• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ পিএম

ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আর নতুন কোনো কাজ নেবেন না—এমন ঘোষণায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন ছবির গান মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।


অরিজিতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখা হয়, ‘প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই এটি বন্ধ করছি।’ হঠাৎ এই ঘোষণায় ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ ও বিস্ময়।


তবে সংগীতচর্চা থেকে সরে যাচ্ছেন না—এ কথাও স্পষ্ট করেন গায়ক। তিনি লেখেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, সংগীতের কাজ বন্ধ করছি না।’


কেন এমন সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। পরে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া আরেক পোস্টে অরিজিৎ জানান, হাতে থাকা কাজগুলো শেষ করবেন। তাঁর কথায়, ‘এই বছর কিছু রিলিজ পাবেন।’


ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া তীব্র। অনেকেই এই সিদ্ধান্তে হতবাক। প্রশ্ন উঠছে—এ কি সত্যিই প্লেব্যাক থেকে অবসর, নাকি নতুন কোনো অধ্যায়ের শুরু?



ফেসবুক পোস্টে কী লিখেছেন অরিজিৎ


মঙ্গলবার অরিজিতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হ্যালো, সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই আমি এটি বন্ধ করছি। গোটা যাত্রাটা ছিল অসাধারণ।’

পোস্টে আরও লেখেন, ‘ঈশ্বরের অসীম কৃপা ছিল আমার ওপর। আমি ভালো সংগীতের একজন অনুরাগী। ভবিষ্যতে আরও শিখব, একজন সামান্য শিল্পী হিসেবেই সংগীতসাধনা চালিয়ে যাব। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’



সংগীত ছাড়ছেন না, তবে…


ঘোষণার পরপরই পরিষ্কার করে দেন—সংগীত থেকে তিনি সরে যাচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘পরিষ্কার করে বলছি—আমি সংগীতের কাজ বন্ধ করছি না।’

কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত—এ প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেননি অরিজিৎ। এক অনুরাগীর প্রশ্নে হাসি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে জানান, আপাতত হাতে থাকা কাজগুলো তিনি শেষ করবেন। পরে এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। সেগুলো শেষ করব। অর্থাৎ এই বছর কিছু রিলিজ পাবেন।’


অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া


অরিজিতের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান অনুরাগীরা। একজন লেখেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির অবসরে যতটা আঘাত পেয়েছিলাম, ঠিক তেমনই আঘাত পেলাম।’

প্রেমের গান, মন খারাপের সুর, নাচের গান কিংবা ভক্তিগীতি—সব ঘরানাতেই অরিজিতের সাবলীল উপস্থিতি তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে। তাই আচমকা প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় অনুরাগীদের উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক।


মুর্শিদাবাদ থেকে তারকাখ্যাতি


পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছিল অরিজিতের সংগীতযাত্রা। আজ তাঁর অনুরাগী ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই তিনি ভারতের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী।

তবে পথচলা সহজ ছিল না। ২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েও সেরা পাঁচে জায়গা পাননি তিনি। ষষ্ঠ হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন। পরে আরেকটি সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজরে আসেন।

২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘সাওয়ারিয়া’ ছবির জন্য ‘ইউ শবনামি’ গানটি রেকর্ড করলেও সেটি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়নি। ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’–এর ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে সিনেমায় প্লেব্যাক অভিষেক ঘটে অরিজিতের।


২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’–এর ‘তুম হি হো’ তাঁকে পৌঁছে দেয় তারকাখ্যাতির চূড়ায়। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। কনসার্টের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া গায়কদের একজন হিসেবেও পরিচিত অরিজিৎ।



প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে


প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা কি সত্যিই স্থায়ী সিদ্ধান্ত, নাকি নতুন কোনো সৃজনশীল অধ্যায়ের সূচনা—তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত অরিজিতের কথায় একটা বিষয় পরিষ্কার—গান থামছে না, বদলাচ্ছে শুধু পথ।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ পিএম


কাজিয়াহ লিজ মেজো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম

‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর মুকুট জিতেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। রোববার রাতে জয়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে ৫২ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট অর্জন করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী। গত বছরের বিজয়ী মানিকা বিশ্বকর্মার কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন কাজিয়াহ। এই জয়ের ফলে আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।


সেরার মুকুট জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাজিয়াহ বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। এই মুহূর্তটির জন্য আমি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছি। আমি ভীষণ খুশি যে এই মুকুটটি আমার কেরালায় নিয়ে যেতে পারছি এবং আমার শহরকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি।’


কেরালার মাভেলিক্কারায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাজিয়াহ বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। ছোটবেলা থেকেই শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই তরুণী।


গত বছর ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন কাজিয়াহ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কিশোরীদের আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে ভারতের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জাতীয় মুকুট জয় করেছেন তিনি।


