ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপে সাবস্ক্রিপশন চালু করছে মেটা
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ বিনামূল্যে ব্যবহার করেন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে এসব প্ল্যাটফর্মে অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পথে হাঁটছে অ্যাপগুলোর মূল সংস্থা মেটা। প্রশ্ন উঠেছে-বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার পর হঠাৎ কেন সাবস্ক্রিপশন চালু করছে কোম্পানিটি?
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারকারীদের কাছে ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস (WhatsApp Plus)’ নামে একটি প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশনের প্রস্তাব দেখানো শুরু হয়েছে। এটি হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল অ্যাপের মধ্যেই থাকা একটি ঐচ্ছিক সেবা, যেখানে অতিরিক্ত কাস্টমাইজেশন ও চ্যাট ব্যবস্থাপনার কিছু সুবিধা দেওয়া হবে।
কী কী সাবস্ক্রিপশন চালু করেছে মেটা?
মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন মেটা এরই মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ চালু করেছে বা পরীক্ষামূলকভাবে চালাচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম প্লাস (Instagram Plus), ফেসবুক প্লাস (Facebook Plus) ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের জন্য মাসে ১২৮.৬৮ টাকা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা।
এছাড়া এআই-নির্ভর উন্নত সুবিধার জন্য আরও উচ্চমূল্যের পরিকল্পনাও পরীক্ষা করছে কোম্পানিটি। মেটা ওয়ান প্লাস (Meta One Plus) মাসে জন্য প্রায় ১,০০৮ টাকা ও মেটা ওয়ান প্রিমিয়ামের (Meta One Plus) জন্য মাসে প্রায় ২,৫২১ টাকা চার্জ যোগ করা হয়েছে। এই প্যাকেজগুলোতে উন্নত এআই সুবিধা, বেশি জেনারেশন ক্ষমতা ও উচ্চতর রিজনিং সক্ষমতা দেওয়া হবে। বর্তমানে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর দৈনিক ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৩৫০ কোটি।
এআইয়ের বিপুল ব্যয়ই কি আসল কারণ?
বিশ্লেষকদের মতে, এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে মেটার বিপুল বিনিয়োগ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় এআই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে মেটার বিরুদ্ধে। সেই ব্যবধান কমাতে কোম্পানিটি ব্যাপক অর্থ ব্যয় করছে। সম্প্রতি মেটা ‘স্কেল এআই’ -এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্সান্ডার ওয়াংকে নিজেদের ‘সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাব Superintelligence Lab’-এর নেতৃত্বে আনার জন্য ১৪.৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪৩০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে।
একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য কোম্পানিটি মূলধনী ব্যয়ের (Capital Expenditure) পূর্বাভাস বাড়িয়ে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে।
এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে-
ভারতের সঙ্গে বড় এআই অংশীদারত্ব
মেটার এআই পরিকল্পনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতে রিলাইয়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিস -এর সঙ্গে অংশীদারত্বে গুজরাটের জামনগরে একটি এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। গত সপ্তাহে ঘোষিত নতুন চুক্তির মাধ্যমে দুই কোম্পানি ভারতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে করপোরেট গ্রাহকদের জন্য এআইভিত্তিক সমাধান তৈরির উদ্যোগও সম্প্রসারণ করেছে।
বিজ্ঞাপনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
মেটার জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো আয়ের উৎসের সীমাবদ্ধতা। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মেটার মোট আয়ের ৯৭.৬ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে। অর্থাৎ প্রায় দুই দশক ধরে পরিচালিত হওয়ার পরও মেটা কার্যত একক আয়ের উৎসের ওপর নির্ভরশীল।
এখানেই মেটার সঙ্গে বড় পার্থক্য রয়েছে গুগলের। বিজ্ঞাপননির্ভর প্রতিষ্ঠান হলেও গুগল বহু আগেই ক্লাউড, সফটওয়্যার, সাবস্ক্রিপশন ও অন্যান্য খাত থেকে উল্লেখযোগ্য আয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাকারবার্গ এখন সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছেন।
বর্তমান প্রিমিয়াম সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, এসব সুবিধা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বড় অংশকে অর্থ খরচে উৎসাহিত করার মতো যথেষ্ট আকর্ষণীয় নয়। বরং এগুলো মূলত কনটেন্ট নির্মাতা, ইনফ্লুয়েন্সার ও ‘পাওয়ার ইউজার’দের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।
কোম্পানির ভেতরেও চাপ
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই-কেন্দ্রিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মেটা সম্প্রতি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। একই সঙ্গে নতুন এআই বিশেষজ্ঞদের উচ্চ বেতন, প্রকৌশলীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের দ্রুত আর্থিক ফল দেখানোর চাপও বাড়ছে।
ভবিষ্যতে কত আয় হতে পারে?
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মেটার সাবস্ক্রিপশন ব্যবসা থেকে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলার আয় আসতে পারে।
অন্যদিকে ডয়েচে ব্যাংকের অনুমান, শুধু আগামী বছরেই সাবস্ক্রিপশন খাত থেকে অতিরিক্ত ১৫.৬ বিলিয়ন বা ১৫৬০ কোটি ডলার রাজস্ব আসতে পারে। তবে ওয়াল স্ট্রিটের অনেক বিশ্লেষক এসব পূর্বাভাস নিয়ে এখনো সন্দিহান।
তাহলে কি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি পেইড হয়ে যাচ্ছে?
না। বর্তমানে মেটার মূল প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো বিনামূল্যেই ব্যবহার করা যাবে। তবে কোম্পানিটি ধীরে ধীরে এমন একটি মডেলের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফ্রি সংস্করণ ব্যবহার করবেন, আর অতিরিক্ত সুবিধা ও উন্নত এআই সেবা পেতে হলে অর্থ দিতে হবে।
প্রতীকী ছবি
শিক্ষার্থীদের এক বছরের জন্য বিনা মূল্যে গুগল এআই প্রো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সুবিধা পেতে শিক্ষার্থী হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে। ‘ব্যাক টু স্কুল’ প্রোগ্রামের আওতায় এ বিশেষ সুবিধা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করেছে গুগল। অফারের অধীনে এক বছরের জন্য শিক্ষার্থীরা গুগলের জেমিনাই ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। জেমিনাইতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যবহারের সীমা এবং ৪০০ জিবি ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজসহ আরও কিছু নতুন সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিশেষ সুবিধা কে কে পাবেন
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অফারটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাবেন। তবে সে জন্য তাঁদের কাছে থাকতে হবে নিজস্ব জিমেইল অ্যাকাউন্ট, দেশের স্বীকৃত কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণপত্র। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র দরকার হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের ওপরে হতে হবে।
প্রথমে ব্রাউজারে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট লগইন করে ‘Google One Student Page’-এ যান। এরপর ‘Get Student Offer’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। দেশের নাম Bangladesh সিলেক্ট করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও নিজের নাম লিখতে হবে শিক্ষার্থীদের।
এরপর নানা তথ্য চাইবে গুগল। সেগুলো পূরণ করতে হবে।
পড়াশোনায় জেমিনাইয়ের নতুন সুবিধা
শুধু সাবস্ক্রিপশন বিনা মূল্যে দেওয়াই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কাজে জেমিনাইকে আরও কার্যকর করে তুলতে নতুন কিছু সুবিধাও যুক্ত করেছে গুগল। স্টুডেন্ট হাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাসের নোট ও সিলেবাস আপলোড করতে পারবেন। এরপর জেমিনাই এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করতে পারবে ব্যক্তিগত পড়ার নোট, ছোট ছোট শিক্ষামূলক পাঠ ও কুইজ।
এমনকি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এই এআই (কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা) ব্যবস্থা। ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবিধা আনছে জেমিনাই। এটি জটিল বিষয় বোঝাতে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন এবং তথ্যের টেবিল তৈরি করতে পারবে। ফলে বিজ্ঞান, গণিত বা অন্য কোনো জটিল বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আরও সহজে ধারণা নিতে পারবেন। এ ছাড়া জেমিনাই লাইভের সঙ্গে ডিপ রিসার্চ সুবিধাও যুক্ত করা হচ্ছে।
গুগলের এই শিক্ষার্থী অফার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত গ্রহণ করা যাবে। তাই যাঁরা যোগ্য শিক্ষার্থী, তাঁরা সময়সীমার আগেই অফারটি যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ নিতে পারেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই অ্যাকাউন্টে পাসকি যোগ করার তাগিদ বা পরামর্শ পেয়ে থাকতে পারেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি থাকলেও পাসকি এনেছে নিরাপত্তা। সব ওয়েবসাইটে এখনও এর ব্যবহার চালু না হলেও পুরানো ব্যবস্থার তুলনায় পাসকি সবদিক থেকেই এগিয়ে। তবে পাসকি ব্যবহারে কিছু বিষয় বুঝে রাখা জরুরি।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মনে রাখা কোনো শব্দ বা সংখ্যার বদলে নির্দিষ্ট ডিভাইস বা সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল পাসকি। ফলে যেখানে পাসকি সংরক্ষণ করছেন, সেখান থেকে যেন ভুলবশত লকআউট না হয়ে যান সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে।
পাশাপাশি, বন্ধু বা পরিচিত কারও সঙ্গে সাধারণ পাসওয়ার্ডের মতো সহজে পাসকি শেয়ার করাও সম্ভব নয়। এরপরও অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য পাসওয়ার্ডের চেয়ে পাসকি ব্যবহার বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক, বিশেষ করে যারা এখনও পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করছেন না।
পাসকি কীভাবে কাজ করে তা একবার বুঝে নিলে দৈনন্দিন লগইনের ঝামেলা অনেকটাই কমে আসবে। পাসকি কোথায় ও কীভাবে সংরক্ষণ করছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় অপারেটিং সিস্টেম ও পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলো বর্তমানে পাসকি সুবিধা সমর্থন করছে।
পাসওয়ার্ড বনাম পাসকি: সুবিধায় কে এগিয়ে?
পাসওয়ার্ড ও পাসকির মধ্যে মূল পার্থক্য বুঝতে প্রথমে জানতে হবে দুটি প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে। পাসওয়ার্ড হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু বর্ণ বা সংখ্যার ‘গোপন কোড’, যা ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মালিকানা যাচাই করে।
সুরক্ষার স্বার্থে কোনো ওয়েবসাইটিই সরাসরি লেখা আকারে এ পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে না। এর বদলে বিশেষ গাণিতিক উপায়ে পাসওয়ার্ডটিকে এনক্রিপ্ট করে এলোমেলো কোডে রূপান্তর করা হয়, যাকে বলে ‘হ্যাশ’।
পরবর্তীতে ব্যবহারকারী সঠিক পাসওয়ার্ড দিলে ওয়েবসাইট সেটি তাদের ডেটাবেইসে থাকা হ্যাশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে ব্যবহারকারীকে প্রবেশাধিকার দেয়। সুরক্ষার মাত্রা বাড়াতে এ হ্যাশের সঙ্গে অতিরিক্ত র্যান্ডম ডেটা যোগ করা হয়, যা ‘সল্টিং’ নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, পাসকি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে কোনো কোড বা লেখা মনে রাখতে হয় না। এ প্রযুক্তি দুটি চাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একটি ‘পাবলিক কি’, যা ওয়েবসাইট সংরক্ষণ করে এবং অন্যটি ‘প্রাইভেট কি’, যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে।
ব্যবহারকারী যখন কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে যান তখন ওয়েবসাইটটি ডিভাইসে থাকা পাসকির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে বলে। এ প্রাইভেট কি’টি ব্যবহারকারীর মোবাইল বা কম্পিউটারের নিরাপদ স্টোরেজে সংরক্ষিত থাকে ও ফেইস আইডি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ‘উইন্ডোজ হ্যালো পিন’-এর মতো বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আনলক করতে হয়।
ফলে বায়োমেট্রিক সুবিধা ব্যর্থ হলে ডিভাইসের মূল পিন নম্বরটি ছাড়া ব্যবহারকারীকে বাড়তি কিছু মনে রাখার প্রয়োজন পড়ে না।
প্রাইভেট ও পাবলিক কি’র বিষয়টি একটি তালাবদ্ধ মেইলবক্স বা চিঠির বাক্সের সঙ্গে তুলনা করলে সহজে বোঝা যায়। চিঠির বাক্সের বাইরের অংশটি ‘পাবলিক কি’, যেখানে যে কেউ চিঠি বা আবেদন ফেলতে পারে।
তবে সেই বাক্সটি খুলে চিঠি বের করে স্বাক্ষর বা উত্তর দেওয়ার অনুমতি কেবল আসল মালিকের ‘প্রাইভেট কি’র কাছেই থাকে। বাইর থেকে মেইলবক্স দেখে কি’র রূপ কেমন তা যেমন বোঝার উপায় নেই, পাসকিও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। ডিভাইস নিরাপত্তা ও ‘ফিশিং’ ঠেকানো ব্যবস্থা থাকায় কোনো ভুয়া ওয়েবসাইট বা হ্যাকার তা চুরি করতে পারে না।
এ কারণে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে শক্তপোক্ত স্ক্রিন লক ব্যবহার করা জরুরি। বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন হলেও ডিভাইসের আনলক পিন যদি ‘১২৩৪’-এর মতো সহজ হয় তবে সুরক্ষিত বিভিন্ন লগইন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পাসওয়ার্ডের যেসব দুর্বলতা সমাধান করে ‘পাসকি’
পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বছরের পর বছর ধরে রয়েছে। প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই একই পাসওয়ার্ড বারবার বিভিন্ন সাইটে ব্যবহার করেন।
সাইবার অপরাধীরা চতুরতার সঙ্গে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়া ডেটাবেইসে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড এনক্রিপ্ট করা থাকলেও সাইবার আক্রমণের মুখে ডেটা চুরি হলে হ্যাকাররা তা ডিকোড বা ব্যবহারের পথ খুঁজে নেয়।
বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান করলেও তা পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়। এতে দুর্বল পাসওয়ার্ড জমা রাখা সম্ভব, ভুলবশত ভুয়া ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড পেস্ট হয়ে যেতে পারে বা ব্যবহারকারী নিজেই তাদের মূল ‘মাস্টার পাসওয়ার্ড’ ভুলে যেতে পারেন।
পাসকি এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে। যেমন–
● স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা: পাসকিতে দুর্বল বা সহজে অনুমান করা যায় এমন কোড তৈরির কোনো সুযোগ নেই। কারণ তা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান ধরে রেখে তৈরি হয়।
● ফিশিং ঠেকানো: পাসকি সরাসরি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ডোমেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে ভুলবশত কোনো ভুয়া বা ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে ঢুকলেও সেখান থেকে পাসকি চুরির সুযোগ থাকে না।
● একই কোড বারবার ব্যবহারে বাধা: পাসকি পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়, যা অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় বাড়তি নিশ্চয়তা দেয়।
● বহুমাত্রিক নিরাপত্তা: এ প্রযুক্তি একই সঙ্গে ‘ব্যবহারকারীর বিশ্বস্ত ডিভাইস’ ও ‘ডিভাইসের পিন বা বায়োমেট্রিক তথ্য’ যাচাই করে। ফলে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’-এর ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।
কোনো সাইবার হামলার ক্ষেত্রে পাসকি থেকে তথ্য চুরির কোনো ঝুঁকি থাকে না। কারণ ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত ‘পাবলিক কি’ আগে থেকেই সবার জন্য উন্মুক্ত, যা দিয়ে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কোনো ক্ষতি করা সম্ভব নয়।
সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে আমরা প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করি। কিন্তু আপনার একটি সাধারণ পোস্ট বা মন্তব্যও মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেতে পারে যদি তা মেটার ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘন করে।
বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ ‘রুলবুক’ বা নিয়মাবলী ফাঁস করা হয়েছিল, যেখানে সহিংসতা, যৌনতা এবং ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্যের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মেটার সেন্সরশিপ প্যাটার্ন নিয়ে ম্যাশেবল-এর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা বিষয়বস্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ফেসবুকে কোন ধরনের শব্দ বা বক্তব্য আপনার পোস্টকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো-
১. সহিংসতা এবং অপরাধমূলক উস্কানি
ফেসবুকের নীতি অনুযায়ী, কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্যমতে, ‘কাউকে গুলি করো’ (যেমন- ‘Someone shoot Trump’) এ জাতীয় সুনির্দিষ্ট হুমকি দেওয়া হলে সেই পোস্ট দ্রুত রিমুভ করা হয়। তবে মজার বিষয় হলো, ‘Fuck off and die’-এর মতো গালিগালাজ সবসময় রিমুভ হয় না, কারণ ফেসবুকের অ্যালগরিদম এগুলোকে অনেক সময় ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ হিসেবে গণ্য করে না। এছাড়া ‘লুটতরাজ শুরু হলে গুলিও শুরু হবে’—এ ধরনের উস্কানিমূলক বাক্য ব্যবহারের কারণে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টও মেটা রিভিউয়ের আওতায় এনেছিল।
২. ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্য
কোনো জাতি, ধর্ম বা বর্ণের মানুষকে হেয় করে কথা বললে ফেসবুক তা সেন্সর করে। যেমন- ‘আইরিশরা বোকা’ বা ‘অভিবাসীরা নোংরা’—এ জাতীয় বাক্য সরাসরি ঘৃণা উদ্রেককারী হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর সাথে তুলনা (যেমন- গরু, বানর বা আলু/potato) করেও যদি কাউকে আক্রমণ করা হয়, তবে তা হেইট স্পিচ হিসেবে রিমুভ হতে পারে।
৩. নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম
বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রশংসা করা ফেসবুকে নিষিদ্ধ। যেমন- মার্কিন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী টিমোথি ম্যাকভেই কিংবা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী কেকেকে-এর সমর্থনে কোনো শব্দ বা প্রতীক ব্যবহার করলে আপনার পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হবে এবং অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়বে।
৪. যৌন উত্তেজক ভাষা ও নগ্নতা
যৌনতা এবং নগ্নতা নিয়ে ফেসবুকের ফিল্টার অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্য গার্ডিয়ান-এর ফাঁস করা তথ্যে দেখা যায়, শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গের নাম বা বর্ণনা সরাসরি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এমনকি শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও যদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি যৌন আবেদনময় চিত্র থাকে, তবে তা রিমুভ করা হয়।
অনুবাদের ভুল ও বিভ্রান্তি
ইন্টারনিউজের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেসবুকের অটোমেটেড সিস্টেম অনেক সময় শব্দের সঠিক অনুবাদ বা প্রসঙ্গের গভীরতা বুঝতে ভুল করে। উদাহরণস্বরূপ, আরবিতে ‘সহিংসতার ডাক’ (calls to action)-কে ভুল অনুবাদ করে ‘ফোন কল’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছিল।
বাংলার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, ‘ধর্মীয় কোরবানি’ বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের নাম (যেমন- মসজিদ বনাম উপাসনাস্থল) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুবাদের পার্থক্যের কারণে অনেক সময় পোস্টের রিচ কমে যায় বা ভুলবশত ফ্ল্যাগ করা হয়।
ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা
ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেক সময় রূপক অর্থ বা ব্যঙ্গাত্মক ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়। তাই বিতর্কিত কোনো শব্দ ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নির্বাচনের সময় ফেসবুকের অ্যালগরিদম ‘স্লাল লিস্ট’ বা নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা আরও বাড়িয়ে দেয়।
কম্পিউটারে থাকা ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করতে এতদিন গুগল ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করতেন অনেকেই। তবে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে গুগল। এখন ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে কম্পিউটারের নির্দিষ্ট ফোল্ডার থেকে নতুন ছবি ও ভিডিও সরাসরি গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা যাবে না।
ফলে কম্পিউটারে ছবি বা ভিডিও রাখার পর সেগুলো গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করতে চাইলে ব্যবহারকারীদের নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
আগে রাখা ছবি-ভিডিও কি মুছে যাবে?
নতুন নিয়মে পুরোনো ছবি বা ভিডিও নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। আগে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা ছবি ও ভিডিও আগের মতোই থাকবে। ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের মাধ্যমে আগে যেসব ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোজে রাখা হয়েছে, সেগুলোও মুছে যাবে না।
অর্থাৎ পরিবর্তনটি শুধু নতুন করে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের পদ্ধতিতে।
যেভাবে কম্পিউটার থেকে ছবি রাখবেন
ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের পুরোনো সুবিধা বন্ধ হলেও কম্পিউটার থেকে গুগল ফটোজে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করা যাবে।
এ জন্য প্রথমে কম্পিউটারের ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে গুগল ফটোজে প্রবেশ করে নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে ঢুকতে হবে। এরপর ছবি যোগ করার বিকল্প থেকে ‘ফোল্ডার সংরক্ষণ’ নির্বাচন করতে হবে।
এরপর কম্পিউটারে যে ফোল্ডারে ছবি বা ভিডিও রয়েছে, সেটি নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার পর ওই ফোল্ডারে থাকা ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোজে সংরক্ষণ শুরু হবে।
অর্থাৎ, এতদিন যে কাজটি ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের মাধ্যমে করা যেত, এখন সেটিই সরাসরি গুগল ফটোজের ওয়েবসাইট থেকে করতে হবে।
বেশি সমস্যায় পড়বেন কারা?
নতুন পরিবর্তনটি বিশেষ করে তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা নিয়মিত কম্পিউটারে ছবি ও ভিডিও রেখে সেগুলো গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করতেন।
ক্যামেরা বা মুঠোফোনের ছবি কম্পিউটারে এনে সেখান থেকে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা, পুরোনো ছবি-ভিডিওর বড় সংগ্রহ অনলাইনে রাখা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ফোল্ডারের ছবি নিয়মিত সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে পুরোনো পদ্ধতি আর কাজ করবে না।
গুগল ড্রাইভে থাকা ছবি কি হারাবে?
না। গুগল ড্রাইভে আগে থেকে থাকা ছবি বা ভিডিও মুছে যাবে না। একইভাবে গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা পুরোনো ছবি ও ভিডিওও আগের মতোই থাকবে।
শুধু ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে কম্পিউটার থেকে গুগল ফটোজে নতুন ছবি ও ভিডিও পাঠানোর সুবিধাটি বন্ধ হয়েছে।
সংরক্ষণের আগে দেখে নিন জায়গা
ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করার আগে গুগল অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ গুগল ফটোজে ছবি ও ভিডিও রাখলে তা গুগল অ্যাকাউন্টের নির্ধারিত সংরক্ষণ জায়গা ব্যবহার করে।
এই একই সংরক্ষণ জায়গা জিমেইল ও গুগল ড্রাইভের জন্যও ব্যবহৃত হয়। ফলে অনেক ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণের আগে অ্যাকাউন্টে কতটা জায়গা খালি রয়েছে, তা দেখে নেওয়া ভালো।
নতুন নিয়মে পুরোনো ছবি-ভিডিও হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কম্পিউটার থেকে নিয়মিত গুগল ফটোজে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করা ব্যবহারকারীদের এখন থেকে পুরোনো পদ্ধতির বদলে গুগল ফটোজের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নামে ‘সার্কেল’ হিসেবে ব্র্যান্ডটির পরবর্তী যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এয়ারটেলকে একীভূতকারী মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা।
নতুন ব্র্যান্ডিং কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের পরিচিত‘এয়ারটেল’নামেরপরিবর্তে গ্রাহকদের কাছে‘সার্কেল’নামে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এয়ারটেলের দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে।
২০১৬ইং সালে Airtel Bangladesh Limited,Robi Axiata Limited-এর সঙ্গে একীভূত হয়।এরপর এয়ারটেল ব্র্যান্ডটি রবির অধীনে একটি স্বতন্ত্র পণ্য ব্র্যান্ড হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
এয়ারটেলের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ বাজারে এটি হবে উল্লেখযোগ্য একটি ব্র্যান্ড পরিবর্তন।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের কাছে’এয়ারটেল’নামটির জায়গায় ‘সার্কেল’নামটি নতুন পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে রবিকে বড় ধরনের ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।তবে নতুন নাম চালুর সময়,ব্র্যান্ড পরিবর্তনের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান গ্রাহকদের সেবা ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এসব বিষয়ে রবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সূর্যগ্রহণ দেখে বিপদে শত শত ব্রিটিশ নাগরিক
মহাবিশ্বের এক অপরূপ বিস্ময় সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ঢেকে ফেলে, তখন পৃথিবীতে এক অদ্ভুত অন্ধকার নেমে আসে। সেই সময় মানুষ কৌতূহলী হয়ে আকাশের দিকে তাকান।
কিন্তু সূর্যগ্রহণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ যুক্তরাজ্যে ১২ আগস্ট এক বিরল সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। এই গ্রহণ দেখতে দেশটির হাজার হাজার মানুষ বাইরে আসেন। অনেকেই কোনো সুরক্ষা চশমা ব্যবহার না করে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এখন তাঁরা চোখে চরম ব্যথার অভিযোগ করছেন।
অনেক ব্রিটিশ নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শারীরিক কষ্টের কথা জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আমি অন্ধ হয়ে যাচ্ছি।’
সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোর ফলে অনেকের চোখে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। বিশেষ চশমা ছাড়া সূর্যগ্রহণ দেখার কারণে এই শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সূর্যগ্রহণের মতো মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে মানুষ ব্যাকুল থাকেন। কিন্তু খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একে বলা হয় সোলার রেটিনোপ্যাথি। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি চোখের টিস্যু পুড়িয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে যুক্তরাজ্যের অনেকেই চোখের নানা সমস্যা অনুভব করছেন।
সরাসরি সূর্য দেখার পর বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায়। তখন চোখের ভেতরে তীব্র জ্বালা ও যন্ত্রণা হয়। স্বাভাবিক দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে দেখা যায়। চোখের সামনে কালো দাগ বা অন্ধকার দেখেন অনেকেই। সাময়িক বা স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই ভাবেন, গ্রহণের সময় সূর্যের তেজ কম থাকে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গ্রহণের সময় সূর্য থেকে আসা অদৃশ্য অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি চোখের গভীর ক্ষতি করে। এই ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। কয়েক ঘণ্টা পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা সব সময় সোলার ফিল্টার বা বিশেষ গ্রহণ চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
সাধারণ রোদচশমা বা সানগ্লাস চোখের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছে। যাঁরা খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখে চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের দ্রুত চক্ষুবিশেষজ্ঞ দেখানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল