সন্দীপ চক্রবর্তীকে পরবর্তী হাই কমিশনার করে ফের বাংলাদেশে পাঠানোর আলোচনা চলছে বলে খবর দিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস
এক যুগ আগে ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সন্দীপ চক্রবর্তীকে পরবর্তী হাই কমিশনার করে ফের বাংলাদেশে পাঠানোর আলোচনা চলছে বলে খবর দিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন- এমন সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় পত্রিকাটি লিখেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপড়েনের মধ্যে নয়া দিল্লি যখন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখনই এই সম্ভাবনার কথা সামনে এল। ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া সন্দীপ চক্রবর্তী বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে, গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় হাই কমিশনার পদের জন্য বিবেচনাধীন কূটনীতিকদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তার নাম ছিল।
২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে জাকার্তায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সন্দীপ চক্রবর্তী। বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা আরো কিছুদিন থাকবেন বলে ধারণা দিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস।
সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত’ প্রণয় ভার্মা দায়িত্বে থাকতে পারেন। ওই সময়ের মধ্যে নতুন হাই কমিশনার নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা ও বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
২০২২ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করছেন ভার্মা। ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়, সে সময় ঢাকায় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে, গত দেড় বছরে তিনি বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে গেছেন। বর্তমান ডেপুটি হাই কমিশনার পবনকুমার বাধেও চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত ঢাকায় দায়িত্বে থাকতে পারেন।
পেরু ও বলিভিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত এবং নিউ ইয়র্কে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেন ও কলম্বিয়া মিশনেও কাজ করেছেন সন্দীপ চক্রবর্তী। দিল্লিতে তিনি পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক যুগ্ম সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়।
হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, সেই প্রেক্ষাপটে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে গত বছর বাংলা ভাষায় পারদর্শী একজন কূটনীতিককে ঢাকায় হাই কমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ঢাকায় পরবর্তী হাই কমিশনারের ওপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দায়িত্ব থাকবে।
অতীতে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কেও নানা টানাপড়েন ছিল। তবে বিএনপি এবং নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত জামায়াতে ইসলামী- দুই দলই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
পুলিশ বাহিনীকে ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন, এ জন্য দেশের সব নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা এবং সরকারের তৎপরতা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি, যেটির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এসময় তিনি সাম্প্রতিক রংপুরের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে জানান, ওই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। তারা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে এ পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলের শীর্ষ নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক জোট ‘মক্কা চুক্তিতে’ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিকে বড় ধরনের পরীক্ষায় ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি কেবল ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বৃহৎ পরাশক্তির সঙ্গেও সম্পর্কের সমীকরণ জটিল করে তুলতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সোমবার ওই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।”
তবে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি শুধু একটি নতুন নিরাপত্তা জোটে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন নয়; বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে।
বাংলাদেশ মূলত বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী ভূ-রাজনৈতিক বলয় এড়িয়ে চলার নীতি মেনে চলে। দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, যার প্রধান বাজার যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়, যার বড় অংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক জোটে যোগ দিলে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলার নীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
কী এই মক্কা চুক্তি
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় গত ৭ অগাস্ট এ চুক্তিতে সই করে সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিন দেশ-সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।
নেটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং অঞ্চলজুড়ে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এ জোট গড়া হয়েছে।
নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর দেশ তুরস্কের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব এই চুক্তিতে রয়েছে। তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি অন্য দেশের জন্যও উন্মুক্ত।
চুক্তির ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো নিজেদের যৌথ নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিজেদের অঞ্চল ও অঞ্চলের বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগে যৌথভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়েও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে দেশ তিনটি। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ২৭ অগাস্ট জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
কী বলছেন বিশ্লেষকরা?
বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে। বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বাড়ানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ এতদিন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক শিবিরে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার চেষ্টা করেছে। সামরিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়ার মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সামরিক জোটের সদস্য হলে তা শুধু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেই নয়, বরং চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, "সম্পর্কগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে না ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশ একবার কোনো সামরিক ব্লকে যোগ দিলে, তারা কোন পক্ষে আছে-সেই প্রশ্নটি এড়ানো তখন অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।"
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়টি। তারেক রহমানের সরকার দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপড়েন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সম্প্রতি জানিয়েছেন, তারেক রহমান ভারত সফর করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার করা অনুরোধের জবাবে নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা গত ৫ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।
মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নয়াদিল্লি সহজভাবে নাও নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিবেচনা করতে হবে ঢাকাকে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান।
তিনি মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে যুক্ত হওয়ার ধারণা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, এই অর্থনীতি বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ যদি এই জোটে যোগ দেয়, তবে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ খুশি হবে না। তবে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি কেবল সেটি হওয়া উচিত নয়।"
বিমানবন্দরে ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।
আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।
বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।
মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
দেশে সারের সংকট নেই
দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, 'কৃষকদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে সামনে সারের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।' আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মজুত বেড়েছে। তবে দেশের কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সার বিতরণে কিছুটা অনিয়ম রয়েছে। কৃষক ও জনগণের স্বার্থে সরকার বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা অস্থিরতা ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো কোনো ডিলার তাঁদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন না। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার আশা করছে, এ সমস্যা বেশি দূর গড়াবে না।
গ্যাস পরিস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে একটি ভালো অবস্থানে যেতে সরকারের প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এ সময়ের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
বিদিশা এরশাদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের একটি প্রতারণা মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলার বিচারে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানামূলে আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বর সেকশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাল বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।