সংগৃহীত ছবি
ফুটবল মানেই আবেগ, উন্মাদনা, নান্দনিকতা ও ইতিহাসের এক অসাধারণ মেলবন্ধন। আর সেই আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন বিশ্বমঞ্চে তৈরি হয় নতুন নতুন রেকর্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারের সামনে রয়েছে পুরোনো কীর্তি ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ।
থিবো কোর্তোয়া, দিদিয়ের দেশম, হ্যারি কেইন, লুকা মদ্রিচ, লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের সামনে রয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা। নিজেদের ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই অসংখ্য সাফল্য অর্জন করা এই তারকারা এবারও ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে কোন কোন রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছে, সেদিকেই এখন নজর ফুটবলপ্রেমীদের। ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের নতুন অধ্যায় রচনার সম্ভাবনায় এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা, আর বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের দিকে থাকছে সমর্থকদের বিশেষ নজর।
সবচেয়ে বয়স্ক কোচ:
রেকর্ডধারী: সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ডটি বর্তমানে ওটো রেহাগেলের দখলে। তিনি ৭১ বছর বয়সে বিশ্বকাপে কোচিং করিয়ে এই রেকর্ড গড়েন। ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২–০ গোলে হারের ম্যাচে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
ভাঙতে পারেন যারা: এই রেকর্ড এবার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডিক অ্যাডভোকাটের হাত ধরে, যার বর্তমান বয়স ৭৮ বছর। তার নেতৃত্বে জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে কুরাসাও ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলে তিনি নতুন করে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারেন।
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোসের বয়সও ২০২৬ বিশ্বকাপে ৭৪ বছর ছাড়িয়ে যাবে, যা তাকেও এই তালিকায় আলোচনায় রাখছে।
নকআউটে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা
রেকর্ডধারী: নকআউট পর্বে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডের মালিক পেপে (৩৯ বছর)। ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পর্তুগালের হয়ে ৩৯ বছর ২৮৩ দিন বয়সে গোল করে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।
ভাঙতে পারেন যারা: ২০২৬ বিশ্বকাপে এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১ বছর), লুকা মদরিচ (৪০ বছর) এবং এডিন জেকোর (৪০ বছর) মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের হাতে।
কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
রেকর্ডধারী: কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডের মালিক হেলমুট শোন (২৫ ম্যাচ)। টানা চারটি বিশ্বকাপে জার্মানির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ হিসেবে দায়িত্বে থেকে ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিকে শিরোপা জেতান শোন।
ভাঙতে পারেন যিনি: এবার তার এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে দিদিয়ের দেশমের হাতে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করা এই কোচ ১৯ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পারলে তিনি শোনের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছাবেন এবং এর পরের ধাপ অতিক্রম করলে রেকর্ডটি ভাঙার সুযোগ পাবেন।
সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বলজয়ী
রেকর্ডধারী: সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বলজয়ী রেকর্ডের মালিক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও (২১ বছর)। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে পরাজিত হলেও সেই আসরে তিনি ৪টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করেন। এই পারফরম্যান্সের জন্য মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়) জিতে নেন।
ভাঙতে পারেন যারা: এই রেকর্ডটি ভাঙার সম্ভাবনায় রয়েছেন কয়েকজন তরুণ তারকা। তাদের মধ্যে আছেন স্পেনের ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল এবং ফ্রান্সের ২০ বছর বয়সী দেজিরে দুয়ে।
খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয়
রেকর্ডধারী: খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়ার রেকর্ডের মালিক মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৭ জয়)। ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে খেলেন তিনি। ১৬ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। একই সঙ্গে ২৪ ম্যাচে ১৭ জয় নিয়ে খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়ার রেকর্ডও তার দখলে।
ভাঙতে পারেন যিনি: এই রেকর্ডের কাছাকাছি আছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়ার লিওনেল মেসি। এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচে ১৬ জয় নিয়ে তিনি ক্লোসার রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছেই রয়েছেন।
সর্বোচ্চ গোলদাতা
রেকর্ডধারী:২০১৪ বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসা তার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি নিজের করে নেন। মারাকানায় ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।
ভাঙতে পারেন যারা: তার এই রেকর্ড এখন হুমকির মুখে। ২৬ ম্যাচে ১৩ গোল নিয়ে সবচেয়ে কাছে আছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ১৪ ম্যাচে ১২ গোল নিয়ে তার পরেই রয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়া হ্যারি কেইন, নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোল সংখ্যা ৮টি করে।
বদলি হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ
রেকর্ডধারী: বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচে দেনিলসনের দৃশ্য প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছিল—বেঞ্চ থেকে উঠে এসে বাঁ উইংয়ে ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে খেলা বদলে দিতেন তিনি। মোট ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ১১টিতেই বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন এই সাবেক ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
ভাঙতে পারেন যিনি: এবার তার এই রেকর্ডের দিকে নজর ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার মার্কাস রাশফোর্ডের। এখন পর্যন্ত ৯ বার বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি দেনিলসনের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি রয়েছেন।
সর্বোচ্চ ক্লিন শিট
রেকর্ডধারী: ১৯৯০ এর বিশ্বকাপে আসরে সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার রেকর্ড গড়েন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলকিপার পিটার শিলটনের। পরে ২০০৬ বিশ্বকাপে সেই রেকর্ডের সমতা অর্জন করেন ফ্রান্সের ফাবিয়েন বার্থেজ।
ভাঙতে পারেন যিনি: এই রেকর্ডের কাছাকাছি আছেন বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। ১৫ ম্যাচে ৭টি ক্লিন শিট নিয়ে তিনি বর্তমানে রেকর্ডধারীদের পেছনে অবস্থান করছেন।
সর্বোচ্চ ফাইনাল
রেকর্ডধারী: ‘এক্সপ্রেস ট্রে’ খ্যাত কাফু ব্রাজিলের হয়ে ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন। তার দেশের কিংবদন্তি পেলে তিনবার বিশ্বকাপ জিতলেও ১৯৬২ ফাইনালে তিনি ছিলেন না।
ভাঙতে পারেন যারা: লিওনেল মেসি ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন এবং শেষবার শিরোপা জেতেন। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হন। কাফুর এই রেকর্ড এবার ভাঙার সুযোগ রয়েছে মেসি ও এমবাপ্পের সামনে।
সবচেয়ে বেশি টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক
রেকর্ডধারী: ‘বাতিগোল’ খ্যাত গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুটি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে গ্রিসের বিপক্ষে এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জ্যামাইকার বিপক্ষে তিনি এই কীর্তি গড়েন।
ভাঙতে পারেন যারা: এবার তার এই রেকর্ডের সামনে আছেন হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, গনসালো রামোস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তারা প্রত্যেকে একবার করে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন, ফলে রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।
ব্রাজিলের ব্র্যান্ডই হলো ফুটবল। তাদের শৈল্পিক ফুটবলে মোহিত পুরো বিশ্ব। পেলে-রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের খেলা দেখে ব্রাজিলের ভক্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের একটি অংশ।
টেলিভিশনে যে দলের সুন্দর ফুটবলে মুগ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা, এবার বাস্তবে সেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা দেখার সুযোগ। ঢাকার মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়ার মতো ইউরোপ মাতানো তারকা খেলবেন, ব্যাপারটি স্বপ্ন মনে হলেও বাস্তবতায় খুবই সম্ভব।
রোববার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ প্রতিনিধি ঢাকায় আসার পরই যে গুঞ্জন রটেছিল ফুটবলপাড়ায়, তা হয়তো আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবরে ঢাকার মাঠে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল প্রতিনিধি দল। তাদের আগ্রহে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ অক্টোবর হামজা চৌধুরী-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দ্বৈরথটা দেখা যাবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।
রোববার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ দেখেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও দেখেন তারা। দুই মাঠের মান ও সংলগ্ন অবকাঠামো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।
তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ-বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে প্রতিনিধি দল। দুটি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে পরশু রাতেই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। সেখানেই বাংলাদেশ আর ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
ব্রাজিলের প্রস্তাবিত তারিখ ৫ ও ৬ অক্টোবর। ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ঢাকায় আসতে চাইছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নানা আলোচনা চললেও ৬ অক্টোবর ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে গেছে- এমন খবর সঠিক নয় বলে গতকাল জানিয়েছেন বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। তাদের জায়গায় এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। এখন মহাসমস্যায় পড়েছে বাফুফে। ফিফার আমন্ত্রিত টুর্নামেন্ট আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছে না দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আবার ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রস্তাবও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই তো বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল হাঁটছেন সুন্দর সমাধানের পথে। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে।
