জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণ করেছে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সংস্কার, ট্রেড ফেসিলিটেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং করের আওতা সম্প্রসারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বল্প মেয়াদে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এনবিআর।
রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া এসব উদ্যোগ স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পৃথক করার লক্ষ্যে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত National Implementation Committee for Administrative Reform (NICAR) এর সভায় রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ দুটি বাস্তবায়নে সরকারের Rules of Business এবং Allocation of Business সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে নিকার সভার এ সিদ্ধান্ত একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কার্যকর মনিটরিং, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নানামুখী কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ এবং ইতোপূর্বে ফাঁকি দেওয়া কর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে এ সময়ে গতিশীলতা এসেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-২০২৫ হতে ডিসেম্বর-২০২৫ এই ছয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোট ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে যা গত অর্থ বছরের একই সময়কালের মোট আদায়ের চেয়ে ২৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেশি।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রামে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কাস্টমস হাউস এবং কাস্টমস একাডেমি নির্মান কাজের আন্তর্জাতিক টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক ও নান্দনিক কর ভবন নির্মান কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অচিরেই চট্টগ্রাম কর ভবনের নির্মান কাজ শুরু হবে।
খুলনা কর ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয়েছে যা আগমী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুভ উদ্বোধন করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য ১০ বছর মেয়াদি Medium and Long Term Revenue Strategy (MLTRS) গ্রহণ করা হয়েছে। এ কৌশলের মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে Strengthening Domestic Revenue Mobilization Project (SDRMP) গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এনবিআরের সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে Tax Expenditure Policy and Management Framework (TEPMF) প্রণয়ন করে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩; কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ সংশোধন করে কর অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে সংসদের অনুমোদন ব্যতীত কোন কর অব্যাহতি দেয়া যাবে না। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; কাস্টমস আইন, ২০২৩; আয়কর আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, কাস্টমস আইন এবং আয়কর আইনের বিধি-বিধান যথাযথভাবে জানবেন বিধায় রাজস্ব সংক্রান্ত আইনের প্রতি করদাতাগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশের ফলে আইনগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থবোধকতা দূর হবে এবং দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ উন্নতিতে সহায়তা করবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, আয়কর আইন যথাযথভাবে পরিপালন করে আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং আয়কর পরিশোধে করদাতাগণকে পেশাদারী সেবা প্রদানের সুবিধার্থে এবং কর সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আয়করের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ হাজার ৫ শত জনকে Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এ বছর Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান সংক্রান্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়ায় আয়কর পেশাজীবীগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে নতুন অর্থবছরের শুরুতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং তাঁদের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্তৃক আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদি A Challan এর মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কাস্টমস এর ASYCUDA World সিস্টেমের সাথে A Challan সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিকারকের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট হতে অফলাইন অথবা অনলাইন পদ্ধতিতে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে শুল্ক-কর জমা দেয়ার নতুন যুগের সূচনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের Asycuda World এবং অর্থবিভাগের iBAS++ টিম। এছাড়া, Mobile Financial Service (MFS) এর মাধ্যমে ঘরে বসেই A Challan এর মাধ্যমে যে কোন পরিমান কর অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই bkash করদাতাগণের জন্য তাদের Merchant Account ব্যবহার করে কোন প্রকারের ফিস বা চার্জ ব্যতীত যে কোন পরিমান কর পরিশোধের এ ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যান্য MFS সেবাদানকারী সংস্থার জন্য কর পরিশোধের এ সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। এ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ উপস্থিত হয়ে কাস্টমস, আয়কর এবং ভ্যাট বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিকট উপস্থাপন করতে পারছেন। এতে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে সেগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে।
ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA) কর্তৃক জারীকৃত সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ASYCUDA অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল তথ্যসম্পদের নিরাপত্তা জোরদার ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (Security Operations Center-SOC) স্থাপন করে তা চালু করা হয়েছে। SOC-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসের সাইবার স্পেসে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সাইবার আক্রমণ, ঝুঁকি, সন্দেহজনক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সাইবার হুমকি সার্বক্ষণিকভাবে (২৪X৭ দিন) পর্যবেক্ষণ, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
