ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই দ্বিমুখী রায়ে একদিকে যেমন সংসদের ক্ষমতার বিন্যাস নির্ধারিত হয়েছে, অন্যদিকে দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্র ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে জনমত স্পষ্ট হয়েছে।
গণভোটের রায়: ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়জয়কার
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী:
‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি।
‘না’ ভোট: ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
বাতিল ভোট: ৭৪ লাখ ২ হাজার ২৮৫টি।
ভোট প্রদানের হার: ৬০.২৬ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে ‘জুলাই সনদ’-এর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে আগামী সংসদ আইনত বাধ্য থাকবে। উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ কয়েকটি সীমিত এলাকায় ‘না’ ভোট বেশি পড়লেও সামগ্রিক জাতীয় রায়ে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।
সংসদের চিত্র: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি
ত্রয়োদশ সংসদের ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
বিএনপি: ২০৯টি আসন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি আসন।
জোটগত অবস্থান: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি।
অন্যান্য দল: এনসিপি (৬), বিকেএম (২), খেলাফত মজলিশ (১), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (১), গণঅধিকার পরিষদ (১), বিজেপি (১) এবং গণসংহতি আন্দোলন (১)।
জুলাই সনদ: ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের ব্যবচ্ছেদ
জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পরিচয় ও ভাষার স্বীকৃতি
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বাংলাদেশের নাগরিকেরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
২. সংবিধান সংশোধন
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা- ৮, ৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে।
বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল, জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
৩. মূলনীতি
বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি। বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদ যুক্ত হবে- সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
৪. মৌলিক অধিকার
সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।
৫. জরুরি অবস্থা
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে- জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।
৬. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ক্ষমতা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি তাঁর নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। যদিও এই প্রস্তাবে ভিন্নমত ছিল বিএনপির।
৭. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।
৮. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা
আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোন অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
৯. প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ
২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদে বাস্তবায়ন হলে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত জানিয়েছিল বিএনপিসহ পাঁচটি দল।
১০. তত্ত্বাবধায়ক সরকার
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।
১১. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে।
১২. সংসদে নারী
দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোনো কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করা এবং সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে আসার সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে।
১৩. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার
সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। গণভোটে সনদ কার্যকর হলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।
১৪. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে- বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
১৫. বিদেশি চুক্তিতে সংসদের অনুমোদন
এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদে ইসির একক কর্তৃত্ব না রাখার কথা বলা হয়েছে। ইসির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে।
১৬. নির্বাচন কমিশন গঠন
এর আগে নানা নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
১৭. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।
১৮. আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা
আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৯. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
এ ছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।
২০. ন্যায়পাল ও অন্যান্য পদে নিয়োগ
এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে।
একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে। যদিও এগুলো নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়েছে বিএনপিসহ সাতটি দল। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।
৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে আর যে ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে সেগুলো সংশোধন করা যাবে ’আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণের অঙ্গীকার থাকছে জুলাই সনদে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমানা পুনঃনির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা, আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয় রাখা হয়েছে ’আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য।
এ ছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করার কথাও বলা হয়েছে জুলাই সনদে। তবে গণভোটের ব্যালটে এসব কিছু বিস্তারিত লেখা ছিল না। সেখানে মোট চারটি বিষয়ের উল্লেখ করে হ্যাঁ/না ভোট দিতে বলা হয়েছে।
গণভোটের বিষয়
প্রশ্ন: জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি ভোটারগণ সম্মতি জ্ঞাপন করেন কি না (হ্যাঁ/না) সেই বিষয়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ. আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।’
ঘ. জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত (Note of Dissent)
জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হলেও কয়েকটি বিষয়ে প্রধান দলগুলোর ভিন্নমত ছিল:
বিএনপির আপত্তি: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করে রাষ্ট্রপতির এককভাবে নিয়োগ প্রদানের কিছু বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছে। এ ছাড়া উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া, ন্যায়পাল ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদে নিয়োগের কমিটির কাঠামো নিয়েও তাদের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।
জামায়াত ও অন্যান্য দল: আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি এবং উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের নিজস্ব প্রস্তাব ছিল।
আগামী দিনের পথনকশা
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তাঁরা পরবর্তী ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংশোধনী সম্পন্ন করতে বাধ্য থাকবেন। এই সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘নজরুল পদক-২০২৬’ পাচ্ছেন নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদার ও নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী।
আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলজয়ন্তী উদযাপনের বিশেষ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পদকের জন্য আবদুল হাই শিকদার ও শবনম মুশতারীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর নজরুলচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিশিষ্টজনদের ‘নজরুল পদক’ দিয়ে সম্মানিত করে। সাধারণত নজরুলসংগীত ও নজরুল গবেষণা—এই দুই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এবার গবেষণা বিভাগে পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদার। নজরুল গবেষণার পাশাপাশি তিনি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে সংগীত বিভাগে পদক পাচ্ছেন দেশের স্বনামধন্য নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী। দীর্ঘদিন ধরে নজরুলসংগীত চর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নজরুলচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর ধারাবাহিকতায় এ বছরও দুই গুণীজনকে ‘নজরুল পদক-২০২৬’-এর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটাভুটি চলছে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোটদানের নিয়ম ও প্রক্রিয়া অবহিত করেন।
এরপর সংসদের অধিবেশন কক্ষের নির্ধারিত স্থানে রাখা ব্যালটবাক্সে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে একে একে ভোট প্রদান করছেন সংসদ সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, বাতিল বা নষ্ট ভোটের সংখ্যা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে মির্জা ফখরুলের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকবো।