এরপর আছে স্থান নির্ধারণী ম্যাচও, যার সম্ভ্যাব্য তারিখ ৩ অক্টোবর। তাই স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি না খেলে অথবা এক দিন এগিয়ে ২ অক্টোবর করা যায় কিনা, তা ফিফার কাছে আবেদন করবে বাফুফে। সেক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে রাতেই ঢাকায় রওনা দিলে ধকলটা কমবে বাংলাদেশের। তখন ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
বাংলাদেশে বেশ বড় বহর নিয়ে আসতে চায় ব্রাজিল। জানা গেছে ৯০ জনের কন্টিনজেন্টকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে দুবাই চার্টার্ড করে পাঠাতে হবে বাফুফেকে। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। শুধু ম্যাচ আয়োজনের জন্য কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই খরচ বহন করা কঠিন বাফুফের জন্য। তাই ব্রাজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের অর্থের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইবে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে’ বলেন শাহীন।
ছবি : সংগৃহীত
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী একটি বল এবারও উঠল নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা বিখ্যাত ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের বলটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪২ কোটি টাকায়।
যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবার এই নিলামের আয়োজন করে হেরিটেজ অকশনস। ঐতিহাসিক বলটির দাম সর্বোচ্চ ১ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম দামেই এটি বিক্রি হয়েছে। নিলামে বলটির চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২৫ লাখ পাউন্ডের (৪১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩৫০০ টাকা) সমান।
বলটি ছিল অ্যাডিডাসের ‘আজতেকা’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মেক্সিকো সিটিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনারের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে এই বলই ব্যবহার করা হয়েছিল। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লড়াইয়ে মাথার বদলে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের।
শুধু বিতর্কিত সেই গোলই নয়, একই ম্যাচে ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত হয়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। পাঁচজন ইংলিশ আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে শিলটনকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপও জিতে নেয় ম্যারাডোনার দল।
৩০ বছর ধরে রেফারির কাছে ছিল বল
ওই ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন ম্যাচের রেফারি আলি বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় তার সংগ্রহেই ছিল ঐতিহাসিক এই বস্তুটি।
২০২৩ সালে বিন নাসের একটি চিঠিতে নিশ্চিত করেন, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচে ব্যবহৃত একমাত্র বলটিই তার কাছে আছে। পরে স্বাধীনভাবে করা পরীক্ষাতেও বলটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের নিলাম বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে বলটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীগুলোর একটি।
এর আগেও বিক্রি হয়েছিল
এটি অবশ্য বলটির প্রথম নিলাম নয়। ২০২২ সালে আলি বিন নাসের বলটি বিক্রি করেছিলেন ২৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে, যা সে সময় প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডের সমান ছিল। পরের বছর নতুন মালিক আবার বলটি নিলামে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য পর্যন্ত কোনো দর না ওঠায় সেটি বিক্রি হয়নি।
অবশেষে ২০২৬ সালের নতুন নিলামে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়। ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের সেই ঐতিহাসিক বল।
একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও এর আগে নিলামে উঠেছিল। ২০২২ সালে সেই জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৭১ লাখ পাউন্ডে। ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের স্মারক হিসেবে ম্যারাডোনার জার্সির তুলনায় বলটির দাম এবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমই থাকল।
পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ
আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।
দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’
অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ।
সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের মাটিতে ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল। আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। তবে প্রস্তাবের সঙ্গে রয়েছে কিছু শর্তও।
বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রস্তাব অনুযায়ী কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর পুরো দলকে ঢাকা নিয়ে আসার বিমান খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।
শুধু বিমানভাড়া নয়, বাংলাদেশে অবস্থানের সময় ব্রাজিল দলের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচও বহন করতে হবে বাফুফেকে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যয়। ঢাকা থেকে ব্রাজিল ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পুরো দলের বিমানভাড়ার একটি অংশ বহনের শর্ত রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে দুবাই পর্যন্ত তাদের যাত্রার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।
