স্পাইডার ম্যান

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

বিশ্ব বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্ভেল ও সনির ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির মাত্র ১৭ দিনের মাথায় সিনেমাটি ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম চলচ্চিত্র হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। 


এর আগে সবচেয়ে দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছাতে ‘অ্যাভঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর সময় লেগেছিল মাত্র ১১ দিন।


বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক শূন্য ২২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। টম হল্যান্ড ও জেনডায়া অভিনীত এবং ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আয় করেছে ৭৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১ দশমিক ২৩৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে মাত্র অষ্টম ছবি, যা ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে।


তৃতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বব্যাপী সপ্তাহান্তের আয় ১৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এসেছে ৭০ মিলিয়ন ডলার। এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়। এই তালিকায় এখনো শীর্ষে আছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকনস’। আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি ৬৭টি দেশে চলমান। তৃতীয় সপ্তাহান্তে বিদেশি বাজার থেকে আয় করেছে ১১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার ছিল চীন, যেখানে সপ্তাহান্তে আয় ১০ মিলিয়ন ডলার এবং মোট আয় ২১০ মিলিয়ন ডলার। 


এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৬৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন), যুক্তরাজ্য (১০৬ মিলিয়ন), মেক্সিকো (৭৮ মিলিয়ন), ব্রাজিল (৫৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন) ও ভারত (৫৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার)। ভারতসহ ৩৬টি আন্তর্জাতিক বাজারে এটি সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে গেছে। তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ইতালি, স্পেন, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ।


অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ও দুর্দান্ত গতিতে এগোচ্ছে। মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহে ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে আয় ৫০৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৭৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। শুধু চীনেই প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৩৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। 


তবে এই মুহূর্তে বিশ্ব বক্স অফিসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ১৭ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে ছবিটি শুধু স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নয়, পুরো সুপারহিরো সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা যখন ব্যর্থতার মুখে, তখন নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ কীভাবে সাফল্য পেল? জেনে নেওয়া যাক সম্ভাব্য ১০ কারণ-


‘স্পাইডার-ম্যান’ নিজেই এক বিশাল ব্র্যান্ড


টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সও নয়-স্পাইডার-ম্যান নিজেই একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মতো স্পাইডার-ম্যানও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সুপারহিরোদের একজন। এমসিইউর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে চরিত্রটি আরও বড় একটি জগৎ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা এমসিইউর ওপর নির্ভরশীল নয়।

এই কারণেই টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দেখতে দর্শক শুধু মার্ভেলের ভক্ত হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে যান না। 


সাধারণ দর্শকের কাছেও চরিত্রটির আলাদা আবেদন আছে। ফলে এমসিইউর অন্য কিছু সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমলেও স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।


টম হল্যান্ডের আগের তিন সিনেমাই ছিল সফল


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর আগে টম হল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া তিনটি স্পাইডার-ম্যান সিনেমা-‘হোমকামিং’ (২০১৭), ‘ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯) ও ‘নো ওয়ে হোম’ (২০২১)-দর্শক ও সমালোচকদের কাছেই জনপ্রিয় হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এও হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দর্শক পছন্দ করেছেন।


অর্থাৎ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শূন্য থেকে শুরু করেনি। আগের সিনেমাগুলো চরিত্রটির জন্য যে আস্থা তৈরি করেছে, নতুন ছবিটি সেই আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে যেন ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষত থেকেছে-আগের প্রতিটি সিনেমা পরের সিনেমার জন্য দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। মার্ভেলের বৃহত্তর ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু চরিত্র ও গল্প নিয়ে যেখানে দর্শকের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনা ছিল অনেক বেশি ধারাবাহিক।


‘নো ওয়ে হোম’-এর আবেগ এখনো তাজা


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’কে বোঝার জন্য ‘নো ওয়ে হোম’-এর শেষটাও গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমাটির শেষে পিটার পার্কারকে এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার ফলে পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে যায়। এমনকি তার প্রিয় মানুষ এমজিও আর জানে না পিটার পার্কার কে।


এই সমাপ্তি শুধু একটি সিনেমার শেষ ছিল না; এটি ছিল চরিত্রটির জীবনে বড় এক পরিবর্তন। ফলে পরের সিনেমায় কী হবে, পিটার কীভাবে এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে-তা জানার কৌতূহল তৈরি হয় দর্শকের মধ্যে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই আবেগের জায়গা থেকেই গল্প শুরু করেছে। ফলে আগের সিনেমার দর্শকের জন্য এটি শুধু আরেকটি নতুন স্পাইডার-ম্যান সিনেমা নয়; বরং অসমাপ্ত একটি আবেগের পরের অধ্যায়।


এবার মাল্টিভার্স নয়, নিউইয়র্কের রাস্তায় স্পাইডার-ম্যান


সাম্প্রতিক এমসিইউর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাল্টিভার্স। অন্য জগৎ, বিকল্প বাস্তবতা, অসংখ্য চরিত্র ও সময়ের নানা স্তর-সব মিলিয়ে বিশাল এক গল্পের কাঠামো। ‘নো ওয়ে হোম’ও সেই মাল্টিভার্সকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল এবং দর্শক সেটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপর একই ধরনের ধারণার পুনরাবৃত্তিতে দর্শকের একাংশ ক্লান্ত হয়েছে।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পথ থেকে সরে এসেছে। ছবিটির গল্প তুলনামূলকভাবে স্ট্রিট-লেভেল বা মাটির কাছাকাছি। পিটার পার্কার নিউইয়র্কে নিজের মতো করে কাজ করছেন, অপরাধীদের মোকাবিলা করছেন, পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন।


এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্পাইডার-ম্যানের আসল শক্তি শুধু পৃথিবী বাঁচানো নয়; একজন সাধারণ তরুণ কীভাবে নিজের ব্যক্তিজীবন ও সুপারহিরো পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখে-সেটিও।


‘ম্যাকগাফিন’ নেই, আছে চরিত্র


সুপারহিরো সিনেমার বহুল ব্যবহৃত একটি কাঠামো হলো কোনো বিশেষ বস্তু খুঁজে বের করা, রক্ষা করা কিংবা ধ্বংস করা। কখনো পাথর, কখনো কিউব, কখনো তলোয়ার, কখনো এমন কোনো বস্তু যা পুরো মহাবিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পরিচিত কাঠামো থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে।


স্পাইডার-ম্যান কমিকসের দীর্ঘদিনের লেখক জে মাইকেল স্ট্র্যাজিনস্কিও এ বিষয়টিকে ছবিটির সাফল্যের একটি কারণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, দর্শক বারবার একই ধরনের ‘ম্যাকগাফিন’ বা রহস্যময় বস্তুকেন্দ্রিক গল্প দেখতে দেখতে ক্লান্ত হতে পারেন।


‘এন্ডগেম’-এর পর আবার সেই উন্মাদনা?


‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছিল এমসিইউর একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অনেক সিনেমাই ব্যবসা করেছে, কিছু সিনেমা বড় সাফল্যও পেয়েছে। কিন্তু ‘এন্ডগেম’-এর মতো সর্বজনীন সাংস্কৃতিক ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর সাফল্য তাই শুধু স্পাইডার-ম্যানের সাফল্য নয়। এটি মার্ভেলের জন্যও একধরনের স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল-সুপারহিরো সিনেমা কি তার আগের আবেদন হারিয়ে ফেলেছে?-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তার উত্তর দিয়েছে অন্যভাবে। দর্শক হয়তো সুপারহিরো সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তাঁরা শুধু একই ধরনের সুপারহিরো সিনেমা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়েছেন। 


তাই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ যখন একই পুরোনো চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে এনে গল্পকে ব্যক্তিগত করেছে, মাল্টিভার্সের বদলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ফিরিয়েছে, অতিরিক্ত ম্যাকগাফিন বাদ দিয়েছে এবং টম হল্যান্ড-জেন্ডায়ার মতো তারকাদের আবেগকে সামনে রেখেছে-তখন দর্শক আবারও সাড়া দিয়েছেন। আর এখানেই ছবিটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা: সুপারহিরো সিনেমার সমস্যা হয়তো সুপারহিরো নয়, সমস্যা গল্প বলার ধরনে।


