ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর হাজারীবাগের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী মা ও তার সাত মাস বয়সী শিশুকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনায় আপাতত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. সায়েম খান।
তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাত মাস বয়সী শিশুটি আপাতত তার মায়ের সঙ্গেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুনানির সময় কিশোরী মাকে ফেসবুক, টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন মেনে চলতে উভয় পক্ষকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লিগ্যাল এইড সূত্র জানায়, শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নিয়ে বাবার করা আবেদন বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত লিগ্যাল এইড নয়, বরং পারিবারিক আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই হবে।
সম্প্রতি হাজারীবাগের এই ১৩ বছর বয়সী কিশোরী ও তার সাত মাসের শিশুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর কিশোরীকে ফুসলিয়ে নিয়ে নোটারির মাধ্যমে বিয়ে করা হয়। পরবর্তীতে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং একপর্যায়ে তার সন্তানকে তার কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়।
পরে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডের সহায়তায় শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। শিশুর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইডের উদ্যোগে এ শুনানির আয়োজন করা হয়। তবে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নির্ধারণের বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
যেভাবে আলোচনায় আসে ঘটনাটি
ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই)। সেদিন ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের নির্দেশে সাত মাস বয়সী শিশুটিকে তার কিশোরী মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। শুনানির সময় লিগ্যাল এইড অফিসে শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে থাকা ১৩ বছর বয়সী মায়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভাইরাল সেই ১৩ বছরের মা, সামনে এল পুরো ঘটনা
পরিচয় থেকে সংসার
কিশোরীর পরিবারের দাবি, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় টিকটকের মাধ্যমে শাকিল মিয়া (২২) নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই কিশোরীর। পরে তাকে বিভিন্ন সময় বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, কোনো বৈধ কাবিন ছাড়া নোটারির মাধ্যমে বিয়ের ভুয়া কাগজ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর শিশুটিকে রেখে কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে চলতি বছরের ২০ মে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করে ওই কিশোরী।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় চকবাজার থানাকে শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন আদালত। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে।
গত ২৮ জুলাই ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খান শিশুটিকে আপাতত তার কিশোরী মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। শুনানির সময় কোলে সন্তান নিয়ে বসে থাকা ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী মায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
বর্তমানে সাত মাস বয়সী শিশুটি লিগ্যাল এইডের নির্দেশে তার ১৩ বছর বয়সী মায়ের কাছে রয়েছে। তবে শিশুর স্থায়ী অভিভাবকত্ব, কথিত বিয়ের বৈধতা এবং কিশোরীর পরিবারের আনা অভিযোগ–এসব বিষয়ে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
কিশোরীর বাবা জুয়েল খান বলেন, ওই ছেলে প্রথমবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। পরে মেয়েকে ফিরিয়ে আনলেও আবারও তাকে নিয়ে যায় সে।
‘আমাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল’
ওই কিশোরী বলেন, ‘আমার বয়স তখন মাত্র ১১ বছর। দুই মাসের পরিচয়ের পর শাকিল আমাকে নানা কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সে বলেছিল, দুই পরিবারের কেউ আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবে না, তাই তার সঙ্গে চলে যেতে। এরপর কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে কাজির মাধ্যমে ঘরোয়াভাবে বিয়ে হয়। পরে আদালতে গিয়ে জানতে পারি, নোটারির মাধ্যমে করা ওই কাগজের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তখনই বুঝতে পারি, আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’
এই কিশোরী বলেন, ‘শাকিল ও তার পরিবারের লোকজন আমার মা-বাবাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমার বাবা গাড়ি চালাতেন। তাকেও রাস্তায় পেলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো।’
কিশোরীর অভিযোগ, ‘শাকিলের বাসায় যাওয়ার পর কোনো ভরণপোষণ দেওয়া হতো না। একটি ছোট ঘরে কয়েকটি পরিবার একসঙ্গে থাকত। সেখানে আমার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি একাধিকবার আমাকে হত্যাচেষ্টাও করা হয়েছে। বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।’