১৯ বছর বয়সে এমন সাফল্যকে তাই বেশ বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন আয়োজক ও প্রতিযোগিতা বিশ্লেষকেরা।


সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য প্রশংসা পেলেও একসময় নিজের চেহারা নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তায় ভুগতেন কাজিয়াহ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সময়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।


কাজিয়াহ জানিয়েছেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবে একসময় বছরের পর বছর নিজের একটি ফিল্টারহীন ছবিও সংরক্ষণ করতেন না। নিজের চেহারা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে তার মধ্যে কাজ করত এক ধরনের আত্মসচেতনতা। তবে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেন তিনি। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিজেকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যেতে শুরু করেন।


‘ফেক ইট টিল ইউ মেক ইট’ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন তিনি—অর্থাৎ আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাসী আচরণ করার চেষ্টা করতেন। একসময় সেই অভিনয় করা আত্মবিশ্বাসই তার কাছে বাস্তব হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন কাজিয়াহ।


জাতীয় পর্যায়ে মুকুট জয়ের পর কাজিয়াহর সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। আগামী নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।


আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্যও তার ওপর প্রত্যাশা বাড়াবে। বিশেষ করে ২০২১ সালে হরনাজ সান্ধু ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব জেতার পর ভারতের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। সূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


সালমান শাহ ও ডন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৫ পিএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ ‘হত্যা’ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে তিন কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আবেদনে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন।


আজ সোমবার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৭ অগাস্ট ধার্য করেছেন।


রিমান্ডের জন্য আবেদনে তিন কারণ দেখিয়ে সিআইডি বলেছে, মামলার ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভুক্তভোগী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মা মামলার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।


রিমান্ড আবেদনের দ্বিতীয় কারণে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। 


সিআইডি বলছে, তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।


তৃতীয় কারণ হিসেবে সিআইডির দাবি, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলন এ সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ অগাস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ অগাস্ট জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়।


সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে গেল বছরের ২০ অক্টোবর তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।


চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।


ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।


তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।


সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।


দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।


সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।


মামলাটি এরপর তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।


তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।


সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।


পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।


ওই প্রতিবেদনেও অসন্তুষ্টি জানান সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।


ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।


২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।


গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। 


এবিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।


এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।


প্রভার তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ পিএম

ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রহস্যময় পোস্ট ও ছবি ঘিরে মাঝেমধ্যেই প্রেম ও বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং নিজের চেয়ে বয়সে ছোট এক যুবকের সঙ্গে প্রভার তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। 


এমনকি পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও আগস্টের শুরুতে ব্যাংককে তাদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে অভিনেত্রী নিজেই বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।


গত কয়েক মাসে প্রভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট থেকেই মূলত নতুন সম্পর্কের গুঞ্জনের সূত্রপাত। এপ্রিলে অনামিকায় হীরার আংটি পরা একটি ছবি প্রকাশ করে বাগদানের ইঙ্গিত দেন তিনি। 


এরপর জুনে নেপাল ভ্রমণের সময় ‘আই লাভ ইউ’ লেখা বেলুন ও এক পুরুষের হাতের ছবি পোস্ট করে পরে তা সরিয়ে নেন। জুলাইয়ের শেষেও ‘তোমাকে ছাড়া দিন কাটছে’ শিরোনামে একটি রহস্যময় পোস্ট করেন অভিনেত্রী।


এসব পোস্টের কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের শুরুতেও এক লাইভে বিয়েকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রভা। পরে জুনে এক ভিডিও বার্তায় নারীদের বিবাহিত পুরুষের ছলনায় না ভোলার পরামর্শ দেন তিনি। ওই সময় এক জনপ্রিয় কার রিভিউয়ারের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল।


প্রভার ব্যক্তিগত জীবনে এর আগে দুটি বিয়ে ও বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে বিয়ে হয় তার। পরবর্তীতে মাহমুদ শান্তর সঙ্গেও বিয়ের পর বিচ্ছেদ ঘটে।


অতীতের দুই বিয়ে, সাম্প্রতিক রহস্যময় পোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন জোরালো হয়। তবে প্রভা সরাসরি বিষয়টি অস্বীকার করায় আপাতত সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেলার’ সিনেমার সাফল্যের পর এবার আসছে এর সিক্যুয়েল ‘জেলার ২’। রজনীকান্ত অভিনীত সিনেমাটির প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে প্রথম গান ‘আলা বোলেলো’। আর এই গানেই রজনীকান্তের সঙ্গে নেচে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী শামনা কাসিম।


দক্ষিণ ভারতের উৎসব ওনমের আবহে তৈরি গানটির সংগীত ও কণ্ঠ দিয়েছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। প্রকাশের পর থেকেই গানটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। তবে গানের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে এর নাচ। রজনীকান্তের সঙ্গে শামনা কাসিমের পারফরম্যান্স দর্শকদের নজর কেড়েছে।


