প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ভাষণ দেন
পুলিশ কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব। আজ রোববার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেডে’ এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।
তিনি বলেন, পুলিশের কাজ ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন’। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে আপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যায়, সেখানে তারা আপনাদের আচরণে যেন কিছু হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখা দরকার, আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসে। পুলিশের সহায়তা চান।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না। তাই, থানায় যাওয়ার পর তার বিপদ কমবে মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। তবে সেখানে যদি মানবিকতার ছোঁয়া থাকে তাহলে আপনাদের কারণে সরকারের সাফল্যগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা তাদের দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; তারা হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলো। সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ ও আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সুতরাং সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের চাওয়া পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।’
তারেক রহমান বলেন, আমরা থানাগুলোর পরিবেশ এমনভাবে করতে চাই, যা আইজি সাহেব ওনার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, যেন একজন মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারেন এবং একসাথে প্রতিকারও পেতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। তাই, কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।
মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা চুরি-ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দেশে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার ব্যাপারেও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ‘মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল’ টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এসব বিষয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি কিংবা পুলিশে নিয়োগ এসব ক্ষেত্রে মেধা যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাকেই আমরা প্রাধান্য দিতে চাই।
পুলিশে বাহিনীকেও আরও দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দ্রুত পরবর্তনশীল এই বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীকেও আরও দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন এবং ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি দুর্বল শাসন কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে আপনাদের সব প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েকমাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবো না।
অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পথ সহজ নয়, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য মহৎ। আমরা একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরে ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।
আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।
বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।
মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
দেশে সারের সংকট নেই
দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, 'কৃষকদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে সামনে সারের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।' আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মজুত বেড়েছে। তবে দেশের কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সার বিতরণে কিছুটা অনিয়ম রয়েছে। কৃষক ও জনগণের স্বার্থে সরকার বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা অস্থিরতা ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো কোনো ডিলার তাঁদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন না। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার আশা করছে, এ সমস্যা বেশি দূর গড়াবে না।
গ্যাস পরিস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে একটি ভালো অবস্থানে যেতে সরকারের প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এ সময়ের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
বিদিশা এরশাদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের একটি প্রতারণা মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলার বিচারে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানামূলে আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বর সেকশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাল বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি যুদ্ধবিমান জে-১০সি কেনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম-এগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই অর্থবছরে বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে চলে যাবে।
উপদেষ্টা বলেন, এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
চীনের তৈরি জে-১০ সিই ফাইটারের সক্ষমতার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সাম্প্রতিক একটা রিয়েল এক্সপেরিয়েন্স আছে কমব্যাট সিচুয়েশনে। ভারত-পাকিস্তানে যখন যুদ্ধ হচ্ছে, ভারতের রাফাল ডাউন হয়েছিল, সেটা করেছিল চায়নিজ জে-১০। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং চায়নার তৈরি একটা মাল্টিরোল ফাইটার, এখন রাফালকে বলা হয় ৪.৫ জেনারেশনের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটা। তার সঙ্গে কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে। সো, বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আশা করা যায় আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘একটা কথা বলে রাখা ভালো, সিমিলার কোয়ালিটির রাফাল বলি বা ইউরো ফাইটার টাইফুন বলি, ইউরোপিয়ান ভেরিয়েন্টের-তার তুলনায় চায়নিজ ফাইটারগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আশা করি, আমাদের সরকার জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ নেবে।’
এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংক্রান্ত কমিটি ‘নেগোসিয়েশন বৈঠকের’ মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করেছে। সেটা অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
প্রতীকী ছবি
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কোম্পানিগুলো। ওষুধ শিল্প সমিতি বলছে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে এসবের উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বাপি) কার্যালয়ে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সমিতির নেতারা এসব কথা বলেন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় এসব ওষুধের পরিবর্তে রোগীদের তুলনামূলক বেশি দামের বিকল্প ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসায় ব্যয় বাড়ছে।
বাপির নেতারা বলেন, বর্তমানে ১৯৯৪ সালের প্রাইসিং কাঠামোর ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। গত ৩২ বছরে মাত্র দুবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বছরে গড়ে ৮ শতাংশ হারে মূল্য সমন্বয়ের কথা ছিল। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার।
তারা আরও বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে ওষুধ শিল্প মালিকদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, টেকসই ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি ব্যয়ের চাপ দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকলে ওষুধের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, ওষুধ শিল্পকে শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিরোধিতা নেই। তবে যোগ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন।
প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে ডা. জাকির হোসেন বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ সরবরাহ করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি তুলনা করাও ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইডিসিএলের নির্দিষ্ট সরকারি ক্রয়াদেশ ও নিশ্চিত বাজার রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপণন ব্যয়ের চাপও তাদের নেই। সরকার চাইলে ইডিসিএলের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনা মূল্যে বা কম দামে দিতে পারে।
বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে। সেই সময় ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে উৎপাদনের জন্য ১৯টি ওষুধ নিবন্ধন করা হয়নি। ফলে ৯৮টি ওষুধের প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে এসব ওষুধের উৎপাদন খরচ উঠে আসে না। তাই দাম সমন্বয় না হওয়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটেও ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানাগুলোকে জেনারেটর, বড় ইউপিএস ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
তিনি বলেন, ওষুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কারখানাগুলোতে জেনারেটর ও বড় ইউপিএসের ব্যাকআপ রাখতে হয়। গ্যাসের সংকটে জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে জানিয়ে হালিমুজ্জামান বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। মজুত শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যায়।