দৈনিক নওরোজ পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক মনসুর আহমেদ।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:২০ এএম

মফস্বল সাংবাদিকতার কণ্ঠস্বর ও ঢাকা সাব-এডিটর'স কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী সদস্য, দৈনিক নওরোজ পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক মনসুর আহমেদ ভাইকে জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


সংবাদপত্র কেবল কাগজে ছাপা কিছু শব্দের সমষ্টি নয় এটি সময়ের দলিল, সমাজের দর্পণ এবং মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর এক নির্ভীক অস্ত্র। সেই অস্ত্রকে যিনি আজীবন সততা, সাহস ও মানবিক দায়বদ্ধতায় শানিত রেখেছেন, তিনি দৈনিক নওরোজ পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক, ঢাকা সাব-এডিট কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী সদস্য, আমাদের প্রাণের প্রিয় মনসুর আহমেদ ভাই।


আজ তাঁর জন্মদিন। এই দিনটি শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের নয়, এটি সাংবাদিকতার জন্যও এক গৌরবের উপলক্ষ। কারণ মনসুর আহমেদ ভাই এমন একজন মানুষ, যাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংবাদপত্রের নৈতিকতা, সম্পাদনার শৈল্পিক দায় এবং পেশাগত অধিকার রক্ষার নিরলস সংগ্রাম।


মফস্বলের সীমাবদ্ধ বাস্তবতাকে অজুহাত না বানিয়ে তিনি সংবাদকে পৌঁছে দিয়েছেন সত্যের উচ্চতায়। রাজধানীর কর্পোরেট সাংবাদিকতার ঝলকানির বাইরে দাঁড়িয়ে, প্রান্তিক মানুষের কান্না, বঞ্চনা ও ন্যায়ের দাবি তিনি তুলে ধরেছেন দৃঢ় অথচ সংবেদনশীল ভাষায়। তাঁর কলম কখনো আপস করেনি, কখনো ক্ষমতার কাছে নত হয়নি বরং প্রতিটি লেখায় স্পষ্ট থেকেছে বিবেকের উচ্চারণ।


ঢাকা সাব-এডিট কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী সদস্য হিসেবে মনসুর আহমেদ ভাই শুধু একটি পদে ছিলেন না তিনি ছিলেন সহকর্মীদের কণ্ঠস্বর। সাব-এডিটরদের পেশাগত মর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা ছিল স্পষ্ট, সাহসী ও প্রগতিশীল। সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে তিনি প্রমাণ করেছেন সাংবাদিকতা মানে কেবল সংবাদ প্রকাশ নয়, সাংবাদিকের অধিকার রক্ষাও এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


দৈনিক নওরোজ তাঁর হাত ধরে হয়ে উঠেছে সত্যনিষ্ঠ ও দায়বদ্ধ সংবাদচর্চার এক নির্ভরযোগ্য নাম। এখানে সংবাদ পরিবেশন মানে শুধু তথ্য হাজির করা নয় বরং সমাজকে প্রশ্ন করার সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার।


এই জন্মদিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাঁর দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি অধ্যায় যেখানে ছিল সংগ্রাম, ছিল অবিচলতা, ছিল আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যে দৃষ্টান্ত শেখায়, কলম কখনো ভয় পেলে চলে না, সত্য কখনো একা হলেও পরাজিত হয় না।


আমরা কামনা করি, মনসুর আহমেদ ভাই সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হোন। তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও সাহসিক নেতৃত্ব আগামী দিনগুলোতেও আলোকিত করুক সংবাদপত্রের অঙ্গন।


শুভ জন্মদিন।


সত্যের পথে অবিচল এই যাত্রা আরো দীর্ঘ হোক মফস্বল থেকে জাতির বিবেক জাগ্রত করার এই দায়িত্ব যেন আপনার কলম আজীবন বহন করে।




সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির আবাসনে ৬০ কাঠা জমির চুক্তি সই

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৮ এএম

সাংবাদিকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির সদস্যদের মধ্যে ৬০ কাঠা জমি সংক্রান্ত চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। নর্থ সাউথ গ্রিন সিটির উদ্যোগে এ চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়।


বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির কো-অর্ডিনেটর মো. সালাহ উদ্দিন বাবুর হাতে চুক্তিপত্র তুলে দেন নর্থ সাউথ গ্রুপের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাহবুবুল হোসাইন খান, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান, ডিরেক্টর অ্যাডমিন কর্নেল (অব.) মো. শফিউল আলম খান এবং সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির কো-অর্ডিনেটর মো. সালাহ উদ্দিন বাবু।


এ সময় সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির পরিচালনা কমিটির সদস্য কাওছার আহমেদ, তৌফিক মাহমুদ ও রিয়াদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের আবাসন সুবিধা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাংবাদিকদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।


সৈয়দ আমান উল্লাহ।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪০ এএম

​সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ ও মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া বলাৎকারের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ‘অর্থনীতি ডট কম’-এর সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ আমান উল্লাহকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে উগ্রপন্থী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধের সত্যচিত্র তুলে ধরার পর থেকেই অপরাধী চক্রটি তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছে।


​ভুক্তভোগী সাংবাদিক আমান উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মাদ্রাসায় বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি সংঘবদ্ধ উগ্রপন্থী ও কিশোর গ্যাং গ্রুপ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা সংবাদ পরিবেশন বন্ধ করার জন্য আমাকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে আমি মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, ​এর আগেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাভিশন টেলিভিশনে কর্মরত অবস্থায় মাঠে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছি। বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 


আগের সেই আঘাতের ক্ষত ও ট্রমা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও নতুন করে উগ্রপন্থী ও অপরাধী চক্রের এই প্রাণনাশের হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। তিনি অপরাধীদের  শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এবং তাঁর  সার্বিক নিরাপত্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানিয়েছেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জুন, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ এএম

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও একজন সম্পাদক দেখেছেন পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা।


গত ১৫ জুন সকাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। ওইদিন সকালেই পত্রিকাটির ম্যানেজিং এডিটর ফারুক মেহেদীকে জানানো হয় তাকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে হাসান হাফিজের অনুপস্থিতিতে বিকাল ৪টার দিকে তিনি সম্পাদকের চেয়ারে বসেন। তবে এরপর হাসান হাফিজ অফিসে এসে রাত ৮টা পর্যন্ত ছিলেন বলে কালের কণ্ঠের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।


তবে সেদিন রাতেই আবার ফারুক মেহেদীকে সরিয়ে নতুন আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করা হয়। তিনি হলেন ডেপুটি এডিটরের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান তালুকদার।


একটি জাতীয় দৈনিকে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ পদে একাধিক পরিবর্তনের ঘটনা ঢাকার গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। এই রদবদলের কারণ সম্পর্কে কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে পত্রিকাটির ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, সম্পাদক পদে এই পরিবর্তনের পেছনে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রভাব ফেলতে পারে।


সকালে সম্পাদক হয়ে রাতে বাতিল লীগের মনোনয়ন কেনা ফারুক মেহেদী


৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপিপন্থী বলয়ের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হাসান হাফিজকে সম্পাদক নিয়োগ দেয় বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) সকালে হঠাৎ করে তাকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করা হয় পত্রিকাটির হেড অব নিউজ দায়িত্ব পালন করা ফারুক মেহেদীকে।

এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দেন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ফারুক মেহেদীর নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।

তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ওইদিন রাতেই ফারুক মেহেদীকে সরিয়ে চীফ রিপোর্টার মেহেদী হাসান তালুকদারকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার তালুনকাদের শুভাকাঙ্খীরা সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন।

 এই আকস্মিক এরকম একাধিক পরিবর্তনের বিষয়ে 'দ্য ডিসেন্ট'-এর পক্ষ থেকে কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "নামের বিভ্রাট হয়ে গেছে। ভুল করে ফারুক মেহেদী লেখা হয়। দুইজন মেহেদী থাকায় এমন হয়েছে। ওইটা ঠিক করা হয়েছে। রাতে কারেকশন করে দিছে।"

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, হাসান হাফিজ পুরোপুরি দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন এবং মেহেদী হাসান তালুকদার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

হাসান হাফিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননা।


অন্যদিকে, মাত্র এক বেলার জন্য ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা ফারুক মেহেদী বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের ‘সাধারণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবেই অভিহিত করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

'দ্য ডিসেন্ট'-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এগুলা নিয়ে কিছু বলার নাই আসলে। এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষ যে ডিসিশন নিবে, সেটাই হবে। আমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব এবং যাকে নিছে, তাকে নিয়ে তার সাথে আমরা কাজ করব।"

পদ পরিবর্তনের বিষয়টি তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া মেহেদী হাসান তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ফারুক মেহেদীর নিয়োগ ও বাতিলের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণে তার সাথে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি।


এত রদবদলের নেপথ্যে কী?


কালের কণ্ঠের এই অস্থিরতার পেছনের কারণ কী তা বুঝার জন্য পত্রিকাটির একাধিক কর্মীর সাথে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট (যাদের কেউই নাম প্রকাশে রাজি হননি)। তাদের কেউই নির্দিষ্ট করে কোন কারণ বলতে পারেননি। তবে তাদের অন্তত দুইজনের ধারণা, আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদেরকে পত্রিকাটিতে ক্ষমতায়িত করার চেষ্টা এবং অফিসের সিনিয়র একাধিক ব্যক্তির মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।


হাসান হাফিজকে সরিয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজনকেই তাদের কালের কণ্ঠের একাধিক সহকর্মী আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এদের মধ্যে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া ফারুক মেহেদী সাংবাদিকতা অঙ্গনে পরিচিত মুখ এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও খ্যাতি রয়েছে। তিনি এনবিআর এবং ডিআরইউ-এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে সেরা সাংবাদিকের পুরস্কারও পেয়েছেন।

তবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সংশ্লিষ্ট। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পড়ার সময় থেকেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তীতে তিনি সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান এবং ২০২১ সালে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সে সময় প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


এছাড়াও তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ভারতে পলতাক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ২০১৯ সালে ‘গ্লোবাল লিডার শেখ হাসিনা দ্য প্রাইম মিনিস্টার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সংকলিত বই সম্পাদনা করেছিলেন। তিনি শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের মুকুটহীন রানী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।


তাকে সরিয়ে দায়িত্ব পাওয়া মেহেদী হাসান তালুকদারকেও একাধিক সহকর্মী আওয়ামীপন্থী বলে জানলেও, দ্য ডিসেন্ট অনলাইনে তার আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোন তথ্য পায়নি। যদিও তালুকদারের ফেসবুক আইডিটি বর্তমানে ডিএক্টিভ রয়েছে।


কালের কণ্ঠের একাধিক কর্মী বলেছেন, বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীর সাথে অন্য নিউজরুম ম্যানেজারদের কারো কারো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও অস্থিরতার পেছনে কিছু ভূমিকা রাখতে পারে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নির্বাহী সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়ার বদলে তার অধীনে থাকা দুইজনকে পরপর এই দায়িত্বে নিয়ে আসা থেকে এই দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত মেলে বলে তাদের ধারণা।

পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীকে ফোন করা হলে তিনি ‘আমি মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব’ বলে কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার একই নম্বর থেকে ফোন করা হলে তার ফোনে আর কল যায়নি। 

তবে অন্য নম্বর থেকে তাকে কল করা হলে কল ঢুকলেও তিনি রিসিভ করেননি।


সংশোধনী


ভুলবশত হাসান হাফিজ কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন লেখা হয়। তিনি মূলত পত্রিকাটির সম্পাদক পদে ছিলেন।


ডেপুটি এডিটরের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান তালুকদারের পদবীও সংশোধন করা হয়েছে।


জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য তালুকদার হারুন আর নেই

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১১ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ পিএম

জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দৈনিক ইনকিলাবের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার তালুকদার হারুন আর নেই।


গত ৬ মে বুধবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)| তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।


তিনি এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নিজ গ্রাম গালার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।


জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া তালুকদার হারুনের মৃত্যুতে গভীর  শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের বি,কে বাড়ি এলাকায় ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চুর ওপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ গনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়।


শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসার পাশে নির্মাণাধীন স্থানে চাঁদা দাবি করার প্রতিবাদ করলে তার উপরে এই হামলা চালায়।


এই বিষয়ে আহত মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গনি মিয়া, মোফাজ্জল হোসেন ও মাসুদসহ কয়েকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।



