জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন নেতারা। 


আজ সোমবার এক গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়া এবং পৃথক বিবৃতিতে দলগুলোর নেতারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ি ভাড়া তথা পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে। 


গতকাল রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার করা হয়েছে। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ ও অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। 


বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি, লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। এতে লোকসানের কারণে এই দাম বাড়াতে হয়েছে। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দাবি- তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।  


জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান করতে পারছে না। মুক্তবাজারের নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্র আবারও চাপিয়ে দিল এক চরম জুলুমের বোঝা। 


ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। 


অন্যদিকে পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তাদের জীবনে তীব্র সংকট সৃষ্টি হবে। 


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‌‘যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার সামিল। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি- চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি মৌলিক পণ্যের দামের ওপর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে যা সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের মুখের আহার কেড়ে নেবে।’


তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার পাঁচ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল যা সরকারের গণবিরোধী নীতির প্রকাশ। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার; গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার দাবি জানান তিনি। 


বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল পৃথক বিবৃতিতে ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 


তারা বলেন, ‘বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে গৃহস্থালি, অফিস, কারখানা, কৃষি শিল্প, উৎপাদন পরিপূর্ণ হুমকির মধ্যে। ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। সারাদেশে অস্থির পরিস্থিতি, মানুষ ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছে। গরিবের সূচক মাত্রা বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতে পুনরায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি- বাজার থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সর্বত্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ 


এই নেতারা বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের দাম বেড়ে যাবে, সরবরাহ কমে যাবে। মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। এ অসহনীয় পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ সামাল দিতে পারবে না। সরকারের পক্ষে এখনও কোনো পরিপূর্ণ জ্বালানি নীতি ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তির পর জ্বালানি ক্ষেত্রে একটা লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে দেশপরিচালনার নীতি কখনও মঙ্গল বয়ে আনবে না। সরকারের উচিত হবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি না করে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বাজারসহ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সকল কিছু রাখা।’


বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণের কাঁধে আরও মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপালো। জ্বালানি তেলের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচ খরচসহ কৃষকের উৎপাদন খরচ, শিল্পপণ্য, যাতায়াত, গৃহস্থালি খরচসহ সব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়বে।’ 


তিনি বলেন, ‘সরকার এমন সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল, যখন কয়েক বছর ধরে লাভে আছে বিপিসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব খরচ ও কর বাদ দিয়ে বিপিসি প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। বিপিসি গত ১১ বছরে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। বছরে গড়ে লাভ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে সংস্থাটি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে সোয়া লাখ কোটি টাকার ওপরে।’ 


মাসুদ রানার প্রশ্ন- তবে এমন লাভের সুফল জনগণকে কেন দেওয়া হবে না? 


তিনি বলেন, এই উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে আপদকালীন জ্বালানি তহবিল গঠন করা হলে, সেখান থেকে ভর্তুকি দিলে বা ডিজেল আমদানির সময় সরকারের আরোপিত ৩১.৮৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স কিছুটা কমালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।


তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি- বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনায় বিশাল বিশাল মেগাপ্রকল্প, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা ইত্যাদিই গুরুত্ব পাচ্ছে, যার মাধ্যমে সরকারি ব্যয় বহুগুণ বাড়ছে অথচ জনগণকে মূল্যবৃদ্ধির কবল থেকে রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি জনবান্ধব কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। জনগণের ওপর বিরাট মূল্যবৃদ্ধির বোঝা না চাপিয়ে সরকারি ব্যয় সমন্বয় করে স্বস্তি দেওয়া এ পরিস্থিতিতে সরকারের অন্যতম কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল।’


মাসুদ রানার মতে, লাভে থাকার পরও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে সরকারি সেবা খাতে ভর্তুকি কমানোর নামে জ্বালানি তেলের এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত জনবিরোধী। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বর্তমান সরকার আইএমএফসহ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা, দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের তোষণ করার নীতিতেই অর্থনীতি পরিচালনা করছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ। 


অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। জনগণকে এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।




বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কর্মসূচিতে নারীরাও হাঁড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ছবি সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পরে তার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ব্যক্তিগত কোনো দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আমরা এ কর্মসূচি পালন করছি না। কোনো রাজনৈতিক দলকে গালিগালাজ বা বিতর্কিত করাও আমাদের লক্ষ্য নয়। বরং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও অস্বস্তি বিরাজ করছে। মানুষের আয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান জামায়াতের এ নেতা।

তিনি বলেন, জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের কথা বলে কোনো লাভ নেই। কৃষক, শ্রমিক ও মা-বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে হলে মানুষের আয় ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে হবে। সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশ পরিচালনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জনগণকে সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব নয়। জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এবং সরকারের প্রতি আস্থা কমে গেলে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

সমাবেশে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে ন্যায্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে উপলব্ধি করলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জের মতো ঘটনা ঘটত না এবং একজন শ্রমিককে জীবন দিতে হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নেয়ার পাশাপাশি তাদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ে মাসিক বেতন পরিশোধের দাবি জানান।

তবে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক হলেও গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় আগুন দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। কোনো তৃতীয় শক্তি যেন শ্রমিকদের ব্যবহার করে তাদের ন্যায্য দাবিকে জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। তবে শ্রমিকদের প্রতি সমর্থন থাকার অর্থ এই নয় যে ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডকেও সমর্থন করা হবে। শ্রমিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি চলমান আন্দোলনে ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে আপস না করার কথাও বলেন তিনি।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে বলেও অভিযোগ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সরকারের উচিত ছিল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, যার পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।

সরকারের প্রতি জনকল্যাণমূলক কাজে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসে তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে হবে। কৃত্রিমভাবে উন্নয়নের কথা প্রচার না করে মানুষের বাস্তব জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। জনগণের জীবনযাত্রার মান না বাড়লে উন্নয়নের দাবি অর্থবহ হবে না।

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এই দেশ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য জামাল উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ ও মিজানুর রহমান খানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ শেষে উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।


সামান্তা শারমিন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৭ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, দলের আদর্শচ্যুতি, নারীর রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষা এবং সংগঠনে গণতন্ত্র চর্চার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে এসব কারণ তুলে ধরেন তিনি।


একই সঙ্গে এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন ধারার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বিবৃতিতে সামান্তা শারমিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।গত ১১ মাসে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব এবং আলোচনার মাধ্যমে এনসিপিকে ভুল রাজনৈতিক পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।


তবে দলের প্রাথমিক মূল্যবোধের প্রতি এনসিপি আর আন্তরিক থাকতে পারবে না- এমন উপলব্ধি থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।


পদত্যাগের কারণ হিসেবে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। চারটি বিষয় হলো:


সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কি না


সামান্তা শারমিনের বক্তব্য, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার দল হিসেবে এনসিপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল সংস্কার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণের পথে বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামো যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সাংবিধানিক, আইনি এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন ছিল।


তবে জামায়াতে ইসলামী এসব সংস্কারের কোনো একটিকেও নিজেদের দলীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রপ্রকল্পের অংশ মনে করে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জামায়াত প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না। সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রপ্রকল্প গণতান্ত্রিক নয়।


পোস্টে সামান্তা বলেন, ‘জামায়াতকে যতটুকু সংস্কারের কথা বলতে দেখা যায়, ততটুকু বলে ২৪-এর আকাঙ্ক্ষাকে কুক্ষিগত করার প্রয়োজন থেকে, ভণিতা হিসেবে।’


তার ভাষ্য, গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল ভিত্তি উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ। অন্যদিকে জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সংগঠনটির রাজনৈতিক অভিপ্রায়। এ কারণে দলটির রাজনীতির মূল ভিত্তিতে পরিবর্তন আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি।


জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভূমিকা এবং এ জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সামান্তা বলেন, ‘তার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে গণহত্যাকেও জায়েজ মনে করে জামায়াত। ৭১-এ জামায়াতের ভূমিকাকে অপরাধ মনে না করা এবং এর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া—এই সাংগঠনিক ও দার্শনিক ভিত্তির ওপরই দণ্ডায়মান।’


এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেছে, তখন উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার অভিযোগ, এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় দলটি জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।


সামান্তা বলেন, ‘যেহেতু জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া দল এনসিপি, তাই আমি দলকে বারবার এসব সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি।’


নির্বাচন


২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের উপলক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের মতো এ নির্বাচনও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারত।


তিনি বলেন, ‘২৬-এর নির্বাচনের পূর্বে এটি যেন একটি রাজনৈতিক নির্বাচন না হয়ে ক্ষমতা বদলের নির্বাচনে পর্যবসিত হয়, সেই লক্ষ্যে নির্বাচনকে অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চরিত্র থেকে সরাতে চেয়েছে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো।’


সামান্তার দাবি, ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের ব্যর্থতার পরও এনসিপির সামনে পুরোনো ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাওয়া শক্তিগুলোর সঙ্গে জোট করা অথবা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তা করা হলে দলটি বর্তমান ফলাফলের চেয়েও ভালো ফল করতে পারত বলে মনে করেন তিনি।


তার ভাষ্য, ‘কিন্তু এনসিপি ইতিহাসের এই শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি আর অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে।’


১১ দলীয় ঐক্যের মতো নির্বাচনী কৌশলে অংশ না নিয়েও আরও বেশি রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির পাঁচটি পদ্ধতির কথা দলের নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন সামান্তা। তবে দল সেই পথে হাঁটেনি। তার মতে, রাজনৈতিক জয়ের চেয়ে নির্বাচনী জয়কে প্রাধান্য দেওয়ায় সংস্কারবিহীন ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল নিয়ে আপত্তি জানানোর গ্রহণযোগ্যতাও হারিয়েছে এনসিপি।


নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি শহীদ ওসমান হাদির নির্বাচনী প্রচারণার উদাহরণ দেন। সামান্তার দাবি, ঢাকার একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ন্যূনতম ৫০০ ভোট পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সম্পূর্ণ এককভাবে নতুন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন ওসমান হাদি।


সামান্তা বলেন, ‘অথচ অগণতান্ত্রিক ও অতি পুরোনো নির্বাচনী কৌশল ‘বড় পার্টির সঙ্গে জোট’ করার কারণ হিসেবে উনার মৃত্যুর ঘটনাকেই ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুরোপুরি অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’


অভ্যুত্থানে নারীর অধিকার ও মালিকানা


২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না করার অভিযোগও এনসিপির বিরুদ্ধে তুলেছেন সামান্তা শারমিন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক, সম্মুখসারির যোদ্ধা ও আন্দোলনের রক্ষাকর্তা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।


তিনি বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায্য হিস্যা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান—এসবই ছিল এই অভ্যুত্থানে তাদের অংশগ্রহণের ভিত্তি। গণঅভ্যুত্থানে নারীরা শুধু অংশ নেননি, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ব্যারিকেডের সামনে তাদের অবস্থান, সাহস ও সক্রিয়তা অভ্যুত্থানকে সার্বজনীন রূপ দিয়েছে।’


সামান্তার মতে, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে এসে এনসিপির সামনে ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ ছিল। নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারত দলটি। এ জন্য শুধু নারীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট ছিল না; নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।


কিন্তু এনসিপি সেই পথ বেছে নেয়নি বলে অভিযোগ তার। বরং দলটির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে গেছে। সামান্তার দাবি, নারীদের প্রতিবাদ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি এবং পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে থেকে গেছে।


কাউন্সিল ছাড়াই পুনর্গঠন


এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সামান্তা শারমিন। তার মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক দল প্রত্যাশা করেছিল, যার নেতৃত্ব, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রচলিত দলগুলোর চেয়ে আলাদা হবে। দলের অর্থনৈতিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চার মধ্য দিয়েও সেই নতুনত্বের প্রতিফলন ঘটার কথা ছিল।


