• প্রকাশ : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১১:২০ এএম

বরগুনায় এ বছর আলু আবাদ করে ভালো ফলন হলেও সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছেন না বরগুনার স্থানীয় আলু চাষীরা। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে জেলার বাইরে থেকে তেমন কেনো পাইকার না আসায় কম দামেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে জেলায় কোনো হিমাগার স্থাপন না হওয়ায় আলু সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থাও নেই। ফলে বাধ্য হয়েই উভয় সংকটে আলু চাষীরা। এতে পাইকারী বাজারে লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের পরিশ্রমে ফলা ক্ষেতের আলু। 


ভুক্তভোগী কৃষকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে যে কোনো সমস্যা সমাধান এবং আলু বিক্রির ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি বিপণন বিভাগ। অপরদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরগুনায় প্রত্যায়নের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী কৃষক, পাইকার এবং আড়তদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আলু আবাদের দিক থেকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনার অবস্থান তৃতীয়। তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ অঞ্চলে আলুর চাষ কিছুটা কম হলেও বরগুনায় উৎপাদিত আলুতে এখানকার অনেকটাই চাহিদা পূরণ হয়। তবে গত বছর বরগুনায় ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর তা কমিয়ে ৯৪৫ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা কমলেও জেলায় এবছর ভালো হয়েছে আলুর ফলন।


এ বছর বরগুনায় আলু আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪৫ হেক্টরের বিপরীতে মোট ৭৭৩.৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে আলু। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় নির্ধারিত ১২০ হেক্টরের বিপরীত ৩০, পাথরঘাটায় ৫৬২ হেক্টরের পরিবর্তে ৫০৫, বামনা নির্ধারিত ৪২ হেক্টর, বেতাগী ১৩২ হেক্টরের বিপরীতে ১৩৩, আমতলী ১৯ হেক্টরের বিপরীতে বেশি ৩০.৪৫, এবং তালতলীতে ৭০ হেক্টরের পরিবর্তে ৩৩ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব জমির আলু উত্তোলনে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তবে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পাইকারদের কাছ থেকে সঠিক দাম না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। অপরদিকে, জেলায় উৎপাদিত আলুর জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় আলু সংরক্ষণও করতে পারছেন না স্থানীয় এ সব কৃষকরা।


সরেজমিনে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন আলু চাষের খেত ঘুরে দেখা যায়, উৎপাদিত আলু খেত থেকে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ চাষীরা। তাদের মধ্যে কেউ খেত থেকে আলু তুলছেন, আবার কেউ তা নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে জমা করছেন। তবে তুলনামূলক এ বছর কৃষকদের আলুর ফলন ভালো হওয়ায় কাজের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও চোখে মুখে রয়েছে চিন্তার ছাপ। অতিরিক্ত দামে সার ওষুধ কিনতে হলেও ভালো দামে বিক্রি করে লাভের আশা করছিলেন তারা। কিন্তু জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পাইকার কমে যাওয়া এবং ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করছেন এখানকার কৃষকরা।


মো. হেলাল নামে ওই এলাকার এক আলু চাষি বলেন, “আমি প্রত্যেক বছরই আলু চাষ করি। এবছর পাইকার না পাওয়ায় আলু বিক্রি করতে পারছি না। আবার যাদেরকে পাই, তারা জ্বালানি তেলের সংকট বলে ঠিকভাবে দাম দিতে চায় না। আলু চাষে এ বছর যে টাকা খরচ হয়েছে, আমাদের সেই টাকাই উঠবে না।”


৪ লাখ টাকা খরচ করে তিন একর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন কৃষক জাকির হাওলাদার। খেতে উৎপাদিত আলু সঠিক দামে বিক্রি করতে না পেরে তিনি বলেন, “এবছর আমরা আলু বিক্রি করতে পারছি না। জমি থেকে আলু উঠিয়ে স্তূপ করে রেখেছি। ৪ লাখ টাকা খরচ করে আশা করছিলাম অন্তত ৬ লাখ টাকায় আলু বিক্রি করতে পারবো। কিন্তু এখন জ্বালানি সংকটের কথা বলে কোনো পাইকার আলু কিনতে চায় না। এ অবস্থায় আলু বিক্রি করতে না পেরে শ্রমিকদের টাকাও দিতে পারছি না।”


কালমেঘা এলাকার স্থানীয় এক বেপারী মো. খলিলুর রহমান বলেন, “তেলের কারণে আলু চাষিরা এবছর নাজেহাল অবস্থায় আছে। একটা গাড়িতে কমপক্ষে ১০০-২০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তেল না পাওয়ায় তারা আলু নিতে আসতে পারছে না। এমন একটা অবস্থা যে কোনো পাম্পেও এক দুই লিটারের বেশি তেল পাওয়া যায় না। মূলত তেলের কারণেই এখানকার সব কৃষকরা সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।”


ভুক্তভোগী বিভিন্ন এলাকার এসব কৃষকদেরকে সঠিক দামে আলু বিক্রি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বরগুনা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, “চাষিরা যদি আলু বিক্রি করতে না পারেন এবং এ বিষয়ে আমাদের জানালে চাষি এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসে কথা বলে আমরা সমাধান করতে পারি। কেনো চাষি আলু বিক্রি করতে পারছে না এবং ব্যবসায়ীরা কেনো ক্রয় করছে না, উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তা সমাধান করে দিতে পারি। ভুক্তভোগী কোনো চাষি আমাদের কাছে আসলে অথবা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সমস্যা দেখলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে বলেও জানান তিনি।”


এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “কৃষকরা মৌসুমের শুরুতে ভালোই দাম পেয়েছেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলেও আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে এর তেমন কোনো প্রভাব নেই। বিশেষ করে কৃষি পণ্য উৎপাদন এবং পরিবহনের জন্য বরগুনা জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কোনো কৃষক এবং পাইকার যদি কৃষি পণ্য পরিবহন করতে চায় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী একটি প্রত্যায়ন দিয়ে দেবে। বরগুনার যে কোনো পাম্পে গেলেই ওই প্রত্যয়ন অনুযায়ী তাদেরকে তেল দেওয়া হয়।


কৃষকদের প্রয়োজনীয় হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, “হিমাগার থাকলে কৃষকরা আলু সংরক্ষণ করতে পারেন এবং পরবর্তীতে যখন দাম বেশি পায়, তখন তারা বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো হিমাগার তৈরি করা হয় না, এর জন্য কৃষি উদ্যোক্তা দরকার। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি, যদি কোনো কৃষি উদ্যোক্তা এগিয়ে আসে তাহলে আমরা তাদেরকে হিমাগার তৈরিতে প্রশাসনিকভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো।”




  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।


এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।


সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।  


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম
  • আপডেট : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা "আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের" শরীয়তপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০২৬ আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনির হোসেন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটি অনুমোদন করেন।


অনুমোদিত কমিটিতে এ্যাড. সুলতান নাসিরকে সভাপতি, উজ্জ্বল খানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কে এম কামরুজ্জামান মিলন, জি এম ওহিদুজ্জামান, মোঃ কবির খান, মতিউর রহমান মাদবর, ফারুক খান, ডি এম কামাল হোসেন, সুমন খান ও জাকির হোসাইনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।


এছাড়া মো. আবুল কালাম (মুন্না) সাধারণ সম্পাদক, মনজুর হাসান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাসরিন সুলতানা, এ্যাড. মো. মোস্তফা কামাল, সৈয়দ বেপারী, আব্দুল সাদার সরদার, রিপন ফকির, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মো. মাহবুব আলম মাহফুজ, মোঃ সোহাগ ও আমির হোসেন সরদারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।


এছাড়াও মোঃ বাতেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরিকুল ইসলাম সৈকত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মালেক ঢালী, সোহেল সরদার, নাইম মালত, জহিরুল ইসলাম ও আল আমিন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।


এ কমিটিতে সোহাগ সরদার দপ্তর সম্পাদক, ইনছান সরদার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোঃ রুহুল আমিন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, কাওছার হোসেন আইন বিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ আনিসুর রহমান ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মুন্নি হাবিবা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, আতিকুর রহমান রাসেল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, দাউদ মোঃ,তুহিন প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সামিম মাঝি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ রুবেল মোল্লা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন।


নতুন এ কমিটিতে রেহেনা সুলতানা আখি, মোঃ আবু সুফিয়ান ও মোঃ আল-আমিন মাতুব্বরকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।


অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, কমিটিকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পরপর সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও আইনগত সহায়তা ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য এবং বিভিন্ন জেলা কমিটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


এদিকে, নবগঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


অন্যদিকে, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসীরা  হামলা চালায় । এতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত: ১২ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০) নামের ৫ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজারে এঘটনা ঘটে।


আহত শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। বিকাল তিনটার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে বটতলা বাজারেই অবস্থান করছিলো। পরে বিকালে সন্ত্রাসীরা  ৭ থেকে ৮ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা  চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।


কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নবাগত এসপি

খুলনার প্রতিটি থানা হবে মানুষের আস্থা ও ভরসার স্থল


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন। 


নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

নীলফামারীর ডিমলায় ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়া এবং বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর ও ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযানকালে উপজেলা সদরের মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১ লিটার ২০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ১৪০ মিলিলিটার কম দেওয়ার অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ২৯ ও ৪৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।




অপরদিকে, ডিমলার ডোমার রোডের বামুনিয়া এলাকায় অবস্থিত আদিল আটো মুড়ির মিলে মুড়ি পণ্যের বিএসটিআই গুণগত মান সনদ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’-এর ৩০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।


ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নাসির উদ্দিন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. জুলকারনাইন।


বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।