চরিত্রনির্ভর গল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে তাই গল্পের কেন্দ্রে কোনো জাদুকরি বস্তু নয়; বরং পিটার পার্কার নিজেই। তার হারানো সম্পর্ক, একাকিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নতুন শত্রুর মোকাবিলা-গল্পের আবেগ তৈরি হয়েছে এসব জায়গা থেকে। সুপারহিরো সিনেমায় এটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তন হলেও দর্শকের কাছে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।


বাস্তবধর্মী আবহ দর্শককে টেনেছে


‘গ্রাউন্ডেড’ বা বাস্তবধর্মী-শব্দ দুটি শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগে, কারণ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ কোনো বাস্তবধর্মী পারিবারিক নাটক নয়। এটি স্পাইডার-ম্যানের সিনেমা। তবু মার্ভেলের অন্যান্য অনেক ছবির তুলনায় এর গতি কম উন্মত্ত, গল্প বেশি চরিত্রনির্ভর এবং বেশ কিছু দৃশ্যকে নিছক সিজিআই প্রদর্শনী মনে হয় না।


সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের মধ্যে বাস্তবধর্মী নির্মাণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে-লো-ফাই ঘরানার সফল সিনেমা থেকে শুরু করে বড় বাজেটের কিছু ছবিতেও বাস্তব সেট, বাস্তব অ্যাকশন ও চরিত্রনির্ভর গল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ও সেই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে।


এমনকি ছবিটির সবচেয়ে দুর্বল অংশ হিসেবে যে দীর্ঘ লড়াইয়ের দৃশ্যটির কথা বলা হয়েছে, সেটিও হলো সবচেয়ে বেশি ‘মার্ভেলসুলভ’ অংশ-স্পাইডার-ম্যান ও হাল্কের দীর্ঘ লড়াই। অর্থাৎ ছবিটির যে অংশটি বেশি প্রচলিত সুপারহিরো ঘরানার, সেটিই তুলনামূলকভাবে গল্পের জন্য কম জরুরি বলে মনে হয়েছে।


টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার প্রভাব


স্ট্রিমিংয়ের যুগে অনেকেই মনে করেন, বড় তারকার প্রয়োজন কমে গেছে। কিন্তু বক্স অফিস আবারও দেখাচ্ছে, তারকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।


টম হল্যান্ড ও জেনডায়া দুজনই বর্তমানে নিজেদের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার শীর্ষ পর্যায়ে। বাস্তব জীবনেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ফলে পর্দায় পিটার পার্কার ও এমজের সম্পর্কও বাড়তি আবেগ তৈরি করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে এই সম্পর্কই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর এমজি পিটারকে মনে না রাখার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি নতুন সিনেমার শুরু থেকেই দর্শকের আবেগের কেন্দ্র।


অর্থাৎ এখানে তারকাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং চরিত্রের আবেগ-দুটো একে অন্যকে শক্তিশালী করেছে।


স্যাডি সিঙ্ককে ঘিরে রহস্য


সিনেমা মুক্তির আগে স্যাডি সিঙ্ককে নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলাদা কৌতূহল। মার্ভেল তাঁর চরিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ভক্তদের মধ্যে নানা তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কে-এই প্রশ্নের উত্তর জানতে দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জিন গ্রের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে, বিশেষ করে এমসিইউতে এক্স-মেনের নতুন যুগ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে।


বর্তমান সময়ে সিনেমার বড় কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে চরিত্রের পরিচয় গোপন রাখা নিজেই একটি বিপণন কৌশলে পরিণত হয়।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই কৌশল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখতে গেছেন শুধু গল্পের জন্য নয়, স্যাডি সিঙ্ক আসলে কে-সেটি নিজের চোখে দেখার জন্যও।


দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা


বক্স অফিসে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য প্রথম সপ্তাহের আয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সব নয়। একটি সিনেমাকে দীর্ঘ দৌড়ের জন্য প্রয়োজন দর্শকের ভালোবাসা।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই জায়গাতেও সুবিধা পেয়েছে। দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং সিনেমাকে ঘিরে নানা মিম-সব মিলিয়ে ছবিটি মুক্তির পরও পপ সংস্কৃতির আলোচনায় থেকে গেছে। একটি সিনেমা যত বেশি মানুষকে কথা বলায়, নতুন দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।