তবে ব্রাজিলকে ম্যাচ ফি বা কমার্শিয়াল কোনো অর্থ দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। ফলে পুরো আয়োজনের মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়।
অবশ্য সরাসরি ব্রাজিলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেয়ে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ব্রাজিল আগে থেকেই ভারতে আসছে। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর সেখান থেকে ঢাকায় আসতে পারবে তারা। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ ও লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমে আসবে।
ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার সফরের শেষটা ভালো হয়নি। ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে, তাও দুই দিনের মধ্যেই। এরপরও বাংলাদেশ দল গড়েছে নতুন ইতিহাস। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ।
আজ আইসিসি ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২৪ ম্যাচে ১৮৭৮ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের রেটিং এখন ৭৮। এর আগে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাত নম্বরে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে ২-০ তে সিরিজ হারানোর পর।
বাংলাদেশ এখন পেছনে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশের উত্থানের কারণে এক ধাপ করে পিছিয়েছে শ্রীলঙ্কা (৭),পাকিস্তান (৮) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৯)।
শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ১২৬। ১১৯ রেটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয়। এরপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড আছে সেরা পাঁচে। সেরা পাঁচে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করাতেই এমন উত্থান বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
এমন জয় চমকে দিয়েছিল ক্রিকেটবিশ্বকে। যদিও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিততে পারেনি। ম্যাকাইয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে এমন উত্থানকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। ম্যাকাই টেস্ট শেষে তিনি বলেছেন, ‘ ভালো খবর, অবশ্যই ভালো খবর। খবরটা আরও ভালো হতো যদি এই টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম। তবে ছয় নম্বরে আমরা প্রথমবারের মতো আসলাম টেস্ট ক্রিকেটে, এটা অনেক বড় অর্জন।’
ছবি : সংগৃহীত
ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে ৩ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে সফরকারীরা। এই জয়ে সিরিজে সমতা টেনেছে অস্ট্রেলিয়া। দেড় দিনেই শেষ হলো ম্যাকাই টেস্ট।
চা-বিরতির পর নাথান লায়নের প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৮ রান করে ফেরেন তাসকিন আহমেদ। ৯৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারের একেবারে দ্বারপ্রান্তে তখন বাংলাদেশ।শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল ইসলাম প্রথম বল ডিফেন্স করেন। পরের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ৯৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে। দুই ইনিংসে মিচেল স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪টি। ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন কামিন্স ও লায়ন।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
এই ইনিংসেও স্টার্কের তোপে পরপর দুই বলে আউট হন সাদমান ও মুমিনুল। টিকতে পারেননি প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমও। কামিন্সের বলে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।
শুরুতেই একবার আউট হতে গিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর ইতিবাচক ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশার শেষই হলো তার ইনিংসের।
নাথান লায়নের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়ে ক্যাচ দিয়েছেন লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার স্টার্কের হাতে। চতুর্থ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ৪৬ বলে ৩১ রান করে আউট হলেন নাজমুল।
ডারউইনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ০ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার দরকার পড়েনি। ম্যাকাইতে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আউট হলেন কোনো রান না করেই।
তিন শূন্য নিয়ে চলমান টেস্ট সিরিজ ব্যর্থতায় পার করলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ বল খেলে শূন্য রানে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। স্টার্কের অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে বল খোঁচা মেরে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে দাঁড়ানো ওয়েবস্টারের হাতে।
প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯২ বলে ১৪ রান করা হাসানও পারেননি কিছু করতে। ২ রানেই প্যাট কামিন্সের বলে ট্রাভিস হেডকে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর আউট হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। কামিন্সের বলে ১ রান করে খোঁচা দিয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ।
তাইজুলকে বোল্ড করে বাংলাদেশ অষ্টম উইকেটের পতন ঘটান মিচেল স্টার্ক। ৭ রান করে ফিরলেন তাইজুল। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে চলমান টেস্টে ১০ উইকেট শিকার করলেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর এখন পর্যন্ত এই ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়া লিড তুলেছে ১৪৬ রানের।