বাংলাদেশ সরকারের লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম

সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। 


শপথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা চল্লিশের কাছাকাছি হতে পারে। মন্ত্রিসভায় দলের নবীন ও প্রবীণদের যেমন সমন্বয় করা হবে, তেমনি জোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবেও একাধিক মুখ থাকতে পারেন।


মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে ৪৩টি। বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। 


বিএনপির নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। 


সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এরপর সংসদ ভবনের ৯ তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেওয়া সদস্যরা। পরে সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। 


রাষ্ট্রপতি তখন তাঁকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। এরপর ওই দিন বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।


মন্ত্রিসভার আকার নির্ধারণ আছে সংস্কার প্রস্তাবে


জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ মন্ত্রী এবং ১২ প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করে। পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে নামিয়ে ২৫ আনার সুপারিশ করে কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে পাঁচটি গুচ্ছে। এমনকি সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর নামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। ওই সুপারিশের পর প্রথমবারের মতো দলীয় সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। 


সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাদে মন্ত্রণালয় হবে ২৫টি। এতে দুজন টেকনোক্র্যাটসহ মন্ত্রী হবেন ২৩ জন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন ১২ জন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব একজন, মুখ্য সচিব ১৭ জন ও সচিব থাকবেন ৪২ জন। একাধিক বিভাগ সংবলিত মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া এবং সমন্বয়ের জন্য একজন মুখ্য সচিব থাকবেন। 


কেমন ছিল আগের মন্ত্রিসভা 


সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। 


২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ৪৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। 


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দুটি মন্ত্রণালয় করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুটি করে বিভাগে পৃথক করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগ দুটিকে একীভূত করেছে।


২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ জন হয়েছিলেন।


২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২ জন। পরে বিভিন্ন রদবদল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সংখ্যা ৬২ জন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।


এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৬০ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান একটি মাঝারি আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে যাচ্ছেন।


মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা 


জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক বড় মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলে পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আবার ছোট মন্ত্রণালয়ে একাধিক মন্ত্রী হলে কাজে শৃঙ্খলা থাকে না। এ জন্য ২০ থেকে ২২ জন মন্ত্রী এবং আট থেকে ১০ জন প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। এতে বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রীরা। ছোট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন প্রতিমন্ত্রীরা। 


সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সমকালকে বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করে ৩৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে আর্থিক অবস্থা, সেখানে মন্ত্রিসভার সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত। এ ছাড়া ডিজিটাল যুগে একজন লোক অনেক কাজ করতে পারে। এ জন্য জনবলের সংখ্যা কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।’


আলোচনায় যারা


এবারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া থাকতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তরুণ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় নাম এসেছে নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ কয়েকজনের। জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুরের নাম শোনা যায়। তবে কারও নামই দায়িত্বশীল কোনো নেতা নিশ্চিত করেননি। 


১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ


শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গতকাল রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।


এদিকে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা, এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং এই গণঅভ্যুত্থানে অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি।


প্রস্তুত হচ্ছে সংসদ ভবন


নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি অধিবেশনের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 


সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। 


জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা


শপথ গ্রহণের পর নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির প্রতীক সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ জন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ শ্রদ্ধা জানানোর পর আবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।



সর্বশেষ সব খবর

দেশে এলো সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ

রিয়াদে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয়েছে ৯ প্রবাসীর


মরদেহের কফিন ছুঁয়ে আর্তনাদ করেন স্বজনেরা।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ পিএম

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। 


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। 



এর আগে, গত ৯ অগাস্ট রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে। 


৯ জনের মধ্যে- নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন। 



বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।


মরদেহ গ্রহণের পর কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাকি ৭ জন নিহত কর্মীর ফিংগার প্রিন্ট পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় সিআইডির তত্ত্বাবধানে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” 



তিনি আরও বলেন, ‘‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত নয় কর্মীর প্রতি পরিবারের জন্য লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান বাবদ ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’ 


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা বিদেশ যান, অনেক কষ্টের কাজ করে পরিবারের জন্য টাকা পাঠান। যারা মারা গেছেন, মৃতদেহ এখনো আনতে পারিনি দেশে, তাদের মৃতদেহ দেশে আনতে সৌদি দূতাবাসের সবাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু আগুন লেগেছে, তাদের ডিএনএ টেস্ট হবে, পরিবারের সাথে কথা হয়েছে, দ্রুত দেশে ফেরত আনা হবে।” 

সর্বশেষ সব খবর

সচিবালয়ে কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।


একইসঙ্গে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


রবিবার (২৩ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।


তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, “সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”


জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আন্দোলনে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং আমরা কী কাজ করছি তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব “


কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারো প্রতি অন্যায় ও অবিচার না হয়।”


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্য রাখেন।


পরিচিতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।


পরিচিত সভা শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

সর্বশেষ সব খবর

সংসদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

পরিপূর্ণ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে আংশিক সংস্কারের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের ঠিক আগ মুহূর্তে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে বিরোধী দলীয় সদস্য ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি নিয়ে কথা বলেন। 


সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতা। পরে তিনি আজ উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন হলে তাতে অংশ নেবেন না বলে ওয়াকআউট করেন। 


রাত ৮টা ৬ মিনিটে সংসদ থেকে বেরিয়ে যায় বিরোধী দল। পরে তারা গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন।


উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল।


নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। আর সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।


গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা বলেছিল সরকার। এর একটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।


অন্যদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলনে এই সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল পাস করা হয়েছিল। তখন অধিকতর যাচাই–বাছাই করে মানবাধিকার কমিশন আইন আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছিল সরকার।


এর মধ্যে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয় ১০ আগস্ট। এই দুটি আইনের খসড়া অনুমোদন করার পর থেকে মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খসড়ার কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৭ পিএম

চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে কিনবে সরকার। এ প্রকল্পে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।


আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।


বিদ্যুতের দাম বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদ্যুৎ তাদের কাছ থেকে কিনবো ২৫ টাকা ইউনিট হিসেবে। প্রকল্পটি ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে ২০২৮ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নাগাদ আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।


মীর শাহে আলম বলেন, বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি মনে হলেও এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় একটি সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশ সরকারকে এ প্রকল্পে কোনো বিনিয়োগ করতে হবে না।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই জাতির জন্য, ঢাকা শহরের জন্য ময়লা-আবর্জনা একটা বড় বোঝা। মূল্যটা হয়তো বেশি মনে হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশের দিক বিবেচনা করলে, কার্বন ক্রেডিট বিবেচনা করলে আমাদের ওই খরচটা আবার অন্যভাবে চলে আসবে।


তিনি জানান, বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পাশাপাশি সেখান থেকে জৈব সারও উৎপাদন করা হবে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে মাসিক ভাড়া দেবে।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমিনবাজারের পাশাপাশি ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পাওয়ার চায়না নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসনসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। 


আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।


নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- ইকবাল হাসান মাহমুদ (রাজশাহী, নাটোর), ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়), জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু (লক্ষ্মীপুর), নিতাই রায় চৌধুরী (চুয়াডাঙ্গা), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (হবিগঞ্জ), আরিফুল হক চৌধুরী (মৌলভীবাজার), মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (চট্টগ্রাম), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা), আসাদুল হাবিব দুলু (ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর), মো. আসাদুজ্জামান (খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট) ও জাকারিয়া তাহের (ফেনী, নোয়াখালী)।


দায়িত্ব পাওয়া অন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল (মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ), সাচিং প্রু (কক্সবাজার), মো. শরীফুল আলম (টাঙ্গাইল, নরসিংদী), মিজ্ শামা ওবায়েদ ইসলাম (মাদারীপুর, শরীয়তপুর), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ), আব্দুল বারী (বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (ঢাকা), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি), হাবিবুর রশিদ (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ) ও মো. রাজীব আহসান (বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর)।


এ ছাড়াও অন্যরা হলেন- মীর শাহে আলম (রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম), মিজ্ ফারজানা শারমিন (সিরাজগঞ্জ, পাবনা), শেখ ফরিদুল ইসলাম (যশোর, মাগুরা, নড়াইল), ইয়াসের খান চৌধুরী (জামালপুর, কিশোরগঞ্জ), আহমেদ সোহেল মঞ্জুর (বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি), মোহাম্মদ শামীম কায়সার (জয়পুরহাট, নওগাঁ), আলহাজ্ব মো. জি কে গউস (সিলেট, সুনামগঞ্জ), মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ (রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ) ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর)।


৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে নতুন দায়িত্ব দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা ওই গেজেটে বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপগণ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। 


সেই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করবেন। 


এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপগণ প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ এবং পরামর্শ দিতে পারবেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন-এমন অভিযোগে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলের সদস্যরা। বিরোধী দলের আপত্তি, হইচই, হট্টগোলে প্রায় ১০ মিনিট সংসদে কার্যত অচলাবস্থা ছিল। 


বিরোধী দলের আপত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করার কথা জানালেও পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক শান্ত হয়নি। বারবার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে না পেরে এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে।


জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ একটি সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে অভিযোগ করেন, দিনে-দুপুরে ছিনতাই হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে যাচ্ছেন, তাঁকে কেন্দ্র করে ভুয়া স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের সদস্যের ওপর হামলার মামলায় আসামি গ্রেপ্তার না করে মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চান।


জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথম এক মিনিট অমনোযোগী ছিলেন। তাই তিনি প্রশ্নটি আবার করার অনুরোধ করেন।


পরে শফিকুল ইসলাম মাসুদ আবার প্রশ্নটি করেন। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা না।’


এ বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তাঁরা হইচই করতে থাকেন। অনেকে আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।


এর আগে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’ 


হাসনাতের প্রশ্নের জবাবের সময় কয়েকজন মৃদু আপত্তি জানালেও শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান বিরোধী দলের সদস্যরা।


বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ করে বলেননি। তারপরও বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনার শেল্টার (আশ্রয়) চাইছি।’


বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একপর্যায়ে বলেন, তিনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন। এরপরও বিরোধী দল প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। হট্টগোলের মধ্যে কথা বলতে না পেরে এক পর্যায়ে বসে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


অন্যদিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের সদস্যদের বারবার বসার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে স্পিকারকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, হয়েছে তো, অনেকক্ষণ বলেছেন। এখন আপনারা অনুগ্রহ করে বসুন। অনুগ্রহ করে নিজের আসনে বসুন।’


কিন্তু বিরোধীদলের সদস্যরা কেউ স্পিকারের কথা আমলে না নিয়ে হইচই করতে থাকেন। স্পিকার তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘এইভাবে ঢালাও না বলে মাইকে বললে তো সবাই শুনতে পায়। আপনাদের সুযোগ দেওয়া হবে। যখন সুযোগ পাবেন, মাইকে বলবেন।’


স্পিকার বলেন, ‘এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। এখানে আপনারা ইচ্ছেমতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ (সমালোচনা) করতে পারছেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, বসুন প্লিজ। অপেক্ষা করুন।’ একপর্যায়ে স্পিকার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেবেন।


বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বক্তব্য শুরু করেন। তখন স্পিকার তাঁকে তাঁর (স্পিকার) দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। বিরোধী দলের সদস্যরা তখনো দাঁড়িয়ে হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। 


তাঁদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে রাজি না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমি বিরোধী দলের নেতাকে দেব।’


পরে হট্টগোলের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি-এগুলো ঢালাও না বলে সুনির্দিষ্ট করে প্রশ্ন করতে হবে। সে জন্য তিনি বলেছেন এটা জাতীয় সংসদ।


‘উনি নিজেকে কী মনে করেন’


এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সুযোগ দেন স্পিকার। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাকে আগে সুযোগ দিলে ওনার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কথাটা শুনতে পেতাম।’


এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের কেউ কেউ বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে কিছু বলতে থাকেন। তখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বক্তব্য কি আপনি দেবেন, না আমি দেব? আপনি দেন।’


স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’


তখন স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।


শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না।’


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এমনকি তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন, তিনি বলেছেন যে এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন।’


শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন, ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে ওনার লেকচার শুনবে।’


আজকে একই বক্তব্যে দুবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাটাক করে ফেললেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে এইটা কালচারাল না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং তাঁর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এইটুকু করা হলে বিরোধী দল সংসদ কক্ষে থাকবে, না হলে অপমান নিয়ে এখানে বসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।


বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।


‘সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত’


পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদে জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন করার জন্য সবাই কাজ করছেন। কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করা না হলে সংসদ কার্যকর থাকে না।


স্পিকার বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে আমি অসহিষ্ণুতা লক্ষ করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরীক্ষা করে অসংসদীয় কিছু থাকলে এক্সপাঞ্জ করা হবে জানিয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘কিন্তু কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। আপনারা যে কয়জন আছেন, তার দ্বিগুণ–তিন গুণ এ পাশে (সরকারি দলে) আছে। সুতরাং শব্দ করে এর বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।’


পরে বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘আজকের বিষয়টা একবারে স্পষ্ট। এটা তো আর পরীক্ষা করে দেখার কোনো বিষয় নেই।’ স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেষের দিকে কনক্লুশনে গিয়ে একটু বললেন যে এই দিকের চাইতে ওই দিকে তিন গুণ আছেন। এটা তো ভালো লাগল না। আমি এই সংসদকে কোনো গুণে বিভক্ত করার পক্ষে নই। আমরা প্রথম দিক থেকে বলেছি, ভালো কাজে আমরা সবাই এক হব। একসঙ্গে কাজ করব। অন্যায় কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করব।’


পরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করেছি, এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়। অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে, সে জন্য সংসদের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব এখানে রয়েছে।’

সর্বশেষ সব খবর