এই ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখে মুখে প্রচারই বড় বাজেটের সিনেমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিজ্ঞাপনগুলোর একটি।


শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি দর্শকের ভালো লেগেছে


সব বিশ্লেষণের পর সবচেয়ে সহজ কারণটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- দর্শকের সিনেমাটি ভালো লেগেছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ টম হল্যান্ড যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমা। দর্শক-প্রতিক্রিয়াও ছিল অসাধারণ। ছবিটির দর্শক স্কোর ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা লাইভ-অ্যাকশন ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।


ছবিতে ক্যামিও আছে, ভবিষ্যৎ সিনেমার জন্য কিছু প্রস্তুতিও আছে, আছে নানা চমক ও মোড়। কিন্তু এসবের মধ্যেও গল্পের কেন্দ্র থেকে সরে যায়নি পিটার পার্কার। একদিকে তাকে নতুন এক রহস্যময় শত্রুর মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে।


বিশেষ করে পিটার ও এমজেকে ঘিরে একটি ছাদদৃশ্য দর্শকের আবেগকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ প্রমাণ করে, সুপারহিরো সিনেমার সাফল্যের জন্য সব সময় পৃথিবী ধ্বংসের হুমকি দরকার হয় না; কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা দিয়েও লাখো দর্শককে নাড়া দেওয়া সম্ভব।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ পিএম


কাজিয়াহ লিজ মেজো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম

‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর মুকুট জিতেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। রোববার রাতে জয়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে ৫২ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট অর্জন করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী। গত বছরের বিজয়ী মানিকা বিশ্বকর্মার কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন কাজিয়াহ। এই জয়ের ফলে আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।


সেরার মুকুট জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাজিয়াহ বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। এই মুহূর্তটির জন্য আমি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছি। আমি ভীষণ খুশি যে এই মুকুটটি আমার কেরালায় নিয়ে যেতে পারছি এবং আমার শহরকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি।’


কেরালার মাভেলিক্কারায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাজিয়াহ বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। ছোটবেলা থেকেই শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই তরুণী।


গত বছর ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন কাজিয়াহ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কিশোরীদের আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে ভারতের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জাতীয় মুকুট জয় করেছেন তিনি।


১৯ বছর বয়সে এমন সাফল্যকে তাই বেশ বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন আয়োজক ও প্রতিযোগিতা বিশ্লেষকেরা।


সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য প্রশংসা পেলেও একসময় নিজের চেহারা নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তায় ভুগতেন কাজিয়াহ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সময়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।


কাজিয়াহ জানিয়েছেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবে একসময় বছরের পর বছর নিজের একটি ফিল্টারহীন ছবিও সংরক্ষণ করতেন না। নিজের চেহারা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে তার মধ্যে কাজ করত এক ধরনের আত্মসচেতনতা। তবে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেন তিনি। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিজেকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যেতে শুরু করেন।


‘ফেক ইট টিল ইউ মেক ইট’ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন তিনি—অর্থাৎ আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাসী আচরণ করার চেষ্টা করতেন। একসময় সেই অভিনয় করা আত্মবিশ্বাসই তার কাছে বাস্তব হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন কাজিয়াহ।


জাতীয় পর্যায়ে মুকুট জয়ের পর কাজিয়াহর সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। আগামী নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।


আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্যও তার ওপর প্রত্যাশা বাড়াবে। বিশেষ করে ২০২১ সালে হরনাজ সান্ধু ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব জেতার পর ভারতের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। সূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


সালমান শাহ ও ডন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৫ পিএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ ‘হত্যা’ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে তিন কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আবেদনে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন।


আজ সোমবার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৭ অগাস্ট ধার্য করেছেন।


রিমান্ডের জন্য আবেদনে তিন কারণ দেখিয়ে সিআইডি বলেছে, মামলার ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভুক্তভোগী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মা মামলার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।


রিমান্ড আবেদনের দ্বিতীয় কারণে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। 


সিআইডি বলছে, তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।


তৃতীয় কারণ হিসেবে সিআইডির দাবি, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলন এ সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ অগাস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ অগাস্ট জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়।


সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে গেল বছরের ২০ অক্টোবর তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।


চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।


ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।


তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।


সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।


দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।


সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।


মামলাটি এরপর তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।


তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।


সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।


পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।


ওই প্রতিবেদনেও অসন্তুষ্টি জানান সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।


ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।


২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।


গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। 


এবিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।


এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।


প্রভার তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ পিএম

ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রহস্যময় পোস্ট ও ছবি ঘিরে মাঝেমধ্যেই প্রেম ও বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং নিজের চেয়ে বয়সে ছোট এক যুবকের সঙ্গে প্রভার তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। 


এমনকি পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও আগস্টের শুরুতে ব্যাংককে তাদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে অভিনেত্রী নিজেই বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।


গত কয়েক মাসে প্রভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট থেকেই মূলত নতুন সম্পর্কের গুঞ্জনের সূত্রপাত। এপ্রিলে অনামিকায় হীরার আংটি পরা একটি ছবি প্রকাশ করে বাগদানের ইঙ্গিত দেন তিনি। 


এরপর জুনে নেপাল ভ্রমণের সময় ‘আই লাভ ইউ’ লেখা বেলুন ও এক পুরুষের হাতের ছবি পোস্ট করে পরে তা সরিয়ে নেন। জুলাইয়ের শেষেও ‘তোমাকে ছাড়া দিন কাটছে’ শিরোনামে একটি রহস্যময় পোস্ট করেন অভিনেত্রী।


এসব পোস্টের কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের শুরুতেও এক লাইভে বিয়েকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রভা। পরে জুনে এক ভিডিও বার্তায় নারীদের বিবাহিত পুরুষের ছলনায় না ভোলার পরামর্শ দেন তিনি। ওই সময় এক জনপ্রিয় কার রিভিউয়ারের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল।


প্রভার ব্যক্তিগত জীবনে এর আগে দুটি বিয়ে ও বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে বিয়ে হয় তার। পরবর্তীতে মাহমুদ শান্তর সঙ্গেও বিয়ের পর বিচ্ছেদ ঘটে।


অতীতের দুই বিয়ে, সাম্প্রতিক রহস্যময় পোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন জোরালো হয়। তবে প্রভা সরাসরি বিষয়টি অস্বীকার করায় আপাতত সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেলার’ সিনেমার সাফল্যের পর এবার আসছে এর সিক্যুয়েল ‘জেলার ২’। রজনীকান্ত অভিনীত সিনেমাটির প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে প্রথম গান ‘আলা বোলেলো’। আর এই গানেই রজনীকান্তের সঙ্গে নেচে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী শামনা কাসিম।


দক্ষিণ ভারতের উৎসব ওনমের আবহে তৈরি গানটির সংগীত ও কণ্ঠ দিয়েছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। প্রকাশের পর থেকেই গানটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। তবে গানের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে এর নাচ। রজনীকান্তের সঙ্গে শামনা কাসিমের পারফরম্যান্স দর্শকদের নজর কেড়েছে।


কেরালার কান্নুরে জন্ম শামনা কাসিমের। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ২০০৪ সালে মালায়ালাম সিনেমা ‘মঞ্জু পলোরু পেংকুট্টি’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। 


পরে তেলুগু সিনেমা ‘শ্রী মহালক্ষ্মী’ ও তামিলের ‘মুনিয়ান্দি বিলাঙ্গিয়াল মুনরামান্ডু’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেন। ‘দ্রোহী’, ‘আডু পুলি’, ‘থাগারারু’, ‘সাভারাকাথি’সহ বেশ কিছু তামিল সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। ‘থালাইভি’ সিনেমায় শশিকলার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন শামনা।


‘জেলার ২’ সিনেমায় কেবল ‘আলা বোলেলো’ গানটিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে এই একটি গানেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী।


