সাদিক কায়েম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু সাদিক কায়েমকে আন্তরিক স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভিন্নতা ভুলে নগরবাসীর সেবার মানোন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ শুভকামনা জানান এনসিপির এই নেতা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় মতের ভিন্নতা থাকুক, তবে থাকুক সৌহার্দ্য, সৌজন্য ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা। আসুন, ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা হোক, কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারি।’
এর আগে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দুই সিটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী হাওয়া উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে, যেখানে প্রধান তিন দলের প্রার্থীরা এখন লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা উত্তরে তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম চূড়ান্ত করে ঘোষণা করেছে। এই নতুন সমীকরণের বিপরীতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজেদের দলের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে কৌশলে নির্বাচনী ছক সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করবে না। তারা প্রার্থী বাছাই করে সমর্থন দেবে। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, তারা ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে মো. শফিকুল ইসলাম খান ও দক্ষিণে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময়ই নাগরিক সেবার পাশাপাশি তাদের সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিএনপি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো টানাপোড়েন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্জীব হয়ে পড়েছিল। এখন সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চেষ্টা করছি, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার।’
নির্বাচন ও নাগরিক সেবা-দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘জনগণ যা চায়, সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
যদিও বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, আপাতত দুজনই ঠিক আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা এখনই বলা মুশকিল। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নানা মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ হবে।
জামায়াতের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পছন্দের প্রার্থী অনেকটা নিশ্চিত। তারা ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে। সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের শাখার আমির এবং সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি।
গত জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য। এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
অন্যদিকে সাদিক কায়েমের নির্বাচনী পরিচিতি মূলত ডাকসুর ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক। সেলিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেবামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সাদিক কায়েমও জামায়াতের ঘরোয়া কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, সাদিক কায়েম যেহেতু এখনো ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব করছেন, সে কারণে জামায়াতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণটা প্রকাশ্য হচ্ছে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার বলেন, ‘মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং তিনি খুব সাড়া পাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী, নগরবাসী তাকে বিজয়ী করে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোবেন।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার ঢাকায় দলীয় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তারা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতেও দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তিনি গণমাধ্যমের সূত্র উল্লেখ করে উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েম প্রার্থী বলে জানান।
প্রথম নির্বাচনে আসিফ, আবার ভোটের মাঠে পাটওয়ারী
এনসিপি দুই সিটিতে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।
আসিফ মাহমুদের জন্য এটি হবে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা। সংসদ বা স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়েই তিনি আগে নির্বাচন করেননি। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন।
সিটি নির্বাচন সামনে রেখে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকাও পরিবর্তন করেছেন। আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ও পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। এরপরই তাদের দুই সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিএনপি সামনে রাখছে সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুজনকে। জামায়াতের উত্তরের প্রার্থী নগর সংগঠনের নেতা, দক্ষিণের প্রার্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। যদিও বিএনপির দক্ষিণের প্রার্থী আবদুস সালামও একজন ভালো সংগঠক। তিনি দীর্ঘ সময় মহানগর দক্ষিণে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রও ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। আর উত্তরের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। আর এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্মুখসারির দুই মুখকে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না। তবে তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, স্থানীয়ভাবে যিনি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য, তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন কতটা ভোটে প্রভাব ফেলে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন তাই তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষাও হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি-কোনটি ভোটারদের বেশি টানে, তা বোঝা যাবে নির্বাচনে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের বাইরে কোথাও তার এক টাকাও পাওয়া গেলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যেই কথা বলা আছে যে ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা—এক টাকাও যদি দেশের বাইরে কোথাও পাওয়া যায়, আমি ওইদিনই রাজনীতি ছেড়ে দেব। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাইরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণা দেশের বাইরে সে কিনেছে।’
সোমবার সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে, কেউ যদি আমাকে বলে যে তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাইরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা, আমি তখন ১০ বছর জেল খাটাটাকে চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটাই স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদন এবং ভিলিফিকেশনের জন্য তো আসলে প্রমাণ লাগে না। ওনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং এটাই করছেন।’
সরকারকে প্রশ্নের বাইরে রাখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার আহ্বান থাকবে যে, আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিক্যাল মাইন্ডসেটে দেখবেন। যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদেরকে কখনো আনকোয়েশ্চেনডভাবে (প্রশ্নহীনভাবে) বিলিভ করার আসলে সুযোগ নাই। এবং দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিক্যালি না দেখে এখন আর উপায় নাই।’
তার দুর্নীতির সঙ্গে পরিবারের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘একটা অভিযোগে বলা হইছে যে এই পাচারের সাথে আমার দুই ভগ্নিপতি এবং ভাগ্নে জড়িত। তো আমার আসলে ভগ্নিপতি দুইজন নাই, আমার বড় বোনই শুধুমাত্র বিবাহিত, একজন ভগ্নিপতি আছেন। এবং আমার যেই ভাগ্নে আছে, তার বয়স হচ্ছে আড়াই থেকে তিন বছর। একটা আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের বাচ্চা, যে মাত্র হাঁটা শিখেছে, আপনারা তাকে পর্যন্ত এটার মধ্যে টেনে আনলেন! এটা কতটা লজ্জাজনক। আমার ফ্যামিলির সদস্যরাও এটার ভিকটিম হচ্ছেন। একটা আড়াই থেকে তিন বছরের বাচ্চাকে আপনারা এলিগেশন দিচ্ছেন ‘মানি লন্ডারিংয়ের’। এটা খুবই দুঃখজনক।’’
রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ, শনিবার। সাত দফা দাবিতে ওইদিন সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত ও সমাবেশ হবে। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে জনসভা।
পথিমধ্যে গাজীপুরের ভোগরা, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হবে পথসভা হবে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভার পর ব্রিফিংয়ে তা সাংবাদিকদের জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
গণভোটের রায় কার্যকর, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সারের সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণসহ ছয় দফা দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করে ১১ দল।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। আগের ছয় দফার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি। এসব ক্ষেত্রে বিএনপি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকে ছাড়িয়ে গেছে।
চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, বিরোধী সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার সমাধান দিতে পারেনি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতার টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে বলা হয়েছিল। বিরোধী দল ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকার এগুলো আমলে নেয়নি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় এলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু সরকার তাতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস-সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গার্মেন্টসের অর্ডার বাতিল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সার সংকট নিরসনেও সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।
বিগত সরকারের ওপর দায় দিলেও বর্তমান সরকারের ছয় মাসে সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ ছিল, এই প্রশ্ন রাখেন হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। গ্যাসের পাশাপাশি এখন সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ সংকট থাকলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অভিযোগ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, একটার পর একটা রোমহর্ষক গুম-খুন হচ্ছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলের পাঁচজন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লংমার্চ সফলে সভা
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলে রোববার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা হয়েছে।
এতে জামায়াতের বিভিন্ন শাখা, অঙ্গ সংগঠন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা ছিলেন। মানিক মিয়ায় লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
আসিফ ও পাটওয়ারী
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) প্রার্থী ঘোষণা করেছে গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।
আজ রোববার বিকেলে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এনসিপি জানিয়েছে, দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে আজ সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত থাকা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম।
সভায় ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ ও মুখ্য সমন্বয়ক পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কয়েক দিন আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন তারা।
এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয়, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। ছয় মাস পর দলটির এই অবস্থান বদলে যায়। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করা হলো।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।
সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়।
এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। কয়েক দিন আগে দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।
জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।
উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে।
জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।
জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।
বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পটপরিবর্তন হলেও এর আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে।
বিএনপি সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের নানা নিদর্শন ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘দখলদারত্ব ও গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। ছাত্রলীগকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম-এই লড়াই হয়তো সমাপ্ত হয়েছে, কিন্তু সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’
সম্প্রতি গাজীপুরে সিফাত নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার ও তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বৈধ আইন বা বিধি ছাড়া এভাবে গ্রেপ্তার এবং কলেজ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগকে দলীয় নেতা-কর্মীদের চাকরি দেওয়ার ‘কূটকৌশল’ বলে অভিযোগ করেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময় ছিল কোটাপ্রথা, আর এখন তারেক রহমানের হাতে এসে তৈরি হয়েছে ‘ভাইভা প্রথা’।
আখতার হোসেন বলেন, বিসিএসসহ সরকারি চাকরি ও পিএসসি সংস্কারের প্রশ্নে সরকার পশ্চাৎপদ ভূমিকা পালন করছে। পিএসসিতে তিনটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব এড়িয়ে এখন মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হচ্ছে, যাতে নিজেদের লোকজনকে চাকরি দেওয়া যায়।
আখতার হোসেন বলেন, ‘কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা নতুন সরকারকে বলব, ভাইভা বিষয়ে পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে নম্বর কমিয়ে আনুন এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করুন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও কেন্দ্রীয় সংগঠক সারজিস আলম। জাতীয় ছাত্রশক্তির বর্তমান সভাপতি আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখা এবং জেলা শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি দেশ পরিচালনায় অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, অসহনীয় লোডশেডিং, গ্যাস সংকট ও দুর্নীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষ আজ চরম ভোগান্তির শিকার। জ্বালানি সংকটে কলকারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা প্রমাণিত হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় সিলেটে জাপার কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম সিলেটে প্রকাশ্যে সভা করলো সিলেট জাপা। জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলার আহবায়ক ছাব্বির আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলতাফুর রহমান আলতা, যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির।
এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্যফখরুল ইসলাম, এ টিইউ তাজ রহমান,অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন,আরিফুর রহমান খান,ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, নুরুন নাহার বেগম, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, খলিলুর রহমান,আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, কেন্দ্রীয় নেতা জাতীয় কৃষক পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফ আলী।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুস শহীদ লস্কর বশির, সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমান ডালিম, জাপানেতা জয়নাল আবদীন ও মকবুল হোসেন সহ প্রত্যেক উপজেলা ও পৌর শাখার অর্ধ শতাধিক দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।