পুলিশ-জনতার আস্থার বন্ধনে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়
“পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ওপেন হাউস-ডে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কোতোয়ালি থানা কক্ষে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় এলাকার মাদক, অনলাইন জুয়া, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যার কথা তুলে ধরেন স্থানীয়রা। সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোকারম হোসেন, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. সুমন, ইন্সপেক্টর ইন্টেলিজেন্স মো. আব্দুর রাজ্জাক, এসআই মো. আরিফ হোসেন, এসআই মো. গোলাম মোস্তফা, এএসআই মো. শাকিল আহমেদসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা।
এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসু খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, দিনাজপুর পৌর তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় কোতোয়ালি থানার এসআই, এএসআই, কনস্টেবল, গ্রাম পুলিশ এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের বাসিন্দাদের উপস্থিতি ছিল।
ওপেন হাউস-ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ মানুষের সরাসরি বক্তব্যের সুযোগ। কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই স্থানীয়রা তাদের এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
চেহেলগাজী ইউনিয়নের মাজাডাঙ্গা এলাকার এক বাসিন্দা বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবী জানান। তিনি বলেন, এলাকায় মাদক কেনাবেচা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছে তথ্য থাকলেও তা কার্যকরভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছানো এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে জমি দখল নিয়ে বিরোধ, অসহায় মানুষের হয়রানি এবং পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের বিষয়। ছোটখাটো বিরোধ যেন অযথা মামলা-মোকদ্দমায় গড়ায় না যায়, সে ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ওই বাসিন্দা আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন ও অনলাইনভিত্তিক জুয়ার বিস্তার পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তারা মনে করছেন। এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধের উৎস শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্য এক বক্তা চেহেলগাজী ইউনিয়নের রানীগঞ্জ মোড় এলাকায় মাদকসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে মাদকসেবীদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার অভিযোগগুলো যাচাই করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপরাধের তথ্য দিতে গিয়ে স্থানীয় তথ্যদাতারা যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণকে পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজে লাগিয়ে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত অন্যান্য নাগরিক ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। মাদক, জুয়া, চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, সামাজিক বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত প্রতিকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সঠিক তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই দর্শনকে সামনে রেখে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওপেন হাউস-ডের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের প্রকৃতি ও সমস্যাগুলো সরাসরি জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। মাদক, জুয়া, কিশোর অপরাধ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও পুলিশের জবাবদিহিমূলক সেবার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ওপেন হাউস-ডের আলোচনা শেষ হয়।
নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা "আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের" শরীয়তপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০২৬ আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনির হোসেন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটি অনুমোদন করেন।
অনুমোদিত কমিটিতে এ্যাড. সুলতান নাসিরকে সভাপতি, উজ্জ্বল খানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কে এম কামরুজ্জামান মিলন, জি এম ওহিদুজ্জামান, মোঃ কবির খান, মতিউর রহমান মাদবর, ফারুক খান, ডি এম কামাল হোসেন, সুমন খান ও জাকির হোসাইনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
এছাড়া মো. আবুল কালাম (মুন্না) সাধারণ সম্পাদক, মনজুর হাসান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাসরিন সুলতানা, এ্যাড. মো. মোস্তফা কামাল, সৈয়দ বেপারী, আব্দুল সাদার সরদার, রিপন ফকির, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মো. মাহবুব আলম মাহফুজ, মোঃ সোহাগ ও আমির হোসেন সরদারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়াও মোঃ বাতেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরিকুল ইসলাম সৈকত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মালেক ঢালী, সোহেল সরদার, নাইম মালত, জহিরুল ইসলাম ও আল আমিন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ কমিটিতে সোহাগ সরদার দপ্তর সম্পাদক, ইনছান সরদার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোঃ রুহুল আমিন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, কাওছার হোসেন আইন বিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ আনিসুর রহমান ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মুন্নি হাবিবা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, আতিকুর রহমান রাসেল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, দাউদ মোঃ,তুহিন প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সামিম মাঝি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ রুবেল মোল্লা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন।
নতুন এ কমিটিতে রেহেনা সুলতানা আখি, মোঃ আবু সুফিয়ান ও মোঃ আল-আমিন মাতুব্বরকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।
অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, কমিটিকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পরপর সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও আইনগত সহায়তা ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য এবং বিভিন্ন জেলা কমিটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, নবগঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় । এতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত: ১২ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০) নামের ৫ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজারে এঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। বিকাল তিনটার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে বটতলা বাজারেই অবস্থান করছিলো। পরে বিকালে সন্ত্রাসীরা ৭ থেকে ৮ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।
খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর ডিমলায় ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়া এবং বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর ও ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উপজেলা সদরের মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১ লিটার ২০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ১৪০ মিলিলিটার কম দেওয়ার অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ২৯ ও ৪৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অপরদিকে, ডিমলার ডোমার রোডের বামুনিয়া এলাকায় অবস্থিত আদিল আটো মুড়ির মিলে মুড়ি পণ্যের বিএসটিআই গুণগত মান সনদ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’-এর ৩০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নাসির উদ্দিন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. জুলকারনাইন।
বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।