বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বৈঠক করেন তারেক রহমানের সঙ্গে। বৈঠকে তারা দেশের অর্থনৈতিক বর্তমান অবস্থান, বেকারত্বসহ বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়। এসময় তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শোনেন ও ক্ষমতায় গেলে সেসব সমাধানের আশ্বাস দেন।
বৈঠকের পর এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, আমরা আজ আলোচনা করেছি ব্যবসা ক্ষেত্রে চলমান যে সমস্যা রয়েছে আমাদের, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে চালিয়ে রাখা, কর্মসংস্থানকে ঠিক রাখা এবং বর্ধিত করা- সেটা নিয়ে আমরা আমাদের কথাগুলো বলেছি। আমরা বলতে চেয়েছি যে, সরকারে যেই আসুক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে ব্যবসায়ীদের কনফিডেন্স আনতে হবে। কারণ, আমাদের সফলতা কিন্তু সরকারের সফলতা। আমরা আমাদের আলোচনাগুলো করেছি। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো বলেছি। তারেক রহমান ওয়েল নোট করেছেন। ওনারা আসলে হয়তো সব জায়গায় (সমস্যা সমাধান করতে) পারবেন না বা কিছু জায়গায় পারবেন। বাট আন্তরিকভাবে তারা করতে চান।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, ইকোনমি যদি ঠিক করতে হয় ব্যবসায়ীদের কিন্তু সঙ্গে নিয়ে কাজ করা উচিত। সেটাই কিন্তু আমরা তারেক রহমানকে বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থান তৈরি করা। এখন কিন্তু আস্তে আস্তে অনেক বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিগুলো বসে যাচ্ছে। আমরা বলেছি যে এগুলো আসলে কীভাবে রিভাইভ করা যায় সেটা নিয়ে আমরা ওনার সঙ্গে বিস্তারিত আলোপ আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের কথা হলো যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যাতে সেই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন। ইকোনমি ইজ নাম্বার ওয়ান, যদি সেটাকে দাঁড় করাতে হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই সরকারকে কাজ করা উচিত। যেটা উনি (তারেক রহমান) পরবর্তীতে বললেন, হ্যাঁ উনিও মনে করেন যে উনারা যদি আসতে পারেন তাহলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে পলিসিগুলি যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার এবং কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে না। বাট একটা স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করবেন এবং ব্যবসায় সহায়ক একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সবার আগে যে জিনিসটা ইমিডিয়েটলি দরকার বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করা উচিত। মব কালচার থেকে আমাদের বের হওয়া উচিত। এই জিনিসটা আমরা ওনাদের বারবার বলেছি এবং এটা না হলে ব্যবসা কেন আমরা সাধারণ মানুষই তো আর নড়তে চড়তে পারি না।
তারেক রহমানের আশ্বাসের বিষয়ে এক প্রশ্নে মীর নাসির হোসেন বলেন, বডি ল্যাংগুয়েজে আমাদের পজিটিভ মনে হয়েছে। তারেক রহমান আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে- যদি ক্ষমতায় আসতে পারেন আমাদের নিয়ে কাজ করবেন। যাতে দেশের উন্নয়ন হয়, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাই।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিকেএমএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএসএমএ সভাপতি মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএবি সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার, স্টিল মিল মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বিএপিআইয়ের আব্দুল মুক্তাদির, বিএসআরএম সভাপতি আলী হুসাইন আকবর আলী, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যার আহসান খান চৌধুরী, স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, উত্তরা মোটরসের মতিউর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, সিকম গ্রুপের আমিরুল হক, পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার টিটু, ইউসিবিএল চেয়ারম্যান শরীফ জহির প্রমুখ।
এছাড়া বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, ফজলুল হক, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাহিদ কবির, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
দূর্বল পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতে ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না। এসব ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ২০০৪ ও ২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত মুনাফার একটি অংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে যেন ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
গভর্নর কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়খুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আমানতে থাকছে না ‘হেয়ারকাট’
বৈঠকে গভনর্র বলেন, ‘জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী সম্মিলিত ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সকল আমানতকারীকে এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা যাতে তাদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ স্কিমে প্রদত্ত নির্দেশনার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী তোলার সুযোগ পান সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন সমৃদ্ধ দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’
দীর্ঘদিন আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারা শরীয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা প্রশাসক দিয়ে চলছিল। তবে সম্প্রতি সব প্রশাসক তুলে এনে সরকারের নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।
মো. আবদুর রহমান খান
বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটনস্থ প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট ‘কনস্টিটিউয়েন্সি’র বিকল্প নির্বাহী পরিচালক (অল্টারনেট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. আবদুর রহমান খানকে তার অব্যবহৃত অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যোগদানের তারিখ থেকে তার তিন বছরের মেয়াদ গণনা করা হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠিত হয়েছে।
এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএর। সংস্থা তিনটির সমন্বয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতির আদশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার থেকে এ আইন কার্যকর করল।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে। কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।
নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করবেন নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার।
নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
ছবি : সংগৃহীত
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় ‘গোলাপি বাস’ সেবা চালু করেছে সরকার। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত এ সেবার পরিসর বাড়াতে পরিবেশবান্ধব বাস কেনার পরিকল্পনা চলছে। খোঁজা হচ্ছে তিন হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ। দুটি আলাদা প্রকল্পের আওতায় মোট ৮০০ এসি সিঙ্গেল ডেকার ইলেকট্রিক এসি বাস কেনা হবে। যার মধ্যে কিছু বাস ব্যবহার হবে ‘গোলাপি বাস’ সেবার জন্য। এতে বাড়বে গোলাপি বাসের রুট, সংখ্যা ও পরিসর। বাকিগুলো পরিবেশবান্ধব নাগরিক সেবায় কাজে লাগাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
ঋণের চাহিদা মেটাতে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে এক হাজার বাস কিনবো। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পিংক সিটি সার্ভিসের পরিষেবা আরও বাড়বে।’
তবে চীন থেকে ৫শ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি রাহেনুল ইসলাম।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে চলাচল করছে গোলাপি রঙের ‘মহিলা বাস’। বাসগুলোর মধ্যে ডাবল ডেকার বেশি। এগুলোতে এসি নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘প্রকিউরমেন্ট অব ইলেকট্রিক সিঙ্গেল ডেকার ৩০০ এসি বাস ফর বিআরটিসি’ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনা হবে। এ প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণ দুই হাজার ৯ কোটি এবং বাকি ৭০৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে। বাসগুলো কেনা হবে চলতি সময় থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ান বাসের বিষয়ে ইতিবাচক। এজন্য তিনি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (পিডিপিপি) সই করেছেন। প্রকল্প ঋণের উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলকে (ইডিসিএফ) নির্ধারণ করেছে সরকার। ইডিসিএফ থেকে ঋণ পেতে এরই মধ্যে ইআরডির মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আরও ৫০০ বাস কেনারও পরিকল্পনা করছে সরকার। এ খাতে ব্যয় হবে এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে এ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) সই করেননি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছেন আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চীনা বাসগুলো কতদিন সার্ভিস দেবে, ঋণে সুদের হার কত হবে, বাসগুলোর পার্টস নষ্ট হলে কীভাবে সংগ্রহ করা হবে- ইত্যাদি বিষয় যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনার বিষয়ে পিডিপিপি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। তবে চীনের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই হচ্ছে
৩০০ বাস কিনতে দরকার ২ হাজার ৯ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ
৩০০টি একতলা ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বরাবর চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই চিঠি চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া বরাবর পাঠিয়েছে ইআরডি। প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাকি বৈদেশিক ঋণ দরকার ২ হাজার ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইআরডির উপসচিব (এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ) আইরিন পারভীন বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা হবে। ঋণের বিষয়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ায় চিঠি পাঠিয়েছি।’
উদ্দেশ্য
আন্তঃনগরের নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক গণপরিবহন সুবিধা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিবহন ব্যবস্থায় প্রবেশ, বিআরটিসি বহর থেকে পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন, শহরে যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
প্রধান কার্যক্রম
৩শ ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস) কেনা খাতে এক হাজার ৩৮৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। মোট ব্যয়ের ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে ইভির স্পেয়ার পার্টসে, এ খাতে ২০৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ২৫টি ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন (ইসিএস) খাতে ব্যয় রাখা হয়েছে ৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
ইসিএস স্পেয়ার পার্টস খাতে রাখা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২৫টি জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার কিনতে ২৬ কোটি ১৪ লাখ, ২০টি ইভির ওয়ার্কিং শেড খাতে ১২ কোটি ৩০ লাখ, তিনটি স্পেয়ার পার্টসের ওয়্যারহাউজ (গুদামঘর) খাতে তিন কোটি ৬৯ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ থাকবে তিনটি। এ খাতে ব্যয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ। ২০টি ওয়াশিং প্ল্যান্ট খাতে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ, ভিডিও মনিটরিং সিস্টেমসহ (ভেতর ও বাইরের দৃশ্য) বিল্ট-ইন সফটওয়্যারভিত্তিক ভিটিএস (ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম) খাতে ১০ কোটি, চার্জিং স্টেশন/যানবাহনের গ্যারেজের জন্য সিভিল ওয়ার্কস/অবকাঠামো/গ্যারেজ ও চার্জিং স্টেশন উভয়ের সংলগ্ন সেন্সরভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (জরুরি অবস্থার জন্য) থাকবে ২০টি, এ খাতে মোট ব্যয় হবে ১২৩ কোটি টাকা।
২৫ টনের ২৫টি রেকার কিনতে ৩৯ কোটি ৩৬ লাখ, ২০টি জেনারেটরসহ ভেহিক্যাল মাউন্টেড পোর্টেবল চার্জার কিনতে ৪৯ কোটি ২০ লাখ এবং বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ খাতে চার কোটি টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে।
চীন থেকে ৫০০ বাস কেনার পরিকল্পনা
বিআরটিসির জন্য ৫০০টি একতলা বৈদ্যুতিক এসি বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন পেতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পিডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে এ প্রকল্পের পিডিপিপিতে পরিকল্পনামন্ত্রী সই করেননি। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পিডিপিপিতে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৩৩৩ কোটি ও প্রকল্প ঋণ হিসেবে চীন থেকে এক হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। বাস কেনার বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনের বাস কেনার উদ্দেশ্য
বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী বৈদ্যুতিক এসি বাস চালু করা, যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা, প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের তুলনায় বৈদ্যুতিক বাসের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস তথা পরিচালন ব্যয় কমানো।
এছাড়া ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) এবং খসড়া জাতীয় বৈদ্যুতিক বাস নীতির লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করা, বিআরটিসির বাস বহর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সেবার নির্ভরযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়ানো, অধিক সংখ্যক যাত্রী আকর্ষণ করা এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট নিরসনে অবদান রাখা।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম
৫০০ বৈদ্যুতিক যানবাহন (একতলা এসি বাস) কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ইভির জন্য স্পেয়ার পার্টস কিনতে ১২৩ কোটি টাকা, ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন (প্রতিটিতে চারটি করে ৩২০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জার এবং অবকাঠামোসহ) খাতে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
এছাড়া প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ (কম্পিউটারভিত্তিক ডায়াগনোসিস সিস্টেমসহ) খাতে ১৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পাঁচটি জেনারেটরসহ যানবাহনে স্থাপিত বহনযোগ্য (পোর্টেবল) চার্জার ১২ কোটি ৩০ লাখ, চালক, টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদের জন্য প্রশিক্ষণ খাতে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় এ দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
এদিন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এই দাম বাড়ানোর পাঁচদিন পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।
এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৫৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়।
সোনার গহনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার গহনারও দাম বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৬৫ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।