বৃহত্তর জনস্বার্থে গৃহীত কার্যক্রম: এনবিআরের তথ্যমতে; হজ ব্যয় হ্রাসের সরকারের মহতি উদ্যোগকে সফল করতে এবং ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের হজ পালনের আঙ্খাংকা পূরণ ও হজ পালনের ব্যয় হ্রাসের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের স্বার্থে ২০২৫ এবং ২০২৬ সনের হজ যাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর প্রযোজ্য আবগারী শুল্ক হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় এবং পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহণ মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইতোপূর্বে মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
ধর্মপ্রাণ জনগণের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে খেজুরের মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে রমজান মাস উপলক্ষ্যে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে এবং অগ্রিম আয়কর ৫০% হ্রাস করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে চাল, আলু, পেয়াজ, চিনি, ডিম, তাজা ফল, ভোজ্যতেল, ক্যানুলা তেল ও কীটনাশকের ওপর আয়কর, ভ্যাট, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও রেগুলেটরি শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনীত ৩১ টি গাড়ি যথাসময়ে খালাস না করায় এবং নিলামে যৌক্তিক মূল্য না পাওয়ায় জনস্বার্থে সরকারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
ব্যাগেজ রুলস আরো কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নতুন ব্যাগেজ রুলস (অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫) জারি করেছে। আগের ব্যবস্থায় শুল্ক পরিশোধ করে একজন যাত্রী একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারতেন, নতুন ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারী যাত্রী শুল্ক পরিশোধ না করে প্রতি বছরে একবার একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন। তবে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক ইস্যুকৃত BMET কার্ডধারী এবং ন্যূনতম ০৬ মাস বিদেশে অবস্থান করেছেন এমন প্রবাসী বাংলাদেশীগণ কোন শুল্ক-কর না দিয়ে বছরে ২ টি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন।
মোবাইল ফোনের মূল্য ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫% হতে কমিয়ে ১০% নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০% কমেছে। কাস্টমস ডিউটি হাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০% থেকে হ্রাস করে ৫% ধার্য্য করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০% কমেছে। মোবাইল আমদানি এবং মোবাইল ফোন উৎপাদন উভয়ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর কারণে দেশে মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমানে হ্রাস পাবে।
ভ্যাট খাতে অগ্রগতি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন গ্রহণ, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ভ্যাট স্মার্ট চালান প্রবর্তন, ভ্যাট ফাঁকি মোকাবেলায় 'রিস্ক-বেসড' অডিট সিস্টেম চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল ভ্যাটদাতা যেনো নির্বিঘ্নে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে পারে সে লক্ষ্যে ইতোপূর্বে দাখিলকৃত সকল কাগজের রিটার্ন eVAT সিস্টেমে এন্ট্রি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভ্যাট দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে ১০ ডিসেম্বর হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী ১ লক্ষ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে চিহ্নিতকরণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষ এই ক্যাম্পেইন ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ডিসেম্বর, ২০২৫ মাসে ১ লক্ষ ৩১ হাজার অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুন ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান করেছে। অন্তর্বর্তি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ১৬ হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড আবেদন গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে অনলাইনে VAT Refund স্থানান্তরের লক্ষ্যে Online VAT Refund Module চালু করেছে। Online VAT Refund Module চালুর মাধ্যমে বিদ্যমান ভ্যাট ব্যবস্থাপনার eVAT System এর সাথে অর্থ বিভাগের iBAS++ এর আন্ত:সংযোগ স্থাপন পূর্বক করদাতার প্রাপ্য ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network) এর মাধ্যমে সরাসরি করদাতাদের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
আয়কর ব্যবস্থার সংস্কার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিকগণ ব্যতীত সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। চলতি অর্থ বছরে ইতোমধ্যে ৩৪ লক্ষাধিক ই-রিটার্ন জমা পড়েছে। কোনরুপ কাগজপত্র বা দলিলাদি
আপলোড না করে সম্মানিত করদাতাগণ তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
এ বছর বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাগণের জন্য মোবাইল ফোনের পরিবর্তে তাঁদের নিজস্ব ই-মেইলে OTP প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ভিসা-সিলের কপি, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি তথ্য এবং ছবি ereturn@etaxnbr.gov.bd ইমেইলে প্রেরন পূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে। উক্ত লিংকের মাধ্যমে ই-রিটার্ন পোর্টালে OTP ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাগণ ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন বিধায় এটি প্রবাসী বাংলাদেশীগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৫ হাজারের বেশী প্রবাসী বাংলাদেশী করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
ই-রিটার্ন এবং Asycuda World সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আমদানিকারক করদাতাগণ কর্তৃক আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে ক্রেডিট দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে করদাতাগণের আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত করের ক্রেডিট পাবার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পূর্ণ অবসান করা সম্ভব হয়েছে। করদাতাগণ যেন তাদের অতিরিক্ত পরিশোধিত আয়কর অনলাইনে সহজে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসেবে সরাসরি ফেরত পেতে পারেন সে লক্ষ্যে online tax refund module প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই ভ্যাটের অনুরুপ অনলাইনে সরাসরি করদাতার নিজস্ব ব্যাংক হিসেবে আয়কর ফেরত প্রদান ব্যবস্থা চালু করা হবে। Double Taxation Avoidance Agreements এর আওতায় বিদেশী বিনিয়োগকারিগণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যে সকল সনদ গ্রহণ করতে হয় তা Bangladesh Single Window সিস্টেম থেকে সরাসরি অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া, বিদেশী করদাতাগণের বাংলাদেশ ত্যাগের প্রাক্কালে যে Tax Clearance Certificate গ্রহণ করতে হয় তা অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিদেশী নাগরিকগণের বাংলাদেশে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ত্যাগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড Risk Based Audit Selection Criterion এর ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অফলাইনে দাখিলকৃত সকল পেপার রিটার্নের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডাটাবেজে এন্ট্রি না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে ২০২৩-২৪ কর বর্ষের দাখিলকৃত প্রত্যেক সার্কেলের রিটার্নের ০.৫% ডিজিটাল উপায়ে Random Selection পদ্ধতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অডিট মামলা যথাযথভাবে নিষ্পত্তির সুবিধার্থে প্রথমবারের মত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অডিট নির্দেশিকা প্রণয়ন পূর্বক তা অনুসরণ করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।
কর প্রদান ব্যবস্থাকে সহজ করে করদাতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সারাদেশে নতুনভাবে Spot Assessment কার্যক্রম শুরু করেছে। যে সকল করদাতার করযোগ্য আয় এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে অথচ আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না, তাদের ব্যবসাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরাসরি সেবাপ্রদান করে সহজে রিটার্ন গ্রহণ করার জন্য Spot Assessment একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। এই কার্যক্রম নতুন করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়কর প্রদান করতে উৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চল এই কার্যক্রম শুরু করেছে যা ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে কর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়ন: Bangladesh National Window (BSW) চালু করা হয়েছে। সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট ইস্যুকারী ১৯ টি সংস্থা ইতোমধ্যে BSW সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে এবং অনলাইনে সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট প্রদানের কার্যক্রম সম্পাদন করছে। গত ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হতে পরিপত্র জারীর মাধ্যমে সকল সংস্থার (১৯ টি) ক্ষেত্রেই BSW সিস্টেম এর মাধ্যমে CLP প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। BSW এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লক্ষ সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট অনলাইনে ইস্যু করা হয়েছে। অনলাইনে ইস্যুকৃত এসব সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিটসমূহের মধ্যে ৮৪ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ ঘণ্টার মধ্যে এবং ৯৫ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ দিনের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদিত হয়েছে।
রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আংশিক রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুবিধা প্রদান করে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান বন্ড ব্যবস্থাপনার শর্তাদি মেনে যেসকল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স গ্রহণ সম্ভবপর হয়ে ওঠে না তাদের জন্য শুল্ক-করাদি পরিশোধ না করে কাঁচামাল/ পণ্য আমদানি করার সুবিধা দেয়া হয়েছে।
রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে জরুরি বিবেচনায় বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মালামাল খালাস সংক্রান্ত নানাবিধ জটিলতা নিরসনকল্পে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি নির্দেশনা জারি করেছে। উক্ত নির্দেশনা অনুসারে বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত পণ্যের বর্ণনা ও HS Code অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা দাখিল করার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভিন্ন HS Code বা ভিন্নতর পণ্যের বর্ণনা নিরূপণ করলে এবং নিরূপিত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট এর সাথে মিল থাকলে উক্ত HS Code অথবা পণ্যের বর্ণনা বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকারনামা দাখিল করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস হতে দ্রুত পণ্যচালান খালাস করা যাচ্ছে। ASYCUDA World সিস্টেমে "Truck Movement" নামক একটি নতুন সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাকের বাংলাদেশে প্রবেশ এবং খালি ট্রাকের ভারতে ফেরতের তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। এটি পেপারলেস কাস্টমস বাস্তবায়নের একধাপ অগ্রগতি। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলে এ সাব-মডিউলটির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই দেশের সকল স্থলবন্দরে এর লাইভ অপারেশন চালু করা হবে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমুদ্র ও নৌবন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশন কর্তৃক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই খাতে লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না এবং কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। শিপিং এজেন্ট সংক্রান্ত কার্যাবলী পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই স্বতন্ত্র শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আমদানি ও রপ্তানিকারকগণের জন্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ রহিত করে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুসরণে কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ইতঃপূর্বে সি অ্যান্ড এফ লাইসেন্স প্রদানের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না। কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ থেকে Utilization Permission (UP) ইস্যু সংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে CBMS সফটওয়্যারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেই অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ০৩ (তিন) টি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে সকল UP অনলাইনে জারী করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে সকল সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে গত ০১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখ হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড CBMS নামক স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালু করে। উক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির জন্য শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে অনলাইনে UP গ্রহণ করতে পারছে। তাছাড়া, BGMEA এর UD Declaration সিস্টেমের সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা প্রায় ৬০৬৯ কন্টেইনার (প্রায় ১০,০০০ TEUs) এর ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলামে বিক্রয় করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি বিশেষ আদেশ জারী করেছে। ইতোমধ্যে উক্ত কন্টেইনারসমুহের মালামালসমূহের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে ২ হাজারের বেশী কন্টেনার অকশন সম্পন্ন করে প্রায় ৮ শত কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামকারীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস দ্রুততার সাথে চলমান নিলাম সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সার্বিকভাবে, নীতি সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদকালে রাজস্ব ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে-যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ছবি : সংগৃহীত
দূর্বল পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতে ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না। এসব ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ২০০৪ ও ২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত মুনাফার একটি অংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে যেন ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
গভর্নর কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়খুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আমানতে থাকছে না ‘হেয়ারকাট’
বৈঠকে গভনর্র বলেন, ‘জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী সম্মিলিত ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সকল আমানতকারীকে এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা যাতে তাদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ স্কিমে প্রদত্ত নির্দেশনার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী তোলার সুযোগ পান সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন সমৃদ্ধ দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’
দীর্ঘদিন আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারা শরীয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা প্রশাসক দিয়ে চলছিল। তবে সম্প্রতি সব প্রশাসক তুলে এনে সরকারের নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।
মো. আবদুর রহমান খান
বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটনস্থ প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট ‘কনস্টিটিউয়েন্সি’র বিকল্প নির্বাহী পরিচালক (অল্টারনেট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. আবদুর রহমান খানকে তার অব্যবহৃত অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যোগদানের তারিখ থেকে তার তিন বছরের মেয়াদ গণনা করা হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠিত হয়েছে।
এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএর। সংস্থা তিনটির সমন্বয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতির আদশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার থেকে এ আইন কার্যকর করল।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে। কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।
নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করবেন নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার।
নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
ছবি : সংগৃহীত
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় ‘গোলাপি বাস’ সেবা চালু করেছে সরকার। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত এ সেবার পরিসর বাড়াতে পরিবেশবান্ধব বাস কেনার পরিকল্পনা চলছে। খোঁজা হচ্ছে তিন হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ। দুটি আলাদা প্রকল্পের আওতায় মোট ৮০০ এসি সিঙ্গেল ডেকার ইলেকট্রিক এসি বাস কেনা হবে। যার মধ্যে কিছু বাস ব্যবহার হবে ‘গোলাপি বাস’ সেবার জন্য। এতে বাড়বে গোলাপি বাসের রুট, সংখ্যা ও পরিসর। বাকিগুলো পরিবেশবান্ধব নাগরিক সেবায় কাজে লাগাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
ঋণের চাহিদা মেটাতে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে এক হাজার বাস কিনবো। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পিংক সিটি সার্ভিসের পরিষেবা আরও বাড়বে।’
তবে চীন থেকে ৫শ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি রাহেনুল ইসলাম।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে চলাচল করছে গোলাপি রঙের ‘মহিলা বাস’। বাসগুলোর মধ্যে ডাবল ডেকার বেশি। এগুলোতে এসি নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘প্রকিউরমেন্ট অব ইলেকট্রিক সিঙ্গেল ডেকার ৩০০ এসি বাস ফর বিআরটিসি’ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনা হবে। এ প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণ দুই হাজার ৯ কোটি এবং বাকি ৭০৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে। বাসগুলো কেনা হবে চলতি সময় থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ান বাসের বিষয়ে ইতিবাচক। এজন্য তিনি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (পিডিপিপি) সই করেছেন। প্রকল্প ঋণের উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলকে (ইডিসিএফ) নির্ধারণ করেছে সরকার। ইডিসিএফ থেকে ঋণ পেতে এরই মধ্যে ইআরডির মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আরও ৫০০ বাস কেনারও পরিকল্পনা করছে সরকার। এ খাতে ব্যয় হবে এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে এ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) সই করেননি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছেন আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চীনা বাসগুলো কতদিন সার্ভিস দেবে, ঋণে সুদের হার কত হবে, বাসগুলোর পার্টস নষ্ট হলে কীভাবে সংগ্রহ করা হবে- ইত্যাদি বিষয় যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনার বিষয়ে পিডিপিপি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। তবে চীনের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই হচ্ছে
৩০০ বাস কিনতে দরকার ২ হাজার ৯ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ
৩০০টি একতলা ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বরাবর চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই চিঠি চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া বরাবর পাঠিয়েছে ইআরডি। প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাকি বৈদেশিক ঋণ দরকার ২ হাজার ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইআরডির উপসচিব (এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ) আইরিন পারভীন বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা হবে। ঋণের বিষয়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ায় চিঠি পাঠিয়েছি।’
উদ্দেশ্য
আন্তঃনগরের নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক গণপরিবহন সুবিধা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিবহন ব্যবস্থায় প্রবেশ, বিআরটিসি বহর থেকে পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন, শহরে যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
প্রধান কার্যক্রম
৩শ ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস) কেনা খাতে এক হাজার ৩৮৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। মোট ব্যয়ের ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে ইভির স্পেয়ার পার্টসে, এ খাতে ২০৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ২৫টি ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন (ইসিএস) খাতে ব্যয় রাখা হয়েছে ৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
ইসিএস স্পেয়ার পার্টস খাতে রাখা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২৫টি জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার কিনতে ২৬ কোটি ১৪ লাখ, ২০টি ইভির ওয়ার্কিং শেড খাতে ১২ কোটি ৩০ লাখ, তিনটি স্পেয়ার পার্টসের ওয়্যারহাউজ (গুদামঘর) খাতে তিন কোটি ৬৯ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ থাকবে তিনটি। এ খাতে ব্যয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ। ২০টি ওয়াশিং প্ল্যান্ট খাতে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ, ভিডিও মনিটরিং সিস্টেমসহ (ভেতর ও বাইরের দৃশ্য) বিল্ট-ইন সফটওয়্যারভিত্তিক ভিটিএস (ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম) খাতে ১০ কোটি, চার্জিং স্টেশন/যানবাহনের গ্যারেজের জন্য সিভিল ওয়ার্কস/অবকাঠামো/গ্যারেজ ও চার্জিং স্টেশন উভয়ের সংলগ্ন সেন্সরভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (জরুরি অবস্থার জন্য) থাকবে ২০টি, এ খাতে মোট ব্যয় হবে ১২৩ কোটি টাকা।
২৫ টনের ২৫টি রেকার কিনতে ৩৯ কোটি ৩৬ লাখ, ২০টি জেনারেটরসহ ভেহিক্যাল মাউন্টেড পোর্টেবল চার্জার কিনতে ৪৯ কোটি ২০ লাখ এবং বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ খাতে চার কোটি টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে।
চীন থেকে ৫০০ বাস কেনার পরিকল্পনা
বিআরটিসির জন্য ৫০০টি একতলা বৈদ্যুতিক এসি বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন পেতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পিডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে এ প্রকল্পের পিডিপিপিতে পরিকল্পনামন্ত্রী সই করেননি। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পিডিপিপিতে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৩৩৩ কোটি ও প্রকল্প ঋণ হিসেবে চীন থেকে এক হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। বাস কেনার বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনের বাস কেনার উদ্দেশ্য
বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী বৈদ্যুতিক এসি বাস চালু করা, যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা, প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের তুলনায় বৈদ্যুতিক বাসের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস তথা পরিচালন ব্যয় কমানো।
এছাড়া ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) এবং খসড়া জাতীয় বৈদ্যুতিক বাস নীতির লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করা, বিআরটিসির বাস বহর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সেবার নির্ভরযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়ানো, অধিক সংখ্যক যাত্রী আকর্ষণ করা এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট নিরসনে অবদান রাখা।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম
৫০০ বৈদ্যুতিক যানবাহন (একতলা এসি বাস) কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ইভির জন্য স্পেয়ার পার্টস কিনতে ১২৩ কোটি টাকা, ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন (প্রতিটিতে চারটি করে ৩২০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জার এবং অবকাঠামোসহ) খাতে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
এছাড়া প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ (কম্পিউটারভিত্তিক ডায়াগনোসিস সিস্টেমসহ) খাতে ১৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পাঁচটি জেনারেটরসহ যানবাহনে স্থাপিত বহনযোগ্য (পোর্টেবল) চার্জার ১২ কোটি ৩০ লাখ, চালক, টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদের জন্য প্রশিক্ষণ খাতে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় এ দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
এদিন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এই দাম বাড়ানোর পাঁচদিন পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।
এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৫৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়।
সোনার গহনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার গহনারও দাম বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৬৫ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।