• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসনসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। 


আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।


নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- ইকবাল হাসান মাহমুদ (রাজশাহী, নাটোর), ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়), জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু (লক্ষ্মীপুর), নিতাই রায় চৌধুরী (চুয়াডাঙ্গা), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (হবিগঞ্জ), আরিফুল হক চৌধুরী (মৌলভীবাজার), মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (চট্টগ্রাম), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা), আসাদুল হাবিব দুলু (ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর), মো. আসাদুজ্জামান (খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট) ও জাকারিয়া তাহের (ফেনী, নোয়াখালী)।


দায়িত্ব পাওয়া অন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল (মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ), সাচিং প্রু (কক্সবাজার), মো. শরীফুল আলম (টাঙ্গাইল, নরসিংদী), মিজ্ শামা ওবায়েদ ইসলাম (মাদারীপুর, শরীয়তপুর), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ), আব্দুল বারী (বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (ঢাকা), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি), হাবিবুর রশিদ (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ) ও মো. রাজীব আহসান (বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর)।


এ ছাড়াও অন্যরা হলেন- মীর শাহে আলম (রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম), মিজ্ ফারজানা শারমিন (সিরাজগঞ্জ, পাবনা), শেখ ফরিদুল ইসলাম (যশোর, মাগুরা, নড়াইল), ইয়াসের খান চৌধুরী (জামালপুর, কিশোরগঞ্জ), আহমেদ সোহেল মঞ্জুর (বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি), মোহাম্মদ শামীম কায়সার (জয়পুরহাট, নওগাঁ), আলহাজ্ব মো. জি কে গউস (সিলেট, সুনামগঞ্জ), মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ (রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ) ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর)।


৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে নতুন দায়িত্ব দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা ওই গেজেটে বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপগণ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। 


সেই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করবেন। 


এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপগণ প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ এবং পরামর্শ দিতে পারবেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন-এমন অভিযোগে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলের সদস্যরা। বিরোধী দলের আপত্তি, হইচই, হট্টগোলে প্রায় ১০ মিনিট সংসদে কার্যত অচলাবস্থা ছিল। 


বিরোধী দলের আপত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করার কথা জানালেও পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক শান্ত হয়নি। বারবার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে না পেরে এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে।


জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ একটি সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে অভিযোগ করেন, দিনে-দুপুরে ছিনতাই হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে যাচ্ছেন, তাঁকে কেন্দ্র করে ভুয়া স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের সদস্যের ওপর হামলার মামলায় আসামি গ্রেপ্তার না করে মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চান।


জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথম এক মিনিট অমনোযোগী ছিলেন। তাই তিনি প্রশ্নটি আবার করার অনুরোধ করেন।


পরে শফিকুল ইসলাম মাসুদ আবার প্রশ্নটি করেন। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা না।’


এ বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তাঁরা হইচই করতে থাকেন। অনেকে আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।


এর আগে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’ 


হাসনাতের প্রশ্নের জবাবের সময় কয়েকজন মৃদু আপত্তি জানালেও শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান বিরোধী দলের সদস্যরা।


বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ করে বলেননি। তারপরও বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনার শেল্টার (আশ্রয়) চাইছি।’


বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একপর্যায়ে বলেন, তিনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন। এরপরও বিরোধী দল প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। হট্টগোলের মধ্যে কথা বলতে না পেরে এক পর্যায়ে বসে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


অন্যদিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের সদস্যদের বারবার বসার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে স্পিকারকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, হয়েছে তো, অনেকক্ষণ বলেছেন। এখন আপনারা অনুগ্রহ করে বসুন। অনুগ্রহ করে নিজের আসনে বসুন।’


কিন্তু বিরোধীদলের সদস্যরা কেউ স্পিকারের কথা আমলে না নিয়ে হইচই করতে থাকেন। স্পিকার তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘এইভাবে ঢালাও না বলে মাইকে বললে তো সবাই শুনতে পায়। আপনাদের সুযোগ দেওয়া হবে। যখন সুযোগ পাবেন, মাইকে বলবেন।’


স্পিকার বলেন, ‘এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। এখানে আপনারা ইচ্ছেমতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ (সমালোচনা) করতে পারছেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, বসুন প্লিজ। অপেক্ষা করুন।’ একপর্যায়ে স্পিকার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেবেন।


বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বক্তব্য শুরু করেন। তখন স্পিকার তাঁকে তাঁর (স্পিকার) দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। বিরোধী দলের সদস্যরা তখনো দাঁড়িয়ে হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। 


তাঁদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে রাজি না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমি বিরোধী দলের নেতাকে দেব।’


পরে হট্টগোলের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি-এগুলো ঢালাও না বলে সুনির্দিষ্ট করে প্রশ্ন করতে হবে। সে জন্য তিনি বলেছেন এটা জাতীয় সংসদ।


‘উনি নিজেকে কী মনে করেন’


এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সুযোগ দেন স্পিকার। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাকে আগে সুযোগ দিলে ওনার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কথাটা শুনতে পেতাম।’


এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের কেউ কেউ বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে কিছু বলতে থাকেন। তখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বক্তব্য কি আপনি দেবেন, না আমি দেব? আপনি দেন।’


স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’


তখন স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।


শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না।’


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এমনকি তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন, তিনি বলেছেন যে এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন।’


শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন, ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে ওনার লেকচার শুনবে।’


আজকে একই বক্তব্যে দুবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাটাক করে ফেললেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে এইটা কালচারাল না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং তাঁর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এইটুকু করা হলে বিরোধী দল সংসদ কক্ষে থাকবে, না হলে অপমান নিয়ে এখানে বসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।


বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।


‘সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত’


পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদে জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন করার জন্য সবাই কাজ করছেন। কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করা না হলে সংসদ কার্যকর থাকে না।


স্পিকার বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে আমি অসহিষ্ণুতা লক্ষ করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরীক্ষা করে অসংসদীয় কিছু থাকলে এক্সপাঞ্জ করা হবে জানিয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘কিন্তু কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। আপনারা যে কয়জন আছেন, তার দ্বিগুণ–তিন গুণ এ পাশে (সরকারি দলে) আছে। সুতরাং শব্দ করে এর বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।’


পরে বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘আজকের বিষয়টা একবারে স্পষ্ট। এটা তো আর পরীক্ষা করে দেখার কোনো বিষয় নেই।’ স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেষের দিকে কনক্লুশনে গিয়ে একটু বললেন যে এই দিকের চাইতে ওই দিকে তিন গুণ আছেন। এটা তো ভালো লাগল না। আমি এই সংসদকে কোনো গুণে বিভক্ত করার পক্ষে নই। আমরা প্রথম দিক থেকে বলেছি, ভালো কাজে আমরা সবাই এক হব। একসঙ্গে কাজ করব। অন্যায় কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করব।’


পরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করেছি, এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়। অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে, সে জন্য সংসদের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব এখানে রয়েছে।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

১৬৫ সিসির ওপরের সকল মোটরসাইকেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯- থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


এতে বলা হয়েছে, ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সকল প্রকার মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ, তবে পুলিশ বিভাগের ক্ষেত্রে ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বসীমার এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।


আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত শিল্প প্রতিষ্ঠান ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ আমদানি করতে পারবে।


এর আগের আমদানি নীতিতে (২০২১-২০২৪) সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধি-নিষেধ ছিল।


আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪০ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বঙ্গভবনে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির এটাই প্রথম সাক্ষাৎ।


আজ বৃহস্পতিবারের এ সাক্ষাতে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন।


গেল ২০ অগাস্ট সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন; পরদিন ২১ অগাস্ট সন্ধ্যায় শপথ নিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।


স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।


এদিকে বর্তমান ইসি নিয়োগ পায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। ২০২৫ সালে ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে ভোটের আগে সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে এই কমিশন।


এ ইসির অধীনে ত্রয়োদশ ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে; এরপর মে সাসে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট হয়েছে। সবশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে ইসি।


সাংবিধানিক সংস্থাটির দায়িত্ব পেয়েই ভোটার তালিকা, সীমানা নির্ধারণ, সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ করেছে ইতোমধ্যে। সামনে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন।


নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, “বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটা আমাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ। নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে হয়ত জানতে চাইবেন; আমরা কাযক্রম অবহিত করব।”


নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইতোমধ্যে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেছেন তিনবাহিনী প্রধান ও প্রধান বিচারপতি। এবার নির্বাচন কমিশনের সাক্ষাৎ হচ্ছে।


বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের নতুন এমডি মেহের সুলতানা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ এএম

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন মিসেস মেহের সুলতানা। এর আগে তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খুব শিগগিরই মেহের সুলতানার নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে।


মেহের সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে কাজ করছেন। কর্মসংস্থান ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) পদে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগ দেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মেহের সুলতানা। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়।


বিএইচবিএফসিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এবং সদর দপ্তরের বিভিন্ন বিভাগে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।


এ ছাড়া কর্মজীবনে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন মেহের সুলতানা।


দেশের আবাসন খাতে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৩ পিএম

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ী ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এ নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের জন্য দেওয়া বিএসটিআইয়ের দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 


পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের পরামর্শও দিয়েছে বিএসটিআই। আজ বুধবার বিএসটিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া যায়। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের পাওয়া যায়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ীর ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন ও বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।


বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়: বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালাভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা মান উত্তীর্ণ হতে পারেনি।


বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ী প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।


বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল ঠেকাতে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।


পণ্য কেনার আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক। একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা ১৬১১৯ নম্বরে অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানাতে অনুরোধ করেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

পুলিশ বাহিনীকে ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন, এ জন্য দেশের সব নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।


বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা এবং সরকারের তৎপরতা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি, যেটির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


এসময় তিনি সাম্প্রতিক রংপুরের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে জানান, ওই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


পুলিশ বাহিনীর চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। তারা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।


তবে এ পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলের শীর্ষ নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।