ছবি : সংগৃহীত
ব্যাপক হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ১১তম দিন অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ শুরুর পর গত সোমবার রাতে প্রথমবারের মতো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওই আলোচনার পর গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, শিগগিরই এ যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, এটি আধিপত্য ধরে রাখতে যুদ্ধ; আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং আবার যুদ্ধ– এ চক্র চালু রাখার চেষ্টা। ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ও অবস্থানে হামলা চালায় ইরান।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩৯ জন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ জন চিকিৎসাধীন। গতকাল এক দিনে ১৯১ জনকে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জন আতঙ্কজনিত রোগে ভুগছেন। বিবিসি জানায়, গতকাল মধ্য ইসরায়েলের আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানের হামলায় ২৯ বছরের এক তরুণী নিহত হয়েছেন। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, হামলায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সৌদি আরব বলছে, গত সোমবার রাতে তারা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার জানায়, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকিয়েছে। দেশটি জানায়, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় ইরবিলে তাদের কনস্যুলেটে ড্রোন আঘাত হেনেছে। বাহরাইনের একটি হোটেলে সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান টাইমস জানায়, ওই হোটেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
বিবিসি ফার্সি জানিয়েছে, ইরানের তেহরান ও কারাজে গত রাতে তীব্র হামলা হয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, এসব হামলা আগের রাতের তুলনায় বেশ তীব্র। বারবার তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। আলজাজিরা জানায়, গতকাল পূর্ব তেহরানের আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত ৪০ ইরানি নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য উল্লেখ করে এএফপি জানায়, ইরানে ১০ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ৫০টির বেশি নৌযানকে।
গত সোমবার ইস্পাহানসহ অন্যান্য বড় শহরেও হামলা হয়। ইস্পাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় হামলা হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ ছাড়া গভর্নরের কার্যালয়েও হামলা হয়েছে। ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব-ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদও বোমায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি দুই দফা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি ইঙ্গিত করেন। দুবারই আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত হলো; ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কখনও আক্রমণ করা হবে না– এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমা হামলা উপেক্ষা করে নতুন নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানাতে রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ দৃশ্য দেখা যায়। রয়টার্স জানায়, তাদের হাতে ইরানের পতাকা ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা গেছে।
গতকাল ইসরায়েলের বেইত শমেশ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। তা ছাড়া মধ্য ইসরায়েলে সাইরেন শোনা গেছে। এটি ইরানের ৩৩তম হামলা। এ ছাড়া উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের হারির ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক সদরদপ্তরে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
ইরানে খাবার ও মানবিক সহায়তা দিচ্ছে আজারবাইজান। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকিতে ভয় পায় না। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে আইআরজিসি।
এদিকে ট্রাম্প যুদ্ধ থামানোর আভাস দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১৩% কমে গেছে। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের অবাধ প্রবাহের অনুমতি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ‘ব্যর্থ’ হয়েছে: আরাঘচি
আলজাজিরা জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে একটি ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রথম পরিকল্পনা (প্ল্যান এ) ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা অন্য পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেগুলোও একইভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। এ কারণেই তারা আবাসিক এলাকাগুলোতে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তারা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে। আমি দেখছি না– তারা কোনো যৌক্তিক লক্ষ্য অনুসরণ করছে। শুরুতে তারা তাদের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন ১০ দিন পার হওয়ার পর আমার মনে হয়, তারা পুরোপুরি লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে।’
আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার মাধ্যম পিবিএস নিউজকে গত সোমবার রাতে বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে মোজতবা খামেনির নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, আলি খামেনির ছেলেকে নিয়োগ দেওয়ায় শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে। সেই সঙ্গে কিছুটা স্থিতিশীলতাও এনে দেবে।
যুদ্ধবিরতি চায় না ইরান, বললেন দেশটির স্পিকার
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চাইছে না। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমরা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চাইছি না। কারণ আমরা মনে করি, আগ্রাসনকারীকে এমনভাবে জবাব দিতে হবে, যাতে সে শিক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে আর কখনও আমাদের প্রিয় ইরানে হামলার কথা ভাবতে না পারে। তিনি বলেন, ‘জায়নবাদী শাসন ব্যবস্থা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং আবার যুদ্ধ– এ চক্র চালু রাখতে চায়। আমরা এই চক্র ভেঙে দেব।’
যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরান এ যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে: আইআরজিসি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) বলেছে, ইরানই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘(মধ্যপ্রাচ্য) অঞ্চলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’ এর আগে আইআরজিসি বলেছিল, তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেবে না।
শিগগিরই ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটবে, বলছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হতে যাচ্ছে। গত সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, এ যুদ্ধ পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুতগতিতে লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে। এ বক্তব্যের আগে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত নিরসনে ‘সহায়তা করতে’ ইচ্ছুক। এ সময় ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করেন, ‘যুদ্ধটি সম্পূর্ণ; প্রায় সম্পূর্ণ।’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা নিয়েও তিনি ইরানকে সতর্ক করেন।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না– আইআরজিসির এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ কঠোর হামলা চালানো হবে।’
যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প-পুতিনের প্রথম ফোনালাপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ফোনে কথা বলেছেন ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, গত সোমবার রাতে এ ফোনালাপে ইরান যুদ্ধের দ্রুত অবসানে পুতিন তাঁর প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। উশাকভ বলেন, ‘ইরান সংঘাতের দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট বেশ কিছু বিবেচ্য বিষয় তুলে ধরেছেন।’
পুতিন-পেজেশকিয়ান ফোনালাপ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টেলিফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি ইরানকে উত্তজেনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস এ কথা জানায়। এতে বলা হয়, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনাকালে পুতিন দ্রুততম সময়ে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা হ্রাস এবং রাজনৈতিক উপায়ে এর সমাধানের পক্ষে তাঁর নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন। এর আগে সোমবার ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপ হয়।
তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ‘ন্যায্যতা নেই’: এরদোয়ান
বিবিসি জানিয়েছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘন কোনোভাবেই ন্যায্যতা পেতে পারে না। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা কোনো পক্ষকেই সাহায্য করছে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনীতির পথ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে তুরস্ক।
নেতানিয়াহু নিহত হওয়ার খবর, অস্বীকার ইসরায়েলের
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি লিখেছে, তেহরানের চালানো হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন– এমন জল্পনা হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সূত্রে ক্রমেই বাড়ছে। তবে ওই খবর নাকচ করে ইসরায়েলের জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার ‘গুজব ছড়াচ্ছে ইরানের গণমাধ্যম’।
খবরটি সামাজিক মাধ্যমে বেশ প্রচার হচ্ছে। নেতানিয়াহু যে সত্যিই মারা গিয়ে থাকতে পারেন, তার পক্ষে কিছু যুক্তি হাজির করেছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। তারা বলছে, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে তাঁর সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশের পর প্রায় তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এর পর থেকে তাঁর নামে যেসব বক্তব্য আসছে, তার সবই লিখিত। কয়েকটি হিব্রু সূত্র জানায়, ৮ মার্চ নেতানিয়াহুর বাসভবনের নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়। এ ছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার ও দূত স্টিভ উইটকফের ইসরায়েল সফর বাতিল হওয়ার ঘটনাও এ পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে তাসনিম নিউজ এজেন্সি লিখেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এসব জল্পনার বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করা যায়নি। জেরুজালেম পোস্ট এ গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে। নেতানিয়াহুর বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর ভাই নিহত হয়েছেন ও বেন-গাভির গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা
লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, তাদের যোদ্ধারা স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় লেবাননের সীমান্ত শহর মেইস আল-জাবালে ইসরায়েলের সেনাদের ওপর হামলা চালায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আল-নামিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিনিধিরা জানান, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল জেলার হাদ্দাতা শহরেও ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে ২ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪৪ জন।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।
নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”
আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।
আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।
তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।