• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ এএম

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশপ্রেমীরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এ সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে ফেলবে। গ্রহণের কারণে চাঁদের বড় একটি অংশ লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করতে পারে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।


নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময়ের পার্থক্যের কারণে চন্দ্রগ্রহণটি ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে দেখা যাবে। ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক সময় প্রায় ৪টা ১২ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে পুরো গ্রহণটি দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে চাঁদ ওঠা বা অস্ত যাওয়ার সময় গ্রহণের একটি অংশ দেখা যাবে।


এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ নয়। কারণ চাঁদের সামান্য একটি অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন ছায়ার বাইরে থাকবে। গ্রহণের সময় চাঁদের যে অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে যাবে, সেটি লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করতে পারে।


সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ছড়িয়ে পড়ে ও প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়। এর ফলে চাঁদের গ্রহণগ্রস্ত অংশে লালচে আভা তৈরি হয়, যাকে অনেক সময় ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।


চন্দ্রগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে। তবে গভীর আংশিক গ্রহণের সময়কাল হবে এর তুলনায় অনেক কম। সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ পৃথিবীর আমব্রার মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে নাসা ও বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সূত্র।


এর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে, ১২ আগস্ট একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেটি দেখা গিয়েছিল। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের নির্দিষ্ট সরলরৈখিক বিন্যাসের কারণে সাধারণত সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কাছাকাছি সময়ে জোড়ায় ঘটে।


সূর্যগ্রহণ দেখার মতো চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো চোখের সুরক্ষা প্রয়োজন হয় না। দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের গ্রহণ আরও কাছ থেকে দেখা যাবে। আকাশ পরিষ্কার থাকা এবং দিগন্তে কোনো বাধা না থাকলে গ্রহণ দেখার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে ভালো হবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে প্রচারিত একটি ভিডিও সম্পর্কে অবগত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিডিওটিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


মঙ্গলবার সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং এক ই-মেইলে বলেন, সিক্রেট সার্ভিস ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং আমাদের সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এমন যেকোনো বিষয় তদন্ত করে।


তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার স্বার্থে সুরক্ষাসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আমরা আলোচনা করি না।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়।


প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওটি শুরু হয় ইংরেজিতে লেখা একটি গ্রাফিকে দেখা যায়, ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা উচিত? এবং এতে শৈল্পিক গ্রাফিক্সের মাধ্যমে সেইসব স্থান দেখানো হয়েছে যেখানে কনিষ্ঠ ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সময় কাটাতে দেখা যায়, যার মধ্যে নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারও রয়েছে।


ভিডিওতে দাবি করা হয়, ব্যারনের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।


এর আগে চলতি মাসেই রয়টার্স জানায়, গত এক বছরে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে এমন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছে ইসরায়েল। তুরস্কে ট্রাম্পকে ঘিরে একটি গোপন বিমানবাহিনী কৌশল নেওয়ার আগেও এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানায় রয়টার্স।


ট্রাম্প নিজেও এর আগে ইরানের সম্ভাব্য হামলার প্রসঙ্গে নিজেকে ইরানের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন।


এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইরানের একটি চক্র। হুমকি শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে তাকে দ্রুত ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স।


একজন মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারে, ফ্লোরিডার হল্যান্ডেল বিচ এলাকায় অবস্থানরত ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইরকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরানের গুপ্তচররা।


ওই সময় ইয়াইর মিয়ামির কাছাকাছি হল্যান্ডেলে ছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের একটি সেল তখন মিয়ামি এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং ইয়াইরের বাসস্থান ও দৈনন্দিন চলাফেরার ওপর নজরদারিও চালিয়েছিল।


চক্রান্তের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ইয়াইরকে অবিলম্বে ওই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতটাই জরুরি ছিল পরিস্থিতি যে ইয়াইর নিজের কিছু জিনিসপত্রও ফ্লোরিডায় রেখে ইসরায়েলে ফিরে আসতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি ইসরায়েলেই অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রয়টার্স এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।


কানাডা সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৭০০ ধরনের পণ্যের ওপর ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কের জবাব দেওয়া হচ্ছে।


গত শনিবার কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই শুল্ক আরোপ করা হয়।


কানাডার পাল্টা শুল্কের আওতায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র ও পোশাকে ৫০ শতাংশ, পনির, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও কিছু সামুদ্রিক খাবারে ২৫ শতাংশ এবং ইলেকট্রনিক পণ্য ও বিভিন্ন সরঞ্জামে ১৫ শতাংশ শুল্ক বসবে।


এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার, সুগন্ধি, প্রসাধন ও পরিচর্যা সামগ্রী, প্লাস্টিক, কাঠ, কাগজ, কার্পেট, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রেল ইঞ্জিন, মোটরসাইকেল ও গেমিং সরঞ্জামও শুল্কের আওতায় থাকবে।


কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, এসব পাল্টা শুল্কের মূল লক্ষ্য কানাডার ব্যবসাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক চাপ তৈরিও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।


তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই কোন পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে।


শুধু পাল্টা শুল্ক নয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের জন্য ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের সহায়তা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে অটোয়া। এর আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য অর্থায়ন এবং শুল্কের কারণে ঝুঁকিতে পড়া কর্মীদের সহায়তা দেওয়া হবে।


কানাডার সরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব কানাডা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোকে ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেবে। এসব ঋণের অর্থ পরিশোধ শুরু করতে ৩৬ মাস সময় দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

নেপালে আকস্মিক বন্যা। ছবিঃ নেপাল টাইমস।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২২ এএম

নেপালে আকস্মিক বন্যায় (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে । এছাড়া নিখোঁজ ৪০৩ জন ও উদ্ধার করা হয়েছে ১১৪ জনকে।


বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তিব্বত সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলে এই বন্যায় গ্রাম ও বেশ কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ভেসে গেছে। 


এ ঘটনায় ভারতীয় শতাধিকসহ ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপাল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে।



স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পানি তিব্বতের দিক থেকে এসেছে।


হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় রাসুয়া জেলার তিমুরে এবং কাছের স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যানবাহন, পণ্যসামগ্রী ও অন্যান্য সম্পদ পানির স্রোতে ভেসে গেছে।


নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। দেশটির তিনটি জেলায় এ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়া জেলার রাসুওয়াগাধি এলাকায় বুধবার বেলা বাড়ার আগেই আকস্মিক এ বন্যা আঘাত হানে।




স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভুটেকোশি নদীর উপনদী লহেন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসের কারণে আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসে। প্রথমে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে বন্যার পানি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জনবসতিপূর্ণ ওই এলাকার বড় একটি অংশ পানিতে ভেসে যায়।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই এলাকায় বৃষ্টিপাতের কোনো খবর ছিল না। ফলে আকস্মিক এ দুর্যোগের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো আগাম সতর্কতাও ছিল না। প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার মধ্যেই তাদের ওপর নেমে আসে বিপর্যয়।


রাসুওয়ার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ মাটি কাঁপতে দেখে প্রথমে তিনি ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। বাইরে বের হয়ে তিনি উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির বিশাল ঢেউ দেখতে পান। পানির সঙ্গে ধোঁয়ার মতো কিছু একটা দেখা যাচ্ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার এলাকা পানির তোড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।


বন্যার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ধুঙ্গানাসহ কয়েক ডজন মানুষ পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। রাসুওয়াগাধি কাস্টমস চেকপোস্টে অপেক্ষমাণ ৩০০টির বেশি গাড়ি ও ট্রাকও পানির স্রোতে ভেসে যায়।

 নেপালে বন্যায় বহু প্রাণহানি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক


এরপর বন্যার পানি সিয়াপ্রুবেশি হয়ে ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। নদীপথে থাকা মানুষ, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতুসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা পানির স্রোতে তলিয়ে যায়।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।


নেপালের পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাসুওয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহু সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।


নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৬১ জন নেপালিও।


বন্যায় নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নয়টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক পানির তোড়ে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।


নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বিবেচনায় কর্মকর্তারা বলছেন, নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি হতে পারে এবারের বন্যা। এমনকি ১৯৯৩ সালে সারলাহী, রাউতাহাট ও মাকওয়ানপুরে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর পর এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল বলেন, সোল থেকে আক্কারে বাজার পর্যন্ত কয়েক’শ বাড়ি বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অনেকে নিরাপদ স্থানে যেতে পারলেও বহু প্রবীণ ও শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।


তিনি বলেন, ‘ভোর থেকে আমি পৌর ভবনে আটকে আছি। বাড়ি ফেরার কোনো রাস্তা বা সেতু আর অবশিষ্ট নেই।’


একই নদীতে গত বছরও বন্যা হয়েছিল। তখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে না ফিরতেই এবার আরও ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়ল। গত বছরের ৮ জুলাই লহেন্দে নদীর বন্যায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। ওই বন্যায় কয়েকটি স্থানে সড়কের অংশ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি নেপাল ও চীনকে সংযোগকারী মিতেরি সেতুও ধ্বংস হয়েছিল।


এবারের ভয়াবহ প্রাণহানির পেছনে আগাম তথ্য ও সতর্কবার্তার ঘাটতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রাসুওয়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিব্বত থেকে বন্যার সূত্রপাত হলেও এ বিষয়ে তারা আগে কোনো তথ্য পাননি।


প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাসুওয়াগাধি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে তিব্বতের একটি এলাকায় তুষারধসের পর লহেন্দে নদীতে ধ্বংসাবশেষসহ প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। ২৫ ও ২৬ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবিতে তুষারধস এবং এর পরবর্তী বন্যার চিত্র দেখা গেছে।


বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বুধবার বিকেলে নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ এবং চীনের আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। পরে চীন নেপালকে আশ্বস্ত করেছে, সীমান্তের ওপারে নদীর পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করলে তারা দ্রুত নেপালকে তথ্য জানাবে।


সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

সর্বশেষ সব খবর

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১১ পিএম

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।


রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।


মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।


নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”


মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”


আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।


আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।


সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।


তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।


অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।


জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।


এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।


তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।


ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।


তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।


বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।


ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।


মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।


সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।


অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।

সর্বশেষ সব খবর