দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে বালুর ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন এখন কারাবন্দি।
বিমানবন্দর এলাকার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কর্মী দেলোয়ার মূলত একজন বালু ব্যবসায়ী।
বিগত স্বৈরাচার সরকারের পুলিশের আক্রোশের স্বীকার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে প্রায় এক বছর ধরে পঙ্গু অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
২০১৩ সালে খালেদা জিয়ার গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের বাসা ফিরোজায় হামলা করার জন্য আওয়ামী শ্রমিক লীগের নেতা নুর ইসলাম তার কাছে বালুর ট্রাক চায়। দেলোয়ার যেহেতু বিএনপি ঘরোনার তাই সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুর ইসলাম বিমানবন্দর থানা শ্রমিক লীগের ক্লাবে নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার ডান পা ভেঙ্গে যায়।
পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় ওই সময় তিনি মামলা করতে পারেননি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানায় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি নুর ইসলাম ওরফে ফর্মা নুর ইসলামকে আসামি করে একটি মামলা করেন দেলোয়ার।
আলোচ্য শ্রমিক লীগ নেতা নুর ইসলাম থানার সোর্স হওয়ার সুবাদে উত্তরা পশ্চিম থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান মামলা থেকে নুর ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ১৯ জুন চাপ সৃষ্টি করেন।
এতে দেলোয়ার অস্বীকৃতি জানালে ওইদিনই তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে থানা হেফাজতে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন,হামলা,ভাঙচুর ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি করা হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি গাজীপুর ২ নম্বর কারাগারে পঙ্গু অবস্থায় চরম মানবেতর বন্দি জীবনযাপন করছেন।
ওই সময় বালুর ট্রাক সরববাহের চাপ সত্ত্বেও তাতে রাজি না হওয়ায় দেলোয়ার ব্যাপক ভাইরাল হন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা বিষয়টি জানেন।
জেলখানায় এই নওরোজ প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাতকালে ভুক্তভোগী দেলোয়ার জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে চারবার কথা হয়েছে। কিন্তু তিনি যে স্বৈরাচার সরকারের রোষানলে পড়ে জেলখানায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এ খবর প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই জানেন না। অর্থাভাবে তার পক্ষে মামলায় তদবির করারও কেউ নাই।
দেলোয়ারের স্ত্রীর ০১৮১৫৭০৬৩৯৪ এই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নওরোজকে তিনি বলেন, আমরা অসহায়। জামিনের জন্য উকিলকে যে টাকা দিয়েছি উকিল তা খেয়ে ফেলেছে। জামিনের কোনো ব্যবস্থা করেনি। নিরুপায় হয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করছি।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ও সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো বাকি তিন আসামি হলেন— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। তারা সবাই আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে অন্য মামলায় আগে থেকেই ঢাকার সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন মাহবুব ও আনোয়ার লতিফ।
এ মামলায় পলাতক অপর আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া।
শুনানিতে প্রসিকিউটর অলি বলেন, এ মামলায় গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ও সাতজনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া বাকি সাতজনের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও হদিস পাওয়া যায়নি।
এ সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা চারজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি বাকি সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন জানান প্রসিকিউটর অলি মিয়া। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। একরামুল টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে একরামের সঙ্গে তার মেয়ের একটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। অডিওটি কথিত বন্দুকযুদ্ধের সময়ে রেকর্ড হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবিপ্রধান) শফিকুল ইসলাম
সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য-বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়-সংগ্রহ করত চক্রটি। পরে তাদের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না দেওয়ায় আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। এই চাঁদা না দেওয়ায় অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। সাত সদস্যের এই চক্রের চারজন এখন গ্রেপ্তার। ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও ডা. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের জন্য চক্রটি সানি নামে একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিল। হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব ফাতিন ইসরাক লাবিবকে দেন সানি।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি চক্র সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালের অন্তত পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে টার্গেট করেছিল। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড–নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক ছিলেন। চক্রটি চিকিৎসকদের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না দেওয়ায় আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কে পাঁচজন দুষ্কৃতকারী গাড়ি আটকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হককে হুমকি দেয়। এরপর গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান।
পুলিশ জানায়, চিকিৎসককে বহনকারী সিএনজির গতিরোধ করে হামলাকারীরা। এর কারণ জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে সিএনজি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল চিকিৎসকের ডান চোখে গুরুতর আঘাত করে। অন্যরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ডা. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে চিকিৎসকের মোবাইলে ফোন করে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত শুরু করে ডিবি। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে শনির আখড়ার গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে সানি সাহাকে এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সানি সাহা জানিয়েছেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সময় ২০২৩ সালে জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে আলমগীর তাকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দেন। এতে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়েন সানি। পরে তিনি বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে ডিবি জানিয়েছে।
ডিবি আরও জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফিরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জান্নাত আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন সানি। এ সময় সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য-বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়-সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। পরে ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও ডা. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের জন্য সানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব ফাতিন ইসরাক লাবিবকে দেন সানি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ফাতিন ইসরাক লাবিব জানান, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে ফুড ডেলিভারির মাধ্যমে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সানি সাহার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের কয়েক দিন পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের সরাসরি দেখা হয়।
পরে ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) ও সাব্বিরকে (১৮) এক লাখ টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে কাজ করতে বলেন ফাতিন।
ডিবি জানায়, এ ঘটনায় ইবান ও জীবনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তার সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আসাদুর রহমানকে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আজকেই নির্দেশনা দিয়েছি। বিশেষ করে ডিএমপিসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা এ রকম চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে অতি শিগগির যদি আমরা হেফাজতে না নিতে পারি, আইনের আওতায় না আনতে পারি, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সন্ত্রাসী হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের (ইএনটি) প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে আজ শনিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন অধ্যাপক আসাদুর রহমান। কিছু দূর যাওয়ার পর অটোরিকশা থামিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি চোখে গুরুতর আঘাত পান।
তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে তাঁর কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। হামলার পর বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে আবার হুমকি দেওয়া হয়।
অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী ও ডিবি একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, দুজনকে ঢাকা থেকে এবং একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার ও প্রকৌশলীদের টার্গেট করে মেসেজ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আঘাত করে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পুলিশের প্রশংসা করি, কিন্তু তাদের আরও কাজ করা বাকি আছে। আমরা এসব সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রকে নির্মূল করতে চাই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চাঁদাবাজেরা রাতারাতি কোটিপতি হতে চান। তারা বিভিন্ন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, গডফাদারদের নামও ব্যবহার করে।
হামলার মূল হোতা হুন্ডি ব্যবসা করত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ব্যক্তি ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তিনি কিছু সন্ত্রাসীকে একত্র করে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার, প্রকৌশলীকে টার্গেট করে চাঁদা আদায় করেন।
চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলে, তাদের তালিকাও হচ্ছে
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজদের নির্মূল করতে চাই। আমরা শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা করছি না, চাঁদাবাজির সঙ্গে যদি কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে, তাদের তালিকাও করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটিই এ রকম যে গান, বাজনা, সিনেমা- এসব বহু বছর যাবৎ তাদের মধ্যে প্রায় নিষিদ্ধের মতো। সেখানকার পরিস্থিতি আলাদা। পরিবেশ বিবেচনায়, পরিস্থিতি বিবেচনায়, যেখানে যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটি নিয়েছি।’
ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার ও ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শটগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
মন্ত্রী পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূলহোতা জলিলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এর আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনাতেও জড়িত ছিল।
র্যাব জানায়, ডিএল ফিলিং স্টেশনের টাকা ডাকাতির ঘটনায় তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয়জনসহ মোট নয়জন জড়িত ছিল। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, নতুন আইনে এসআরবি (সিভিল রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন) কীভাবে কাজ করবে, তা সরকার নির্ধারণ করবে। কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে এসআরবির প্রতিটি সদস্য জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুমাইয়া সাঈদ
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার এবং তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামের এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও তার সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সঙ্গে অনৈতিক এই কাজে সায় দেওয়া এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরা ও বাড্ডা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপত্তিকর কনটেন্ট ও তা বিক্রির প্রচারণা নজরে আসে। তদন্তে দেখা যায়, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করত এই চক্র। এমনকি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ সুবিধাও দেওয়া হতো, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১১ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রথমে সুমাইয়াকে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস মোবাইল ফোন জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সুমাইয়ার প্রধান সহযোগী ও প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সুমাইয়া ও তার কয়েকজন সহযোগী মিলে সংঘবদ্ধভাবে এই কর্মকাণ্ড চালাতেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদ মেয়ের এসব কার্যকলাপ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। তিনি মেয়েকে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে এই অনৈতিক আয়ের ভাগ নিতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনার গভীর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সাজু মিয়া
চট্টগ্রাম নগরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ৭৭ ভরি স্বর্ণ ও ১৮ লাখ টাকা লুট এবং ব্যবসায়ীকে অপহরণ চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার সাজু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। লুট হওয়া মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাজু মিয়া (৩৭) চক্রটির মূলহোতা। ১৬ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার কেসি দে রোডের শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড এলাকা থেকে ব্যবসায়ী পুলক দাশকে (৪৫) ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার কাছে থাকা সোনা বিক্রির নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা, সোনার গহনা, মোবাইল ফোনসহ এক কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের মালামাল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। পরে পুলক দাশের মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে যায় তারা।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুয়া ডিবি চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে এসআই আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার সাজু মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।