবির স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করা, সংকটকালীন যোগাযোগের দক্ষতাকে উন্নত করা, ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুরক্ষিত করা এবং বিসিবি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ক্রীড়া কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক গড়া।
এই বছরের শুরুর দিকে দেশের ক্রিকেট তথা গোটা দেশে তোলপাড় ছিল বিশ্বকাপে না খেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পরই আসিফ নজরুল ফেইসবুকে পোস্টে বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন ওই পোস্টে। এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে নির্দেশ আসে তথ্য মন্ত্রণালায়ের তরফ থেকে।
পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ । আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি অনুরোধ জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।
এরপর দফায় দফায় বৈঠক হয় দুই পক্ষের। কিন্তু টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে ভেন্যু বদলানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
ছবি : সংগৃহীত
স্থায়ী খেলার মাঠের দীর্ঘদিনের অভাব দূর করতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ জমিয়ে তারা ৬০ শতাংশ জমি কিনে তৈরি করেছেন স্থায়ী খেলার মাঠ।
গ্রামের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নজর কেড়েছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলেরও। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্রয় করে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দেলদুয়ারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাবুপুর গ্রামের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে এবং গ্রামবাসীকে সংবর্ধিত করা হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সবসময় এমন ইতিবাচক ও স্ব-উদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু।’
তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি মাঠ তৈরি নয়, বরং সারাদেশের জন্য জনসম্পৃক্ততার এক দারুণ অনুপ্রেরণামূলক মডেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বাস বাবুপুর গ্রামে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে খেলাধুলার জন্য কোনো স্থায়ী মাঠ ছিল না। বর্ষা শেষে ধান কাটার পর সাময়িকভাবে ফাঁকা জমিতে শিশুরা খেলার সুযোগ পেলেও চাষাবাদ শুরু হলেই তা বন্ধ হয়ে যেত। এই সংকট মেটাতে গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি মতবিনিময় সভা করেন গ্রামবাসী।
সেই সভাতেই জমি কিনে মাঠ করার সিদ্ধান্ত হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিত্তবানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে একটি তহবিল। যার যার সাধ্যমতো ২০০, ৫০০, ১,০০০ থেকে শুরু করে ৫,০০০ ও ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন।
সব মিলিয়ে সংগৃহীত টাকা দিয়ে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় ৫৯ শতাংশ জমি কেনা হয়। আর এক শতাংশ জমি বিনা মূল্যে দান করেন জমির মালিক ইকবাল হোসেন। গত ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে গ্রামবাসীর কাছে এই মাঠ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ার্ল্ড কাপের টায়ার ‘ই’-এর রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ
ফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছিলেন তরুণ ফুটবলাররা। তবে শেষ বাধায় আর পেরে ওঠেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার আজারবাইজানের বাকুতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলে হেরে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালের টায়ার ‘ই’-এর রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। ১৪ মিনিটে মোইর গোলে এগিয়ে যায় তারা। চার মিনিট পর পেনেলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
২৩তম মিনিটে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান তাকিব। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিককে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোই। ৩৯তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাতে প্রথমার্ধেই ৪-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশের কিশোরেরা। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে টায়ার ‘ই’-এর শিরোপা জিতে নেয় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
১৮৯টি দেশ অংশ নেওয়া এই প্রতিযোগিতায় টায়ার ‘ই’-এর ফাইনালে ওঠার সুবাদে সামগ্রিকভাবে ১৩০তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা জিততে না পারলেও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পথচলা ছিল উল্লেখযোগ্য।
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম হয়ে টায়ার ‘ই’-তে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এই পর্বে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল দলটি। এরপর ৩২ দলের নকআউট পর্বে সেশেলসকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে বাংলাদেশ। পরের রাউন্ডে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় তারা।
কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনিগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের কিশোরেরা। সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনাল। তবে শেষ ম্যাচে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে হারায় রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দলটিকে।
প্রথমবার আয়োজিত এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের এমন পথচলা ভবিষ্যতের জন্য অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের পুঁজি হয়ে থাকবে।
সাদমান ইসলাম
সাদমান ইসলামের প্রত্যাশিত সেঞ্চুরিটি হয়ে গেল দ্রুতই। এরপরই প্রত্যাশিত ধসের পালা। শুরুটা করলেন জশুয়া বিশপ। জোড়া ধাক্কায় নাড়িয়ে দিলেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার। এরপর দৃশ্যপটে জোমেল ওয়ারিক্যান। তার বাঁহাতি স্পিনে ধসে পড়ল বাংলাদেশের ইনিংস।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। দিনের খেলা শেষে ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বরেছিলেন, অন্তত ৪০০ রান করতে চান তারা। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনেই সেই আশার মৃত্যু্। ৪০০ তো দূরের কথা, ৩০০ রানের কাছেও যেতে পারেনি তারা। ওয়ারিকানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভুল লাইনে খেলার মাশুল দিয়ে একের পর এক উইকেট দিয়ে আসেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এ দিন আর মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ বাকি ৭ উইকেট। বড় সম্ভাবনা জাগিয়েও ইনিংস থেমে যায় মোটে ২৭২ রানে।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়ে ৫৩ রানে ৫ উইকেট পান ওয়ারিক্যান। ২৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ ৫ উইকেট, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম।সকালে শুরুটা ছিল আনন্দময়। সেঞ্চুরির জন্য এক রানের অপেক্ষায় থাকা সাদমান দ্বিতীয় বলে পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। এরপরই হারিয়ে ফেলেন মনোযোগ। বিশপের বলের লেংথ পড়তে ভুল করে ১০৫ রানে এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ওপেনার।
পরের ওভারে তাওহিদ হৃদয়কে বোল্ড করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন বিশপ। এতে অবশ্য বোলারের কৃতিত্বের চেয়ে ব্যাটসম্যানের দায়ই বেশি। ফুল লেংথ ডেলিভারিতে অহেতুক স্লগ করার চেষ্টায় স্টাম্প এলোমেলো হতে দেখেন আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান।
ততক্ষণ পর্যন্ত বিশপকে সঙ্গ দেওয়ার ভূমিকা পালন করেন ওয়ারিক্যান। ৮৩তম ওভারের শুরুতে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ওভার শুধু দুই প্রান্তে পেস আক্রমণ চালায় তারা। এরপর বল তুলে দেওয়া হয় ওয়ারিক্যানের হাতে।
নতুন স্পেলে ফিরে সাফল্যের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ওয়ারিকানের। তার তার ফ্লাইট ও ড্রিফটে বিভ্রান্ত হয়ে ভুল লাইনে ব্যাট পেতে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বল চলে যায় স্টাম্পে। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না নিজের পরিণতি।
মিরাজের বিদায়ে শুরু হয়ে শেষের ধস। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এতে ওয়ারিক্যানের সঙ্গে অবদান রাখেন দুই পেসার জেডেন সিলস ও শামার জোসেফ। শর্ট বলের পরিকল্পনায় শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের কঠিন পরীক্ষা নেন পেসাররা। আঙুলে চোটও পান এই কিপার-ব্যাটার।
পরপর দুই ওভারে নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদকে ফিরিয়ে দেন জোসেফ। বাকি থাকা দুই উইকেট নিতে সময় নষ্ট করেননি ওয়ারিক্যান। পরপর দুই বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। ৫ উইকেট পূর্ণ হয় ওয়ারিকানের। দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা নিয়ে বোলিং শুরু করবেন ৩৪ বছর বয়সী স্পিনার।
লিটন অপরাজিত রয়ে যান ৩৪ রানে।
ওয়ারিক্যানের ৫ উইকেটের ৪ জনই ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সব মিলিয়ে ৭ উইকেট নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই বাঁহাতি স্পিনার। এ নিয়ে চারবার বাঁহাতি স্পিনারদের কাছে ইনিংসে ৭ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। সবগুলোই ২০২২ সালের পর।
হামজা চৌধুরী
ইসরায়েলের আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজায় মানবেতর জীবনযাপন করা শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ ফুটবলার সেখানকার শিশুদের জন্য ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
নিজের ফেইসবুক পেইজে এ নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন হামজা। ভালোবাসার ইমোজি ব্যবহার করে প্রথম লাইনে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, গাজার শিশুদের জন্য আমরা ১০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।”
এই তহবিল সংগ্রহে সাহায্য করা নুজুম স্পোর্টসকে আলাদাভাবে প্রশংসা করেছেন হামজা।
“যারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দান করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন এবং অবদান রেখে এটিকে সফল করে তুলেছেন, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ নুজুম স্পোর্টসকে, যারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিয়ে এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।”
এই অর্থ গাজার শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় কাজে লাগানো হবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেছেন হামজা।
“সংগৃহীত এই অর্থ 'চিলড্রেন নট নাম্বারস'-এর অবিশ্বাস্য কাজে সহায়তা করবে, যারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গাজার শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। এই শিশুদের অনেকের জন্যই বেঁচে থাকার একমাত্র আশা হলো চিকিৎসার জন্য তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) করা। সংগৃহীত সমস্ত অর্থ সেইসব শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরে ব্যবহৃত হবে, যাদের এটি অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।”
“খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি, তার জন্য আমি অত্যন্ত বিনীত ও কৃতজ্ঞ; তবে আমি জানি যে এত বিশাল কষ্টের সামনে এটি একটি সামান্য অবদান মাত্র। এখনও অনেক কিছু করা বাকি, তবে প্রতিটি প্রচেষ্টা-তা যতই ছোট হোক না কেন-একটি পরিবর্তন আনতে পারে।”
“আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, ফিলিস্তিনে আমাদের ভাই-বোনদের কষ্ট দূর করে দিন, তাদের শক্তি ও ধৈর্য দান করুন এবং তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসুন।”
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টে লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার জন্য এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের আসার কথা রয়েছে ৮ বা ৯ নভেম্বর। ক্লাবের ব্যস্ততা থাকায় ভুটানের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির মা ইউলালিয়া মারজেত্তি মারা গেছেন। বুধবার দেশটির পুজাতো শহরে নিজের বাড়িতে ৭৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ইউলালিয়া। আর্জেন্টিনার ক্রীড়ামাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এ খবর জানিয়েছে।
রোজারিওর রেডিও টু জানিয়েছে, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্বামী অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে পুজাতোতেই বসবাস করতেন ইউলালিয়া। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
তিন সন্তানের জননী ইউলালিয়াদ। তার তিন সন্তান লিওনেল, মাউরো ও কোরিনা। তাদের মধ্যে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করান। আর কোরিনা রোজারিওর কাছের ফুনেস এলাকায় ‘স্কালা বেকারি’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন।মায়ের সঙ্গে স্কালোনির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি থেকে সময় পেলেই মাকে দেখতে পুজাতোতে ছুটে যেতেন তিনি। মায়ের অসুস্থতা নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার এই কোচ।
২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন স্কালোনি। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তার সেই বক্তব্যে মায়ের অসুস্থতার বিষয়টিও সামনে এসেছিল।
ব্যক্তিগত কঠিন সময়ের মধ্যেও দায়িত্ব চালিয়ে যান স্কালোনি। পরের বছর তার অধীনেই কাতার বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়ের পরও মাকে স্মরণ করেছিলেন তিনি।সেই সময় আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেছিলেন, কোপা আমেরিকার শিরোপা তিনি মাকে উৎসর্গ করতে চান। কয়েক দিন আগে মায়ের গুরুতর শারীরিক সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তার মা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন স্কালোনি। এবার সেই মাকে হারানোর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও জন্মশহর পুজাতোতে।
নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা
বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের পর এবার নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে সিশেলসকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের প্লেট-পর্বের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
আজারবাইজানের বাকুতে আজ বুধবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে সিশেলসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৪০ মিনিটের খেলায় ২৮তম মিনিটে রাতুলের গোলে এগিয়ে যায় দল।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে সমতায় ফেরে সিশেলস। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের যুবারা।
এই জয়ে প্রতিযোগিতায় ছয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল দলটি। পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। এরপর বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দল।
বাছাইপর্বের সেই জয়ের ধারাবাহিকতা নকআউটেও ধরে রাখল বায়েজিদ-রাতুলরা। সিশেলসকে হারানোর পর এবার শেষ ষোলোতে নতুন প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।