ভোটে বাধা মনে করলেই গ্রেপ্তার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র এক মাস বাকি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ততই নতুন কৌশলে হাঁটছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার অভিযানেও আসছে পরিবর্তন।
এখন থেকে ধরে ধরে শুধু ‘ডেভিলদের’ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন) গ্রেপ্তার নয়, আসন্ন নির্বাচনে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বা করতে পারে—এমন মনে হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের কৌশল নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এ তথ্য মিলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যারা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, এরই মধ্যে এমন লোকদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। চলমান অভিযানের সঙ্গে ওই তালিকাভুক্তদের নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনের আওতায় নিতেও বলা হয়েছে।
এ নিয়ে গতকাল রোববার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘যারা নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা সামনের সময়েও অব্যাহত থাকবে।’
ইসি কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, গতকাল ইসির সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ ১৬ বিভাগ ও সংস্থার ফোকাল পয়েন্ট বা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মাঠপর্যায়ে ঘুরে এসেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মাঠপর্যায়ে কো-অর্ডিনেশন ও অপারেশন জোরদার করতে বলেছেন। পাশাপাশি বৈঠক থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি যারা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমস্যা তৈরি করতে পারে, নির্বাচনের জন্য যারা হুমকি, তাদের তালিকা করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।’
এ তালিকা কারা করবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় করে তালিকা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নজরদারি করা এবং যথোপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনে বাধা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তারে নজরদারি ও অভিযান চালানো হলেও অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেস-২ অব্যাহত থাকবে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেই হয়রানি করা যাবে না। শুধু যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসি কর্মকর্তাদের বৈঠকে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ অভিযান জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ইসি থেকে সমন্বয় সেল, ভিজিল্যান্স টিম, মনিটরিং টিমসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার সমন্বয়ে অনেক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এসব কমিটি ঠিকমতো কাজ করছে না বলে গতকালের বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে। বৈঠক থেকে সেগুলো যেন ভালোভাবে কাজ করে, সেটা জোর দিতে বলা হয়েছে। মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনকে সময়ে সময়ে অবহিত করতেও বলেছেন ইসি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ওই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে। এরপরই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি আততায়ীর গুলিতে শহীদ হন। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। ওই ঘটনার পর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে গত ১৩ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় ‘ডেভিল হান্ট ফেস-২’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ হাজার ৬০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে উদ্ধার হয়েছে ১৫৬টি অবৈধ অস্ত্র।
এর আগে গাজীপুরে হামলার পর গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনী সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করে। এ অভিযানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হলে এ অভিযান নিয়ে সমালোচনাও হয়। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে ‘নিরীহদের’ গ্রেপ্তারের অভিযোগ ওঠে। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রথম ধাপে শুরু হওয়া ডেভিল হান্ট বন্ধ হয়ে যায়।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তখন ডেভিল হান্ট বন্ধ হয়নি। সন্ত্রাসী, অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নিয়মিত কাজ, তা চলমান ছিল। পরিস্থিতি যেন খারাপের দিকে না যায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়, সেজন্য দ্বিতীয় দফায় ডেভিল হান্ট শুরু হয়।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর তাগিদ: ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর কর্মকর্তাদের বৈঠকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও মাঠ পুলিশে এই বিষয়ে কড়া নির্দেশনা রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এখনো পুলিশের থানা ও স্থাপনা থেকে লুণ্ঠিত ১ হাজার ৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপারেশন ডেভিল হান্ট চালিয়ে এবং পুরস্কার ঘোষণা করেও এসব অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো ছাড়াও দেশের বাইরে থেকে যেন অস্ত্রের চোরাচালান না হয়, সে ব্যাপারেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক জায়গায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। যেগুলোর সব খোয়া যাওয়া অস্ত্র নয়। অন্য অস্ত্রও রয়েছে। এসব অস্ত্রের একটা অংশ পরবর্তী সময়ে উদ্ধারও হয়েছে। তবে খোয়া যাওয়া ভারী অস্ত্রগুলোর ব্যবহার দেখা যায়নি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েও কিছু অস্ত্র এসেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেটার পরিমাণ খুব বেশি নয়। এসব অস্ত্রের গতিপথ অনুসরণ করে সেগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা চলমান আছে।
বেগম খালেদা জিয়া এবং নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সীমানার বাইরে পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বছরের পর বছর স্মারকটি যথাযথ গুরুত্ব ও সংরক্ষণ পায়নি। এর চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার পাশাপাশি পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা খালেদা জিয়ার নামসংবলিত উদ্বোধনী ফলকও বিভিন্ন সময় ফুলের টব ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে আড়াল করে রাখা হতো। তবে ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুটি ফলকই পরিমার্জন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৫ সালের ১ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর দুই বছর পর ২০০৭ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ওই বছরের ৩ জুন শুরু হয় একাডেমিক কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার সময় চারটি বিভাগ ও ১৮৫ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি পরবর্তী সময়ে বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার সেই স্মারকটি এখনো মূল ক্যাম্পাসের বাইরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থানটির পাশ দিয়ে একসময় একটি রাস্তা ছিল। তখন রাস্তা থেকেই স্মারকটি দেখা যেত। পরবর্তী সময়ে ওই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে শিউলিমালা হল নির্মাণ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ হলে ভিত্তিপ্রস্তরটি সীমানার বাইরে থেকে যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন হলেও প্রতিষ্ঠার স্মারকটি রয়ে যায় ক্যাম্পাসের বাইরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের রাস্তা বন্ধ করে হল নির্মাণের ফলে স্মারকটি আড়ালে পড়ে যায়। পরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময়ও এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে যায়। জায়গাটি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হলে ভিত্তিপ্রস্তর-সংলগ্ন অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ এবং হলের পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভিত্তিপ্রস্তরটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সীমানার বাইরে থাকায় ভিত্তিপ্রস্তরটির চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে তাঁরা কয়েকবার জায়গাটি পরিষ্কার ও ভিত্তিপ্রস্তরটি রং করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
একইভাবে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় খালেদা জিয়া নিজে এখানে এসেছিলেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সীমানায় পরিবর্তন এলেও ভিত্তিপ্রস্তরটি বাইরে থেকে যায়। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ভিত্তিপ্রস্তরটি ভেতরে এনে সংরক্ষণ করা উচিত। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক বটগাছটিও সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব মারুফ হাসান (মামুন সরকার) বলেন, প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ভিত্তিপ্রস্তর কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম-ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। যে স্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটিকে যথাযথ মর্যাদা দিতে প্রশাসনিক ও আইনগত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সম্ভব হলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান তৈরির প্রস্তাবও দেন তিনি।
অন্যদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন ভিত্তিপ্রস্তরটি সীমানার বাইরে থাকার ঘটনাকে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা নানা ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ছিলেন। ২০১৪ সালের পর সাদা দলের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন প্রশাসন বা আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরটি বর্তমানে সীমানার বাইরে রয়েছে। সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সেখানে ঐতিহাসিক বটতলাও রয়েছে, যাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাই বটতলা ও ভিত্তিপ্রস্তর—দুটোকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তরটির সংরক্ষণই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্টের পর দুটি ফলক পরিমার্জন করা হলেও ভিত্তিপ্রস্তরটি এখনো মূল ক্যাম্পাসের বাইরে। ফলে জায়গাটি অধিগ্রহণ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ কিংবা ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও তাঁর হাতে স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের অংশ, তা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এখন সেই ইতিহাস রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সেটিই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন।
আরাফাত সিদ্দিকী
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান চালানোর সময় বালুঘাটের এক কর্মচারীকে মারধরের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ড. গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘটনার পরদিনই ইউএনওকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদায়নের কপি তারা পেয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে বুধবার সকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। তারা বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা, বালিপাড়া বালুর মোড়ের মরাখলা, কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীর বাজার ও কানিহারী ইউনিয়নের ঝিলকি এলাকায় অভিযান চালান।
পরে অভিযানকারী দল কানিহারী ইউনিয়নের কুলু বাড়ি মোড় এলাকার একটি বালুঘাটে যায়। সেখানে বালুর স্তূপ ত্রিশাল অংশে থাকলেও ঘাটটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমানায় বলে দাবি করেন ঘাটের কর্মচারীরা। তাদের দাবি, বালুবাহী ট্রাক ত্রিশালের সড়ক ব্যবহার করলেও ঘাটটি ঈশ্বরগঞ্জের সীমানায় পড়েছে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), র্যাব ও আনসার সদস্যদের নিয়ে বালুঘাটের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ইজারার বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে ঘাটের কর্মচারী জোবায়ের হোসেন জানান, কাগজপত্র সেখানে নেই।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, জোবায়ের হোসেন ইউএনওকে নিজের পরিচয় দিতে বলেন। ইউএনও নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর আরাফাত সিদ্দিকী জোবায়েরকে চড়-থাপ্পড় দেন এবং বেত দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন বলে ফুটেজে দেখা যায়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি থামিয়ে দেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুমহালের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বৈঠকে উভয় পক্ষ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।
তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে বদলি করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ জারি করে।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অভিযানের সময় সরকারি কর্মকর্তার আচরণ এবং বালুঘাটের সীমানা ও ইজারার বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা পোস্ট করা হয়।
বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এই বিশেষ বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন রোববার বরিশালে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’- এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।
আজ রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন না করে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে। ফলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ দিতেই নিজস্ব উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একদল লুটেরাকে ধনী করার উদ্দেশ্যে দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশে এমন চক্রান্তই করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে বাধ্য হয়ে যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকুই আমদানি করা হবে, বাকি চাহিদা নিজস্ব উত্তোলনের মাধ্যমেই মেটানো হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে কোনো কোনো সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সমস্ত কারবারীরা সরকার পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে।
বিএনপিতে কোনো গডফাদার বা মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের সঠিক ছবি উঠবে না এবং তা সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার, এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের দেশকে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
আজ রোববার রাতে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তারা কী করবে। প্রত্যেক মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাজপথে এসে তা বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এটা আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি- দেশের উন্নয়ন ও দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদেরকে আমাদের রুখে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদের স্লোগান- করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে- আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব। কারণ ৩১ দফা হচ্ছে জনগণের দফা। কাজেই জনগণের দফা পূরণ ও বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে।’
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’
আজ রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’
দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ-যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলাতেও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও পাবেন। লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও শিগগিরই দেওয়া হবে। যার ফলে লবণ চাষী ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’
চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে- সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।"
হেফাজতের আমির বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
তিনি বলেন, আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা বাসাবাড়ি- সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়, এবং গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি- একটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুইজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহন করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।
নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।