ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চায় জামায়াত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 


গতকাল বুধবার (২০ মে) বিকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সামনে ‘শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা ও সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ আহ্বান জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।


তিনি বলেছেন, আজ দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য লজ্জার। দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করতে হবে।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দলের নেতা-কর্মীদের যৌন লালসায় নারী-শিশুর জীবন হুমকির মুখোমুখি। এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত এমনকি বিএনপি দলীয়ভাবেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।


শিশু রামিশা হত্যা মানবতার নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ উল্লেখ করে জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, রামিশা হত্যায় পুরো জাতি ব্যথিত হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ব্যথিত নন! 


আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি চেয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করলেও আমাদের মন্ত্রীরা দায় চাপানোর রাজনীতি করে। জামায়াত মব বা দায় চাপানোর রাজনীতি করে না।


ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে ও দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।


সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, রামিশা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নিকৃষ্ট অসভ্যতার উদাহরণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে লোমহর্ষক অনেক ঘটনা ঘটলেও সরকার আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যার ফলে নারী-শিশু নিপীড়ন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।


নারী-শিশু নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনগণ মেনে নেবে না। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত। 


দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে তিনি আহ্বান জানান।


সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট-পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর মোড়ে এসে শেষ হয়। 


মিছিলে সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।




জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

মাল্টা, পোলাওয়ের চাল, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। দ্রব্যমূল্য বাড়ার জন্য অসাধু সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন তিনি। অভিযোগ করেছেন, আবারও অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এ কথা জানান।


নাহিদ ইসলাম পোস্টে লেখেন, দুই মাস ধরে প্রতি কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমদানির নথি অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন খরচ ও মুনাফা যোগ করেও প্রতি কেজির সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।


মাল্টার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ–সংকটের কথা বলা হলেও আমদানির তথ্য তা সমর্থন করে না, লেখেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দেওয়া হিসাবে, গত বছরের জুলাই–সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। এরপরও দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় গত দুই মাসে জনগণের কাছ থেকে অসাধু সিন্ডিকেট কয়েক শ কোটি টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।


নাহিদ ইসলাম পোস্টে আরও লিখেছেন, ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। শুধু পোলাওয়ের চাল থেকেই গত তিন মাসে আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা, এখন তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে পোস্টে লেখেন নাহিদ। তাঁর মতে, মুরগির খাবারের দাম বাড়ার যুক্তি দেখানো হলেও সেই বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। বেড়েছে পাঁচ টাকা।


১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কয়েক দফা বাড়ানোর পরও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এনসিপির এই নেতা। আমদানি পর্যাপ্ত। তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।


ফ্যাসিবাদী আমলের মতো দেশ আবার সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ এএম

ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় হামলা শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।


রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।


জানা গেছে, লালনের মাজার থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন সেই মুহূর্তে তার ওপর একজন ডিম ছুঁড়ে মারে এবং প্রায় ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ থাকেন তিনি।


পাটওয়ারীর ওপর হামলার দাবি করে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় Nasiruddin Patwary ভাইয়ের ওপর বিএনপির হামলা।’


ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা নাইম আবেদিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালবেলাকে জানিয়েছেন, ‘মাজারের মতো একটা পবিত্র জায়গার ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ এসে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।’


পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগত সফরে রোববার কুষ্টিয়ায় আসেন। বিকেলে তিনি কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়া বাড়িতে যান।


মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে তিনি লালন মেলা মাঠ ঘুরে মাজারে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় মাজারের বাইরে থাকা তার গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয় ।


হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছু সময় মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপদে বের করে আনে। রাত ৮টার দিকে তিনি কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে রওনা হন বলে জানা গেছে।


এদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কুষ্টিয়া সফরের বিষয়ে স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীদের অনেকেই অবগত ছিলেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কুষ্টিয়ার কয়েকজন এনসিপি নেতা জানান, এটি তার ব্যক্তিগত সফর ছিল। সফরের বিষয়ে স্থানীয় সংগঠনকে আগে থেকে জানানো হয়নি।


এনসিপি কুমারখালী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আলামিন হোসেন আকাশ বলেন, ‘মাজারে অবস্থানকালে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। ছাত্রদলের কয়েকজন সরাসরি উপস্থিত থেকে এই হামলার নেতৃত্ব দেন।’


কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি বলেন, ‘মবের রাজনীতিতে ছাত্রদল বিশ্বাস করে না। নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার বিষয়ে আমরা অবগত নই। তবে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ছাত্রদল কোনো ধরনের সন্ত্রাস, হামলা বা বিশৃঙ্খলার রাজনীতিকে সমর্থন করে না।’


কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগত সফরে লালন মাজারে এসেছিলেন। তার আসার বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে অবগত করা হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আমরা তাকে প্রটোকল দেয়ার চেষ্টা করেছি, তিনি প্রটোকল নিতে রাজি হননি। তিনি নিজ নিরাপত্তায় চলে গেছেন।’


কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তিনি ব্যক্তিগত সফরে সেখানে গিয়েছিলেন। কে বা কারা হামলা করেছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে এসেছে।’


এর আগে গত ২২ মে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ (পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকা) প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার নেতাকর্মীরা।


এছাড়া ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় দিকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার, সোনালী ব্যাংক ও সার্কিট হাউস এলাকায়ও হামলার শিকার হন তিনি।


<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fpermalink.php%3Fstory_fbid%3Dpfbid03XKHaThqPVhuZ7QQCZ7nA7Q9cVvBzpoHb4PaNLGDRA863dGLo2D2CEPfWGr1JwNxl%26id%3D100006640866646&show_text=true&width=500" width="500" height="773" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪১ এএম

যে সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, তাদের দরকার নাই উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে এবং নিরাপত্তা নিয়ে থাকতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।


তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।


রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনগণ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শুধু শাস্তি-শৃঙ্খলার ব্যবস্থাই নয়, কার্যত দেশের সব প্রতিষ্ঠান এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিনে-দুপুরে এবং রাতের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে নানা ধরনের অপকর্ম ঘটছে। রাজধানী যেহেতু সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থান, তাই রাজধানীর পরিস্থিতি থেকেই সারা দেশের অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়।


মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, একটি মেডিকেল সেন্টার ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে এবং সেখানকার সম্পদ লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুষ্কৃতিকারীদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ আড়ালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান এ সময় দাবি করেন একজনকে জনগণের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি এবং গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায়ও আনা হয়নি। একই ঘটনায় আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


জনগণকে বোকা বা অন্ধ মনে না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন কোনো কিছু আড়াল করার সময় নয়। তার ভাষায়, মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু জনগণের কাছে পৌঁছে যায় এবং মানুষ সবকিছু পরিষ্কারভাবে দেখতে পায়।


জামায়াতে ইসলামীর লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ এএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর। রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।


সকালে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ খেলার মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।


এর আগে রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে দলটি।


বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ পিএম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


রাজধানীর মিরপুরে ৫০ বছরের পুরোনো একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকা এবং তাতে একজন এমপির ইন্ধন থাকার অভিযোগ ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল সম্প্রতি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৬শে সেপ্টেম্বর রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সালমান মুক্তাদির এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে এসে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।


এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ ছাড়তে বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন। একজন এমপির পদত্যাগ, বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে পরিবর্তন আনা এবং পুলিশের গ্রেফতার কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হলেও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা, একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ থামছে না। বরং, বাংলাদেশের 'অবনতিশীল' আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পেছনে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যেই বলেছেন, যা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার পর বেসরকারি সংস্থা টিআইবি এক বিবৃতিতে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছিল। সরকারের দিক থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোকে 'তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া' হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, "ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কিছু ব্যবস্থা হচ্ছে; সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য সারাদেশ দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না"।



আবার, সরকারের নির্দেশনা তার দলেরই একটি অংশ মানছে না, বরং অপরাধমূলক ঘটনার পৃষ্ঠপোষক বা ইন্ধনদাতা হিসেবে যাদের নাম আসছে তা দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে বলে মত অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হকের। যদিও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলছেন যে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামগ্রিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। "প্রধানমন্ত্রীও সরকারের দিক থেকে কিছু ব্যবস্থা নিয়ে কঠিন বার্তা দিয়েছেন। দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবে না- এ বার্তা সবাই পেয়েছে," বলেছেন তিনি।



মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এলে, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন যে, তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটা তদন্তাধীন। তবে ওইদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয় তখন। যদিও এসব কমিটি বিলুপ্ত কেন করা হয়েছে তা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।



দলের ভেতরে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে ধারণা পাওয়া গেছে যে, রাড্ডা হামলার ঘটনাতেই এসব সিদ্ধান্ত এসেছে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এমন কিছু নেতাকর্মীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও ধারণা দিয়েছেন তারা। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিকভাবে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে কি-না তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে সরকারের ভেতর থেকে।



পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এসময়ে সারাদেশে ছোট-বড় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে প্রায় এক লাখ মামলা হয়েছে। "সরকারের সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে" এবং "সকল অপরাধের পেছনে মদদ দিচ্ছে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীরা" এই অভিযোগ তুলে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর একটি বিবৃত দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিরোধী দলীয় নেতারা রাড্ডার ঘটনাসহ একাধিক হামলা-ভাঙচুর-বিশৃঙ্খলার পেছনে বিএনপির কর্মীদের দায়ী করে প্রায় নিয়মিতই বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন।



আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দল সামাল দেওয়াই এখন বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি দলটির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য। দুজনই  বলেছেন, এ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না। 


দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অবশ্য বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে যে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার ও দল। তার মতে, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির "আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে" বলে দল মনে করছে। "আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মী। গুটিকয়েকের অপকর্মের দায় দল নেবে কেন? প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন তাতে এটি স্পষ্ট যে, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করতে পারবে না। সাংগঠনিক ও আইনগত সব ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। সে কারণে ঢালাওভাবে সরকার বা দলকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই," বলছিলেন তিনি ।


প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। তখন প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। এর মধ্যে প্রায় নয়শ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তখন। এর বাইরে যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব বহিষ্কারাদেশ বা সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আদৌ কোনো কাজে লেগেছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।



টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দল কিংবা দলের নেতাকর্মীদের সামলানোটাই বিএনপি নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। "এরপর সংকট ক্রমাগত বেড়েছে। কারণ সত্যিকার অর্থে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে কিছু ঘটনা দল ও সরকারকে বিব্রত করার পর তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলোও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ। যেসব ঘটনা সারাদেশে ঘটছে তার বেশিরভাগের সাথেই সরকারি দলের নেতাকর্মীদের নাম আসছে। কিন্তু দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর বারবারই আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গটি। পরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সভাগুলোতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জড়িয়ে পড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বড় কারণ। চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ছাড়াও আলোচনায় ছিল কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ, শিশু অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার মতো ঘটনা।



মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেও রাজনৈতিক সহিংসতা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সাইবার আইনে গ্রেফতার ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি জানায়, এ সময়েই মব সহিংসতার কমপক্ষে ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও ধর্ষণের ৬৯টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি এই সংস্থাটি। গত ১ অক্টোবর ঢাকার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, "যৌথবাহিনী গঠনের কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা আছে সবাই সমন্বিতভাবে একটা অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে"।



ড. তৌহিদুল হক বলছেন, নিজের নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডই সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকার না পারছে কঠোর হতে, আবার না পারছে এড়িয়ে যেতে। "কিন্তু অপরাধের ইন্ধনদাতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় যাদের নাম আসছে তা সরকারকে বিব্রত করছে। সেজন্যই বহিষ্কার কিংবা এমপির পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সরকার যদি দল থেকে পূর্ণ সহযোগিতা না পায় তাহলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়। দল ও সরকার মিলেমিশে যাওয়ার কারণে অপরাধ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা ঘটনা ঘটছে।  ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, পদত্যাগ বা দল থেকে বহিষ্কার প্রয়োজন ছিল, তবে যথেষ্ট নয়। যেসব অভিযোগে পদত্যাগে বাধ‍্য বা বহিষ্কার করা হলো, আইনি প্রক্রিয়ায় তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।


জাতীয় নাগরিক পার্টির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ এএম

দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলীয় কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবরের মধ্যে) বাকি উপজেলাগুলোতেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।


গতকাল বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পরে এ পোস্টের বক্তব্য দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বার্তা হিসেবে পাঠানো হয়।


এনসিপির বার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫০০টি উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার দুই মহানগর ছাড়া অন্য ১১টি মহানগরের ৬১টি থানার মধ্যে ৩৪টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৫০০ উপজেলাতেই এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থাকবে।


পাশাপাশি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৩৩০ পৌরসভা এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।