ওই কিশোরী আরও বলে, ‘আমার সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর সন্তান রেখে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আমি আমার সন্তান ফিরে পাই। আদালতে যখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল শিশুটি আমার কি না, তখন আমি বলেছি, হ্যাঁ, এটা আমার। এরপর জানতে চাওয়া হয়েছিল, সন্তানকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি কি না। আমি বলেছি, আমি অনেক খুশি।’
ওই কিশোরী বলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তান আমার কাছেই থাকুক। আর আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার হোক। যারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং নির্যাতন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
নির্যাতন, হুমকি ও বিচার চাওয়ার কথা বললেন কিশোরীর বাবা
কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। শাকিলের সঙ্গে ফোনে পরিচয়ের বিষয়টি জানার পর আমি তাদের বলেছিলাম আমার মেয়ে নাবালিকা। কোনোভাবেই বিয়ে দেব না। সে অন্তত এসএসসি পরীক্ষা শেষ করুক, এরপর বসে কথা বলা যাবে। তারা তখন বিষয়টি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কিছুদিন পর আমার অজান্তে মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, মেয়েকে না পেয়ে থানায় জিডি করি। কয়েক দিন পর মেয়েকে ফিরে পেলেও আবার শুটিং স্পট দেখানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে নোটারির মাধ্যমে কথিত বিয়ে করানো হয়। এসব বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।
তার ভাষ্য, মেয়ের গর্ভধারণের বিষয়টি আমরা পরে জানতে পারি। এরপর চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর আমার মেয়ের কাছ থেকে শিশুটিকেও আলাদা করে দেওয়া হয়। মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে, ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা তার জীবন নষ্ট করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। একই সঙ্গে আমার নাতির ভবিষ্যৎ ও ভরণপোষণের বিষয়েও আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।
স্বামী শাকিলের দাবি
ওই কিশোরীর স্বামী শাকিল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিয়ের সময় মেয়েটির বয়স ২০ বছর উল্লেখ ছিল এবং তিনি স্বেচ্ছায় এসেছিলেন। তিন মাস আগে সে (তার স্ত্রী) বাবার অসুস্থতার কথা বলে সন্তান তার কাছেই রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় সন্তানের কোনো খোঁজ নেয়নি।
শাকিল মিয়া জানান, মেয়েটির বাবা যে জন্মসনদ তাকে দেখিয়েছিলেন সেখানে বয়স ২০ বছর উল্লেখ ছিল। কিন্তু মামলা হওয়ার পর আদালতে গিয়ে তিনি আরেকটি কাগজে মেয়েটির বয়স ১৩ বছর দেখতে পান।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শাকিল বলেন, ‘ওই কিশোরী তখন জানিয়েছিল তার বাবা তার জোর করে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছে। তখন অনুরোধ করেছিল যদি তাকে নিয়ে না যাই তাহলে সে আত্মহত্যা করবে।
অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালতে মামলা
শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব চেয়ে ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করেন শাকিল মিয়া। অন্যদিকে কিশোরীর পরিবার বলছে, শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করতেই এ মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি মায়ের জিম্মায় থাকলেও চূড়ান্তভাবে কার হেফাজতে থাকবে, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষ।
ধর্ষণের অভিযোগে নতুন আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
কিশোরীর পরিবার পুরো ঘটনাকে ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি– নাবালিকা এই মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
কিশোরীর আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র জানিয়েছেন, নাবালিকার সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বিচারযোগ্য। তিনি অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।
বিয়ের বয়স নিয়ে কী বলছে আইন
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। নির্ধারিত বয়সের আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আইনসম্মত নয়। আইন অনুযায়ী, উভয় পক্ষের স্বাধীন ও স্বেচ্ছায় সম্মতি ছাড়া কোনো বিয়ে বৈধ হতে পারে না। জোরপূর্বক আদায় করা সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন বিয়েও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা মহানগর আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এর কম বয়সে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু বয়সের শর্ত পূরণ হলেই বিয়ে বৈধ হয় না; উভয় পক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাধীন সম্মতিও আইনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। জোরপূর্বক, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন কোনো বিয়ে আইনি সুরক্ষা পায় না। যদি কোনো নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে, অপহরণ করে বা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, দণ্ডবিধি বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীর সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নোটারির মাধ্যমে বিয়ে কি বৈধ?
আইনজীবীদের মতে, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা কোনো অ্যাফিডেভিট মুসলিম বিয়ের বৈধ বিকল্প নয়। মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত কাজি বা নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে কাবিন সম্পন্ন হলেই কেবল সেই বিয়ে আইনগত স্বীকৃতি পায়।
কোর্টের আইনজীবীদের ভাষ্য, নোটারির মাধ্যমে করা তথাকথিত বিয়ের ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রীর কোনো আইনি অধিকার–যেমন দেনমোহর, খোরপোশ বা উত্তরাধিকার দাবি করা যায় না। বয়স গোপন করে এ ধরনের অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের চেষ্টা করলে সেটিও দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা কোনো অ্যাফিডেভিট বা ঘোষণাপত্র মুসলিম বিবাহের আইনগত বিকল্প নয়। মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজির মাধ্যমে কাবিন নিবন্ধন সম্পন্ন হলেই কেবল সেই বিয়ে আইনগত স্বীকৃতি পায়।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বয়স গোপন করে বা ভুল তথ্য দিয়ে নোটারির মাধ্যমে তথাকথিত বিয়ের দলিল তৈরি করা হয়। কিন্তু এ ধরনের দলিল কোনোভাবেই বৈধ বিয়ের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না এবং এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। ফলে দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার বা বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধে এমন অ্যাফিডেভিটের ভিত্তিতে দাবি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো নাবালিকার বয়স গোপন করে নোটারির মাধ্যমে বিয়ের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বিয়ে অবশ্যই আইনসম্মত প্রক্রিয়ায়, নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে এবং প্রকৃত বয়স ও পরিচয় যাচাই করে সম্পন্ন করা উচিত।
১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে আইনের অবস্থান
২০২৬ সালে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে তার সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে।
আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে এবং আপসের সুযোগও অত্যন্ত সীমিত।
বিষয়টি সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, ২০২৬ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আনা সংশোধনের ফলে ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর ক্ষেত্রে আইনের সুরক্ষা আরও জোরদার হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে তার সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীর সম্মতির প্রশ্নটি আইনি দায় নির্ধারণে প্রাধান্য পায় না; মূল বিষয় হলো ভুক্তভোগীর বয়স এবং ঘটনার প্রমাণ।
এখন কী হবে
বর্তমানে সাত মাস বয়সী শিশুটি লিগ্যাল এইডের নির্দেশে তার ১৩ বছর বয়সী মায়ের কাছে রয়েছে। তবে শিশুর স্থায়ী অভিভাবকত্ব, কথিত বিয়ের বৈধতা এবং কিশোরীর পরিবারের আনা অভিযোগ–এসব বিষয়ে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুবের মতে, বর্তমানে শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হলেও এটি চূড়ান্ত অভিভাবকত্বের সিদ্ধান্ত নয়।
তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে দেওয়া এমন ব্যবস্থা সাধারণত তাৎক্ষণিক সুরক্ষা ও শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে শিশুর অভিভাবকত্ব, কথিত বিয়ের বৈধতা, নাবালিকার বয়স এবং সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ–এসব বিষয় পৃথক আইনি কাঠামোর আওতায় বিচার হবে। যদি আদালতে প্রমাণিত হয় যে কিশোরী নাবালিকা ছিল এবং বয়স গোপন করে বা বেআইনি উপায়ে বিয়ের চেষ্টা করা হয়েছে, তাহলে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পারিবারিক আদালত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্থায়ী হেফাজত বা অভিভাবকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
তিনি আরও বলেন, একটি মামলার ফলাফল অন্য মামলার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না। তাই ফৌজদারি অভিযোগ, বিয়ের বৈধতা এবং শিশুর হেফাজত–প্রতিটি বিষয় আদালত আলাদাভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন।
ছবি : সংগৃহীত
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলাটির রায় দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
নুসরাত জাহান রাফি
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করে আজ সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।আদালতে আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৪ হাজার ৭১৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মোট ৬০ হাজার ৪৪৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৭ হাজার ৩৫৫টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।
রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।
রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।
রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’
আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।