হুম্মাম কাদের চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সাক্ষ্যে নিজে গুম হওয়ার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।


গুমের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল সোমবার (১৯ জানুয়ারি); আর প্রথম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে হুম্মামের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।


২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তাকে গুম করা হয়। শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে বারবার নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্যাতনে তার সারা শরীরে ঘায়ের মতো হয়ে যেতো। পায়ের অংশে বড় ফোঁড়াও হয়। আয়নাঘরে রাখা টেবিলের নিচের অংশে লাল কালি দিয়ে সিটিআইবি দেখা দেখতে পেয়েছিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। দিন গুনতেন খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি এলে বুঝতে পারতেন দিন শুরু হয়েছে। কেননা দুপুর ও রাতের খাবার দেওয়া হতো ভাত-মাছ অথবা মুরগি-সবজি। প্রথম দুই মাস একটি পেরেকে দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতেন তিনি।


জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, ফোঁড়া হওয়ার পর ভেবেছিলাম আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হবে। এতে কেউ আমাকে দেখে চিনতে পারবেন। কিন্তু তারা নেয়নি। বেশকিছুদিন পর ফোঁড়ার কারণে হাঁটতে পারছিলাম না। চিৎকার, চেঁচামেচি করে ডাক্তার ডাকতে বলি। তখন একজন ডাক্তার এসে আমাকে পরীক্ষা করেন। আমি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে বলা হয় ‘একজন বড় ডাক্তার এসে চিকিৎসা করবেন’। পরদিন আমার সেলে কয়েকজন এসে আমাকে চৌকির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। একপর্যায়ে আমার ফোঁড়া অপারেশন করা হয়। এতে আমি বেঁহুশ হয়ে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে মেঝেতে রক্ত, ভেজা গজ, টিস্যু পড়ে থাকতে দেখি। আমাকে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। ওষুধের মোড়ক খুলে হাতে করে নিয়ে আসা হতো। একদিন একজন ভুল করে মোড়কসহ একপাতা ওষুধ নিয়ে আসেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ভিআইপি-১’। তা দেখে আমি বুঝতে পারি যে, এটা আমার কোড নেম।


তিনি বলেন, আমাকে মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করা হতো। বেশকিছু সময় তারা আমার সেলে এসে আমার হাতে ইনজেকশন দিতো। যার ফলে মনে হতো আমার পুরো শরীরে যেন আগুন ধরে গেছে। বার বার ইনজেকশন দেওয়ার কারণে আমার হাত কালো হয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবার রাজনীতির বিষয়ে জানতে চাইতো। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করি কি না বা বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না তা বারবার জিজ্ঞাসা করতো। আমার বিপরীত দিকের সেলে একজন বন্দির কোরআন তেলওয়াতের আওয়াজ ও খাবারের পর শব্দ করে ঢেকুর তোলার শব্দ প্রতিদিন শুনতে পেতাম। তার কান্নার আওয়াজও অনেক দিন শুনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জানতে পারি ওই কোরআন তেলাওয়াতকারী লোকটির নাম ব্রিগেডিয়ার আমান আযমী। তখন বুঝতে পারি এ ভবনে আমি একা নই, আরও বন্দি রয়েছেন। আমার সেলে দুই স্তরের দরজা ছিল। একটি লোহার বার ও আরেকটি স্টিলের। একদিন স্টিলের দরজার কিছু অংশ ফাঁকা থাকায় একজন ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখি। তাকে জমটুপি পরানো ছিল। তবে জমটুপির নিচে তার দাঁড়ি দেখা যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিলো তিনি একজন বয়স্ক ব্যক্তি।


হুম্মাম বলেন, আমার সেলের ভেতরে একটি টিউবলাইট ও একটি সিলিং ফ্যান ছিল। লাইটটি সবসময় জ্বলতো। বন্ধ করার কোনো সুযোগ ছিল না, যা ছিল নির্যাতনের অংশ। একদিন আমাকে যখন ইন্টারোগেশন সেলে মারধর করা হচ্ছিল তখন আমার চোখের বাঁধন সরে গেলে দেখতে পাই যে কক্ষে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল সে কক্ষটি পুরোপুরি সাউন্ডপ্রুফ। চারপাশের দেয়ালে খয়েরি রংয়ের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে কার্ডবোর্ডের মতো কভার দিয়ে ঢাকা। কক্ষটি প্রথমে অনেক বড় মনে হলেও চোখের বাঁধন খুলে যাওয়ার পর দেখলাম অনেক ছোট। সেখানে থাকা অবস্থায় কোনো বন্দির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে যারা আমার দেখভাল বা খাবার দিতে আসতেন, তাদের বারবার প্রশ্ন ও কথা বলার চেষ্টা করতাম। তারা কখনও কোনো প্রশ্নের জবাব দিতেন না। তবে যখন আমি আমার কোডনেম জানতে পারি, তখন যিনি খাবার নিয়ে আসেন তাকে ভালো মানের খাবার পরিবেশন করতে বলেছিলাম। তখন তার বড় ভাইকে নিয়ে আসেন। বড় ভাই এসে আমাকে বলল এই ধরনের কথা বললে পরিণতি ভালো হবে না।


জিজ্ঞেস করা হলো কীভাবে জানলাম আমার কোডনেম ভিআইপি-১। আমি বাধ্য হয়ে বলে দেই যে, আমি ওষুধের মোড়কে এ লেখা দেখতে পেয়েছি। যে ব্যক্তি ওই সময় আমার খাবার পরিবেশন করেছিল ঘটনার পর আর আমাকে খাবার দিতে আসেনি। যারা খাবার দিতে আসতো তারা ছিল ছোট ভাই। মেজো ভাইয়েরা মাঝে মাঝে চেক করতে আসতো। আর বড় ভাইয়েরা আসতো বড় সমস্যা হলে। এটা ছিল তাদের হায়ারার্কি।


জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ইন্টারোগেশন সেলে আমাকে যখন শেষবার নেওয়া হয় তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আমাকে ছেড়ে দিলে সবাইকে কী বলবো। জবাবে বলেছিলাম আপনারা যা বলতে বলবেন তাই বলব। তারা আমাকে শিখিয়ে দিলেন আমি যেন বলি কিছু দুষ্ট লোক আমাকে কিডন্যাপ করেছিল। আমি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছি। আমাকে আরও বলা হয়, ‘অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার আপনাকে একটা সেকেন্ড চান্স দিতে চান’। তখন আমি বুঝতে পারি যে, আমাকে গুম-নির্যাতনের ঘটনার পেছনে শেখ হাসিনার হাত রয়েছে। সেদিন আমাকে আমার সেলে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিন পর ভোরে কিছু লোক আমার সেলে ঢুকে তিন স্তরে চোখ বাঁধা হয়। আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সেল থেকে বের করে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়।


অনেকক্ষণ গাড়ি চলার পর আবারও সেই জিগজ্যাগ অনুভব করতে পারি। ২০ মিনিট গাড়ি চলার পর একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আমি ভয় পাচ্ছি কি না। আমি বলি না। তখন আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় পাচ্ছি না। জবাবে বলেছিলাম, ‘যদি মেরে ফেলেন তাহলে আব্বার সঙ্গে দেখা হবে, আর যদি ছেড়ে দেন তাহলে আম্মার সঙ্গে দেখা হবে। এরপর অনেকক্ষণ চলার পর গাড়িটা থেমে যায়। একপর্যায়ে আমাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। আমাকে ফুটপাতে বসিয়ে হ্যান্ডকাফ খুলে দেওয়া হয়। তারা আমার চোখের বাঁধন খুলে দিতে দিতে বলে আমি যেন তিন মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখি। যদি চোখ খুলি তাহলে সমস্যা হবে।


এরপর গাড়িটির দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পাই। গাড়িটি চলে যায়। চোখ খুলে গাড়িটিকে চলে যেতে দেখি। পরে ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে এলাকাটি চেনার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে বুঝতে পারি আমি ধানমন্ডি ৭/এ এলাকায় আছি। যেটা আমার বাসা থেকে তিন রাস্তা দূরে। আমি হেঁটে হেঁটে বাসার দিকে যেতে থাকি। বাসায় ঢুকতে গেলে দারোয়ান ঢুকতে দেয়নি। আমার ওজন অনেক কমে যাওয়া, দাঁড়ি-চুল লম্বা হয়ে যাওয়ায় সে আমাকে চিনতে পারেনি। আমার বাড়িতে থাকা পোষা কুকুর আমাকে চিনতে পেরেছিল বিধায় দারোয়ান গেট খুলে দেয়। বাড়িতে প্রবেশ করে জানতে পারি আমার আম্মা এ বাসায় থাকেন না। তিনি গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় থাকেন। গাড়িতে করে গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় যাই। আম্মার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর জানতে পারি আরও দুজনকে গুম করা হয়েছে। তাদের একজন ব্যারিস্টার আরমান ও ব্রিগ্রেডিয়ার আজমী।


পরবর্তীতে জানতে পারি আমাকে আটকের সময় সিটিআইবির পরিচালক ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম। ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আকবর। ২০১৭ সালের ২ মার্চ আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ওই সময় ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আবেদিন।


হুম্মাম বলেন, যারা আমাকে গুম করেছিল, গুমের নির্দেশ দিয়েছিল, আয়নাঘরে আটকে রেখেছিল, নির্যাতন করেছিল আমি তাদের বিচার চাই। শেখ হাসিনা, জেনারেল আকবর, জেনারেল আবেদিন, ব্রিগ্রেডিয়ার তৌহিদুল ইসলাম ও তাদের সহযোগী যারা হুকুমদাতা ছিল এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় যারা যারা অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সর্বোচ্চ শান্তি চাই।


সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তার জেরা হয়নি। জেরার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।



সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 



এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 




বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং একজন বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।


বুধবার (১২ আগস্ট)  সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।


অন্যদিকে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট জারি করা পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়।


এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সালমান শাহ হত্যা মামলা

জামিন পেলেন না ডন


আদালত প্রাঙ্গণে খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ পিএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


আদালত সূত্র জানায়, ডনের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।


৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করে সংস্থাটি। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।


সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।


মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।


মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।

সর্বশেষ সব খবর

সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পিএসসির সদস্যরা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পিএসসির নবনিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যরা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর।


শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬ আগস্ট  এই চারজনকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেয়। আজ তাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হলো।


নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।


নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।


পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।





সর্বশেষ সব খবর

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হকের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে জামালপুরে যাওয়ার সময় লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন এ কে এম সামিউল হক (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ২৭ বছর ৭ মাস। 


 এ কে এম সামিউল হক ১৭তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচার বিভাগে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বাঁ থেকে ইলিয়াস আলী ও সাইফুর রহমান সাইফ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম বিষয়টি জানান।


এর আগে ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।


গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।



এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।


২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর