ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে টিকিটের প্রথম দফার উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হয়েছে। সেখানে ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা) রাখছে ফিফা। পুনর্বিক্রয় বা ‘রিসেল’ বাজার বাদ দিয়ে শুধু বক্স অফিসের দাম বিবেচনা করলে ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। অথচ আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের বিড–বুকে জানানো হয়েছিল, ফাইনালে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম হবে ১ হাজার ৫৫০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা)।


গত ডিসেম্বরে যখন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অফিশিয়াল সমর্থকগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য টিকিট ছাড়া হয়েছিল, তখন সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার (প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা)। গত বুধবার যখন সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সেই দাম আরও বেড়ে যায়। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্যালারির সেরা আসনের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০৪ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা)।


২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের প্রকৃত মূল্যকাঠামো বোঝা বেশ কঠিন। কারণ, ফিফা কখনোই তাদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি। ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা মূলত ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে টিকিটের চাহিদা অনুযায়ী সময়ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।


টিকিটের এমন আকাশচুম্বী দামের কারণে গত বছরের শেষ দিকে অনেকেই একে ফুটবলভক্তদের সঙ্গে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বলেছিলেন। যদিও গত ডিসেম্বরে ফিফা মাত্র ৬০ ডলার মূল্যের কিছু স্বল্পমূল্যের টিকিটের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে বুধবার প্রথমবারের মতো টিকিটের উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হওয়ার পর চড়া দামের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এল।


ফাইনালে টিকিটের দাম বেড়েছে ৩৮ শতাংশ


আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।


ফাইনালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের টিকিটের দাম আসলে কত, তা নিশ্চিতভাবে বলা প্রায় অসম্ভব। কারণ, ফিফা কখনোই টিকিটের দামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা কোন ক্যাটাগরিতে কতটি টিকিট আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি।


ফিফার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট ঘেঁটে বর্তমানে কী ধরনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর দাম কেমন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে এর বাইরে আরও দামি কোনো টিকিট আছে কি না, কিংবা তুলনামূলক সস্তা ক্যাটাগরির টিকিট বেশি সংখ্যায় ছাড়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই।


এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তাতে গত ডিসেম্বরের তুলনায় এবারের উন্মুক্ত বিক্রিতে ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারের টিকিটের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও দাম বেড়েছে।


দ্বিতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলারে (প্রায় ৯ লাখ টাকা)।


তৃতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (প্রায় ৭ লাখ টাকা)।


শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রি শুরুর আগে ফিফা কোনো পূর্বঘোষণা দেয়নি যে কোন ম্যাচের টিকিট কত দামে পাওয়া যাবে। বিবিসি জানিয়েছে, যাঁরা টিকিট কিনতে পেরেছেন, তাঁরা দেখেছেন যে শীর্ষ দলগুলোর ম্যাচ এবং নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর টিকিটের দাম অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মটি আবার চালু হয়েছে। সেখানে টিকিটের দাম আরও আকাশচুম্বী। বিবিসি জানিয়েছে, একজন বিক্রেতা তাঁর একটি টিকিটের জন্য ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) দাবি করেন।


টিকিট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাট


গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল লাইনে যুক্ত হয়। বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া আটটার দিকে সেই লাইনে দাঁড়ানোর পর শুরুতে একটি ‘হোল্ডিং মেসেজ’ দেখা যায়। রাত ৯টায় সেটি পরিবর্তিত হয়ে একটি লাল বৃত্তে পরিণত হয় এবং লেখা ওঠে: ‘অলমোস্ট দেয়ার’ বা ‘প্রায় কাছাকাছি’।


রাত ১০টার দিকে পর্দায় একটি ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) শুরু হয়। যখন দেখাচ্ছিল, লাইন আর মাত্র দুই মিনিটের, ঠিক তখনই সময় হঠাৎ বেড়ে ১৫ মিনিট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত যখন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ মেলে, তখন হাজার হাজার সমর্থকের মতো বিবিসিকেও পড়তে হয় কারিগরি জটিলতায়।


শুরুতেই যাঁরা লগইন করেছিলেন, তাঁদের ভুল করে ‘পিএমএ টিকিট’ (প্লে-অফ জয়ী দলের সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত) দেওয়া হয়। সেখানে ঢোকার পর দেখা যায়, একটি কোড চাওয়া হচ্ছে। সমর্থকেরা ভুল বুঝতে পারলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তাঁদের আবার নতুন করে লাইনের শেষে দাঁড়াতে হয়। এর ফলে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় অনেকেরই।


ফিফা এই ভুলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে তারা দাবি করেছে, রাত ১০টার মধ্যেই লিংকগুলো ঠিকঠাক কাজ করা শুরু করে। নতুন করে লাইনে দাঁড়ানোর পর টিকিটের মূল পাতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬ ঘণ্টা ১৪ মিনিট।


গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৩৫টির টিকিট সেখানে দেখায়। তবে বিবিসির প্রবেশের সময় ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের কোনো ম্যাচ কিংবা নকআউট পর্বের কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না। আয়োজক দেশগুলো বাদে শীর্ষ ১০টি বাছাই দলের মধ্যে কেবল নেদারল্যান্ডসের একটি ম্যাচের টিকিট তখন অবশিষ্ট ছিল।


টিকেটের দাম শুরু হয়েছে ১৪০ ডলার থেকে, যা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত দেখা গেছে। প্রদর্শিত টিকিটের গড় মূল্য ছিল ৩৫৮ ডলার। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মধ্যে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার দেখা যায়, যদিও ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের তুলনায় এই টিকিটের পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য।


করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজের আওতায় ইংল্যান্ড–পানামা ম্যাচের একটি বিলাসবহুল স্যুইটের দাম দেখা গেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ ডলার। ২৪টি টিকিটসহ খাবার ও পানীয়ের এই প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ পড়ছে ৫ হাজার ২০০ ডলার।


ফিফা ইঙ্গিত দিয়েছে, কিক-অফের আগপর্যন্ত যেকোনো সময় নতুন টিকিট ছাড়া হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচের টিকিট দেখা যায়, যার মধ্যে ৬টি ছিল কেবল হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সঙ্গীদের জন্য। বিতর্কিত বিষয় হলো, ফিফা এবার হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সহকারীদের জন্য কোনো বিনা মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা রাখেনি। তাঁদের পুরো দাম দিয়েই টিকিট কিনতে হচ্ছে এবং আসনগুলোও পাশাপাশি হবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।


এখনো সবচেয়ে বেশি টিকিট পড়ে আছে ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে ম্যাচের। এই ম্যাচের ১ হাজার ৪০৬টি প্রথম ক্যাটাগরির টিকিট প্রতিটি ২ হাজার ৭৩৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কানাডা বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ম্যাচেরও ৮৪৬টি টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে।


পুনর্বিক্রয়ের বাজারে দাম ১ কোটি টাকা


গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয়ের প্ল্যাটফর্মটি আবারও উন্মুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম এখানে চড়া হবে। মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, সেখানে মূল দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুনর্বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।


ফিফার এই প্ল্যাটফর্মে যে কেউ টিকিট কেনার পর তা নিজের ইচ্ছেমতো দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করতে পারেন। তবে এগুলো মূলত বিক্রেতাদের চাওয়া দাম, যা নিশ্চিত করে না যে টিকিটগুলো ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে।


প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পরপরই বিবিসি স্পোর্ট দেখেছে, ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার। এমনকি সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা)।


ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। মাত্র ৬০ ডলারের একটি টিকিট সেখানে ১ হাজার ৪৯৯ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। আবার যে টিকিটের প্রকৃত দাম ৪৪৫ ডলার, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ডলার। এই মূল্যের ওপর ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষ থেকেই ১৫ শতাংশ ফি কেটে রাখবে।


‘ফিফার টিকিট বিক্রিতে আরও এক কলঙ্ক’


টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া ফিফা যেভাবে সামলাচ্ছে, তা সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। টিকিটের কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যতালিকা না থাকা এবং বিক্রির আগপর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।


ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বস্থানীয় টমাস কনক্যানন বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘পুরো বিষয় যেন একটা বড় রহস্য। সমর্থকেরা আসলে বুঝতেই পারছে না তাঁরা এখন কী করবে।’ কনক্যানন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফিফার টিকিট বিক্রির ইতিহাসে এটি আরেকটি বড় কলঙ্ক। টুর্নামেন্টজুড়েই এমনটা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।’


কনক্যাননের মতে, সব খরচ মিলিয়ে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ দেখতেই একজন সমর্থকের কয়েক হাজার পাউন্ড থেকে শুরু করে ১০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে। কনক্যানন বলেন, ‘জীবনে হয়তো একবারই বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ আসে। অনেকের জন্য এটি ছিল সেই সুযোগ, কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে তারা আর যেতে পারবে না।’





  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

ব্রাজিলের ব্র্যান্ডই হলো ফুটবল। তাদের শৈল্পিক ফুটবলে মোহিত পুরো বিশ্ব। পেলে-রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের খেলা দেখে ব্রাজিলের ভক্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের একটি অংশ। 


টেলিভিশনে যে দলের সুন্দর ফুটবলে মুগ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা, এবার বাস্তবে সেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা দেখার সুযোগ। ঢাকার মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়ার মতো ইউরোপ মাতানো তারকা খেলবেন, ব্যাপারটি স্বপ্ন মনে হলেও বাস্তবতায় খুবই সম্ভব। 


রোববার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ প্রতিনিধি ঢাকায় আসার পরই যে গুঞ্জন রটেছিল ফুটবলপাড়ায়, তা হয়তো আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবরে ঢাকার মাঠে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল প্রতিনিধি দল। তাদের আগ্রহে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ অক্টোবর হামজা চৌধুরী-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দ্বৈরথটা দেখা যাবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।


রোববার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ দেখেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও দেখেন তারা। দুই মাঠের মান ও সংলগ্ন অবকাঠামো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। 


তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ-বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে প্রতিনিধি দল। দুটি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে পরশু রাতেই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। সেখানেই বাংলাদেশ আর ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। 


ব্রাজিলের প্রস্তাবিত তারিখ ৫ ও ৬ অক্টোবর। ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ঢাকায় আসতে চাইছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নানা আলোচনা চললেও ৬ অক্টোবর ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে গেছে- এমন খবর সঠিক নয় বলে গতকাল জানিয়েছেন বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’


ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। তাদের জায়গায় এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। এখন মহাসমস্যায় পড়েছে বাফুফে। ফিফার আমন্ত্রিত টুর্নামেন্ট আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছে না দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আবার ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রস্তাবও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই তো বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল হাঁটছেন সুন্দর সমাধানের পথে। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে। 


এরপর আছে স্থান নির্ধারণী ম্যাচও, যার সম্ভ্যাব্য তারিখ ৩ অক্টোবর। তাই স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি না খেলে অথবা এক দিন এগিয়ে ২ অক্টোবর করা যায় কিনা, তা ফিফার কাছে আবেদন করবে বাফুফে। সেক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে রাতেই ঢাকায় রওনা দিলে ধকলটা কমবে বাংলাদেশের। তখন ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।


বাংলাদেশে বেশ বড় বহর নিয়ে আসতে চায় ব্রাজিল। জানা গেছে ৯০ জনের কন্টিনজেন্টকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে দুবাই চার্টার্ড করে পাঠাতে হবে বাফুফেকে। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। শুধু ম্যাচ আয়োজনের জন্য কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই খরচ বহন করা কঠিন বাফুফের জন্য। তাই ব্রাজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের অর্থের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইবে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। 


‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে’ বলেন শাহীন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী একটি বল এবারও উঠল নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা বিখ্যাত ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের বলটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪২ কোটি টাকায়।


যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবার এই নিলামের আয়োজন করে হেরিটেজ অকশনস। ঐতিহাসিক বলটির দাম সর্বোচ্চ ১ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম দামেই এটি বিক্রি হয়েছে। নিলামে বলটির চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২৫ লাখ পাউন্ডের (৪১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩৫০০ টাকা) সমান।


বলটি ছিল অ্যাডিডাসের ‘আজতেকা’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মেক্সিকো সিটিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনারের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে এই বলই ব্যবহার করা হয়েছিল। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লড়াইয়ে মাথার বদলে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের।


শুধু বিতর্কিত সেই গোলই নয়, একই ম্যাচে ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত হয়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। পাঁচজন ইংলিশ আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে শিলটনকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি।


শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপও জিতে নেয় ম্যারাডোনার দল।


৩০ বছর ধরে রেফারির কাছে ছিল বল


ওই ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন ম্যাচের রেফারি আলি বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় তার সংগ্রহেই ছিল ঐতিহাসিক এই বস্তুটি।


২০২৩ সালে বিন নাসের একটি চিঠিতে নিশ্চিত করেন, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচে ব্যবহৃত একমাত্র বলটিই তার কাছে আছে। পরে স্বাধীনভাবে করা পরীক্ষাতেও বলটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।


নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের নিলাম বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে বলটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীগুলোর একটি।


এর আগেও বিক্রি হয়েছিল


এটি অবশ্য বলটির প্রথম নিলাম নয়। ২০২২ সালে আলি বিন নাসের বলটি বিক্রি করেছিলেন ২৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে, যা সে সময় প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডের সমান ছিল। পরের বছর নতুন মালিক আবার বলটি নিলামে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য পর্যন্ত কোনো দর না ওঠায় সেটি বিক্রি হয়নি।


অবশেষে ২০২৬ সালের নতুন নিলামে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়। ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের সেই ঐতিহাসিক বল।


একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও এর আগে নিলামে উঠেছিল। ২০২২ সালে সেই জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৭১ লাখ পাউন্ডে। ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের স্মারক হিসেবে ম্যারাডোনার জার্সির তুলনায় বলটির দাম এবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমই থাকল।


পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ পিএম

আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 


কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।


দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। 


ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’


অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। 


সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।


বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

বাংলাদেশের মাটিতে ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল। আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। তবে প্রস্তাবের সঙ্গে রয়েছে কিছু শর্তও। 


বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রস্তাব অনুযায়ী কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর পুরো দলকে ঢাকা নিয়ে আসার বিমান খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।


শুধু বিমানভাড়া নয়, বাংলাদেশে অবস্থানের সময় ব্রাজিল দলের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচও বহন করতে হবে বাফুফেকে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যয়। ঢাকা থেকে ব্রাজিল ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পুরো দলের বিমানভাড়ার একটি অংশ বহনের শর্ত রয়েছে। 


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে দুবাই পর্যন্ত তাদের যাত্রার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।


তবে ব্রাজিলকে ম্যাচ ফি বা কমার্শিয়াল কোনো অর্থ দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। ফলে পুরো আয়োজনের মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়।


অবশ্য সরাসরি ব্রাজিলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেয়ে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ব্রাজিল আগে থেকেই ভারতে আসছে। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর সেখান থেকে ঢাকায় আসতে পারবে তারা। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ ও লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমে আসবে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার সফরের শেষটা ভালো হয়নি। ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে, তাও দুই দিনের মধ্যেই। এরপরও বাংলাদেশ দল গড়েছে নতুন ইতিহাস। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ।


আজ আইসিসি ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২৪ ম্যাচে ১৮৭৮ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের রেটিং এখন ৭৮। এর আগে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাত নম্বরে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে ২-০ তে সিরিজ হারানোর পর।


বাংলাদেশ এখন পেছনে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশের উত্থানের কারণে এক ধাপ করে পিছিয়েছে শ্রীলঙ্কা (৭),পাকিস্তান (৮) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৯)।


শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ১২৬। ১১৯ রেটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয়। এরপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড আছে সেরা পাঁচে। সেরা পাঁচে কোনো পরিবর্তন আসেনি।


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করাতেই এমন উত্থান বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।


এমন জয় চমকে দিয়েছিল ক্রিকেটবিশ্বকে। যদিও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিততে পারেনি। ম্যাকাইয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।


টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে এমন উত্থানকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। ম্যাকাই টেস্ট শেষে তিনি বলেছেন, ‘ ভালো খবর, অবশ্যই ভালো খবর। খবরটা আরও ভালো হতো যদি এই টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম। তবে ছয় নম্বরে আমরা প্রথমবারের মতো আসলাম টেস্ট ক্রিকেটে, এটা অনেক বড় অর্জন।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে ৩ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে সফরকারীরা। এই জয়ে সিরিজে সমতা টেনেছে অস্ট্রেলিয়া। দেড় দিনেই শেষ হলো ম্যাকাই টেস্ট।


চা-বিরতির পর নাথান লায়নের প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৮ রান করে ফেরেন তাসকিন আহমেদ। ৯৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারের একেবারে দ্বারপ্রান্তে তখন বাংলাদেশ।শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল ইসলাম প্রথম বল ডিফেন্স করেন। পরের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ৯৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।


মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে। দুই ইনিংসে মিচেল স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪টি। ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন কামিন্স ও লায়ন।


এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা।


এই ইনিংসেও স্টার্কের তোপে পরপর দুই বলে আউট হন সাদমান ও মুমিনুল। টিকতে পারেননি প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমও। কামিন্সের বলে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।


শুরুতেই একবার আউট হতে গিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর ইতিবাচক ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশার শেষই হলো তার ইনিংসের।


নাথান লায়নের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়ে ক্যাচ দিয়েছেন লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার স্টার্কের হাতে। চতুর্থ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ৪৬ বলে ৩১ রান করে আউট হলেন নাজমুল।


ডারউইনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ০ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার দরকার পড়েনি। ম্যাকাইতে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আউট হলেন কোনো রান না করেই।


তিন শূন্য নিয়ে চলমান টেস্ট সিরিজ ব্যর্থতায় পার করলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ বল খেলে শূন্য রানে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। স্টার্কের অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে বল খোঁচা মেরে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে দাঁড়ানো ওয়েবস্টারের হাতে।


প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯২ বলে ১৪ রান করা হাসানও পারেননি কিছু করতে। ২ রানেই প্যাট কামিন্সের বলে ট্রাভিস হেডকে ক্যাচ দিয়ে।


এরপর আউট হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। কামিন্সের বলে ১ রান করে খোঁচা দিয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ।


তাইজুলকে বোল্ড করে বাংলাদেশ অষ্টম উইকেটের পতন ঘটান মিচেল স্টার্ক। ৭ রান করে ফিরলেন তাইজুল। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে চলমান টেস্টে ১০ উইকেট শিকার করলেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর এখন পর্যন্ত এই ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪ উইকেট।


প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়া লিড তুলেছে ১৪৬ রানের।