তিন দফা দাবিতে নলছিটিতে অবস্থান কর্মসূচী
অসম্পূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার কাজ সম্পন্নকরন, নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিল রহিতকরন ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কারের তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে সাধারণ নাগরিকরা।
নলছিটি পৌরসভা চত্তরে আজ ১৫ জুন সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত নলছিটি পৌরসভার সামনে অবস্থান কর্মসূচী ও প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা কর্মসূচি পালন করা হয়। সাধারণ নাগরিকদের ব্যানারে তিন দফা দাবিতে প্রায় তিন ঘন্টা শান্তিপূর্ণ এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়।
এতে তাদের দাবি ছিলো ২০২০-২১ সালে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রায় দশটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করেই পরে আছে যা জনভোগান্তি তৈরি করেছে সেগুলো সহ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির কিছু কাজ উদ্বোধন করেও সম্পন্ন হয়নি সেগুলো দ্রুত সম্পন্নকরন।
পৌরসভার আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা একটি প্রকল্পের প্রায় তেরো কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিলের পথে আছে সেই বাতিল রহিত করন। এবং নতুন বাড়তি বরাদ্দ আনয়ন। এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পৌরসভার প্রাপ্ত পুরো বরাদ্দ দিয়ে কোনো কাজ করা হয়নি যা বিধি অনুযায়ী সরকারের তহবিলে ফেরত দিতে হবে, সেই অর্থ ফেরত না দিয়ে বিধিমত এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আটকে থাকা সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসেই নতুন অর্থবছরে প্রকল্প গ্রহণ করে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টের নির্মান কাজ শুরু করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী নেত্রী সাথী আক্তার, তিনি বলেন দেরশো বছরের এই শহরটি পুরো উপজেলার মানুষের জন্য ঐতিহ্যের প্রতিক ছিলো কিন্তু শহরটিতে কোনো উন্নয়ন নেই। রাস্তাঘাট, পার্ক, টার্মিনাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বস্তি উন্নয়ন কিছুই নেই। রাস্তাঘাটের বরাদ্দ এলেও সব লুটপাট হয়েছে যারফলে ভুগছি আমরা। তাই আমাদের দাবি লুটপাট হওয়া রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি সহ আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা এই অবস্থানে অনড় থাকবো।
আরেক আন্দোলনকারী ইমরান হোসেন বলেন, দেশের দ্বিতীয় পৌরসভা হলেও উন্নয়নের দিক থেকে আমরা একেবারেই পিছিয়ে আছি। এতবছরেও উন্নয়নের ছিটেফোটাও বাস্তবায়ন হয়নি। অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক ইঞ্চিও উন্নয়ন কাজ হয়নি যেকারণে সেই বরাদ্দ এখন ফেরত যাবার পথে কেন আমরা সেই প্রশ্নের জবাব চাই। আমরা এক পয়সাও ফেরত যেতে দেবো না। এবং দ্রুত সব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে হবে।
আরেক আন্দোলকারী আসিফ জিয়া মুন্না বলেন, ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া নগরীতে রাস্তাঘাট নেই, একটি শিশুপার্ক নেই, সড়কবাতি জ্বলে না, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেই, বারবার বরাদ্দ আসে কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে এর নিরসন চাই।
মো: রাহাত বলেন, এত বড় একটি পৌরসভার অথচ এর সামনের রাস্তাটিই বেহাল দশা, সংকীর্ণ রাস্তা এরমধ্যে ফুটপাত দখলের কারনে আরও বেশি দুর্ভোগ হয়। এছাড়াও কোনো সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেই, তাই আমরা এই নগরীর আধুনিকায়ন চাই।
আহত জুলাই যোদ্ধা মূসা সরদার বলেন, এতো পুরনো পৌরসভার রাস্তাঘাট সবগুলোই মরনফাদ হয়ে আছে আর বরাদ্দ আত্মসাৎ করছে এটা হতে পারে না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই,কারন এই শহরে শুধু পৌরসভার নাগরিকরা থাকে না পুরো উপজেলার মানুষ আসে যায় তাই আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। এটা শুধু দাবি নয় আমাদের অধিকার।
আন্দোলনের সমন্বয়কারী সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে পৌরসভা এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, পয়নিস্কাষন, ড্রেনেজ, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, বস্তি এলাকা উন্নয়ন, নতুন গোরস্থান তৈরি, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক নির্মান, ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসানো, গার্বেজ রিসাইক্লিং প্লান্ট, বিউটিফিকেশনের মতো সুযোগ থাকা সিটিসিআরপি প্রকল্পর এই অংশটির বরাদ্দ বাতিল হতে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য একেবারেই দু:খজনক। আমরা বছরের পর বছর এগুলো নিয়ে আন্দোলন করেছি এই মুহুর্তে ডিপিপি রিভিশনের সময় এই অংশ বাতিল হলে আমরা তা মেনে নেব না। প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর সময় অতিবাহিত হলেও অগ্রগতি না থাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কিছুদিন আগে নলছিটি পৌরসভা পরিদর্শনের সময় এই উদ্বেগ আরও বেরে যায়। পৌরসভার খালি জমি না থাকার অযুহাতে প্রকল্পের এই আধুনিকায়নের অংশটি বাতিল হতে পারে বলে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
এছাড়াও ২০২১ সালে শুরু করা রাস্তার কাজও আজ পর্যন্ত সমাপ্ত করা হয়নি, লুটপাটের কারনে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে পরেছে। এসব রাস্তা এখনো আদায় না হলে পরবর্তীতে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এই প্রকল্পের শেষ সাক্ষী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামা, তিনি এই বছর নভেম্বরের দিকে অবসরে যাওয়ার কথা তিনি অবসরে চলে গেলে এসব রাস্তা পুনরুদ্ধার একেবারেই অসম্ভব হয়ে পরবে। তাই ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের অসম্পন্ন সবগুলো রাস্তার নির্মান কাজ সম্পন্ন করতেই হবে এবং এই দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য দ্বায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।
এছাড়াও ১৬ একর সম্পত্তির মালিক থাকা পৌরসভায় জমি সংকট দেখিয়ে আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা প্রকল্পের প্রায় চৌদ্দ কোটি টাকার অংশ বাতিল হওয়ার মতো দু:খজনক বিষয় আর নেই। অথচ পৌরসভাটি প্রতি বছর প্রায় সারে তেরো একর জমির ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে অথচ সব জমি কেউ চেনে না, কাদের দখলে আছে কেউ জানে না,কেউ বলে না। প্রয়োজনে পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে জমি ক্রয় করে হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমরা এই বরাদ্দ বাতিল রহিতকরনের দাবি জানাচ্ছি এবং অসম্পূর্ণ সকল রাস্তাঘাট সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কাজ জুলাই আগস্টের মধ্যে শুরু করার দাবি জানাই।আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচী পালন করে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) রিজভী আহমেদ সবুজের কাছে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।
নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা "আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের" শরীয়তপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০২৬ আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনির হোসেন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটি অনুমোদন করেন।
অনুমোদিত কমিটিতে এ্যাড. সুলতান নাসিরকে সভাপতি, উজ্জ্বল খানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কে এম কামরুজ্জামান মিলন, জি এম ওহিদুজ্জামান, মোঃ কবির খান, মতিউর রহমান মাদবর, ফারুক খান, ডি এম কামাল হোসেন, সুমন খান ও জাকির হোসাইনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
এছাড়া মো. আবুল কালাম (মুন্না) সাধারণ সম্পাদক, মনজুর হাসান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাসরিন সুলতানা, এ্যাড. মো. মোস্তফা কামাল, সৈয়দ বেপারী, আব্দুল সাদার সরদার, রিপন ফকির, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মো. মাহবুব আলম মাহফুজ, মোঃ সোহাগ ও আমির হোসেন সরদারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়াও মোঃ বাতেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরিকুল ইসলাম সৈকত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মালেক ঢালী, সোহেল সরদার, নাইম মালত, জহিরুল ইসলাম ও আল আমিন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ কমিটিতে সোহাগ সরদার দপ্তর সম্পাদক, ইনছান সরদার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোঃ রুহুল আমিন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, কাওছার হোসেন আইন বিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ আনিসুর রহমান ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মুন্নি হাবিবা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, আতিকুর রহমান রাসেল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, দাউদ মোঃ,তুহিন প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সামিম মাঝি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ রুবেল মোল্লা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন।
নতুন এ কমিটিতে রেহেনা সুলতানা আখি, মোঃ আবু সুফিয়ান ও মোঃ আল-আমিন মাতুব্বরকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।
অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, কমিটিকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পরপর সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও আইনগত সহায়তা ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য এবং বিভিন্ন জেলা কমিটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, নবগঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় । এতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত: ১২ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০) নামের ৫ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজারে এঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। বিকাল তিনটার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে বটতলা বাজারেই অবস্থান করছিলো। পরে বিকালে সন্ত্রাসীরা ৭ থেকে ৮ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।
খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর ডিমলায় ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়া এবং বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর ও ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উপজেলা সদরের মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১ লিটার ২০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ১৪০ মিলিলিটার কম দেওয়ার অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ২৯ ও ৪৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অপরদিকে, ডিমলার ডোমার রোডের বামুনিয়া এলাকায় অবস্থিত আদিল আটো মুড়ির মিলে মুড়ি পণ্যের বিএসটিআই গুণগত মান সনদ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’-এর ৩০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নাসির উদ্দিন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. জুলকারনাইন।
বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।