সরোয়ার আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৩ এএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে জয়ী বিএনপির সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ‘বৈধ’ বলে রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। এর ফলে তার ফল প্রকাশ ও শপথ নিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।


শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।


জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।


রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, “সরোয়ার আলমগীর ফটিকছড়ি-২ থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ইলেকশনে দাঁড়ানোর জন্য যে প্রার্থিতা দিয়েছিল, সেটা ইলেকশন কমিশন তার নমিনেশন ক্যানসেল করে দিয়েছিল এবং সেটা নিয়ে রিট ফাইল হয়েছিল। আজকে রিটের শুনানি হয়েছে।


“শুনানির পর কোর্ট বলেছেন যে সারোয়ার আলমগীর প্রথমত ডিফল্টার নয়। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন যে আপিল অ্যালাউ করে যে ক্যান্ডিডেচার রিজেক্ট করে দিয়েছিল, সেটা অবৈধ ছিল এবং কোরাম নন-জুডিস ছিল এবং ম্যালিস ইন ল ছিল।”


আহসানুল করিম বলেন, “সুতরাং সারোয়ার আলমগীর বৈধ ক্যান্ডিডেট এবং তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচন করেছেন। নির্বাচন করে তিনি ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এবং যেহেতু এই রিট পিটিশনে রুল অ্যাবসোলিউট হয়েছে, এখন নির্বাচন কমিশন তার নাম গেজেটভুক্ত করবেন এবং অন্যান্য যে ফরমালিটিজ আছে, ওথ নেয়া, শপথ গ্রহণ করা, সেগুলো ফরমালিটিজ গ্রহণ করে তিনি সংসদে যাবেন।”


একই পক্ষের আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “এই রায়ের ফলে সারোয়ার আলমগীরের গেজেট নোটিফিকেশনে, যেহেতু সে নির্বাচনে জিতে গেছে, গেজেট নোটিফিকেশনে বাধা রইল না, শপথ নিতেও কোনো বাধা রইল না।”


সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে তা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু এ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে ইসিতে আপিল দায়ের করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন।


ওই অভিযোগের শুনানি নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিল মঞ্জুর করে। অর্থাৎ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।


ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।


প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসি সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট।


হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে।


আদেশে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফল প্রকাশ করা যাবে না।


ভোটে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে সরোয়ার আলমগীরের শপথ নেওয়াও আটকে থাকে।


এ কারণে ফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন সরোয়ার। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে মামলাটি ফের হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হয়।


রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “নির্বাচন কমিশনে যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেবে, সেদিন ইস্যু ছিল যে সে ঋণখেলাপি ছিল কি ছিল না। সেখানে সেদিন কিন্তু ঋণখেলাপি ছিল না, কোনো কথা নাই এবং রিটার্নিং অফিসার অ্যালাউ করছে।


“সাবসিকুয়েন্টলি আপিল করছে জামায়াতে ইসলামীর ক্যান্ডিডেট। সেখানেও কিন্তু ঋণখেলাপিই বলে নাই, এনি জেনারেল কথা বলছে। এরপরে প্রায় ২০ দিন পরে এসে একটা হাই কোর্টের, সুপ্রিম কোর্টের একটা ডকুমেন্ট দেখাল। সাবসিকুয়েন্ট ডকুমেন্ট তো হবে না।


“এইটা দেখেই কিন্তু ইলেকশন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিল। তার এগেইনেস্টে রিট করা হয়েছিল। তো সুতরাং সাবসিকুয়েন্টলি কোনো কাগজ ইলেকশন কমিশন নিতে পারে না, নজরে নিতে পারে না, আমলে নিতে পারে না।”


মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “এইটাই সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশন ইলিগ্যাল ঘোষণা করেছে ইলেকশন কমিশনের সাবসিকুয়েন্ট রায়টা। এতে আরো প্রমাণিত হল যে, সে ঋণখেলাপি ছিল না, বৈধ ক্যান্ডিডেট ছিল এবং বিএনপির ক্যান্ডিডেট হিসেবে প্রায় ৭০ হাজার ভোটে জিতেছে।”


হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন জানিয়ে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “হাই কোর্ট ডিভিশন আজকে নিষ্পত্তি করেছেন, রায় দিয়েছেন, রায় দিয়ে তারা ঘোষণা করেছেন যে জনাব সরোয়ার আলমগীরের নমিনেশন বৈধ ছিল। অর্থাৎ যেদিন তিনি নমিনেশন দাখিল করেছেন, সেই দিনে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না।"


আইনগত যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা আর্গুমেন্ট করেছি। স্ক্রুটিনির দিনটা এখানে প্রাসঙ্গিক দিন নয়। নমিনেশন পেপার সাবমিট করার দিনটা হলো প্রাসঙ্গিক দিন। আদালতকে দেখতে হবে কোনোদিন তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন, এটা কি নমিনেশন পেপার দাখিলের দিন নাকি স্ক্রুটিনির দিন?


“আমরা বলেছি দাখিলের দিন, আইনেও আছে দাখিলের দিন। তারপরেও আদালত অ্যাবসোলিউট করেছেন।”


শপথের বিষয়ে তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত কোনো আদেশ তো বের হয় নাই। আজকে মৌখিক রায় হয়েছে। একটি লিখিত রায় বের হবে। লিখিত রায়ের পরে প্রশ্ন দাঁড়াবে, ইলেকশন কমিশন কী পদক্ষেপ নেবে।


“লিখিত রায় বের হলে অবশ্যই আমরা আপিল দায়ের করব উচ্চ আদালতে। এ ব্যাপারটি আপনারা জানতে পারবেন।”



সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 



এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 




বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং একজন বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।


বুধবার (১২ আগস্ট)  সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।


অন্যদিকে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট জারি করা পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়।


এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সালমান শাহ হত্যা মামলা

জামিন পেলেন না ডন


আদালত প্রাঙ্গণে খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ পিএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


আদালত সূত্র জানায়, ডনের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।


৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করে সংস্থাটি। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।


সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।


মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।


মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।

সর্বশেষ সব খবর

সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পিএসসির সদস্যরা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পিএসসির নবনিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যরা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর।


শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬ আগস্ট  এই চারজনকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেয়। আজ তাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হলো।


নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।


নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।


পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।





সর্বশেষ সব খবর

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হকের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে জামালপুরে যাওয়ার সময় লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন এ কে এম সামিউল হক (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ২৭ বছর ৭ মাস। 


 এ কে এম সামিউল হক ১৭তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচার বিভাগে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বাঁ থেকে ইলিয়াস আলী ও সাইফুর রহমান সাইফ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম বিষয়টি জানান।


এর আগে ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।


গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।



এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।


২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর