ময়মনসিংহের শিল্পঘন ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও আধুনিক পুলিশিংয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসতিয়াক আহমেদ।
ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে তার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যাত্রীসেবায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন, যা স্থানীয় জনজীবন, পরিবহন খাত এবং সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চাপ সামলানো এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সক্রিয়তা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতারই পরিচায়ক নয়, বরং মানবিক পুলিশিংয়ের এক বাস্তব প্রতিফলন।
এই ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ভরাডোবা হাইওয়ে থানা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে ভালুকা পৌর সদরের কাঁঠালী বাগরাপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার জব্দ এবং এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আগের তুলনায় মহাসড়কের যানযট প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সময়ে প্রায় ৪৫০ টির বেশি অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে কয়েক শতাধিক যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে এবং যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হয়েছে।
সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েছিলেন ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার পর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা খুব দ্রুত এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের এই মানবিকতায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।” তার অভিজ্ঞতা যেন একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতীক, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতা হয়ে উঠছে কেন্দ্রবিন্দু।
একই সড়কের নিয়মিত চালক শফিকুল ইসলাম জানান, “আগে এই রাস্তায় ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। এখন পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়, সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়ায় এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে।”
ভালুকার স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “আগে প্রায়ই দুর্ঘটনা বা যানজটের কারণে আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক থাকছে।”
নারী ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মী নাসরিন আক্তার বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে আগে ভয় লাগতো। এখন রাস্তার পাশে পুলিশের উপস্থিতি দেখলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত লাগে।” রাতে একাকী চলাচলকারী নারী যাত্রীদের সহায়তা এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মতো উদ্যোগ পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান। ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার সদস্যরা নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যান চলাচলের কারণে যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবতায় অনেক সময় তা উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগের ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবৈধ থ্রি-হুইলারের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে, যা দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলকে আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ করছে। একই সঙ্গে চালকদের বিকল্প ফিডার রোড বা স্থানীয় সড়ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জীবিকা ও আইনের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় থাকে।
তবে ইতিবাচক অগ্রগতির মাঝেও কিছু কাঠামোগত ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শিল্পঘন এই অঞ্চলে ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং মাঝে মাঝে অবৈধ যান চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সময় সড়কের নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সীমিত জনবল দিয়ে দীর্ঘ মহাসড়ক তদারকি করা হাইওয়ে পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
কিছু সাধারণ যাত্রীর মতে, উন্নতির ধারা থাকলেও আরও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসযাত্রী বলেন, “অনেক জায়গায় এখনো গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো মানা হয় না। মাঝে মাঝে পুলিশ না থাকলে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
ওসি ইসতিয়াক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ সেবা দিতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সড়ককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
চলমান এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে আরও টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার, সিগন্যালিং ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সড়কের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্যভিত্তিক অভিযান, গোপন সংবাদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ মহাসড়ক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক পুলিশিং কেবল কঠোরতা নয় বরং মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের সমন্বয়। প্রশংসা ও সমালোচনা উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এর মূল চাবিকাঠি।
একটি ব্যস্ত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন কখনোই সহজ নয়। তবুও সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও যখন সেবা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটে, তখনই জন্ম নেয় আস্থা। ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় সেই আস্থার ভিত্তি নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলছেন ওসি ইসতিয়াক আহমেদ যা নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণে এক অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ হয়ে থাকছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে নতুন পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিরা কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধনী ফলকে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম থাকায় আপত্তি তোলেন বিলকিস ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন ছিল, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়নি কেন এবং উদ্বোধনী ফলকে শুধু একজন সংসদ সদস্যের নাম রাখা হলো কেন।
এ নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক একপর্যায়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে বসে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলে।
বিলকিস ইসলাম নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষে তাঁরও জায়গা থাকা উচিত। বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও জানান। নিজের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেবেন না-এমন কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য, উপজেলা পরিষদের এ পরিদর্শন কক্ষ কোনো একক ব্যক্তির জন্য নয়; জাতীয় সংসদের সব সদস্যই প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নীলফামারী-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে স্থানীয়ভাবে তাঁর নাম ফলকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচন। নির্বাচনী এলাকা না থাকায় তাঁদের জন্য আলাদা করে কোনো পরিদর্শন কক্ষ নির্ধারণের বিধান আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন আব্দুল মুনতাকিম। তিনি এ বিষয়ে সরকারি পরিপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথির কথা উল্লেখ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে পরিদর্শন কক্ষটি কারা কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং উদ্বোধনী ফলকে কার নাম থাকবে-এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটি মাসকটে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।আজ বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামের এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ফ্লাইটটি আবার মাসকট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আজ দুপুরের পর ফ্লাইটটির চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ওই নারী যাত্রীর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা কৃত্রিম রং মেশানোর অপরাধে তিন মৎস্য ব্যবসায়ীকে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভাণ্ডারিয়া পৌর শহর ও স্থানীয় বাজারে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় তাদের এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মাছে কৃত্রিম রং ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানোর দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। তাদের মধ্যে মো. মিলন হাওলাদার (৩৭)-কে ১ হাজার টাকা, মো. মনসুর মোল্লা-কে ১ হাজার টাকা এবং জহির (৪০)-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, অসাধু উপায়ে মাছে কৃত্রিম রং মিশিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছকে আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ভাণ্ডারিয়ার ৩ আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার
ভাণ্ডারিয়ায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন ভাণ্ডারিয়ার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া এলাকার মো. সাব্বির হাওলাদার (১৯), মো. জিহাদ হাওলাদার (৩০) ও মো. শাকিল হাওলাদার (৩৫)। গত ২৪ আগস্ট র্যাব-৭ ও র্যাব-৮-এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইকরামুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র, দা ও লোহার রড নিয়ে ইকরামুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে সাব্বিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ইকরামুলের নাকে লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জিহাদের দায়ের কোপে তার বাম হাতের কনুই জখম হয় এবং শাকিল লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার পর সাব্বির ও শাকিল ইকরামুলের ঘরে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের স্বর্ণের কানবালা নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় ইকরামুলের স্ত্রী বিনাবালীকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত ইকরামুলকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার এসআই সিদ্দিক জানান, র্যাবের সহযোগিতায় মামলার ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ভাণ্ডারিয়ায় এনে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
রংপুরে
অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক ও
তার স্ত্রী সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের
দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। এসময় কর্মসূচি থেকে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বক্তব্যে অমিল
থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।
বুধবার
(২৬ আগস্ট) দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে রংপুর জেলা ও মহানগর সুজন
এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সুজনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। এ সময় বক্তারা
পুলিশের তদন্তে নানা অসংগতি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আইনের
আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
সুজন
রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুরে থানা ও পুলিশের বিভিন্ন
উইং বাড়লেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কাটেনি। জনগণের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেতুবন্ধন তৈরি হয়নি। রাষ্ট্র ও নাগরিক পুলিশের
কাছ থেকে সেবা ও নিরাপত্তা চায়।
তিনি
প্রশ্ন তোলেন, এক-দু’জন
মাদকাসক্ত যুবক চার চারটি মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে না। শুধুমাত্র ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে একটি পরিবারকে নিঃশেষ করে দেয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত
ঘটনা বা কারণ আড়াল
হতে পারে, এই ধারণাও উড়িয়ে
দেয়ার মতো নয়। তাই কোনো অজুহাত দিয়ে প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আড়াল
করার চেষ্টা চলছে কি না, তা
খতিয়ে দেখতে হবে।
সুজনের
এই সংগঠক ঘটনাটিতে পুলিশের আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও
প্রশ্ন তোলেন। একই সাথে তিনি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তদন্তের
গাফিলতি তুলে ধরে মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, আসামিদের আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তাদের নেপথ্যে কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না তা
বের করা হয়নি। আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং যে ব্যক্তি আগাম
তথ্য দিয়েছিল, সে কীভাবে জানল
তা-ও খতিয়ে দেখা
হয়নি। ঘটনার সময় বিদ্যুতের সংযোগকে বিচ্ছিন্ন করল তাও তদন্তের দাবি রাখে। এ ঘটনায় পুলিশের
প্রেস ব্রিফিংয়ের পর জনমনে যেসব
প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে তার উত্তর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করাই দায়িত্বশীল পুলিশিং হতে পারে। কিন্তু আমরা সেটি এখনো দেখতে পাচ্ছি না।
দেশের
পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি বলেন, দুর্বল তদন্তের কারণে আসামিরা ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার মাদক
ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। পুলিশ তাদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এসময় নগরীর
প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কমিউনিটি পুলিশিং
কার্যক্রম আরো জোরদার করার তিনি দাবি জানান।
সুজনের
উপদেষ্টা সদস্য ও নারীনেত্রী মঞ্জুশ্রী
সাহা মিডিয়ায় উঠে আসা ধর্ষণের আলামত নিয়ে মর্গের ডোম ও ময়নাতদন্তের ফরেনসিক
চিকিৎসকের বক্তব্যের গরমিল এবং ধর্ষণ প্রসঙ্গে প্রশাসনের এড়িয়ে যাবার প্রবণতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি
আরও বলেন, নিহত তরুণীর সঙ্গে তার বান্ধবীর কথোপকথনে হত্যার হুমকি ও জিডি করার
বিষয় এবং ঘটনার দিন ভোরে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে
বান্ধবীর সাথে চ্যাটিং করার প্রসঙ্গটি পুলিশের ভালো ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও আশপাশের সিসিটিভি
নষ্ট থাকার মধ্যেও রহস্য রয়েছে, এসব কারণে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষ মনে করছে এ ঘটনাটি গভীর
ষড়যন্ত্রের অংশ। ঘটনার পরে থেকে মানুষ ঘরে-বাইরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একই
সময়ে এ দাবির সাথে
সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় ফোর্ব জেলা ফোরাম ও ইয়ুথ এন্ডিং
হাঙ্গারের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীগণ। তারা বক্তব্যে
রংপুর
নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত
হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।
এ
মানববন্ধন সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজন রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহে আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ফোর্ব জেলা ফোরামের সদস্য জাকিয়া সুলতানা মলি, আফরোজা রাধন, ভারতী রানী, ইয়ুথ লিডার রাকিবুল ইসলাম, লাবিব প্রমুখ।
প্রসঙ্গত;
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে
রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের
ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে
নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
রোববার
বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ
চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে আলোচিত এ মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী, এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।
আহতরা হলেন- মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।