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। এসময় তিনি প্রত্যেকের খোঁজ-খবর নেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহ-সভাপতি স্টার টিভির মাহবুব আলম রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালবেলার শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক বাসসের জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ৭১ টেলিভিশনের আব্দুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক জিটিভির সাজ্জাদ হোসেন ও নারী বিষয়ক সম্পাদক নিউজ টোয়েন্টি ফোর’র মোছা. শিউলী বেগম নাহিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ৭১ টেলিভিশনের নূর তাজমিন নীর, স্টার টিভির ফরহাদ বিন নূর, কালের কণ্ঠের মো. নবাব শরীয়তুল্লাহ (সৌম্য সরকার), সাম্প্রতিক দেশকালের নাসরিন আখতার, যুগান্তরের ইমরান খান, চ্যানেল আইয়ের তাফহিমুল ইসলাম ও নিউজ এজেন্সি এবিপির বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান, প্রথম আলোর তুহিন সাইফুল্লাহ ও বাসসের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
যাত্রী পরিবহনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারী-বান্ধব ও নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এ উদ্যোগ শুধু কয়েকটি রুটে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ ধরনের বাসসেবা চালু করা হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কার্যালয়ে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নারীরা বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময়, বাসে অবস্থানকালে এবং বাস থেকে নামার সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকারের এ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশের ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাস সার্ভিস চালু করা।
সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই নারী-বান্ধব এবং নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি বাস ১৩টি রুটে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে।
ঢাকার জন্য নির্ধারিত বাসগুলোর মধ্যে একটি একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে। চট্টগ্রামে একটি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দু’টি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস চলাচল করবে।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ বাস সার্ভিসের রুট আরও বাড়ানো হবে এবং বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে যে সেবা চালু করা হয়েছে, সেটিকে ধীরে ধীরে আরও উন্নত, আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করা হবে।
বিআরটিসির বর্তমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি ট্রাকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তারও বেশি বাস পরিচালনা করছে।
বিআরটিসি বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে। তবে সংস্থাটির মানসম্মত সেবা ও অপারেশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসিকে আরও যুগোপযোগী, যাত্রীবান্ধব ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গণপরিবহনের রুট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকার রুট পারমিটের অসংগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক রুটের অস্তিত্ব না থাকলেও সেসব রুটের পারমিট রয়েছে।
আবার অনেক রুটে পারমিট না থাকলেও বাস চলাচল করছে। এসব রুট অনেক আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ঢাকা শহরের যাত্রীদের চাহিদা, যাত্রীর চাপ এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে রুট নির্ধারণ, রুট পারমিট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বৈদ্যুতিক বাস বা ইভি বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ২০০টি ইভি বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ইভি বাস সংগ্রহ করতে গেলে প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, দরপত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত চালুর লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহন থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ইভি বাস সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু ঢাকা নয়, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিবহন খাতে নতুন মাত্রা তৈরি করা হবে।
নারী চালকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, নারীরা কোনোভাবেই পুরুষের চেয়ে কম সক্ষম নন। তারা দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারেন এবং দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তাই পরিবহন খাতেও নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
মন্ত্রী বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আজ যে সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেই সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু উদ্বোধন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অনেক উদ্যোগ অতীতে উদ্বোধনের পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।
তিনি বলেন, নারী বাস সার্ভিসকে টেকসই ও কার্যকর রাখতে বিআরটিসির অপারেশন, ব্যবস্থাপনা ও জনবলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সময়ানুবর্তিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নারী যাত্রীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এই বাসে উঠতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এই সেবাকে আরও উন্নত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। সাংবাদিকদেরও এই উদ্যোগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ভুল-ত্রুটি থাকলে তা জানাতে হবে, যাতে দ্রুত সংশোধন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে এটিকে ধরে রাখা, টেকসই করা, সেবার মান বাড়ানো এবং নতুন নতুন রুটে সম্প্রসারণ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত রয়েছে।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন সচিব বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বগুড়া থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে নীতি নির্ধারণ ও সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো মানবসভ্যতার জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ : পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
সেমিনারে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি বা তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার বিষয়টি এখন কেবল সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টেক জায়ান্টদের একার বিষয় নয়। এটি আমাদের সম্পূর্ণ একটি নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাঠামোগত জটিলতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্ম মূলত ব্যবসার উদ্দেশে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের এই ব্যবসায়িক স্বার্থ একত্রে এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। এই ইকোসিস্টেমের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলার মাধ্যম আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আজকাল অনেক পেশাজীবী বা তরুণ নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহারের চেয়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা কাজের মৌলিকত্ব ও সততাকে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তি আমাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কাজের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করবে ঠিকই, তবে তা যেন আমাদের চোরাবালির দিকে নিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আইটি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কান্ডজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদপত্রের বর্তমান রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের মূল মেকানিজমের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ভালো আয় করছে। এই রূপান্তরের যুগে গণমাধ্যম, রাষ্ট্র এবং অরাজনৈতিক অংশীদারদের একযোগে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা আশা করেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে ও মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নদী খনন, খাল সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এবার আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় আয়োজন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে এই কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।’
জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের সবার দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই নীতিতে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে থেকে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একা কারও পক্ষে কোনো বড় কাজ করা সম্ভব নয়। একটি দক্ষ ও আন্তরিক টিম থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এজন্য কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান। মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। যার যে দায়িত্ব, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনগণের সেবা প্রদানে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ায় এবারের আয়োজন মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।