কেরালার কান্নুরে জন্ম শামনা কাসিমের। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ২০০৪ সালে মালায়ালাম সিনেমা ‘মঞ্জু পলোরু পেংকুট্টি’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। 


পরে তেলুগু সিনেমা ‘শ্রী মহালক্ষ্মী’ ও তামিলের ‘মুনিয়ান্দি বিলাঙ্গিয়াল মুনরামান্ডু’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেন। ‘দ্রোহী’, ‘আডু পুলি’, ‘থাগারারু’, ‘সাভারাকাথি’সহ বেশ কিছু তামিল সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। ‘থালাইভি’ সিনেমায় শশিকলার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন শামনা।


‘জেলার ২’ সিনেমায় কেবল ‘আলা বোলেলো’ গানটিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে এই একটি গানেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী।


‘জেলার ২’ সিনেমায় রজনীকান্তের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, এসজে সূর্য, মিঠুন চক্রবর্তী, বিদ্যা বালান, মির্না ও যোগী বাবু। অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে বিজয় সেতুপতি, মোহনলাল, শিবরাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ ও হৃতিক রোশনকে। সিনেমাটি মুক্তি পাবে ১৫ অক্টোবর।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৯ পিএম

নায়ক সালমান শাহকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘লাভ ৯৬’। এটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা ইভান মল্লিক। নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনা, আবেগ ও ভক্তদের পাগলামির গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি। 


আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী। জানা গেছে, তার দুদিন আগেই ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সারাদেশে সিনেমাটি প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ১০ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে এটি বিনা কাটছাঁটে সেন্সর ছাড়পত্র লাভ করে। 


সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যদের কাছেও সিনেমাটির নির্মাণশৈলী এবং নব্বইয়ের দশকের উপস্থাপন প্রশংসিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা সূত্র।


এ প্রসঙ্গে নির্মাতা ইভান মল্লিক জানিয়েছেন, সিনেমাটি যেহেতু সেন্সর বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।


নব্বইয়ের দশকে ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা উপভোগ, ভিউকার্ড কেনা কিংবা ক্যাসেট প্লেয়ার ও রেডিওতে গান শোনার রঙিন নস্টালজিয়ার সময়টিতেই ঢালিউডে আগমন ঘটেছিল সালমান শাহর। ১৯৯৬ সালে তার আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ, শোক সামলাতে না পেরে আত্মাহুতির পথও বেছে নিয়েছিলেন অনেক অনুরাগী। সেই প্রেক্ষাপটে এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনি ও আবেগের গল্প নিয়েই আবর্তিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’-এর মূল পটভূমি।


রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় এই সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।



অভিনেত্রী চমক

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

অভিনেত্রী, মডেল ও ভ্লগার রুকাইয়া জাহান চমক এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে আলোচনায় এসেছেন। নিজের ভ্লগ সিরিজের নতুন পর্বে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান তুলে ধরতে তাঁর পরিচিত সাজে ক্যামেরার সামনে হাজির হন চমক। 


ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’ ভ্লগ সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের ১৯তম পর্ব প্রকাশ করেন তিনি। 


‘বেগম খালেদা জিয়া’ শিরোনামের ওই পর্বের ক্যাপশনে চমক লেখেন, এটি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর গল্প; যাকে তিনি গণতন্ত্রের মা ও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আপসহীন নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন।


ঢাকার জিয়া উদ্যানসহ বিভিন্ন স্থানে ভিডিওটির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। এতে চমককে হালকা রঙের প্রিন্টের শাড়ি, গলায় মুক্তার মালা ও চোখে সানগ্লাস পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর সাজ ও উপস্থাপনায় খালেদা জিয়ার পরিচিত উপস্থিতির ছাপ ফুটে উঠেছে।


ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেক নেটিজেন চমকের সাজ, অভিব্যক্তি ও উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। 


কেউ মন্তব্য করেছেন, তাঁকে দেখতে অনেকটাই খালেদা জিয়ার মতো লাগছে। আবার কেউ লিখেছেন, এমনভাবে আগে কখনো খালেদা জিয়াকে উপস্থাপন করা হয়নি।


একজন নেটিজেন চমককে ‘প্রতিভাবান শিল্পী’ উল্লেখ করে তাঁর রূপান্তরের প্রশংসা করেছেন। আরেকজনের মন্তব্য, ভিডিওটি দেখে কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছে যেন সত্যিই খালেদা জিয়াকে দেখা যাচ্ছে। এর আগে চলতি বছর কুষ্টিয়ার একটি আসন থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। সে সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।


রুকাইয়া জাহান চমক ২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর বিরতি নিয়ে ২০২০ সালে ছোট পর্দায় অভিনয়ে পা রাখেন।


অল্প সময়ের মধ্যেই ‘হায়দার’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’, ‘মহানগর’, ‘সাদা প্রাইভেট’, ‘অসমাপ্ত’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে ভ্লগিংয়েও সক্রিয় এই অভিনেত্রী।