ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ভালুকাবাসী

  • প্রকাশ : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:৫১ এএম

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজজুড়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর ঘন ঘন লোডশেডিং এবং আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের ব্যস্ত সময় থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিল্পকারখানার শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকের দাবি, দিনে পাঁচ থেকে আটবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। কোনো এলাকায় ৩০ মিনিট, কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও এরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটানোর অভিযোগও করেছেন অনেক গ্রাহক।


সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনলাইনভিত্তিক কাজ, মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলমান তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, রাউটার, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা।


হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রাজ্জাক মিয়া বলেন, "দিনে কয়েকবার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে আমাদের সন্তানরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। আবার বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আতঙ্কও রয়েছে।"


ভরাডোবা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, "বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন আমাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অনলাইনে লেনদেন, বিকাশ-নগদ সেবা, কম্পিউটারভিত্তিক কাজ সবকিছুই বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যবসায় যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি গ্রাহকদেরও ভোগান্তি বাড়ছে।"


ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিপিডিবি গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "গত শুক্রবার রাতে অন্তত ২০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। ছোট শিশুদের নিয়ে পুরো পরিবারকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।"


দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ভালুকার অসংখ্য তৈরি পোশাক কারখানা, টেক্সটাইল, ডাইং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পারায় সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতেও। সেচনির্ভর জমিতে নির্ধারিত সময়ে পানি সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় কৃষকদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক কৃষক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে কৃষিকাজের সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৪ লাখ ৮৫ হাজার, বাণিজ্যিক প্রায় ২৫ হাজার ৫০০, শিল্প ৫ হাজার ২০০ এবং সেচ গ্রাহক ৪ হাজার ১০০। সমিতির আওতায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৯০ মেগাওয়াট, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট।


এর মধ্যে শুধু ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


অন্যদিকে বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসিক এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহক। ভালুকা এলাকায় বিপিডিবির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট।


ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন বলেন, "ভালুকায় চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।"


বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, "চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।"


স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সংকট, বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কিংবা কারিগরি ত্রুটি যে কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকুক না কেন, এর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি। তাদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি ও অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং নাগরিক জীবনের অন্যতম মৌলিক সেবা।


ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘন ঘন লোডশেডিং ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট দ্রুত চিহ্নিত করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই কমবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং কৃষিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ফিরে পাবে স্বাভাবিক গতি।




  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।


এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।


সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।  


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম
  • আপডেট : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা "আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের" শরীয়তপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০২৬ আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনির হোসেন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটি অনুমোদন করেন।


অনুমোদিত কমিটিতে এ্যাড. সুলতান নাসিরকে সভাপতি, উজ্জ্বল খানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কে এম কামরুজ্জামান মিলন, জি এম ওহিদুজ্জামান, মোঃ কবির খান, মতিউর রহমান মাদবর, ফারুক খান, ডি এম কামাল হোসেন, সুমন খান ও জাকির হোসাইনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।


এছাড়া মো. আবুল কালাম (মুন্না) সাধারণ সম্পাদক, মনজুর হাসান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাসরিন সুলতানা, এ্যাড. মো. মোস্তফা কামাল, সৈয়দ বেপারী, আব্দুল সাদার সরদার, রিপন ফকির, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মো. মাহবুব আলম মাহফুজ, মোঃ সোহাগ ও আমির হোসেন সরদারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।


এছাড়াও মোঃ বাতেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরিকুল ইসলাম সৈকত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মালেক ঢালী, সোহেল সরদার, নাইম মালত, জহিরুল ইসলাম ও আল আমিন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।


এ কমিটিতে সোহাগ সরদার দপ্তর সম্পাদক, ইনছান সরদার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোঃ রুহুল আমিন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, কাওছার হোসেন আইন বিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ আনিসুর রহমান ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মুন্নি হাবিবা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, আতিকুর রহমান রাসেল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, দাউদ মোঃ,তুহিন প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সামিম মাঝি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ রুবেল মোল্লা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন।


নতুন এ কমিটিতে রেহেনা সুলতানা আখি, মোঃ আবু সুফিয়ান ও মোঃ আল-আমিন মাতুব্বরকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।


অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, কমিটিকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পরপর সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও আইনগত সহায়তা ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য এবং বিভিন্ন জেলা কমিটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


এদিকে, নবগঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


অন্যদিকে, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসীরা  হামলা চালায় । এতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত: ১২ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০) নামের ৫ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজারে এঘটনা ঘটে।


আহত শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। বিকাল তিনটার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে বটতলা বাজারেই অবস্থান করছিলো। পরে বিকালে সন্ত্রাসীরা  ৭ থেকে ৮ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা  চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।


কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নবাগত এসপি

খুলনার প্রতিটি থানা হবে মানুষের আস্থা ও ভরসার স্থল


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন। 


নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

নীলফামারীর ডিমলায় ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়া এবং বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর ও ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযানকালে উপজেলা সদরের মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১ লিটার ২০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ১৪০ মিলিলিটার কম দেওয়ার অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ২৯ ও ৪৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।




অপরদিকে, ডিমলার ডোমার রোডের বামুনিয়া এলাকায় অবস্থিত আদিল আটো মুড়ির মিলে মুড়ি পণ্যের বিএসটিআই গুণগত মান সনদ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’-এর ৩০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।


ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নাসির উদ্দিন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. জুলকারনাইন।


বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।