জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় প্রতীক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র, ৬৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ঈদুল আজহার আগে ২০ মে আরও ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, কমিটির সদস্য তাহসীন রিয়াজ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মনজিলা ঝুমা এবং এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, মো. আতাউল্লাহ ও এস এম সুজা সাংগঠনিক বিভাগওয়ারি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় সারজিস আলম জানান, ঈদের আগে ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে। দেশের ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভা থেকে প্রথম ধাপে নাম প্রকাশের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলোকে বারবার যাচাই-বাছাই ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। শিগগিরই অন্য আটটি সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় সালামত উল্লাহ রনিকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আহনাফ সাঈদ খান, তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ইকরাম হোসেন ও করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে খায়রুল কবির দলটির প্রার্থী। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মো. আরিফুল ইসলাম ও দৌলতপুর উপজেলায় মো. আবু আবদুল্লাহকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে এনসিপি। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মেহেদি হাসান। একই জেলার টাঙ্গাইল পৌরসভায় মাসুদুর রহমান, ভূঞাপুর পৌরসভায় হাসান ইমাম তালুকদার ও সখীপুর পৌরসভায় মাওলানা আনছার আলীকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। নরিসিংদী জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী সাইফ ইবনে সারওয়ার। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. শোয়েব মিয়া। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. তুহিন মাহমুদ। মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় দলটি প্রার্থী করেছে আলী নেওয়াজকে। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. রেজাউল করিম। একই জেলার নগরকান্দা পৌরসভায় মুহাম্মাদ নাজমুল হুদা ও ফরিদপুর পৌরসভায় সাইফ খানকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর পৌরসভায় মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহ। গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী ফেরদৌস আমিনা।
রংপুর বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় মো. হাবিবুর রহমান ও বোদা উপজেলায় শিশির আসাদকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দেবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাসুদ পারভেজ। ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী গোলাম মূর্তজা সেলিম। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইমরান চৌধুরী ও বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা এম এ তাফসীর হাসানকে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার ফুলবাড়ি পৌরসভায় শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট পৌরসভায় মো. আব্দুল মান্নান ও হাকিমপুর পৌরসভায় মো. রায়হান কবিরকে মেয়র প্রার্থী করেছে দলটি। নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ ও জলঢাকা উপজেলায় আবু সাঈদ লিয়নকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছে এনসিপি। কুড়িগ্রাম জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মাসুম মিয়া। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া রংপুর সদর উপজেলায় কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ ও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মো. খাদেমুল ইসলামকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে দলটি।
রাজশাহী বিভাগে প্রার্থী কারা
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আবু মাসুদ। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় নিশাদ আহমেদ, বদলগাছি উপজেলায় আসাদ নওশের ও পোড়শা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে গোলাম মোস্তাফাকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। একই জেলার ধামইরহাট পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাহফুজর রহমান চৌধুরী। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বগুড়া সদর উপজেলায় এ এম জেড শাহারিয়ারকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ফকির। নাটোর জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান। পাবনা জেলার চাটমোহর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুকে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোশারফ আদনান আর উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন লিয়ন।
সিলেট বিভাগে কারা এনসিপির প্রার্থী
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কামাল আহমেদ ও হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়র পদে মাহবুবুল বারি চৌধুরী মুবিনকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় খালেদ হাসান ও কুলাউড়া উপজেলায় আবু রুকিয়ান, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় উবায়েদ আহমেদ, কানাইঘাট উপজেলায় বুরহান উদ্দিন ইউসুফ, ওসমানীনগর উপজেলায় হাজি মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী, জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. জাকারিয়া লাদেন ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় মনসুরুল হাসান নগরীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে দলটি।
ময়মনসিংহ বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
শেরপুর জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. লিখন মিয়া ও সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. নূর ইসলাম। জামালপুর জেলার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী আবু সাইদ মো. শামিম। নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু, খালিয়াজুরি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান ও নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম। ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শহিদুল ইসলাম, ভালুকা উপজেলায় নুরুল ইসলাম, হালুয়াঘাট উপজেলায় মো. আবু রেহান ও ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহকে।
খুলনা বিভাগ
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় আবুল হাশিম ও ভেড়ামারা উপজেলায় মো. জান্নাতুল ফেরদাউস চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী। বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় ইশতিয়াখ হোসেন ও ফকিরহাট উপজেলায় লাবিব আহমেদ এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী। একই জেলার বাগেরহাট পৌরসভায় সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার ও মোংলা পোর্ট পৌরসভায় মো. রহমাতুল্লাহ এনসিপির মেয়র প্রার্থী। যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ইয়াহিয়া জিসান, একই জেলার নোয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. শাহজাহান কবির। খুলনা জেলার চালনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী এস এম এ রশিদ। চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী খাজা আমিরুল বাশার, একই জেলার জীবননগর পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী সোহেল পারভেজ। মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে সাকিল আহমেদকে। আর ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ফরিদ আহমেদ। ভোলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তাদের প্রার্থী জিয়াউর রহমান। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় খান মো. বাকী বিল্লাহ ও জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. নাজমুল ইসলাম এবং সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি মনোনীত করেছে মো. মাইনুল আহসান মুন্নাকে। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. আরিফুর রহমান।
কুমিল্লা বিভাগ
কুমিল্লা জেলার হোমনা পৌরসভার মেয়র পদে মো. রাজু সরকার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে মো. জহিরুল ইসলাম সরকারকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। চাঁদপুর সদর উপজেলায় মো. জসিম গাজী ও মতলব উত্তর উপজেলায় মো. ইদ্রিস আলী প্রধানীয়াকে প্রার্থী করেছে দলটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় মো. আমিনুল হক চৌধুরী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন ও আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমিরুল ইসলাম ডালিমকে প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি।
চট্টগ্রাম বিভাগ
কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির শফিকুল ইসলাম। উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মো. হোসাইন। আর কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী রাইয়্যান কাশেম। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় এনসিপির মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল আলম মানিক। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ইউসুফ রেজা, হাতিয়া পৌরসভার মেয়র পদে মুহিবুর রহমান ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. সুজা উদ্দিন। আর লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মাদ ইব্রাহীম খলিল।
প্রার্থী ঘোষণার সময় সারজিস আলম বলেন, সারা দেশে যাঁরা আগ্রহী, এনসিপি ও দেশের মানুষের জন্য যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যাঁরা কখনো মানুষের ওপর নিপীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, যাঁদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না, তাঁরা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তাঁরা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও যদি কেউ আসতে চান, সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদেরও সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য এনসিপি পর্যাপ্ত সময় পায়নি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও তখন সব জায়গায় প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্তিশালী ছিল না। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছি। জোটগতভাবে নির্বাচন হবে নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দল ২০৩৬ সালের মধ্যে সংসদে সরকারি দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে, সেই দল জোটের আশায় বা জোট হবে কি না—এই দ্বিধা নিয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
রংপুরে যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই- যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ অপরাধিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একটি ঘটনাও নাই, এটাই বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিএনপির দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে অনেক অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। এতো অল্প সময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা উচিত হবে না।’
