যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ২:০০ এএম

গত সপ্তাহের শেষভাগে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, ইরান যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি হাতের নাগালেই।


ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সব কথা বলা ও পোস্ট দেওয়া শুরু করলেন, যেটা করবেন না বলে তাঁর কর্মীরা বারবার নিশ্চিত করেছিলেন।


ট্রাম্পের কথা ও পোস্ট দেখে মনে হয়েছে, সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তিনি দর-কষাকষির চেষ্টা করছেন। চলমান আলোচনা নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে গেছেন এবং গত শুক্রবার সকালে যখন পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা তাঁকে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান আলোচনার হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছিলেন, তখন তিনি ফোনে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন।


কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ্যে যেসব দাবি করেন, পরে ইরানি কর্মকর্তারা তাঁর অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরান নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—ট্রাম্পের এমন দাবিও তেহরান অস্বীকার করেছে।


ফলে যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য একটি শান্তিচুক্তি নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই কমে আসে। এখন শান্তি আলোচনা কোন দিকে যাবে, তা একেবারেই অনিশ্চিত।


ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে সিএনএনের কাছে স্বীকার করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্য আলোচনার জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, এই আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


আলোচনার বিষয়ে অবগত এমন এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আলোচনার চেষ্টা করা, বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যেন তাঁরা (ইরানিরা) এমন বিষয়ের ওপর সম্মতি দিয়েছেন, যেগুলো নিয়ে তাঁরা এখনো একমত হননি এবং যেগুলো তাঁদের দেশের জনগণের মধ্যেও জনপ্রিয় নয়—এসব বিষয় ইরানিরা ভালোভাবে নেননি।


ওই ব্যক্তি আরও বলেন, এভাবে তাঁদের দুর্বল মনে হবে কি না, এটা নিয়ে ইরানিরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।


ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প যেসব দাবি করছেন, তার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প ব্লুমবার্গকে বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ‘অনির্দিষ্ট’ সময়ের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে।


ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তেহরান ‘সবকিছুর সঙ্গে একমত হয়েছে’ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে।


আর অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেছেন, আরেকটি বৈঠক ‘সম্ভবত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হবে’। তিনি যোগ করেন, ‘আমি মনে করি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’


প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এসব দাবির মধ্যে গত রোববার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালায় এবং সেটি জব্দ করে। এ ঘটনা ইরানিদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।


দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ট্রাম্পকে এখন আবার একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি একটি চুক্তি করবেন, নাকি এমন একটি সংঘাত আরও তীব্রতর করবেন, যেটি এখনকার মতো শেষ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।


ট্রাম্প আলোচনার জন্য ইরানকে বেশ কিছু ‘সীমারেখা’ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে—ইরানকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে এবং প্রায় পারমাণবিক বোমা তৈরির মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে।


অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।


ট্রাম্প যেভাবে সবকিছু বিগড়ে দিচ্ছেন


আলোচনার প্রথম দফায়, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।


জবাবে ইরান পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে জানা আছে এমন একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন।


আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বলেন, সাম্প্রতিক একটি প্রস্তাবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—প্রথমে ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখা হবে, এরপর আরও এক দশক ইরান শুধু অস্ত্র-মানের অনেক নিচের স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।


অন্যদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বাতিল চান। তিনি এমনকি প্রথম দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তার বিরোধিতাও করেন।


আগের এক প্রতিবেদনে সিএনএন বলেছিল, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশে জব্দ করা ইরানের ২ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।


এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে ইরানের পক্ষ থেকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের বিনিময়ে।


শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ নিজেদের শর্তে কতটা নমনীয় হবে, সেটির ওপর নির্ভর করছিল একটি চুক্তি হবে, নাকি হবে না।


ট্রাম্প তাঁর একটি অবস্থানে একদম অনড় রয়েছেন। সেটা হলো, এমন কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়া, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ইরান পারমাণবিক চুক্তির মতো হবে। ট্রাম্প শুরু থেকেই ওই চুক্তিকে দুর্বল বলেছেন এবং ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন।


একটি চুক্তি না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তত একটি প্রাথমিক রূপরেখাভিত্তিক সমঝোতা তৈরি হবে, এমনটা আশা করেছিলেন আলোচকেরা। তাঁরা ভেবেছিলেন, যদি একটি সমঝোতা তৈরি হয়, তবে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে চুক্তির সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে আরও গভীর আলোচনার পথ খুলে যাবে।


আলোচকেরা যখন অন্তত একটি সমঝোতার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, সোমবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে বসেন, তিনি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ অনুভব করছেন না।


অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে এই যুদ্ধ ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।


ঘন ঘন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভ্যাসের কারণে আলোচনার ক্ষতিকর হতে পারে—এটা নিয়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ট্রাম্পের কোনো উপদেষ্টা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।


সেদিন দুপুর থেকে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একাধিক পোস্ট দেন। ওই সব পোস্টে তিনি ৯০০-এর বেশি শব্দ লিখেছেন।


আর ট্রাম্পের এসব প্রকাশ্য মন্তব্য আলোচনা ঘিরে শুধু অনিশ্চয়তাকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


যেমন রোববার সকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নেবেন না। যদিও ঠিক কী ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ, তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেননি।


একই সময়ে তাঁর সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা—জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনার মতো এই দফার আলোচনায়ও নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স।


এক দিন পর ট্রাম্প আরেকটি বিভ্রান্তিকর হালনাগাদ তথ্য দেন, এবার তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে। ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টের এক সাংবাদিককে বলেন, ভ্যান্স আকাশে রয়েছেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলোচনার জন্য পাকিস্তানে অবতরণ করতে যাচ্ছেন।


কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, ভ্যান্সের গাড়িবহর তাঁকে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে পৌঁছেছে।


পরিস্থিতি সামাল দিতে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রতিনিধিদল শিগগিরই রওনা দেবে।’


বহু বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা বলার ইতিহাস রয়েছে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন, নাকি তিনি বারবার ভুল তথ্যের শিকার হচ্ছেন, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে।


কিন্তু তাঁর মিথ্যার পুনরাবৃত্তি এতটাই বেশি যে নেপথ্যে ইরান আসলে কী বলছে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।




সর্বশেষ সব খবর

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১১ পিএম

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।


রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।


মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।


নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”


মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”


আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।


আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।


সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।


তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।


অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।


জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।


এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।


তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।


ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।


তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।


বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।


ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।


মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।


সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।


অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৭ পিএম

ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।


কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’


সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।


সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।


ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।


হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।


কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।


সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।


সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।


পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।


 




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। 


অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।


এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।


শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।


ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।


ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।


বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।


ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।


এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।


বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।


রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।


এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর