• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমাল হাজব্যান্ড্রি বা ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’ চালুর দাবিতে আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের একাংশের একাডেমিক ফলাফলে ‘বিরূপ প্রভাব’ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক ফলাফলকে ঘিরে নতুন করে এ অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে মূল্যায়নে পক্ষপাতের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর কয়েকটি কোর্সের ফল নিয়েও আগে থেকে প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেও দীর্ঘদিন কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


অভিযোগের সূত্রপাত পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এএনএম এহসানুল হক হিমেলের সাম্প্রতিক ফলাফলকে ঘিরে। লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফল প্রকাশের পর অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের ‘মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল—উভয় অংশেই তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। ২০২৫ সালে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হিমেল তাঁর আগের সেমিস্টারগুলোর ফলাফল ও নম্বরপত্র প্রকাশ করে সাম্প্রতিক ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনের আগে তাঁর ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। আন্দোলনের পর ফলাফলে আকস্মিক পরিবর্তন এবং সর্বশেষ একই কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় অংশে অকৃতকার্য হওয়ায় মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


হিমেল বলেন, ‘আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়ে আমার চার সেমিস্টারের ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। লেভেল-২, সেমিস্টার-২ শেষে আমার গড় সিজিপিএ ছিল ৩.৬৭১ এবং তখন পর্যন্ত কোনো কোর্সে আমার ক্যারি (ফেল) ছিল না। আন্দোলনপরবর্তী সময়ে লেভেল-৩, সেমিস্টার-১-এ আমার জিপিএ কমে দাঁড়ায় ২.৯৪৬। পরবর্তী সেমিস্টারে জিপিএ ৩.২৭৮ হলেও মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় অংশেই এফ গ্রেড এসেছে, যা খুবই অপ্রত্যাশিত।’


তিনি আরও বলেন, ‘উক্ত কোর্সের ক্লাস টেস্ট, এটেন্ডেন্স এবং নোটবুকে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও ফেল আসাটা অস্বাভাবিক। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনো শিক্ষকের কাছেই কাম্য নয়। ধারাবাহিকভাবে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে আমি এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমার সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব আমাদের একাডেমিক জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ছে।’


তবে বিষয়টি শুধু হিমেলের ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আরও কয়েকটি কোর্সের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ‘এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স’ ও তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ‘অ্যানিম্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্স দুটি পশুপালন অনুষদের ডেইরি সায়েন্স ও অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পড়ান। দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সের তুলনায় এসব কোর্সে তাঁদের ফলাফল অস্বাভাবিকভাবে কম হয়েছে।


ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স’ ও ‘অ্যানিম্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ দুইটি ভিন্ন বর্ষের দুটি কোর্সেই সর্বোচ্চ গ্রেড এ প্লাস পেয়েছেন মাত্র তিনজন করে শিক্ষার্থী। একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সে তুলনামূলক ভালো ফল করলেও এসব কোর্সে প্রত্যাশার তুলনায় কম ফল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।


ভেটেরিনারি অনুষদের শুধু লেভেল-২ ও লেভেল-৩ নয় লেভেল-১ এর শিক্ষার্থীদেরও পশুপালন অনুষদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোর্সের ফল নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সে ভালো ফল করলেও এসব কোর্সে ফলাফল তুলনামূলক কম হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।


ফলাফল পুনরালোচনার দাবিতে লেভেল-৩ সেমিস্টার-২ (লেভেল-৩ সেমিস্টার-১ এর ফলাফল নিয়ে) এবং লেভেল-২ সেমিস্টার-২ (লেভেল-২ সেমিস্টার-১ এর ফলাফল নিয়ে) এর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের মাধ্যমে গত ২৬ জানুয়ারি পৃথকভাবে আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়। তবে আবেদন করার ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল জানানো হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।


ভুক্তভোগী ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে। আর সেই বিরোধের নেতিবাচক প্রভাব একাডেমিক মূল্যায়নে পড়ছে এবং তার ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা শিক্ষার্থীরা।’


পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শিবলী সাদী বলেন, ‘গত ১৮ আগস্ট অ্যানিমাল হাজব্যান্ড্রি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে পরিলক্ষিত হলো, গত সেমিস্টারের ধারাবাহিকতায় এ সেমিস্টারেও কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে সংঘটিত আন্দোলনে যারা সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ফলাফলেই বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কোর্সে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের কারও থিওরি, কারও প্র্যাকটিক্যাল এবং কারও উভয় অংশেই ফেল এসেছে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সমঝোতা সভায় উপাচার্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের প্রশাসনিক কিংবা একাডেমিক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করছি। আশা করি, উপাচার্য এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান করবেন।’


এ বিষয়ে পশুপালন অনুষদের ডিন ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্বকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা আন্দোলনের প্রভাব একাডেমিক ফলাফলে পড়া উচিত নয়। ছাত্ররা যেটি আশঙ্কা করছে, সেটি ঘটেছে বলে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এরকম ঘটে থাকলে সেটি খুবই দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের ভূমিকা একজন বিচারকের চেয়েও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো ছাত্রের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।যেকোনো গোপনীয় বা নেতিবাচক বিষয় নিশ্চিত না হয়ে সরাসরি ফেসবুকে বা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত নয়। এতে বিভ্রান্তি ছড়ায়, যা পরবর্তীতে দূর করা কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা চাইলে ফলাফল পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারে। অনুষদের ডিন হিসেবে আমি সেখানে তাদের সহযোগিতায় আছি।’


ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল। এরপর তারা অনুষদের ডিনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করে। আমি আবেদনগুলো একসঙ্গে সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল সম্পর্কে জানতে পারিনি।’


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘পরীক্ষার ফলাফল পুনর্বিবেচনার বিষয়ে এক্সাম কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি বলতে পারবেন ভেটেরিনারি অনুষদের ছাত্রদের আগের আবেদনটি পৌঁছেছে কি না বা কেন সেটি অ্যাডজাস্ট করা হয়নি।’


অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, 'তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যায় এজন্য বিস্তারিত বিবরণসহ আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান 'স্ট্যাটিউটস ও অর্ডিন্যান্স' অনুযায়ী একাডেমিক নিয়ম মেনে ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনার বিষয়টি দেখা হবে।'




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৯ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।


আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।


ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।


আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। একটি দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতের কৃষিকে হতে হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সহনশীল।”


বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু কৃষির শিক্ষার্থী নও, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম কারিগর। তোমাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”


এ সময় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে কৃষি অনুষদ ও গবেষণার জন্য আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আশ্বাস দেন উপাচার্য।


জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন।


বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান এবং দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।


এ সময় এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।


উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার এ ধরনের একটি ‘ইকোসিস্টেম’ বা ‘ইকো-লার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

‎বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) লেকচারার অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (‎৯ আগস্ট) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ​ড. মো. মাসুদ রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনিমেল ব্রিডিং এ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম। ‎সদস্য হিসেবে আছেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ​ড. অনিরুদ্ধ সরকার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব জুলি আক্তার এবং ভাষা বিভাগের প্রভাষক জনাব ​জাওয়াদ রামী।

‎আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম জানান, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হলো ফোরাম পুনর্গঠন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা। যতো দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠিত হবে না ততো দিন এই কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করবে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

‎তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠনের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকদের কৃষির অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণার নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আমরা কাজ করতে করবো। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন,গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি বাকৃবির গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩০ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৬-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুর রহমান।


সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।


প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এই চারটি পদে ভোটগ্রহণ হয়।সমিতির মোট ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০১ জন উপস্থিত ছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন, সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আসাদুর রহমান ১৭৬ ভোট, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম ২০৪ ভোট এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।


এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হেলাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে শরিফা খাতুন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।


কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনের ২৫তম দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মো. সিরাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা ও মো. কামরুজ্জামান।


নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ সক্রিয়। প্রশাসনও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে।’


গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ। 


সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়। 


অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। 


টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।


ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”


তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”