‘জেলার ২’ সিনেমায় রজনীকান্তের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, এসজে সূর্য, মিঠুন চক্রবর্তী, বিদ্যা বালান, মির্না ও যোগী বাবু। অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে বিজয় সেতুপতি, মোহনলাল, শিবরাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ ও হৃতিক রোশনকে। সিনেমাটি মুক্তি পাবে ১৫ অক্টোবর।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৯ পিএম

নায়ক সালমান শাহকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘লাভ ৯৬’। এটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা ইভান মল্লিক। নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনা, আবেগ ও ভক্তদের পাগলামির গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি। 


আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী। জানা গেছে, তার দুদিন আগেই ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সারাদেশে সিনেমাটি প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ১০ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে এটি বিনা কাটছাঁটে সেন্সর ছাড়পত্র লাভ করে। 


সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যদের কাছেও সিনেমাটির নির্মাণশৈলী এবং নব্বইয়ের দশকের উপস্থাপন প্রশংসিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা সূত্র।


এ প্রসঙ্গে নির্মাতা ইভান মল্লিক জানিয়েছেন, সিনেমাটি যেহেতু সেন্সর বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।


নব্বইয়ের দশকে ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা উপভোগ, ভিউকার্ড কেনা কিংবা ক্যাসেট প্লেয়ার ও রেডিওতে গান শোনার রঙিন নস্টালজিয়ার সময়টিতেই ঢালিউডে আগমন ঘটেছিল সালমান শাহর। ১৯৯৬ সালে তার আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ, শোক সামলাতে না পেরে আত্মাহুতির পথও বেছে নিয়েছিলেন অনেক অনুরাগী। সেই প্রেক্ষাপটে এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনি ও আবেগের গল্প নিয়েই আবর্তিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’-এর মূল পটভূমি।


রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় এই সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।



অভিনেত্রী চমক

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

অভিনেত্রী, মডেল ও ভ্লগার রুকাইয়া জাহান চমক এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে আলোচনায় এসেছেন। নিজের ভ্লগ সিরিজের নতুন পর্বে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান তুলে ধরতে তাঁর পরিচিত সাজে ক্যামেরার সামনে হাজির হন চমক। 


ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’ ভ্লগ সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের ১৯তম পর্ব প্রকাশ করেন তিনি। 


‘বেগম খালেদা জিয়া’ শিরোনামের ওই পর্বের ক্যাপশনে চমক লেখেন, এটি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর গল্প; যাকে তিনি গণতন্ত্রের মা ও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আপসহীন নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন।


ঢাকার জিয়া উদ্যানসহ বিভিন্ন স্থানে ভিডিওটির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। এতে চমককে হালকা রঙের প্রিন্টের শাড়ি, গলায় মুক্তার মালা ও চোখে সানগ্লাস পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর সাজ ও উপস্থাপনায় খালেদা জিয়ার পরিচিত উপস্থিতির ছাপ ফুটে উঠেছে।


ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেক নেটিজেন চমকের সাজ, অভিব্যক্তি ও উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। 


কেউ মন্তব্য করেছেন, তাঁকে দেখতে অনেকটাই খালেদা জিয়ার মতো লাগছে। আবার কেউ লিখেছেন, এমনভাবে আগে কখনো খালেদা জিয়াকে উপস্থাপন করা হয়নি।


একজন নেটিজেন চমককে ‘প্রতিভাবান শিল্পী’ উল্লেখ করে তাঁর রূপান্তরের প্রশংসা করেছেন। আরেকজনের মন্তব্য, ভিডিওটি দেখে কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছে যেন সত্যিই খালেদা জিয়াকে দেখা যাচ্ছে। এর আগে চলতি বছর কুষ্টিয়ার একটি আসন থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। সে সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।


রুকাইয়া জাহান চমক ২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর বিরতি নিয়ে ২০২০ সালে ছোট পর্দায় অভিনয়ে পা রাখেন।


অল্প সময়ের মধ্যেই ‘হায়দার’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’, ‘মহানগর’, ‘সাদা প্রাইভেট’, ‘অসমাপ্ত’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে ভ্লগিংয়েও সক্রিয় এই অভিনেত্রী।