সামান্তা বলেন, ‘পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোতে আমরা দেখেছি—ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, পদ-পদবি বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব, দলের আর্থিক ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা, ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং নেতৃত্বের জবাবদিহি না থাকা।’


তার ভাষ্য, এসব কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ কর্মীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন ও বিকল্প নেতৃত্ব তৈরির পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো এনসিপিতেও কাউন্সিল এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সামান্তা বলেন, ‘দলের কাউন্সিল না করে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি ‘রিস্ট্রাকচার’ দলের অভ্যন্তরের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যে প্রবণতা পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আছে। বিরোধী মত দমন করার পুরোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে এনসিপি।’


তার অভিযোগ, নেতৃত্ব নির্বাচনের আগেই এ ধরনের বড় রদবদল দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে নেতৃত্বের উদাসীনতা স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থার গণতান্ত্রিকতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।


সামান্তা বলেন, ‘যে দল নিজের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না, তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা সম্ভব—সেই প্রশ্নও সামনে আসে।’


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৪ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার আমিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সংগঠনের রুকনদের (সদস্য) গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এসব আমির নির্বাচিত হয়েছেন বলে দলটির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির হয়েছেন নূরুল ইসলাম বুলবুল।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৬ এএম

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এতে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে পায়ে হেঁটে অংশ নেবেন এবং শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন।


এদিন বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর মিরপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।


তিনি জানান, ৭ নভেম্বরের কর্মসূচিতে ঢাকার রাজপথে পায়ে হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


তিনি বলেন, বিএনপিকে ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে- এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।


এছাড়া যারা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।


উল্লেখ্য, ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সতর্ক ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেন বিএনপির এই নেতা।


জাহাঙ্গীর আলম, এস এম মান্নান কচি এবং রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

গাজীপুর, মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, গাজীপুরে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা এস এম মান্নান কচির অর্থায়নে এসব কর্মকাণ্ড চলছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব কথা লেখেন।


গাজীপুরে ফ্যাসিস্ট মেয়র (সাবেক) জাহাঙ্গীর আলমের অর্থায়নে ও তার গুন্ডাবাহিনী শ্রমিক সেজে তাণ্ডব চালাচ্ছে। আর মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচির অর্থায়নে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা চালানো হচ্ছে।


আজকে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়েছে, পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হবে এই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে। জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন মজুরি পাবেন শ্রমিকরা। এ বিষয়ে মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ একমত হয়েছে।


এরপরও যদি কোনো আন্দোলন চলে, তবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সেই আন্দোলন থামানো সরকারের দায়িত্ব। গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।


সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হলো- শিল্পকারখানার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পরেও শ্রমিক আন্দোলনের নামে ফ্যাসিস্টদের যে কোনো ষড়যন্ত্র ও আস্ফালন মোকাবিলা ও দমন করতে বিএনপি সরকার বধ্যপরিকর।


মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৫ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমালোচনা করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।


টিআইবির বিবৃতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ মন্তব্য করে তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন বলে সোমবার রাতে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।


বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্ট। তারপরও দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে টিআইবির মিথ্যা বর্ণনামূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানো অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক।


‘ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা না থাকলেও জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের বিবৃতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গত রোববার রাতে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে টিআইবি বিকালে বিবৃতি দিয়েছে।


বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’


টিআইবির বিবৃতি সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের পেশাদার যে কোনো কাজকে নির্বিঘ্নে সম্পাদনের পরিবেশ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী কর্তৃক তা বাধাগ্রস্ত হোক, কিংবা সত্য প্রকাশে বাধা অথবা হুমকির সম্মুখীন হবে- তা সমর্থন করে না, বরং প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।’


‘সুতরাং জামায়াতকে নিয়ে টিআইবির মনগড়া তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।’