তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদনে ধস নেমেছে। যন্ত্রপাতি চলছে না

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১২ এএম

দেশে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এর ফলে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পকারখানা- সব খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে ভারী শিল্পে। গ্যাস এবং এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় স্টিল, সিরামিক, কাচের মতো গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর উৎপাদনক্ষমতা শূন্যে নেমেছে। 


গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব শিল্পাঞ্চলের ভারী শিল্পের বেশির ভাগ কলকারখানা বন্ধ ছিল। স্থানীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী বড় কয়েকটি শিল্প গ্রুপের প্রায় সব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। 


খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। 


দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের সব কারখানা গত বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। 


জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল গতকাল বলেন, গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো ন্যূনতম গ্যাস মিলছে না। নতুন করে বিদ্যুৎ সংকটও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে গ্রুপের সব মিল-কারখানা বন্ধ রয়েছে। 


মোস্তফা কামাল জানান, উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদিরের কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। বিদ্যুৎমন্ত্রী একটু অপেক্ষা করতে বলেছেন। 


খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে মেঘনা গ্রুপ। এ ছাড়া সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, ফিড, কেমিক্যালসহ গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৭টি। ফ্রেশ, নাম্বার ওয়ান, অ্যাক্টিফিট, পিউর ইত্যাদি নামে এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। 


এর বাইরে সেবা খাতে শিপিং, বীমা ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা রয়েছে মেঘনা গ্রুপের। মেঘনা গ্রুপ বলছে, দেশের মোট পরিবারের অর্ধেকের কাছে এসব পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের বাইরে ৫২টি দেশে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে থাকে তারা।


মোস্তফা কামাল আরও বলেন, জ্বালানি সংকটে তারা পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না, কিন্তু সরবরাহকারী ও গ্রাহকরা তাদের কাছে পণ্যের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে। 


এক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে গ্রুপের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে- এ প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা কামাল জানান, সঠিক তথ্য এ মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে ক্ষতির পরিমাণটা বেশ বড়। বর্তমানে গ্রুপের কর্মকর্তা ও কর্মীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি।


কাঁচামাল সহজে আনা-নেওয়ায় সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অনেক ভারী শিল্প ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাচ কারখানা গড়ে ওঠে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোও বিপদে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠে ভারী শিল্পেও একই পরিস্থিতি। জানতে চাইলে ফতুল্লা স্টিল রি-রোলিং মিলসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, ভারী শিল্পের অবস্থা ভালো না। তাঁর কারখানায় উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। 


টি কে গ্রুপের উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল 


টি কে গ্রুপের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গজারিয়ায় তাদের এসব কারখানায় দুই দিনের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ। 


তিনি প্রশ্ন তোলেন, সার আমদানির সুযোগ আছে। আমদানিও হয়ে আসছে। তাহলে কয়েকটি সার কারখানা চালাতে গিয়ে সরকার কেন শত শত কারখানায় গ্যাস সংকট তৈরি করছে?


আরএফএল গ্রুপের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে

 

আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, তাদের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে, যেখানে তাদের মোট উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়, সেখানে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 


বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব নন-ফুড আইটেম যেমন- প্লাস্টিক, পিভিসি পাইপ, ফুটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।


হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ


দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন হবিগঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্রান্সকম গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সায়হাম গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৭১টি কারখানা রয়েছে এখানে। 


গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক অলস সময় পার করছেন। 


গাজীপুরে ৫২৫টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ

 

৫ আগস্টের এক দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন পর গাজীপুরের শিল্পকারখানায় ফেরেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরেও কাজে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম।


ফলে অলস সময় পার করছেন কোনো কোনো কারখানার শ্রমিকরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তৈরি হচ্ছে বায়ার হারানোর আশঙ্কাও।


গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিল্পকারখানা আছে। এর মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে ১২-১৫ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সে হিসাবে গাজীপুরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ৫২৫টি কারখানায়। বড় কারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেসব কারখানাতেও উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।


