ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৩ পিএম

গত ছয় মাসে কয়েকটি মৌলিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। 


তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর এখন সরকারের কর্মকাণ্ডকে শুধু প্রতিশ্রুতির ভাষায় নয়, বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহির মানদণ্ডে মূল্যায়নের সময় এসেছে। গত ছয় মাসে কয়েকটি মৌলিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অনীহা, ভয়াবহ গ্যাস-জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনার অভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের চাপ, শিক্ষকদেরকে কৌশলে রাজনীতি থেকে বিরত রাখার চক্রান্ত, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধকরণ, গুম প্রতিরোধ আইনে উদ্বেগজনক ফাঁক এবং পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দুর্বলতা। এই বিষয়গুলোকে মোটেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো সরকারের প্রথম ছয় মাসের রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা, অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। 


সরকারের ব্যর্থতা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরে জামায়াত নেতা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের নেতিবাচক ভূমিকা ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ' ভোট ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ব্যবধান আড়াই কোটিরও বেশি ভোট। এটি শুধু সংস্কারের পক্ষে সাধারণ মতামত ছিল না। এর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামোও যুক্ত ছিল। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছিল, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি। সরকার পরবর্তী সময়ে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিষয় রয়েছে। যার একটিরও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি গত ছয় মাসে।


জামায়াতে ইসলামী এই নেতা বলেন, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সমাধানে কোনো সাময়িক ব্যবস্থাপনা নয়, এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন বর্তমানে বাংলাদেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং অন্যান্য গ্রাহকের ওপর। দেশীয় ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে জুলাইয়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংকটের তুলনায় দেশীয় উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর ফল এখনো দৃশ্যমান নয়। এই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন চলছে শিল্প কারখানায়। প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কাতারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর মার্চে বাংলাদেশকে দুটি স্পট এলএনজি কার্গো কিনতে হয় প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮.২৮ ডলার ও ২৩.০৮ ডলারে। পরে কাতার এনার্জি বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ২০২৬ সালের এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানির মধ্যে প্রায় ৪.১৫ মিলিয়ন টন কাতার থেকেই এসেছিল। আমাদের প্রশ্ন, এত বড় আমদানিনির্ভরতার পরও বিকল্প এলএনজি উৎস, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, কৌশলগত ফুয়েল রিজার্ভ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিল্প ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অগ্রাধিকার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা কোথায়?


রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় করণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্র বানানোর চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে। আমাদের খাতভিত্তিক পর্যালোচনাতেও পদোন্নতি পদায়ন, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।


‘আমরা লক্ষ্য করেছি, সরকার একসঙ্গে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন সংস্কার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব নিয়োগে প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মার্চে সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের সবারই বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন বা দলীয় কাঠামোর সঙ্গে অতীত বা বর্তমান সংশ্লিষ্টতা ছিল।’


তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্য উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নে মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও টিআইবি তুলে ধরেছে। পুলিশ সদরদপ্তরের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক গবেষণায় মার্চ-মে, এই ৩ মাসেই ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য পাওয়া যায়। একই পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুধু মার্চ-মে ২০২৬-এ ৯১৫টি হত্যা মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। যেখানে পুরো ২০২৫ সালে এর সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে এর সংখ্যা ছিল ৭৯৪। একই সঙ্গে মব ও রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ উচ্চ পর্যায়ে থাকার কথা উঠে এসেছে।


বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নামও অভিযোগ হিসেবে এসেছে জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা কাউকে অভিযোগের ভিত্তিতেই অপরাধী ঘোষণা করছি না। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় যেন কোনো ব্যক্তিকে আইনি বা প্রশাসনিক সুবিধা না দেয়। অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক নয়। আইনের চোখে সে কেবল অপরাধের অভিযুক্ত।


পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দুর্বলতা স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘ বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ছয় মাসের অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি, এই ঘোষণাকে এখনো একটি সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কার্যকরী পররাষ্ট্র-নীতি কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি এবং ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই বলতে হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আরও ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়োজন। 


অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকটেও প্রত্যাবাসনের বাস্তব অগ্রগতি নেই। মিয়ানমার প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ঘাটতিও বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সেই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দূর্বলতা স্পষ্ট বোঝা গেছে।


দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৬ শতাংশ; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৬১ শতাংশ। অথচ জুন ২০২৫-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো উচ্চ এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাজারের চাপ অব্যাহত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৯.১৬ শতাংশে নামা মানে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। বরং দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমা। বাস্তবে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়কে ক্রমেই চাপে ফেলছে। ফলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে, কিন্তু বাজারে সেই অনুপাতে স্বস্তি ফিরছে না।


ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের ঘোষণা আছে, কিন্তু আস্থা ও শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের, এটি আমরা স্বীকার করি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। কিন্তু সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বের হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা আগের বছরের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকে সরকারদলীয় হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং খাতকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইসলামী ব্যাংক ডাকাতির বড় ডাকাতকে মামলা থেকে বাঁচানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর জোর করে নির্দেশ দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা আইনজীবী পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।


‘গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না ঘটে, এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম মৌলিক প্রত্যাশা। সরকার নতুন ‘জোরপূর্বক অন্তর্ধান প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ১৭ জুন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা খসড়াটির কয়েকটি বিধান নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছে। টিআইবিও মাত্র এক দিনের সময় দিয়ে অংশীজনের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সমালোচনা করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, গুম প্রতিরোধের নামে এমন কোনো আইন হতে পারে না, যেখানে গোপন আটক বা অস্বীকৃত হেফাজতের সামান্য সুযোগও থেকে যায়। চূড়ান্ত বিলের আগে সংশোধিত খসড়া প্রকাশ, স্বাধীন তদন্তের নিশ্চয়তা এবং ভুক্তভোগীদের মতামত গ্রহণ করতে হবে।’


জামায়াতে ইসলামীর এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গত ছয় মাসে গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং জনজীবনের অন্যান্য মৌলিক প্রশ্নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এসব ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠে জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমরা সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত ৮ দফা আহ্বান জানাচ্ছি।


এগুলো হলো—১. গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। 


২. সংবিধান সংস্কার পরিষদ, ১৮০ কার্যদিবসের বাস্তবায়ন কাঠামো এবং গণভোটে অনুমোদিত সংস্কারগুলো কোন প্রক্রিয়ায় ও কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।


৩. গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত এনার্জি সিকিউরিটি স্ট্র্যাটিজি প্রণয়ন করতে হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, কৌশলগত জ্বালানি মজুত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের সরবরাহ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিতে হবে।


৪. প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড করতে হবে এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক নিয়োগ পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।


৫. প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড করতে হবে এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক নিয়োগ পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।


৬. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যা, মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় যেন কোনো অভিযুক্তকে প্রশাসনিক বা আইনি সুবিধা না দেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।


৭. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মধ্যপ্রাচ্য, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কৌশল ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলসহ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈদেশিক নীতি কাঠামো প্রকাশ করতে হবে।


৮. ইচ্ছাকৃত ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা, দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদনশীল খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে যেকোনো দলীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। গুম প্রতিরোধ আইনে গোপন আটক বা অস্বীকৃত হেফাজতের সব ধরনের আইনি সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের আগে সংশোধিত খসড়া প্রকাশ, স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা নিশ্চিত এবং গুমের শিকার পরিবার, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত গ্রহণ করতে হবে।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিএনপি সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্যের চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। তারা যে ৩১ তফা নিয়ে রাজনীতি করে, সেটাই তারা লঙ্ঘণ করেছে। সেই সঙ্গে গণভোটের রায়, জুলাইয়ের সংস্কার-আকাঙ্ক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য, ব্যাংকিং সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার মতো মৌলিক প্রশ্নে সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।


তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে। জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করেছে। তাই, আমরা মনে করি প্রথম ছয় মাসে সরকার সামগ্রিকভাবে জনগণের সামনে এমন কোনো শক্তিশালী অর্জন উপস্থাপন করতে পারেনি যাতে সরকারের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতি আস্থা বাড়ায়।


তিনি আরও বলেন, আমরা চাই সরকার এই বাস্তবতা স্বীকার করুক। কারণ জনগণের আস্থা শুধু বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনায় তৈরি হয় না। দৃশ্যমান ফলাফলে তৈরি হয়। আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বাস্তব পরিবর্তন দেখাতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে। আমাদের প্রত্যাশা একটাই, সরকার এখন ব্যাখ্যা নয়, ফলাফল দেখাবে। প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন দেখাবে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা নয়, তার প্রমাণ দেবে।




জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

মাল্টা, পোলাওয়ের চাল, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। দ্রব্যমূল্য বাড়ার জন্য অসাধু সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন তিনি। অভিযোগ করেছেন, আবারও অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এ কথা জানান।


নাহিদ ইসলাম পোস্টে লেখেন, দুই মাস ধরে প্রতি কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমদানির নথি অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন খরচ ও মুনাফা যোগ করেও প্রতি কেজির সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।


মাল্টার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ–সংকটের কথা বলা হলেও আমদানির তথ্য তা সমর্থন করে না, লেখেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দেওয়া হিসাবে, গত বছরের জুলাই–সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। এরপরও দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় গত দুই মাসে জনগণের কাছ থেকে অসাধু সিন্ডিকেট কয়েক শ কোটি টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।


নাহিদ ইসলাম পোস্টে আরও লিখেছেন, ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। শুধু পোলাওয়ের চাল থেকেই গত তিন মাসে আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা, এখন তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে পোস্টে লেখেন নাহিদ। তাঁর মতে, মুরগির খাবারের দাম বাড়ার যুক্তি দেখানো হলেও সেই বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। বেড়েছে পাঁচ টাকা।


১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কয়েক দফা বাড়ানোর পরও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এনসিপির এই নেতা। আমদানি পর্যাপ্ত। তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।


ফ্যাসিবাদী আমলের মতো দেশ আবার সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ এএম

ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় হামলা শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।


রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।


জানা গেছে, লালনের মাজার থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন সেই মুহূর্তে তার ওপর একজন ডিম ছুঁড়ে মারে এবং প্রায় ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ থাকেন তিনি।


পাটওয়ারীর ওপর হামলার দাবি করে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় Nasiruddin Patwary ভাইয়ের ওপর বিএনপির হামলা।’


ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা নাইম আবেদিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালবেলাকে জানিয়েছেন, ‘মাজারের মতো একটা পবিত্র জায়গার ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ এসে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।’


পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগত সফরে রোববার কুষ্টিয়ায় আসেন। বিকেলে তিনি কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়া বাড়িতে যান।


মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে তিনি লালন মেলা মাঠ ঘুরে মাজারে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় মাজারের বাইরে থাকা তার গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয় ।


হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছু সময় মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপদে বের করে আনে। রাত ৮টার দিকে তিনি কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে রওনা হন বলে জানা গেছে।


এদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কুষ্টিয়া সফরের বিষয়ে স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীদের অনেকেই অবগত ছিলেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কুষ্টিয়ার কয়েকজন এনসিপি নেতা জানান, এটি তার ব্যক্তিগত সফর ছিল। সফরের বিষয়ে স্থানীয় সংগঠনকে আগে থেকে জানানো হয়নি।


এনসিপি কুমারখালী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আলামিন হোসেন আকাশ বলেন, ‘মাজারে অবস্থানকালে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। ছাত্রদলের কয়েকজন সরাসরি উপস্থিত থেকে এই হামলার নেতৃত্ব দেন।’


কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি বলেন, ‘মবের রাজনীতিতে ছাত্রদল বিশ্বাস করে না। নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার বিষয়ে আমরা অবগত নই। তবে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ছাত্রদল কোনো ধরনের সন্ত্রাস, হামলা বা বিশৃঙ্খলার রাজনীতিকে সমর্থন করে না।’


কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগত সফরে লালন মাজারে এসেছিলেন। তার আসার বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে অবগত করা হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আমরা তাকে প্রটোকল দেয়ার চেষ্টা করেছি, তিনি প্রটোকল নিতে রাজি হননি। তিনি নিজ নিরাপত্তায় চলে গেছেন।’


কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তিনি ব্যক্তিগত সফরে সেখানে গিয়েছিলেন। কে বা কারা হামলা করেছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে এসেছে।’


এর আগে গত ২২ মে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ (পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকা) প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার নেতাকর্মীরা।


এছাড়া ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় দিকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার, সোনালী ব্যাংক ও সার্কিট হাউস এলাকায়ও হামলার শিকার হন তিনি।


<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fpermalink.php%3Fstory_fbid%3Dpfbid03XKHaThqPVhuZ7QQCZ7nA7Q9cVvBzpoHb4PaNLGDRA863dGLo2D2CEPfWGr1JwNxl%26id%3D100006640866646&show_text=true&width=500" width="500" height="773" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪১ এএম

যে সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, তাদের দরকার নাই উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে এবং নিরাপত্তা নিয়ে থাকতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।


তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।


রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনগণ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শুধু শাস্তি-শৃঙ্খলার ব্যবস্থাই নয়, কার্যত দেশের সব প্রতিষ্ঠান এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিনে-দুপুরে এবং রাতের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে নানা ধরনের অপকর্ম ঘটছে। রাজধানী যেহেতু সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থান, তাই রাজধানীর পরিস্থিতি থেকেই সারা দেশের অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়।


মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, একটি মেডিকেল সেন্টার ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে এবং সেখানকার সম্পদ লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুষ্কৃতিকারীদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ আড়ালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান এ সময় দাবি করেন একজনকে জনগণের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি এবং গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায়ও আনা হয়নি। একই ঘটনায় আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


জনগণকে বোকা বা অন্ধ মনে না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন কোনো কিছু আড়াল করার সময় নয়। তার ভাষায়, মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু জনগণের কাছে পৌঁছে যায় এবং মানুষ সবকিছু পরিষ্কারভাবে দেখতে পায়।


জামায়াতে ইসলামীর লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ এএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর। রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।


সকালে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ খেলার মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।


এর আগে রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে দলটি।


বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ পিএম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


রাজধানীর মিরপুরে ৫০ বছরের পুরোনো একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকা এবং তাতে একজন এমপির ইন্ধন থাকার অভিযোগ ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল সম্প্রতি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৬শে সেপ্টেম্বর রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সালমান মুক্তাদির এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে এসে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।


এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ ছাড়তে বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন। একজন এমপির পদত্যাগ, বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে পরিবর্তন আনা এবং পুলিশের গ্রেফতার কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হলেও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা, একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ থামছে না। বরং, বাংলাদেশের 'অবনতিশীল' আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পেছনে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যেই বলেছেন, যা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার পর বেসরকারি সংস্থা টিআইবি এক বিবৃতিতে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছিল। সরকারের দিক থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোকে 'তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া' হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, "ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কিছু ব্যবস্থা হচ্ছে; সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য সারাদেশ দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না"।



আবার, সরকারের নির্দেশনা তার দলেরই একটি অংশ মানছে না, বরং অপরাধমূলক ঘটনার পৃষ্ঠপোষক বা ইন্ধনদাতা হিসেবে যাদের নাম আসছে তা দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে বলে মত অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হকের। যদিও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলছেন যে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামগ্রিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। "প্রধানমন্ত্রীও সরকারের দিক থেকে কিছু ব্যবস্থা নিয়ে কঠিন বার্তা দিয়েছেন। দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবে না- এ বার্তা সবাই পেয়েছে," বলেছেন তিনি।



মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এলে, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন যে, তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটা তদন্তাধীন। তবে ওইদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয় তখন। যদিও এসব কমিটি বিলুপ্ত কেন করা হয়েছে তা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।



দলের ভেতরে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে ধারণা পাওয়া গেছে যে, রাড্ডা হামলার ঘটনাতেই এসব সিদ্ধান্ত এসেছে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এমন কিছু নেতাকর্মীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও ধারণা দিয়েছেন তারা। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিকভাবে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে কি-না তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে সরকারের ভেতর থেকে।



পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এসময়ে সারাদেশে ছোট-বড় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে প্রায় এক লাখ মামলা হয়েছে। "সরকারের সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে" এবং "সকল অপরাধের পেছনে মদদ দিচ্ছে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীরা" এই অভিযোগ তুলে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর একটি বিবৃত দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিরোধী দলীয় নেতারা রাড্ডার ঘটনাসহ একাধিক হামলা-ভাঙচুর-বিশৃঙ্খলার পেছনে বিএনপির কর্মীদের দায়ী করে প্রায় নিয়মিতই বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন।



আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দল সামাল দেওয়াই এখন বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি দলটির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য। দুজনই  বলেছেন, এ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না। 


দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অবশ্য বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে যে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার ও দল। তার মতে, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির "আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে" বলে দল মনে করছে। "আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মী। গুটিকয়েকের অপকর্মের দায় দল নেবে কেন? প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন তাতে এটি স্পষ্ট যে, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করতে পারবে না। সাংগঠনিক ও আইনগত সব ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। সে কারণে ঢালাওভাবে সরকার বা দলকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই," বলছিলেন তিনি ।


প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। তখন প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। এর মধ্যে প্রায় নয়শ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তখন। এর বাইরে যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব বহিষ্কারাদেশ বা সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আদৌ কোনো কাজে লেগেছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।



টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দল কিংবা দলের নেতাকর্মীদের সামলানোটাই বিএনপি নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। "এরপর সংকট ক্রমাগত বেড়েছে। কারণ সত্যিকার অর্থে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে কিছু ঘটনা দল ও সরকারকে বিব্রত করার পর তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলোও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ। যেসব ঘটনা সারাদেশে ঘটছে তার বেশিরভাগের সাথেই সরকারি দলের নেতাকর্মীদের নাম আসছে। কিন্তু দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর বারবারই আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গটি। পরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সভাগুলোতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জড়িয়ে পড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বড় কারণ। চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ছাড়াও আলোচনায় ছিল কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ, শিশু অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার মতো ঘটনা।



মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেও রাজনৈতিক সহিংসতা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সাইবার আইনে গ্রেফতার ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি জানায়, এ সময়েই মব সহিংসতার কমপক্ষে ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও ধর্ষণের ৬৯টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি এই সংস্থাটি। গত ১ অক্টোবর ঢাকার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, "যৌথবাহিনী গঠনের কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা আছে সবাই সমন্বিতভাবে একটা অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে"।



ড. তৌহিদুল হক বলছেন, নিজের নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডই সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকার না পারছে কঠোর হতে, আবার না পারছে এড়িয়ে যেতে। "কিন্তু অপরাধের ইন্ধনদাতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় যাদের নাম আসছে তা সরকারকে বিব্রত করছে। সেজন্যই বহিষ্কার কিংবা এমপির পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সরকার যদি দল থেকে পূর্ণ সহযোগিতা না পায় তাহলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়। দল ও সরকার মিলেমিশে যাওয়ার কারণে অপরাধ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা ঘটনা ঘটছে।  ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, পদত্যাগ বা দল থেকে বহিষ্কার প্রয়োজন ছিল, তবে যথেষ্ট নয়। যেসব অভিযোগে পদত্যাগে বাধ‍্য বা বহিষ্কার করা হলো, আইনি প্রক্রিয়ায় তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।


জাতীয় নাগরিক পার্টির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ এএম

দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলীয় কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবরের মধ্যে) বাকি উপজেলাগুলোতেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।


গতকাল বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পরে এ পোস্টের বক্তব্য দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বার্তা হিসেবে পাঠানো হয়।


এনসিপির বার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫০০টি উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার দুই মহানগর ছাড়া অন্য ১১টি মহানগরের ৬১টি থানার মধ্যে ৩৪টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৫০০ উপজেলাতেই এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থাকবে।


পাশাপাশি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৩৩০ পৌরসভা এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।