ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২টি ঝুটের গোডাউন পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোনাবাড়ী মেট্রো থানাধীন দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকার বাচ্চু মিয়ার পলি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। বর্তমানে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। তবে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে গোডাউনগুলোর বিপুল পরিমাণ ঝুট ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিকরা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
মানবতা, উন্নয়ন ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য এই স্লোগান নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সামাজিক সংগঠন সোশ্যাল প্রগ্রেস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সোসাইটি (এসপিডিএস)-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে এসপিডিএস কার্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ঠাকুরগাঁওয়ের পরিচিত চিকিৎসক ডা. মো. হাবিব-ই-রসুল (লিটন)। তিনি এমবিবিএস ও এফসিপিএস (মেডিসিন) ডিগ্রিধারী এবং ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।
এই আয়োজনে প্রায় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রোগীরা। তারা বলেন, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত উপকারী। অর্থের অভাবে অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয় না। এসপিডিএসের এ উদ্যোগের ফলে তারা সহজেই চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।
এসপিডিএস এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারমীন আক্তার জানায়, সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
হাবিবুর রহমান।
গাইবান্ধায় পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে হাবিবুর রহমান (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়ার মন্টু মিয়ার ছেলে। তার পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ডের দায়িত্বে যোগ দেন নায়েক হাবিবুর রহমান। বুধবার বিকেলে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে অন্য সদস্যদের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল বলেন, দুপুরে মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে হাবিবুরের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার আগে-পরে ওয়াশরুমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাবিবুর আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে নতুন পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিরা কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধনী ফলকে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম থাকায় আপত্তি তোলেন বিলকিস ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন ছিল, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়নি কেন এবং উদ্বোধনী ফলকে শুধু একজন সংসদ সদস্যের নাম রাখা হলো কেন।
এ নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক একপর্যায়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে বসে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলে।
বিলকিস ইসলাম নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষে তাঁরও জায়গা থাকা উচিত। বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও জানান। নিজের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেবেন না-এমন কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য, উপজেলা পরিষদের এ পরিদর্শন কক্ষ কোনো একক ব্যক্তির জন্য নয়; জাতীয় সংসদের সব সদস্যই প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নীলফামারী-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে স্থানীয়ভাবে তাঁর নাম ফলকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচন। নির্বাচনী এলাকা না থাকায় তাঁদের জন্য আলাদা করে কোনো পরিদর্শন কক্ষ নির্ধারণের বিধান আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন আব্দুল মুনতাকিম। তিনি এ বিষয়ে সরকারি পরিপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথির কথা উল্লেখ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে পরিদর্শন কক্ষটি কারা কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং উদ্বোধনী ফলকে কার নাম থাকবে-এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটি মাসকটে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।আজ বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামের এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ফ্লাইটটি আবার মাসকট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আজ দুপুরের পর ফ্লাইটটির চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ওই নারী যাত্রীর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা কৃত্রিম রং মেশানোর অপরাধে তিন মৎস্য ব্যবসায়ীকে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভাণ্ডারিয়া পৌর শহর ও স্থানীয় বাজারে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় তাদের এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মাছে কৃত্রিম রং ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানোর দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। তাদের মধ্যে মো. মিলন হাওলাদার (৩৭)-কে ১ হাজার টাকা, মো. মনসুর মোল্লা-কে ১ হাজার টাকা এবং জহির (৪০)-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, অসাধু উপায়ে মাছে কৃত্রিম রং মিশিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছকে আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ভাণ্ডারিয়ার ৩ আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার
ভাণ্ডারিয়ায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন ভাণ্ডারিয়ার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া এলাকার মো. সাব্বির হাওলাদার (১৯), মো. জিহাদ হাওলাদার (৩০) ও মো. শাকিল হাওলাদার (৩৫)। গত ২৪ আগস্ট র্যাব-৭ ও র্যাব-৮-এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইকরামুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র, দা ও লোহার রড নিয়ে ইকরামুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে সাব্বিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ইকরামুলের নাকে লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জিহাদের দায়ের কোপে তার বাম হাতের কনুই জখম হয় এবং শাকিল লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার পর সাব্বির ও শাকিল ইকরামুলের ঘরে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের স্বর্ণের কানবালা নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় ইকরামুলের স্ত্রী বিনাবালীকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত ইকরামুলকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার এসআই সিদ্দিক জানান, র্যাবের সহযোগিতায় মামলার ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ভাণ্ডারিয়ায় এনে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।