ঘটনার দিন সকালে তিনি নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকদের গালিগালাজ করে।


প্রতিবাদ করলে তারা হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।


একপর্যায়ে একটি হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তার ডান চোখের নিচে লাগে, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।


তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও হুমকি দেয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও র‍্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।


গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা করা হয়েছে যাহার নম্বর-১৮, তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৬, বাৎসরিক নম্বর ১১০ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৫০৬ ধারায় চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।


এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ জানায়, মামলা দায়ের হয়েছে আমি চেষ্টা করেছি অতিদ্রুত আসামি কে গ্রেফতার করা হবে।


সাংবাদিক শওকত মাহমুদ। ফাইল ফটো।

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:২০ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শওকত মাহমুদের বড় মেয়ে মেহেত মামুন। 


সম্প্রতি তিনি বাবার মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে আবেদন দাখিল করেছেন। একই সাথে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিএনপি’র সাবেক এই নেতার মুক্তির জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে দাখিলকৃত আবেদনপত্রে মেহেত মামুন বলেন, আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের পুরো সময়জুড়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাটিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রধান নেতা আপনার শ্রদ্ধেয় পিতা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করেছেন। সেভাবেই দলের অনুগত হিসেবে সাংবাদিক পেশার মানুষদের সুসংগঠিত করেছেন। এরজন্য তাকে কম নিগৃহের শিকার হতে হয়নি! আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ৭০টি মামলায় দীর্ঘ দেড়বছর কারাবসা করেন। তবে আপনার ও আপনার মার থেকে পাওয়া দীক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে কখনো আপস করেননি।



তিনি বলেন, আমার পিতা গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এ একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। তাকে এক কাপড়ে গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা তুলে নিয়ে একটি মামলায় যুক্ত করেন, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই বলে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বারবার বলে আসছেন। তার চলমান কারাবাস সময়ে যতবার দূর থেকে কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাতে তিনি তার কষ্টের জীবনের বাইরেও আপনার খোঁজ নিয়েছেন। আপনি যখন গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দেশের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে গণতন্ত্র ফেরানোর পথে হাল ধরেন, তিনি তখন খুব আপ্লুত হয়ে আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। খুশি হয়ে তার অভিবাদন জানাতে আপনার দ্বারস্থ হওয়ার কথা বললেও সে সুযোগ মেলেনি। আমার পিতার একমাত্র অভিবাবক দেশনেত্রী বেগম জিয়ার প্রয়াণেও তিনি বিমর্ষ, ব্যথিত। এতে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত। তিনি তার রাজনৈতিক সর্বোচ্চ নেতার আওয়ামী দুঃশাসনে মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ায় শোকবিহ্বল। আব্বা (শওকত মাহমুদ) তখনই শোকসন্তপ্ত পরিবার হিসেবে আপনাকে তার বার্তা পৌঁছাতে বললেও সে সুযোগও হয়নি।



মেহেত মামুন আরো বলেন, এর মধ্যে আপনি দলের সঙ্গে দেশেরও হাল ধরেছেন। একের পর এক চমক দিয়ে আপনি শুধু দল নয় বরং দেশের সর্বোচ্চ অভিবাবকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছেন। আপনি আপনার সবচেয়ে বিরোধী ভূমিকায় থাকা লোককেও আপনার মানবিকতা, দুরদর্শী কার্যালাপ দিয়ে বিমোহিত করেছেন। এতে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বরাবরের ন্যয় আপনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি সরকারে দেড় মাসের মতো সময়ে ঘুনেধরা সমাজ, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের আচারে ও কর্মকাণ্ডে যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন তাতে শওকত মাহমুদ ও তার পরিবার হিসেবে আমরাও আপনার নেতৃত্বের প্রতি আরো অনুগত, আরো আদর্শিক জায়গা থেকে বাধ্যগত হয়ে আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। আমার আব্বাসহ (শওকত মাহমুদ) দেশের আপামর জনতার একমাত্র অভিবাবক হিসেবে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।


