• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়ে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে বেইজিংয়ের নেওয়া বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।


গত সোমবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে 'শান্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক সকল প্রচেষ্টার' প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং 'রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে' চীনের অবস্থান তুলে ধরেন।


ওই ফোনালাপ নিয়ে চীনের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শি বলেছেন, 'হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পথ অক্ষুণ্ন রাখা উচিত, কারণ এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করে।'


গত সাত সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি অচল হয়ে পড়েছে। তবে বিবৃতিতে যুদ্ধে জড়িত প্রধান পক্ষগুলোর কারও নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালি দিয়ে বেশিরভাগ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং এর জবাবে ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপ করা হয়।


এমন পরিস্থিতিতে, শি জিনপিংয়ের এই সংযত বিবৃতির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের চরম বৈপরীত্য দেখা গেছে। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, 'আমি একটি যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি, সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে' এবং ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি 'চুক্তিতে' না পৌঁছানো পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।


বিশ্লেষকদের মতে, এটি এ বিষয়েরও ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে চীন কীভাবে বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে নিজেকে অধিকতর দায়িত্বশীল হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও বেশিরভাগ সময়েই বেইজিং সামনের সারিতে বা কেন্দ্রে থাকার চেয়ে নেপথ্যে থাকতেই বেশি পছন্দ করে।


অ্যাব্বা ইবান ইনস্টিটিউট ফর ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড ফরেন রিলেশনস-এর এশিয়া-ইসরায়েল পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান গেদালিয়াহ আফটারম্যান বলেন, 'চীন কোনো নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়ে নয়, বরং অপেক্ষা করা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সুযোগ বুঝে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে। আর তারা মার্কিনিদেরই এই ঝামেলার মোকাবিলা করতে দিচ্ছে।'


অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার দীর্ঘদিনের নীতি এবং ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে বেইজিং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেকে একটি যুক্তিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।


ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তারা দেশটির উৎপাদিত তেলের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনে থাকে। এছাড়া ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি একটি 'বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে' স্বাক্ষর করেছিল চীন।


একই সঙ্গে বেইজিং গত এক দশক ধরে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েরই অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার।


চীনের ঝেজিয়াং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মেডিটেরানিয়ান রিম ইনস্টিটিউটের ডিন মা জিয়াওলিন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই দেশগুলো নিজেদের মধ্যে শত্রু হলেও, তারা সবাই আমাদের বন্ধু।'


আফটারম্যানের মতে, চীনের এই অহস্তক্ষেপ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতির কারণেই সম্ভবত চলতি মাসের শুরুতে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে 'সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টা' চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। সিরিয়া এবং মিয়ানমারের মতো সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরূপ উদ্যোগেও চীন ভেটো দিয়েছে।


তাইওয়ান-ভিত্তিক সোসাইটি ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো চ্যাং চিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যের বিপরীতে—ওই অঞ্চলে বেইজিংয়ের শীর্ষ অগ্রাধিকার এখনো অর্থনীতি। তিনি বলেন, শান্তি ব্যবসার জন্য ভালো, আর যুদ্ধ তা নয়।


তিনি আরও বলেন, 'চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করে। সংঘাতে কে জিতল, তা নিয়ে তাদের আসলেই মাথাব্যথা নেই। তাদের ইচ্ছা হলো মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।'


বেইজিং-ভিত্তিক হুটং রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ফেং চুচেং বলেন, যুদ্ধে আরও উত্তেজনা বাড়লে তা 'চীনের অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এমন মাত্রার হুমকি তৈরি করবে, যা তাদের সরাসরি জড়িত হতে বাধ্য করতে পারে। কারণ চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।'


চলতি মাসে নিজ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের উদ্দেশে লেখা এক গবেষণা নোটে তিনি বলেন, 'বেইজিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা ইরান এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার যে প্রচেষ্টা তারা চালাচ্ছে, তা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।'


এদিকে বেইজিং এই যুদ্ধের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের সমন্বয়ে সাহায্য করতে 'সবার বন্ধু' হিসেবে তাদের অবস্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগ পর্যন্ত চীনের শীর্ষ কূটনীতিক– ওয়াং ই ২৬টি ফোনালাপ করেছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন সংঘাতের মূল পক্ষগুলোর সঙ্গে প্রায় দুই ডজন বৈঠক করেছেন।


সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের আগে, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট শি আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গেও একটি বৈঠকে অংশ নেন।


এত বিপুল কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ক্ষেত্রে বেইজিং যে ভূমিকা রেখেছিল, তার তুলনায় চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায়—নিজেদের ভূমিকাকে অপেক্ষাকৃত ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করেছে।


পর্যবেক্ষকদের মতে এর কারণ হলো, চীন একটি জটিল শান্তিচুক্তিতে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চায়।


সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ড্রিউ থম্পসন বলেন, 'চীন শান্তি প্রক্রিয়ার দায়ভার না নিয়েই শান্তিস্থাপনকারী হওয়ার চেষ্টা করছে। মূল কথা হলো মধ্যপ্রাচ্য চীনের মূল স্বার্থের জায়গা থেকে অনেক দূরে, তাই সেখানে ব্যয় করার মতো তাদের রাজনৈতিক পুঁজিও সীমিত।'


তারপরও চীনের এই প্রচেষ্টাগুলো অলক্ষ্যে থেকে যাবে না বলে মনে করেন ঝেজিয়াং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মা জিয়াওলিন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, 'আমি মনে করি, বিশ্ব জানে কারা স্থিতিশীলতা দেয়, কারা নিরাপত্তা দেয় এবং কারা আন্তর্জাতিক আইন ও শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।'


পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চীন পর্দার আড়াল থেকে হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেওয়ার বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল, চীন ইরানে ম্যান-পোর্টেবল এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস)-এর একটি চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।


সিএনএনের ওই প্রতিবেদনের পর চলতি মাসে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর আরেকটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ইরান চীনের একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) সংগ্রহ করেছিল এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চালাতে সেটি ব্যবহার করেছে।


বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির পোস্টডক্টরাল ফেলো জোডি ওয়েন আল জাজিরাকে বলেন, মে মাসে শি ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি পরিকল্পিত বৈঠকের আগে বেইজিং এতটা 'অসতর্ক' হবে বলে তিনি মনে করেন না।


ওয়েন আল জাজিরাকে বলেন, 'চীন সরকারের কাছে চীন-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।'


শি জিনপিং একটি বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন শুল্কের বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার আশা করছেন। অন্যদিকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আলাদা হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া বেইজিং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি দ্বিতীয় চীন-আরব শীর্ষ সম্মেলনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।


আফটারম্যানের মতে, ইরান যুদ্ধে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতির কথা বিবেচনা করার সময় চীন এই সব কয়টি বিষয়ই বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখবে।


তিনি বলেন, 'নিজেদের সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীন দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছে। তারা যুদ্ধের পরের দিনটি নিয়ে ভাবছে... পুনর্গঠন প্রচেষ্টা, নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নতুন বিনিয়োগ নিয়ে ভাবছে। (পারস্য) উপসাগরের উভয় তীরেই চীন খুব সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায়।'



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।


ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।


তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।


বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।


ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।


মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।


সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।


অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৭ পিএম

ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।


কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’


সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।


সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।


ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।


হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।


কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।


সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।


সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।


পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।


 




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। 


অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।


এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।


শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।


ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।


ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।


বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।


ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।


এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।


বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।


রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।


এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

ইমরান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।


কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।


পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।


“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”


মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন। 


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।


ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।


২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।


পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।


১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।

সর্বশেষ সব খবর