রামিসা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঢাকার পল্লবী এলাকায় রামিসা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে গত মঙ্গলবার পল্লবীতে পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।
প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল রানা।
পুলিশ জানায়, সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর সন্দেহভাজন সোহেল রানা তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করে।
পরে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং বাথরুমে রাখা একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। আন্দোলনকারীদের দাবি, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার পর সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সোহেল রানা নামের এক যুবক। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার মেয়েকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শয়নকক্ষের মেঝেতে তার মেয়ের মস্তকবিহীন লাশ ও বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।
এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি ছিল।
ওই ঘটনার পরই ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, দরজা খোলার পর মেয়েটিকে দেখে তার বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় মেয়েটিকে ডেকে ঘরের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একপর্যায়ে লাশ গুমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন রানার স্ত্রী।
আদালতে জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তারা একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। শিশুটির পরিবারসহ তিনটি পরিবারের বাস ছিল একই তলার পাশাপাশি। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সে। পরে জোর করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে।
সোহেল জানায়, ঘটনার পর শিশুটি তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় মেয়েটির মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো প্রক্রিয়াতেই সোহেলকে সহযোগিতা করেন তিনি।
বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়লেন রামিসার বাবা
আরাফাত সিদ্দিকী
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান চালানোর সময় বালুঘাটের এক কর্মচারীকে মারধরের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ড. গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘটনার পরদিনই ইউএনওকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদায়নের কপি তারা পেয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে বুধবার সকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। তারা বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা, বালিপাড়া বালুর মোড়ের মরাখলা, কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীর বাজার ও কানিহারী ইউনিয়নের ঝিলকি এলাকায় অভিযান চালান।
পরে অভিযানকারী দল কানিহারী ইউনিয়নের কুলু বাড়ি মোড় এলাকার একটি বালুঘাটে যায়। সেখানে বালুর স্তূপ ত্রিশাল অংশে থাকলেও ঘাটটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমানায় বলে দাবি করেন ঘাটের কর্মচারীরা। তাদের দাবি, বালুবাহী ট্রাক ত্রিশালের সড়ক ব্যবহার করলেও ঘাটটি ঈশ্বরগঞ্জের সীমানায় পড়েছে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), র্যাব ও আনসার সদস্যদের নিয়ে বালুঘাটের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ইজারার বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে ঘাটের কর্মচারী জোবায়ের হোসেন জানান, কাগজপত্র সেখানে নেই।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, জোবায়ের হোসেন ইউএনওকে নিজের পরিচয় দিতে বলেন। ইউএনও নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর আরাফাত সিদ্দিকী জোবায়েরকে চড়-থাপ্পড় দেন এবং বেত দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন বলে ফুটেজে দেখা যায়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি থামিয়ে দেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুমহালের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বৈঠকে উভয় পক্ষ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।
তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে বদলি করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ জারি করে।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অভিযানের সময় সরকারি কর্মকর্তার আচরণ এবং বালুঘাটের সীমানা ও ইজারার বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা পোস্ট করা হয়।
বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এই বিশেষ বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন রোববার বরিশালে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’- এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।
আজ রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন না করে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে। ফলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ দিতেই নিজস্ব উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একদল লুটেরাকে ধনী করার উদ্দেশ্যে দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশে এমন চক্রান্তই করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে বাধ্য হয়ে যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকুই আমদানি করা হবে, বাকি চাহিদা নিজস্ব উত্তোলনের মাধ্যমেই মেটানো হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে কোনো কোনো সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সমস্ত কারবারীরা সরকার পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে।
বিএনপিতে কোনো গডফাদার বা মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের সঠিক ছবি উঠবে না এবং তা সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার, এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের দেশকে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
আজ রোববার রাতে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তারা কী করবে। প্রত্যেক মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাজপথে এসে তা বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এটা আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি- দেশের উন্নয়ন ও দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদেরকে আমাদের রুখে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদের স্লোগান- করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে- আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব। কারণ ৩১ দফা হচ্ছে জনগণের দফা। কাজেই জনগণের দফা পূরণ ও বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে।’
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’
আজ রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’
দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ-যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলাতেও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও পাবেন। লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও শিগগিরই দেওয়া হবে। যার ফলে লবণ চাষী ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’
চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে- সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।"
হেফাজতের আমির বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
তিনি বলেন, আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা বাসাবাড়ি- সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়, এবং গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি- একটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুইজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহন করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।
নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। এ সময় কক্সবাজার জেলাও সফর করবেন তিনি।
আগামীকাল (রোববার) সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি আজ (শনিবার) বিকেলে এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, কাল সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।
এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান।
দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
দিনের কর্মসূচি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।