• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র সেন সিলেটে জুলাই সংঘর্ষে পুলিশে দাওয়ায় পানিতে ডুবে মারা যাওযার  হত্যা মামলায় তদন্তে ২ বছরেও তেমন অগ্রগতি নেই, বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে অনেকে। 


২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশের হামলার সময় সুরমা আবাসিক এলাকার লেকে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যান দিনাজপুর সদর উপজেলার সুবীর সেন ও শিখা বণিক দম্পতির পুত্র রুদ্র সেন। সে ই ১৮ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের প্রথম নিহত শাবি শিক্ষার্থী। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ডুবে যায় একটি পরিবারের সকল স্বপ্ন। 


সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের শাহাদাতকে কেন্দ্র করে উত্তাল ছিল দেশ। এমন সময়ে শাবি ক্যাম্পাস ও এর পাশ্ববর্তী এলাকার সকল কর্মসুচীতে রুদ্র সেন ছিলেন সক্রিয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হওয়ায় সে প্রশাসনের টার্গেটে পরিনত হয়েছিল। ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ অস্ত্র, অবৈধ বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্র-জনতার উপর নির্বিচারে গুলীবর্ষণ ও হামলা চালায়। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ ও শারীরিক ভাবে গুরুতর আহত হন। হামলার একপর্যায়ে পুলিশের  ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খাল ভেলায় চড়ে পাড় হওয়ার চেষ্টার করেন। সে সময় ভেলাটি উল্টে গিয়ে তিনি পানিতে পড়ে যান। সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মারা যান। 


পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সামসুল ইসলাম পানিতে ডুবে রুদ্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন তার মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে পাঠানো হয়। 


তদন্তের বৃত্তে বন্দী বিচার প্রক্রিয়াঃ ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের ফলে বদলে যায় প্রেক্ষাপট। এমন পরিস্থিতিতে রুদ্র সেন নিহতের ঘটনায় ঐ বছরের ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তৎকালিন সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীরসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়। 


এছাড়া মামলায় পুলিশের ৫ জন কনস্টেবল ও দুজন উপপরিদর্শককে (এসআই) আসামি করা হয়েছে। মামলার এজহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন- মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, একই থানার ওসি (তদন্ত) আবু খালেদ মো. মামুন, সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, শাবিপ্রবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, মৌলভীবাজারের সাবেক সাংসদ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ রনজিৎ সরকার, সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমান প্রমুখ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- রুদ্র সেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 


২০২৪ এর ১৮ জুলাই কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ সন্ত্রাসীরা সরকারি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শান্তিপ্রিয় ছাত্র-জনতাকে আক্রমণ করে। এতে অনেকে শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হন। অস্ত্রধারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিও ছোড়ে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার একপর্যায়ে আসামিদের ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খালে পড়ে যান। তাঁর সাঁতার না জানার বিষয়টি জেনেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে রুদ্র সেনকে খালে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। 


মামলাটি আদালতের নির্দেশে প্রথমে তদন্তে নামে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরপর মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। গেল বছরের মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত পলাতক আসামিদের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা না পাওয়া এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য সময় বেশি লাগছে।


এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোখলেছুর রহমান  জানান, প্রিয় শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা হতাশ। ২ বছরেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই। মূল আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলার শুরুর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখলেও গত ১ বছর থেকে কেউ কোন যোগাযোগ করছেন না। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে আমরা রীতিমত হতাশ। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী হাফিজুল ইসলাম জানান, মামলার অগ্রগতি হতাশা ব্যাঞ্জক। 


সিআইডির সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন-সিআইডিতে মামলা নাকি পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উপাত্ত যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তাই চার্জশীট দিতে দেরি করা হচ্ছে। সিআইডি বলছে তারা নাকি ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। অথচ তাদেরকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলার কোন আসামীকে সরাসরি গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিহতের পরিবার ও আমরা সহপাঠিদের মাঝে শঙ্কা বাড়ছে। 


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মো. এমরান হোসেন জানান, রুদ্র সেন হত্যা মামলাটির অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলাটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে তাই একটু সময় লাগছে। এজাহারে বেশির ভাগ রাজনৈতিক আসামি দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে। দেশের ভেতর যারা রয়েছে তার যাতে পালাতে না পারে সে জন্য ইমিগ্রেশনেও নির্দেশনা দেয়া আছে। এখন পর্যন্ত এজাহার নামীয় ৪ জনসহ মোট ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৪ জনই শাবি শিক্ষার্থী। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। চার্জশীট কবে দেয়া হতে পারে সে ব্যাপারে কিছু বলা যাবেনা বলেও মন্তব্য করেন এই সিআইডি কর্মকর্তা।


আজো চোখের জলে পুত্রকে স্মরণ করে বুকফাটা আর্তনাদ করেন বাবা সুবীর সেন ও মা শিখা বণিক। তারা বলেন,আবার ফিরেছে জুলাই। কিন্তু ফিরেনি রুদ্র সেন। আর ফিরবেনা কোনদিন। একমাত্র বোন সুস্মিতা সেন আজ পর্যন্ত এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারেননি প্রিয় ছোট ভাইকে।তারাও তাদের স্বজন হারানোর ব্যাথায় ব্যথিত। তারাও সুবিচার দাবি করেন।


শাবির মেধাবী শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার কোন অগ্রগ্রতি নেই। তদন্তের বৃত্তে বন্দী হয়ে আছে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া। মামলার তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়ার ধীর গতিতে হতাশ তার পরিবার, শিক্ষক ও সহযোদ্ধারা।




  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।


এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।


সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।  


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম
  • আপডেট : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ এএম

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা "আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের" শরীয়তপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০২৬ আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনির হোসেন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটি অনুমোদন করেন।


অনুমোদিত কমিটিতে এ্যাড. সুলতান নাসিরকে সভাপতি, উজ্জ্বল খানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কে এম কামরুজ্জামান মিলন, জি এম ওহিদুজ্জামান, মোঃ কবির খান, মতিউর রহমান মাদবর, ফারুক খান, ডি এম কামাল হোসেন, সুমন খান ও জাকির হোসাইনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।


এছাড়া মো. আবুল কালাম (মুন্না) সাধারণ সম্পাদক, মনজুর হাসান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাসরিন সুলতানা, এ্যাড. মো. মোস্তফা কামাল, সৈয়দ বেপারী, আব্দুল সাদার সরদার, রিপন ফকির, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মো. মাহবুব আলম মাহফুজ, মোঃ সোহাগ ও আমির হোসেন সরদারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।


এছাড়াও মোঃ বাতেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরিকুল ইসলাম সৈকত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মালেক ঢালী, সোহেল সরদার, নাইম মালত, জহিরুল ইসলাম ও আল আমিন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।


এ কমিটিতে সোহাগ সরদার দপ্তর সম্পাদক, ইনছান সরদার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোঃ রুহুল আমিন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, কাওছার হোসেন আইন বিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ আনিসুর রহমান ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মুন্নি হাবিবা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, আতিকুর রহমান রাসেল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, দাউদ মোঃ,তুহিন প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সামিম মাঝি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ রুবেল মোল্লা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন।


নতুন এ কমিটিতে রেহেনা সুলতানা আখি, মোঃ আবু সুফিয়ান ও মোঃ আল-আমিন মাতুব্বরকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।


অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, কমিটিকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পরপর সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও আইনগত সহায়তা ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য এবং বিভিন্ন জেলা কমিটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


এদিকে, নবগঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


অন্যদিকে, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসীরা  হামলা চালায় । এতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত: ১২ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০) নামের ৫ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজারে এঘটনা ঘটে।


আহত শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। বিকাল তিনটার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে বটতলা বাজারেই অবস্থান করছিলো। পরে বিকালে সন্ত্রাসীরা  ৭ থেকে ৮ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা  চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।


কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নবাগত এসপি

খুলনার প্রতিটি থানা হবে মানুষের আস্থা ও ভরসার স্থল


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন। 


নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

নীলফামারীর ডিমলায় ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়া এবং বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর ও ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযানকালে উপজেলা সদরের মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১ লিটার ২০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ১৪০ মিলিলিটার কম দেওয়ার অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ২৯ ও ৪৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।




অপরদিকে, ডিমলার ডোমার রোডের বামুনিয়া এলাকায় অবস্থিত আদিল আটো মুড়ির মিলে মুড়ি পণ্যের বিএসটিআই গুণগত মান সনদ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’-এর ৩০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।


ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নাসির উদ্দিন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. জুলকারনাইন।


বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।