শিল্প এলাকার কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও মেশিন বন্ধ, কোথাও সীমিত পরিসরে চলছে উৎপাদন। কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও অনেক শ্রমিককে কাজ না থাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। 


শফিপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত গোমতী টেক্সটাইল কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 


একই এলাকার এস এ স্পিনিং মিলস লিমিটেডেও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারখানাটির ডিজিএম আজিজুল হক বলেন, বুধবার বিকেল ৫টার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। 


বিপর্যয়ের মুখে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প 


শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমলেও কারখানায় শুরু হয়েছে গ্যাসের সংকট। শিল্পোৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভয়াবহ গ্যাস সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 


তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের পর বিদ্যুতের অভাবে শিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান জানান, এফএসআরইউ বয়লার সিস্টেমে অগ্নিদুর্ঘটনার পর যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল তা কিছুটা কমে এসেছিল। গত দুই দিন ধরে আবার একই সমস্যা শুরু হয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। অনেক কারখানাই গতকাল উৎপাদন করতে পারনি। 


তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম আহসান বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে গতকালই বিদ্যুতের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো বেশির ভাগই বন্ধ ছিল। তাঁর নিজের ফতুল্লা গ্রুপের কারখানাটিও বন্ধ রাখতে হয়েছে। 


তিনি জানান, ফেব্রিক্সের অভাবে বিদ্যুৎ থাকলেও কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, ২০২৩ সালে একবার এ রকম সমস্যা হয়েছিল। তবে এত লম্বা সময় ধরে সংকট এর আগে কখনও হয়নি। 


তৈরি পোশাকের ফেব্রিক্সের বড় অংশের জোগান দেয় দেশের বস্ত্রকলগুলো। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সদস্য বেশির ভাগ বস্ত্রকলই গতকাল বন্ধ ছিল। যে কয়েকটি কারখানা খোলা ছিল সেগুলোতেও ৩০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। 


তীব্র গ্যাস সংকট এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে দেশের বড় বড় টেক্সটাইল কারখানাগুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গত কয়েক দিন ধরে হা-মীম গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, স্কয়ার ফ্যাশনস এবং বাদশা স্পিনিংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ডেনিম ও ডাইং খাতের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। 


কারণ ডাইং, ফিনিশিং, স্ট্যান্টিং ও সাইজিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো গ্যাস ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। স্পিনিং মিলগুলো কোনোমতে বিদ্যুৎ দিয়ে চালানোর চেষ্টা করা হলেও, গ্যাস সংকটে চিলার বন্ধ থাকায় কারখানার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদিত সুতার গুণগত মান কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অনেক কারখানা মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় কোনোমতে টিকে আছে।


পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ একটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সংকটময় মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করে কারখানা চালানোর চেষ্টা করা হলেও তা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়। একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল লাগছে, যার দৈনিক খরচ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে মুনাফা করা তো দূরে থাক, কারখানা টিকিয়ে রাখাই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।


এই কর্মকর্তা বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে সেই গ্যাস শিল্প খাতে দেওয়া উচিত। সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই লোকসান টানা সম্ভব হবে না, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি আয়ে। সরকারকে এখনই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমতে পারে


গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুতে ৬৮ কোটি ঘনফুট থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৮৫ ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে দেওয়া হতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট।


জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনরোষ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব মিলে গড়ে শিল্পে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এখন। এই সরবরাহ আরও কমতে পারে। 


জামালপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক অবরোধ 


জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গাড়ির চালকরা। গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ। 


তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জামালপুরের ম্যানেজার দুর্জয় বকসী বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বুধবার রাত ৮টা থেকে জামালপুরে পাইপলাইনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। 


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় এই অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন তারা।




বিমানবন্দরে ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ এএম

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।


ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।


আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।


বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।


দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।


ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।


সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ এএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’


পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।


মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।


তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’


তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।


দেশে সারের সংকট নেই

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‌'কৃষকদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে সামনে সারের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।' আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মজুত বেড়েছে। তবে দেশের কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, সার বিতরণে কিছুটা অনিয়ম রয়েছে। কৃষক ও জনগণের স্বার্থে সরকার বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা অস্থিরতা ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো কোনো ডিলার তাঁদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন না। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার আশা করছে, এ সমস্যা বেশি দূর গড়াবে না।


গ্যাস পরিস্থিতি


সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে একটি ভালো অবস্থানে যেতে সরকারের প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এ সময়ের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।


বিদিশা এরশাদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩২ পিএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের একটি প্রতারণা মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলার বিচারে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানামূলে আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বর সেকশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাল বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।


সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি যুদ্ধবিমান জে-১০সি কেনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। 


আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।


উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম-এগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই অর্থবছরে বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে চলে যাবে।


উপদেষ্টা বলেন, এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।


চীনের তৈরি জে-১০ সিই ফাইটারের সক্ষমতার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সাম্প্রতিক একটা রিয়েল এক্সপেরিয়েন্স আছে কমব্যাট সিচুয়েশনে। ভারত-পাকিস্তানে যখন যুদ্ধ হচ্ছে, ভারতের রাফাল ডাউন হয়েছিল, সেটা করেছিল চায়নিজ জে-১০। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং চায়নার তৈরি একটা মাল্টিরোল ফাইটার, এখন রাফালকে বলা হয় ৪.৫ জেনারেশনের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটা। তার সঙ্গে কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে। সো, বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আশা করা যায় আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’


জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘একটা কথা বলে রাখা ভালো, সিমিলার কোয়ালিটির রাফাল বলি বা ইউরো ফাইটার টাইফুন বলি, ইউরোপিয়ান ভেরিয়েন্টের-তার তুলনায় চায়নিজ ফাইটারগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আশা করি, আমাদের সরকার জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ নেবে।’


এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংক্রান্ত কমিটি ‘নেগোসিয়েশন বৈঠকের’ মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করেছে। সেটা অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কোম্পানিগুলো। ওষুধ শিল্প সমিতি বলছে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে এসবের উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। 


গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বাপি) কার্যালয়ে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সমিতির নেতারা এসব কথা বলেন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় এসব ওষুধের পরিবর্তে রোগীদের তুলনামূলক বেশি দামের বিকল্প ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসায় ব্যয় বাড়ছে।


বাপির নেতারা বলেন, বর্তমানে ১৯৯৪ সালের প্রাইসিং কাঠামোর ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। গত ৩২ বছরে মাত্র দুবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বছরে গড়ে ৮ শতাংশ হারে মূল্য সমন্বয়ের কথা ছিল। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার।


তারা আরও বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে ওষুধ শিল্প মালিকদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, টেকসই ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি ব্যয়ের চাপ দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকলে ওষুধের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।


সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, ওষুধ শিল্পকে শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিরোধিতা নেই। তবে যোগ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন।


প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে ডা. জাকির হোসেন বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ সরবরাহ করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।


রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি তুলনা করাও ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইডিসিএলের নির্দিষ্ট সরকারি ক্রয়াদেশ ও নিশ্চিত বাজার রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপণন ব্যয়ের চাপও তাদের নেই। সরকার চাইলে ইডিসিএলের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনা মূল্যে বা কম দামে দিতে পারে।


বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে। সেই সময় ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে উৎপাদনের জন্য ১৯টি ওষুধ নিবন্ধন করা হয়নি। ফলে ৯৮টি ওষুধের প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে এসব ওষুধের উৎপাদন খরচ উঠে আসে না। তাই দাম সমন্বয় না হওয়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। 


গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটেও ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানাগুলোকে জেনারেটর, বড় ইউপিএস ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।


তিনি বলেন, ওষুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কারখানাগুলোতে জেনারেটর ও বড় ইউপিএসের ব্যাকআপ রাখতে হয়। গ্যাসের সংকটে জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে জানিয়ে হালিমুজ্জামান বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। মজুত শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যায়।