আমাদের সংস্কৃতিতে একটা প্রকট মানে প্রচণ্ড বাস্তব বিরোধ যেটা এই মুহূর্তে দেখাযাচ্ছে। সেটা হচ্ছে যে আমাদের একদিকেযেমন ধর্মনিরপেক্ষতার একটা সংস্কৃতি, আরেক দিকে একটা ইসলামের সংস্কৃতি। আবার মাঝখানে আমরা যারা সুবিধাবাদী আছি কিছু, যারা আমরা ইসলামটাকেও ধারণ করতে চাই আবার একই সঙ্গে অন্য সংস্কৃতিটাকেও ধারণ করতে চাই। এটা আরেকটা সংস্কৃতি।
বাংলাদেশে এই তিন সংস্কৃতির টানাপোড়েন এই মুহূর্তে দেখাযাচ্ছে এবং সবাই আমরা সবারটা আরেকজনের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এটা হচ্ছে আমাদের একটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। এইজায়গাটা থেকে আমাদের উত্তরণের প্রয়োজন। পঞ্চগড় ১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনসস্টিটিউটের ভবন নির্মান কাজের উদ্বোধনী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন আমাদের সময়ে সকলে শিক্ষকদের দ্বারা অনুপ্রাণীত হয়েছেন। তাদের কথা আমাদের সবার মনে আছে। এবং শিক্ষকদের আদলে শিক্ষকদের চিন্তাভাবনায় কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে বেড়ে উঠেছি। কাজেই আমাদের শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হয়, তারা যদি তাদের যে জ্ঞান, তারাযে জ্ঞানটা আহরণ করবে সেটা যদি সঠিকভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারে তাহলে দেশেরএকটা অগ্রগতি হবে। তবে এটা অবশ্যই সময়ের সাপেক্ষে। আমি যখন শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া দেখি বিভিন্ন জায়গায়, আমার কাছে এটা একটু খারাপ লাগে এইজন্য যে শিক্ষকদের কেন দাবি করতে হবে? তবে এটার অনেক কারণ আছে, কিছু ঐতিহাসিক কারণ আছে, একটা প্রতিষ্ঠান যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, শিক্ষক যেভাবে নিয়োগ পাওয়া যায়, এই সবকিছু মিলিয়েআমাদের বিভিন্ন রকম শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের এখানে কয়েক রকম শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমাদের যারা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করছেন, বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করছেন, আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থাটাএকরকম।
আবার যদি শহরগুলোতে যান, ঢাকাতে বিশেষ করে যেখানে ইংরেজি মিডিয়াম শিক্ষা আছে। ইংরেজি মিডিয়ামের মধ্যে আবার তিন চার ভাগ আছে। কেউ কেউ লন্ডন ইউনিভার্সিটি যে কারিকুলাম সেটাকেঅনুসরণ করে, কেউ কেউ ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট যেটাকে সংক্ষেপে আইবি বলে সেটা অনুসরণ করে, কেউ কেউ আমেরিকানটা করে, কেউ ইন্ডিয়ানটা করে। ইদানিং কিন্তু আরও দেখলাম আপনার ইরানিয়ান ইন্টারন্যাশনাল আছে, ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল, টার্কিশ ইন্টারন্যাশনাল, অনেক রকম। ইংলিশ মিডিয়ামের মধ্যে অনেক রকম ভাগ আছে। বাংলা মিডিয়ামে আমাদের যেটা সরকারি সেটা একরকম, বেসরকারি যারা তারা আমাদের একই যে পাঠ্যক্রম সেটাঅনুসরণ করলেও দেখা যায় যে শিক্ষার যেতাদের যে কার্যক্রম সেটাএকরকম সরকারি স্কুলগুলোতে আরেক রকম। তারপর আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা। মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যেও আবার ভাগ আছে।
কাজেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে এত রকমউপসমষ্টি আছে, এটা আস্তে আস্তে মনে হয় আমাদের এইস্বাধীনতার এত বছর পরেআমাদের চিন্তা করার প্রয়োজন । আমাদের এই শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে একটা জাতি হিসেবে আমরা কতটুকু এগোতে পারব? এটা এখন আমার মনে হয় একটা ডিবেটবা আমাদের আলোচনা অন্তত শুরু করার সময়। কারণ আমি জানি যে আমাদের অর্থনৈতিকবাস্তবতা যেটা সারা বাংলাদেশে, আমাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতা আমাদেরকে বিভিন্ন শিক্ষা খাতের দিকে ধাবিত করে। আমরা স্বাভাবিকভাবে যেটা দেখেছি যে আমাদের যারাসুবিধাবঞ্চিত তারা সাধারণত মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে ঝুঁকেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগে দেখেছি, এখন যদিও মাদ্রাসা শিক্ষা অনেক এগিয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় বিভিন্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, আপনার আমাদের ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে সেখানে, ভালো ভালো তাদের ফলাফলও ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো অংশগ্রহণ করছে, এগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। আসলে যেটা বলতে চাচ্ছি যে একটা জাতিকেএকই ইতিহাস জেনে বড় হওয়া, একইসংস্কৃতির মধ্য থেকে বড় হওয়া প্রয়োজন।এই জায়গাটাতে আমাদের একটা বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। যেমন আরও সহজ করে বলি, আমরা যারা আমাদের সময়কার, আমরা খুবই ব্রিটিশ বিরোধী। সাংঘাতিকভাবে। কারণ আমরা যে ইতিহাসটা পড়েবড় হয়েছি, আমাদের সমাজপাঠ থেকে শুরু করে ইতিহাসের যে জিনিসগুলো আমরাশিখেছি, দেখা যায় যে ঐতিহাসিকভাবে আমরাএকরকম বেড়ে উঠেছি। তার কারণ হচ্ছে আমাদের ইতিহাসের শিক্ষাটা। যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে, তাদের সংস্কৃতিটাও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রকমের হচ্ছে। আমরা এ পর্যন্ত কিন্তুএকটা জাতি হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদেরকে একই শিক্ষায় আসতে হবে।
আমাদের সমস্ত রাজনীতিবিদের, আমাদের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন, আমাদের যারা চিন্তাশীল যারা ব্যক্তিরা আছেন, তাদের সবাইকে বাংলাদেশের একটা সংস্কৃতির দিকে আমাদেরকে নিয়ে আসতে হবে। এবং এই উত্তরণটা আসবেতখনই যখন আমাদের পরমতসহিষ্ণুতাটাকে আমরা জেনে আমরা নিজেদের মধ্যে আমরা নিয়ে আসতে পারব। কারণ আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা মনে করি আমি যেটা চিন্তা করছি, আমি যেটা ভাবছি, আমি যেটা বলছি এটাই চূড়ান্ত এবং এটাই সবচেয়ে সত্য। আমাদের যেটা হওয়া উচিত সেটা হচ্ছে যে অন্যের মতামতটাকেগুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, অন্যের চিন্তাভাবনাটাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং আমাদেরকে একটা জায়গায় আসতে হবে যে আমরা অন্যেরমতামতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারি। তাদের একটা মতামতকে রেখে আমাদের প্রত্যেকের মতামতকে এক জায়গায় রেখেআমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। এটাই আমাদের শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত। কাজেই আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ আজকে জানাতে চাই এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেআমাকে আপনারা বলতে বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানের জন্যআমাদের সরকারের কাছ থেকে যত রকম সুবিধাআদায় করা প্রয়োজন আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করব।
ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মো. কায়েদ-ই-আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডির সভাপতি এম এ মজিদ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।
নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা "আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের" শরীয়তপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০২৬ আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনির হোসেন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটি অনুমোদন করেন।
অনুমোদিত কমিটিতে এ্যাড. সুলতান নাসিরকে সভাপতি, উজ্জ্বল খানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কে এম কামরুজ্জামান মিলন, জি এম ওহিদুজ্জামান, মোঃ কবির খান, মতিউর রহমান মাদবর, ফারুক খান, ডি এম কামাল হোসেন, সুমন খান ও জাকির হোসাইনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
এছাড়া মো. আবুল কালাম (মুন্না) সাধারণ সম্পাদক, মনজুর হাসান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাসরিন সুলতানা, এ্যাড. মো. মোস্তফা কামাল, সৈয়দ বেপারী, আব্দুল সাদার সরদার, রিপন ফকির, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মো. মাহবুব আলম মাহফুজ, মোঃ সোহাগ ও আমির হোসেন সরদারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়াও মোঃ বাতেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরিকুল ইসলাম সৈকত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মালেক ঢালী, সোহেল সরদার, নাইম মালত, জহিরুল ইসলাম ও আল আমিন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ কমিটিতে সোহাগ সরদার দপ্তর সম্পাদক, ইনছান সরদার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোঃ রুহুল আমিন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, কাওছার হোসেন আইন বিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ আনিসুর রহমান ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মুন্নি হাবিবা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, আতিকুর রহমান রাসেল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, দাউদ মোঃ,তুহিন প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সামিম মাঝি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ রুবেল মোল্লা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন।
নতুন এ কমিটিতে রেহেনা সুলতানা আখি, মোঃ আবু সুফিয়ান ও মোঃ আল-আমিন মাতুব্বরকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।
অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, কমিটিকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পরপর সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও আইনগত সহায়তা ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য এবং বিভিন্ন জেলা কমিটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, নবগঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় । এতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত: ১২ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০) নামের ৫ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজারে এঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। বিকাল তিনটার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে বটতলা বাজারেই অবস্থান করছিলো। পরে বিকালে সন্ত্রাসীরা ৭ থেকে ৮ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।
খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর ডিমলায় ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়া এবং বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর ও ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উপজেলা সদরের মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১ লিটার ২০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ১৪০ মিলিলিটার কম দেওয়ার অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ২৯ ও ৪৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অপরদিকে, ডিমলার ডোমার রোডের বামুনিয়া এলাকায় অবস্থিত আদিল আটো মুড়ির মিলে মুড়ি পণ্যের বিএসটিআই গুণগত মান সনদ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’-এর ৩০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নাসির উদ্দিন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. জুলকারনাইন।
বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।