তিনি বলেন, একটি মহল মিথ্যা তথ্য ও ধারণাপ্রসূত হয়ে আমার পিতা শওকত মাহমুদকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার রেখে হয়রানি করছে। সবশেষ যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সে মামলায় জামিনের পর তাকে ফের এমন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই। ওই মামলাটি ছিল আমার পিতাকে গ্রেপ্তারের আরো আগের। আওয়ামী পন্থী একদল লোকের করা আয়োজনের সঙ্গে আমার আব্বাকে (শওকত মাহমুদ) জড়িয়ে জঘন্যতম মিথ্যাচার করা হয়েছে। স্পষ্টত তা হয়রানির উদ্দেশেই করা হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।


প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মেহেন মামুন আরো বলেন, আপনি দেশের অভিবাবক হিসেবে এখন সবকিছু আপনার নখদর্পনে। আপনি নিজ থেকে তদন্তের দায়িত্ব কোনো দায়িত্বশীল সংস্থাকে দিলেই এটি প্রকাশ পাবে, আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের কোনো মুহূর্তে আপনার ও আপনার মা’র আদর্শ ও দেখানো পথ থেকে বিচ্যুত হননি। আমাদের পরিবারের সদস্যকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। তবে একটি মহল তাকে বরাবরই দলের বিরুদ্ধাচাণ করার দায়ে সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছে এবং যার ফলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকেও তাকে আব্বার (শওকত মাহমুদ) বরখাস্ত হতে হয়। এর পেছরে আব্বার (শওকত মাহমুদ) দায় বা দোষ যে নেই তা বলছি না। আব্বাও নিজেকে এর জন্য দোষী ভাবেন নিজেকে। একবার আপনার সদয় অনুমতি মিললে তিনি ক্ষমা চাইতে চান অবলীলায়। তিনি চান, অভিবাবক হিসেবে আপনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি করবেন তা তিনি বিনাদ্বিধায় মেনেও নেবেন। তবে তিনি এতটুকু বারবার বলতে চান, তিনি আপনি, আপনার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের তৈরি বিএনপির প্রশ্নে আপসহীন।


প্রধানমন্ত্রীকে কিছু তথ্য দিয়ে শওকত মাহমুদের জেষ্ঠ্য কন্যা আরো বলেন, আমার আব্বা (শওকত মাহমুদ) তার এবারের কারাবাসের ঠিক চারদিন আগে ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখেও আপনার মা’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কালবেলা পত্রিকায় কলাম লিখেছেন ‘বেগম জিয়া এখন কী ভাবছেন’। যে নির্বাচনের মাধ্যমে অবশ্যম্ভাবী বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হবে এবং আপনি দেশের হাল ধরবেন সে নির্বাচনের সময় ঘোষণার পরপরই তাকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সংবাদ করিয়েছেন। সেটিও ৬ অগাস্ট ২০২৫ তারিখে। আব্বা ২৯ মে ২০২৫ তারিখেও তার ফেইসবুকে লিখেছেন ‘স্বাধীনতার প্রধান ব্যক্তিত্ব জিয়া’। এসবই তার কারাবাসের পূর্বের কয়েক মাসের কার্য তালিকায় রয়েছে। তার ব্যক্তিগত ফেইসবুকে এখনও নিজের বায়োতে লেখা রয়েছে ‘বেগম জিয়াকে মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো স্থিতি নয়, নয় আর কোনো নির্ণয়া’, তার কভার ফটোতে ঝুলছে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত ‘বাংলাদেশ তুমি ধানের শীষে মিশে থাকা শহীদ জিয়ার স্বপন’ গানের লাইন। এতে স্পষ্ট হয় তার আবেগ ও আদর্শের জায়গায় কিঞ্চিৎ কষ্মিণকালেও পড়েনি।


তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা এতটুকু বলতে পারছি কারণ আমরা পরিবার চার দেয়ালের মধ্য থেকে তার মানবেতর জীবন দেখেছি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনামলে। তিনি একের পর এক মামলায় যখন জর্জরিত তখনও তাকে তৎকালীন হাসিনা সরকার নানাভাবে চাপে রেখেও বিএনপি থেকে সড়াতে পারেনি। এর জন্য দীর্ঘ দেড়বছরের কারাবাস করতে হয়ে আব্বাকে। আর আমরা দিনকে দিন দেখেছি কীভাবে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে সব। ৫ অগাস্ট আসার আগের এবং পরের সময়েও আমাদের পরিবারকে বারবার বাসা ভাড়ার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। একের পর এক ছোটো বাসা ভাড়া করে দিনানিপাত করে জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে। এ সময় সাধারণ ইউটিলিটি বিল ঠিকঠাক দিতে না পারায় তা বিচ্ছিন্নের ঘটনাও ঘটেছে। পরিবারের একমাত্র সম্বল ব্যক্তিগত মায়ের গাড়িও বিক্রি করে সংসারের সাধারণ খাওয়া-দাওয়ার খরচা সামাল দিতে হয়েছে। এগুলো আমাদেরই অভিজ্ঞতা! এর বাইরে রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে আপনি বা আপনার দল কিছু জানলে তা আমরা সে বিষয়ে অজ্ঞ। তবে পরিবারের ভেতর থেকে তাকে বরাররই পেয়েছি স্বচ্ছ ও নির্মোহ। তার প্রায় চারদশকের রাজনীতিতেও এমন দিনানিপাতের দিন আমাদের কাছে তার আওয়ামী দুঃশাসনের সামনে নত না হওয়া প্রমাণ করে। তবুও তিনি কোনো দোষ, ত্রুটি করলে আপনার কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আমার আব্বাও (শওকত মাহমুদ) অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে তার জানা-অজানা ভুল ও দোষের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। আপনার সাক্ষাৎ কামনা করে তিনি দল বা আদর্শের জায়গা থেকে যেকোনে ভুলের জন্য তার বার্তাও নতমস্তিষ্কে তুলে ধরতে চান।


শওকত মাহমুদের মুক্তি চেয়ে তার কন্যা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার আব্বাকে (শওকত মাহমুদ) কারামুক্ত হতে আপনার একান্ত সহযোগিতা এবং সুদৃষ্টি কামনা করছি। কারণ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে এখন এসব হয়রানিতে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। শেষ যেদিন কথা হল, অপর একটি মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানোর পর তিনি ব্যথিত ও মর্মাহত বললেন, আমি বুঝে গেছি। এই আমার শেষ। মৃত্যু ছাড়া আমার বের হওয়ার সুযোগ নেই। তোমরাও প্রস্তুত থাক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ কথা আমাকে, আমার ভাইবোন ও আমার আম্মাকেও একদম ভেঙে দিয়েছে। আমরা আইনি লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে তার আপনার দ্বারস্থ হওয়ার সব চেষ্টাই করে গেছি। আমি ও আমার পরিবারের বিশ্বাস, আমার আব্বার (শওকত মাহমুদ) ২০০৪ সালের ৬টি বাইপাস সার্জারি, ২০১৩ সালের দুটি স্টেন্ট এবং ২০২২ সালের আরো দুটি স্টেন্ট বসানোর তথ্য ও বর্তমানে থাকা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিও ইপিডি, শ্বাসকষ্ট, চলনশক্তির দুর্বলতা ও এবং বিভিন্ন রোগে ভোগার তথ্য জেনে আপনি অবশ্যই আপনার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার প্রতি সদয় হবেন। তিনি এতটাই বর্তমানে অসুস্থ যে তাকে মিথ্যা মামলায় তাও আবার অজ্ঞাত হিসেবে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ায় ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ভর্তি হতে হয়। সেখানে রিউমাটোলজি বিভাগের অধীনে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।


মেহেত মামুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার আব্বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আইনি লড়াই করতে গিয়ে পরিবারের অর্থাভাবও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আইনি খরচ মেটাতে গিয়ে তার চিকিৎসা খরচা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি এখন মৃত্যুর দিন গুনছে। পরিবারের সদস্য হিসেবে তা আমাদের চোখের সামনে হওয়ায় আমারও বিমর্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে কারামুক্তি দিন। তার যেকোনো অপরাধের জন্য ক্ষমা করুন। আমি পরিবারের তরফে আমার আব্বার আশুমুক্তির জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিনীত প্রার্থনা আপনার নিকট আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে মুক্তির বিষয়ে সুদৃষ্টি দিন, নয়তো আপনার সহযোদ্ধা কারাগারেই হয়তো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন!


বার্তাপ্রেরক — মেহেত মামুন (সাংবাদিক শওকত মাহমুদের বড় মেয়ে)


(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)