প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ এএম

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। বিএনপি সরকার সব ক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর। 


গতকাল বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।


তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।


সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।


তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান তথা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী এই দেশ আমাদের সবার। প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই এ দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।


রমজানের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি, তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটি ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সব ক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, ইনশাআল্লাহ।


তিনি বলেন, ক্ষুদ্র-মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা, বিক্রেতা, গ্রহীতা-এই সরকার সবারই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।


রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতের নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে রোজাদারগণ বিশেষ করে ইফতার-তারাবি-সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রসাধন প্রত্যেক মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদতের অংশ বলেই আমি মনে করি।


তিনি বলেন, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না। আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন।


যানজট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাঁটে-মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা-বাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন; সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস এবং সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ, সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।


কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্ববাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত। তথ্যপ্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ-যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই, মেধায়-জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যতরকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সবরকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।


দেশ গড়তে নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার ‘প্ল্যান- পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সব অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।


দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দল-মত, ধর্ম-দর্শন যার যার; রাষ্ট্র সবার। এই দেশে এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার-আমার-আমাদের প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ এবং সুস্থ রাখুন। আল্লাহ আমাদের ইতিবাচক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক দিন।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৩ পিএম

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ী ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এ নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের জন্য দেওয়া বিএসটিআইয়ের দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 


পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের পরামর্শও দিয়েছে বিএসটিআই। আজ বুধবার বিএসটিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া যায়। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের পাওয়া যায়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ীর ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন ও বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।


বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়: বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালাভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা মান উত্তীর্ণ হতে পারেনি।


বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ী প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।


বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল ঠেকাতে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।


পণ্য কেনার আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক। একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা ১৬১১৯ নম্বরে অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানাতে অনুরোধ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

পুলিশ বাহিনীকে ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন, এ জন্য দেশের সব নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।


বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা এবং সরকারের তৎপরতা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি, যেটির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


এসময় তিনি সাম্প্রতিক রংপুরের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে জানান, ওই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


পুলিশ বাহিনীর চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। তারা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।


তবে এ পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলের শীর্ষ নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৪ পিএম

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক জোট ‘মক্কা চুক্তিতে’ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিকে বড় ধরনের পরীক্ষায় ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি কেবল ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বৃহৎ পরাশক্তির সঙ্গেও সম্পর্কের সমীকরণ জটিল করে তুলতে পারে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সোমবার ওই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।”


তবে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি শুধু একটি নতুন নিরাপত্তা জোটে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন নয়; বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে।


বাংলাদেশ মূলত বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী ভূ-রাজনৈতিক বলয় এড়িয়ে চলার নীতি মেনে চলে। দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, যার প্রধান বাজার যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র। 


অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়, যার বড় অংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক জোটে যোগ দিলে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলার নীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


কী এই মক্কা চুক্তি


সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় গত ৭ অগাস্ট এ চুক্তিতে সই করে সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিন দেশ-সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।


নেটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং অঞ্চলজুড়ে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এ জোট গড়া হয়েছে।


নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর দেশ তুরস্কের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব এই চুক্তিতে রয়েছে। তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি অন্য দেশের জন্যও উন্মুক্ত।


চুক্তির ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো নিজেদের যৌথ নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিজেদের অঞ্চল ও অঞ্চলের বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগে যৌথভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়েও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে দেশ তিনটি। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ২৭ অগাস্ট জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।


কী বলছেন বিশ্লেষকরা?


বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে। বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বাড়ানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ এতদিন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক শিবিরে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার চেষ্টা করেছে। সামরিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।


ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়ার মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সামরিক জোটের সদস্য হলে তা শুধু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেই নয়, বরং চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল করে তুলতে পারে।


তিনি বলেন, "সম্পর্কগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে না ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশ একবার কোনো সামরিক ব্লকে যোগ দিলে, তারা কোন পক্ষে আছে-সেই প্রশ্নটি এড়ানো তখন অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।"


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়টি। তারেক রহমানের সরকার দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপড়েন রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সম্প্রতি জানিয়েছেন, তারেক রহমান ভারত সফর করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার করা অনুরোধের জবাবে নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।


শেখ হাসিনা গত ৫ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।


মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।


বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নয়াদিল্লি সহজভাবে নাও নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিবেচনা করতে হবে ঢাকাকে।


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান।


তিনি মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে যুক্ত হওয়ার ধারণা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, এই অর্থনীতি বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।


তিনি বলেন, "বাংলাদেশ যদি এই জোটে যোগ দেয়, তবে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ খুশি হবে না। তবে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি কেবল সেটি হওয়া উচিত নয়।"

সর্বশেষ সব খবর

বিমানবন্দরে ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ এএম

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।


ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।


আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।


বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।


দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।


ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।


সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ এএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’


পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।


মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।


তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’


তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

সর্বশেষ সব খবর

দেশে সারের সংকট নেই

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‌'কৃষকদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে সামনে সারের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।' আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মজুত বেড়েছে। তবে দেশের কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, সার বিতরণে কিছুটা অনিয়ম রয়েছে। কৃষক ও জনগণের স্বার্থে সরকার বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা অস্থিরতা ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো কোনো ডিলার তাঁদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন না। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার আশা করছে, এ সমস্যা বেশি দূর গড়াবে না।


গ্যাস পরিস্থিতি


সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে একটি ভালো অবস্থানে যেতে সরকারের প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এ সময়ের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর