সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর এ আদেশ দেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি।
এদিন আসামিপক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরপরাধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক। তিনি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ষড়যন্ত্র ও হয়রানি করার জন্য এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত করা হয়েছে। এজাহারে আসামির নাম থাকলেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সদস্য নন।
শুনাতিতে আরও বলা হয়, আসামি আনিস আলমগীর একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষক। এজাহারে যে ধারাগুলো বিদ্যমান তার একটাও তার ওপর বর্তায় না। এ জন্য তিনি জামিন পাওয়ার হকদার।
শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সে সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মামলাটি করেন। এতে সাংবাদিক আনিস আলমগীর ছাড়াও মেহের আফরোজ শাওনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় গত ১৫ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। কিন্তু তার অনুসারীরা দেশের মধ্যে বিভিন্ন কৌশলে ঘাপটি মেরে অবস্থান করে দেশের অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করে আসছেন। আসামিরা আগে থেকে আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় রয়েছেন। তারা গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানার ১১নং সেক্টরস্থ ৫নং রোডের ৫নং বাসায় বসে মোবাইলে দেখতে পান, আসামিরা ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার পাঁয়তারা করছেন। তাদের বিভিন্ন পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছেন।
এছাড়াও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাংবাদিক ও খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিসুর রহমান আলমগীর ওরফে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
আনিসুর রহমান আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত আনিসুর রহমান আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, অভিযুক্তের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে দুদক উল্লেখ করে।
উল্লেখ্য, আনিসুর রহমান আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগ এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বৈশাখী টিভির সাংবাদিক এবং আরটিভির চিফ নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলাটির রায় দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
নুসরাত জাহান রাফি
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করে আজ সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।আদালতে আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৪ হাজার ৭১৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মোট ৬০ হাজার ৪৪৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৭ হাজার ৩৫৫টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।
রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।
রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।
রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’
আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।