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করি না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে যারা জনপ্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে। পুলিশ বাহিনীকে শৃঙ্খলিত বাহিনীতে রুপান্তর করা হবে।’
হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ
কওমি ধারার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলগুলো এরই মধ্যে ঐক্যের রূপরেখা নিয়ে হেফাজতের কাছে আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবে অন্য দল বা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমঝোতার প্রশ্ন এসেছে।
সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সাত দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সরাসরি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের নাম উল্লেখ না করলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না করার শর্ত দিয়েছে।
আরও দুটি দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদাকে ঐক্যের ভিত্তি করার কথা বলেছে। অন্যদিকে তিনটি দল জামায়াত বা অন্য জোট নিয়ে শুরুতেই শর্তারোপের পক্ষে নয়।
সাত দলের প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি
সাত দলের ঐক্যের রূপরেখা নির্ধারণে দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে ১৫ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় বৈঠক হয়। এতে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব সাজিদুর রহমান এবং হেফাজত গঠিত সাবকমিটির নেতারা অংশ নেন। তবে এখনো ঐক্যের রূপরেখা তৈরি হয়নি।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ১৭ আগস্ট বলেন, সাবকমিটি সাত দলের প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। পরে আবার বৈঠক করে ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা হয়। এতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেয়।
সভা থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে ঐক্যের রূপরেখার প্রস্তাব দিতে বলা হয়। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি সাবকমিটিও গঠন করা হয়। দলগুলোর প্রস্তাব জমা পড়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা শুরু করে সাবকমিটি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠনে হেফাজতে ইসলামের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, হেফাজত নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে।
জামায়াত থেকে দূরত্ব চায় জমিয়ত ও ইসলামী আন্দোলন
ঐক্যের রূপরেখা নির্ধারণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আটটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথম প্রস্তাবেই জামায়াতের সঙ্গে সাত দলের ঐক্যের কোনো সম্পর্ক না থাকা ‘শতভাগ নিশ্চিত করার’ কথা বলেছে দলটি।
একই সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতে প্রস্তাবিত ঐক্যের কেউ এবং সাত দলের কোনো কর্মসূচিতে জামায়াতের কেউ অংশ নিতে পারবেন না- এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে সাত দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের না রাখা এবং হেফাজতের সভা-সমাবেশে সাত দলের নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জমিয়ত।
যদিও লিখিত প্রস্তাবের প্রথমেই জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার কথা বলা হয়েছে, জমিয়তের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত মূল ইস্যু নয়। বিগত সময়ে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়া কিছু কারণে শক্তিশালী হতে পারেনি। সেটি বিবেচনায় নিয়ে ঐক্য শক্তিশালী করার জন্য জমিয়ত প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রস্তাবে সরাসরি জামায়াতের নাম উল্লেখ করেনি। তবে দলটি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক বা সমঝোতা না রাখার পক্ষে।
ইসলামী আন্দোলন হেফাজতের কাছে ১২টি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদা পোষণকারী নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দল প্রাথমিকভাবে এই ঐক্যে থাকবে; অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা বা ঐক্য করা যাবে না; হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃস্থানীয় কেউ এই ঐক্যের বাইরের কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সমর্থন দিতে পারবেন না।
ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবে ‘রাজনৈতিক পক্ষ’ বলতে জামায়াতকে বোঝানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৭ আগস্ট তিনি বলেন, দেওবন্দ ঘরানার আলেমরা জামায়াতকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদাভুক্ত মনে করেন না। ইসলামী আন্দোলনও চায়, এই ঐক্যে জামায়াত না থাকুক এবং জামায়াতের জোটের সঙ্গে সাত দলের কারও সমঝোতা না হোক।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সাত দলের কেউ যদি অন্য বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে নতুন জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকে না। সবার আন্তরিকতা থাকলে ঐক্য হবে। তবে কারও অন্য মতলব থাকলে সেটি সম্ভব হবে না।
আকিদার শর্ত খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোটের
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ঐক্যের আদর্শিক ভিত্তি হবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদা। যাদের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা যাবে না। সরকার বা অন্য জোটের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে পথচলার কথাও বলেছে দলটি।
দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, এই জোটে থাকতে হলে অন্য কোনো জোটে থাকা বা যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। জোটে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো দল বা জোটের সঙ্গে আলোচনা করলে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অন্য কোনো দল যুক্ত হলেও সাত দলকেই নেতৃত্বে রাখতে হবে।
ইসলামী ঐক্যজোটের প্রস্তাবেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদায় বিশ্বাসী হওয়ার বিষয়টি এসেছে। দলটির মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি বলেন, যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদায় বিশ্বাসী, শুধু তাদের নিয়েই ঐক্য হতে হবে-এমন প্রস্তাব তাঁরা দিয়েছেন।
জামায়াতকে বাদ দেওয়ার পূর্বশর্তে আপত্তি খেলাফত মজলিসের
খেলাফত মজলিস বিগত সময়ের সমমনা ইসলামি দলগুলোর মতো সাত দলের একসঙ্গে পথচলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। দলটির নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা দূর হওয়া দরকার।
তবে হেফাজত যেহেতু অরাজনৈতিক সংগঠন, সে কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে সংগঠনটির অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না।
খেলাফত মজলিসের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বলেন, বিগত সময়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়ায় জামায়াতও ছিল। এখন জামায়াতকে বাইরে রেখেই ঐক্য করতে হবে-এমন চিন্তা সঠিক নয়।
অন্য জোটে থাকা নিয়ে শর্ত চায় না নেজামে ইসলাম
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, প্রাথমিকভাবে কওমি ঘরানার দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হতে পারে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সব দলের মতামতের ভিত্তিতে তা সম্প্রসারণ করা যাবে।
নীতি-আদর্শ, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের বিষয়ে একমত অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও যুক্ত করার সুযোগ রাখতে হবে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে শর্তারোপ করা যাবে না।
দলটির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার বলেন, আপাতত তাঁরা এই ঐক্যকে নির্বাচনী জোট হিসেবে দেখছেন না। ঐক্য সুদৃঢ় হলে পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় একে জোটের রূপ দেওয়া যায় কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলীয় সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ২০১৩ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগপর্যন্ত ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’-এর ব্যানারে কওমি ঘরানার দলগুলোসহ কয়েকটি ইসলামি দল একসঙ্গে কার্যক্রম চালিয়েছে। সেই কাঠামোই নতুন ঐক্যে বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
প্রস্তাবিত ঐক্যে যুক্ত হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলগুলোর স্বাধীনতা রাখার কথা বলেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ভিন্ন রাজনৈতিক জোটে থাকা দলগুলোও ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’-এর ব্যানারে একসঙ্গে কাজ করেছে-এই অভিজ্ঞতাকে বর্তমান ঐক্যের ভিত্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ঐক্যপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পূর্বশর্ত আরোপ করা যাবে না। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য আছে, সেগুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা এবং ভিন্নমতের বিষয়গুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা দরকার।
কেন কেন্দ্রে জামায়াত
হেফাজতের নেতা ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের পুরোনো আদর্শিক বিরোধ রয়েছে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদীর ইসলামবিষয়ক কিছু ব্যাখ্যাকে দেওবন্দ ধারার আলেমরা বিতর্কিত মনে করেন। সে কারণে হেফাজতের বর্তমান আমির বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের সমালোচনা করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন।
হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোরও নেতা। জাতীয় নির্বাচনের আগে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটারদের সমর্থন পেতে বড় দলগুলোর সঙ্গে এসব দলের যোগাযোগ বেড়েছিল।
শেষ পর্যন্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির জোটে থেকে নির্বাচন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও আসন সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন করে। ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের আগে ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে দুটি আসনে প্রার্থী দেয়।
নির্বাচনের পর কিছু বিষয়ে অসন্তোষ থেকে খেলাফত আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকেই কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে আলাদা রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে অবস্থান নেওয়ায় কওমি ধারার ভোট বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে যায়। এ পটভূমিতেই হেফাজতের উদ্যোগে সাত দলকে নিয়ে নতুন ঐক্যের চেষ্টা চলছে।
তবে প্রস্তাবিত ঐক্য জামায়াত ও তার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে পুরোপুরি দূরে থাকবে, নাকি দলগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা পাবে-সেই প্রশ্নেই এখন প্রধান মতভেদ।
দেশের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো ‘দূরত্ব’ রয়েছে বলে মনে করে না জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। আজ সোমবার রাজধানীতে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, নিউ নেশনের আকরাম হোসেন, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের একজন জানান, সভায় আরো কয়েকজন সম্পাদক ছিলেন, তারা হলেন, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল।
সাংবাদিকদের সামনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমাদের আমন্ত্রণে আজকে গণমাধ্যমের অনেক সম্পাদকেরা এসেছিলেন। অনেক সিনিয়র সাংবাদিকরা এসেছেন।”
এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা মনে করি না জামায়াতের সাথে গণমাধ্যমের দূরত্ব আছে।”
এ সময় পরওয়ারের ডান দিকে দাঁড়ানো দলের সহকারী সেত্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “দূরত্ব আছে বলে মনে হয় না।”
পরওয়ারের বাঁ দিকে থাকা আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "কখনোই (দূরত্ব) ছিল না।
এরপর মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি, আজকের সভাটিও এর অংশ।"
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিরোধী দলীয় নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হতে পারে, সেজন্য সম্পাদকদের পরামর্শ চান।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারকে দোষারোপ করেন শফিকুর রহমান। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি দ্রব্যমূল্যের উধ্বর্গতি, সারের সংকট, প্রশাসনে ‘দলীয়করণ’ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। সম্পাদকদের কেউ কেউ জামায়াতের ‘পাশে’ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে দলটির একজন নেতা জানান।
সম্পাদকদের মধ্যে শফিক রেহমান, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান চৌধুরী, সাজ্জাদ শরিফ বক্তব্য দেন। বেলা সোয়া ১২টায় মতিবিনময় শুরু হয়ে শেষ হয় ২টায়। উপস্থিত অনেকেই নিজেদের অবস্থান, প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন সভায়।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথাগুলো বলেন।
‘ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ-বিষয়ক উপকমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ নামের একটি পুস্তিকা পড়ে শোনান নাহিদ ইসলাম। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে পুস্তিকাটি লেখা হয়েছে।
সরকারের ১৮০ দিন সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার ১৮০ দিনের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিল-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। ছয় মাস পর তথ্য-উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতিটিতেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানিসংকটে কলকারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।
সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন সংকট শিল্প উৎপাদন, কৃষি খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকিং খাতের লুটেরারা পুনরায় ফেরত আসছে, ভোগ্যপণ্য ও আমদানি বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে, বিএনপি তাতে নতুন অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। পাঁচ মাস দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এবং লুটেরা ও বাজার সিন্ডিকেটের প্রত্যাবর্তন একই সূত্রে গাঁথা বলে তাঁরা মনে করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার (যেমন মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) একে একে বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসবের জায়গায় আগের চেয়ে দুর্বল ও অকার্যকর আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। বহুল প্রচারিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারকে ছুড়ে ফেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত অগ্রাধিকার নীতিতে বিচার ও শহীদ পরিবার-আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অনুপস্থিত।
বিরোধী দল, মত ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হামলা-মামলার ঘটনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি বলেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পরিবর্তে হামলায় আহত ব্যক্তিদের আইনিভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশকে আবার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
পুস্তিকায় বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ-সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, নতুন মোড়কে র্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। সেসব বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়।
সরকার ‘ব্যর্থ’, বিরোধী দল ‘দায়িত্বশীল’
সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। শুধু ক্ষমতায় বসেছেন এবং পুরোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনা ও নীতি অনুযায়ী তিনি দেশকে পরিচালনা করছেন, দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছেন।’
সরকার সার্বিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য, বিশেষ করে এনসিপি গত ছয় মাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা খুবই দায়িত্বশীল আচরণ করেছি বিরোধী দলের জায়গা থেকে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তন আনার কথা, সেটা বিরোধী দল এনেছে। সরকার সেটার জবাব দিয়েছে আমাদের একজন ভাইয়ের চোখ কেড়ে নিয়ে। গাইবান্ধায় একজন মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে।’
বিরোধী দল আসলে ব্যর্থ, বিরোধী দল দুর্বল-এমন প্রচারকে ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁরা দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত এটা দেখিয়ে যাচ্ছেন যে কোথায় কোথায় সরকার ভুল করছে, প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছে। নীতিগতভাবে এটা মানুষকে যেমন তাঁরা দেখাবেন, একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে তাঁরা এটার প্রতিরোধ করবেন। যদি সরকার ক্রমে সেদিকেই হাঁটতে থাকে, তাহলে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে পড়বে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শিগগিরই ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ হবে পাঁচ থেকে ছয়টি বিভাগে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে তাঁরা একটা বড় বার্তা সরকারকে দেবেন। এরপর আরও কঠোর আন্দোলনের যদি প্রয়োজন হয়, সেটার ঘোষণা তাঁরা দেবেন। পাশাপাশি এনসিপিও তার সক্ষমতা অনুযায়ী উপজেলা-জেলা পর্যায়ে ও মহানগরগুলোয় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
ভারত প্রসঙ্গ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেটি ভারত সরকারের সহযোগিতা বা মদদ ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম করতে দেওয়া, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রাখা-এটা আসলে সম্ভব নয়। তাঁরা মনে করেন, এটা সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতা।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবে না দিল্লি, শেখ হাসিনাকে সেখানে রাখবে না, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকার শ্রদ্ধাশীল হবে, ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়া হবে-এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলেই বিগত ১৫ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশ-ইন যাতে না হয়, সীমান্ত হত্যা যাতে বন্ধ হয়-ইত্যাদির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে যেখানে শেখ হাসিনা রয়েছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তাহলে এটার আসলে অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসী কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটা শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য এটা একটা অবমাননাকর ঘটনা হবে। বাংলাদেশ যে স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্বের জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না-এটাই বার্তা যাবে।’
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
রাশেদ খাঁন
জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
তিনি বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে এনসিপিও একই রকম মিথ্যাচার শিখেছে। আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৫১২ জন গুম হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এই দাবির সময় নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই জঘন্য মিথ্যাচারের বিষয়ে কেউ কোনো টুঁ-শব্দও করেনি। জামায়াতের নেতারা ঠিক এভাবেই আত্মবিশ্বাসের সহিত মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন। কিন্তু জামায়াতের মতো একটি ইসলামিক দলের নেতারা যদি টুপি খুলে মিথ্যা বলেন, সেটিও না হয় সহ্য করা যায়। কিন্তু কীভাবে তারা বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করেন?
আর নতুন বন্দোবস্তের দল এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে গিয়ে ঠিক একই রকম মিথ্যাচার শিখেছে। আজকে নাকি তারা সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা সাংবাদিক সম্মেলন করে তুলে ধরবে। এনসিপি নেতাদের বক্তব্যও ঠিক হামিদুর রহমান আজাদের মতোই অপতথ্যে ভরপুর থাকে।
তিনি বলেন, এজন্যই মানুষজন বলা শুরু করেছে, আত্মবিশ্বাসের সহিত গুজব, মিথ্যা ও প্রপাগাণ্ডা প্রচারে জামায়াত-এনসিপির ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হ্যাঁ, এজন্যই বলি, সরকারি দলের ১৮০ দিনের মূল্যায়ন যেমন দরকার; ঠিক বিরোধী দল ৬ মাসে কী কী গুজব, প্রপাগাণ্ডা ও ঘৃণা ছড়িয়েছে তারও মূল্যায়ন দরকার।
জামায়াত আমির
“২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটিকে সামনের ‘চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।” রোববার ঢাকায় এক সেমিনারে এ কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.) এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক এ সেমিনারে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে যারা জেগে উঠেছিল তারা সবাই মারা যায়নি, বা তারা ঘুমিয়েও পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে।’
তিনি বলেন, মূল লড়াইয়ের আগে একটি সেনাবাহিনী গঠিত হয়; তাদের প্রশিক্ষণ ও মহড়া নিতে হয়। তাদের ২০২৪ সালকে চূড়ান্ত লড়াই বিবেচনা করা উচিত নয়। এটি ছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সাথে সম্পর্কিত নয়। ফ্যাসিবাদ একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসে যে কেউ আক্রান্ত হলে সে-ই ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়।
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে।’
তিনি সরকারকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে এই পথে হাঁটতে দেবে না।
তিনি বলেন, সরকার যদি ভালো কাজ করে, তবে বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন করা। কিন্তু সরকার যদি কোনো অন্যায় করে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেয় কিংবা ভুল পথে চলে, তবে বিরোধী দলকে অবশ্যই তার প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করতে হবে।
দেশের ভাবমূর্তি এবং নাগরিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের দরবারে একটি দেশের অবস্থান পরিমাপের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি দেশের ভাবমূর্তি তার জনগণের চরিত্রের সাথেও জড়িত।
তিনি বলেন, দেশে বারবার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারই এই চর্চা থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে আসতে পারেনি।
জামায়াত প্রধান নাগরিকদের ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট দেশকে খুশি করতে’ অতীতের বহু নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি এই জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।