যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৫ মে, ২০২৬, সময় : ১:২৭ এএম

যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা।


গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছেন, তবে এখনো চুক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো আগের প্রস্তাবটি নিয়ে হতাশা প্রকাশের এক দিন পর এ কথা বলেন ট্রাম্প।


গত বৃহস্পতিবার রাতে তেহরান ১৪ দফা প্রস্তাব পাকিস্তানকে পাঠায়। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যে ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, তার পাল্টায় ১৪ দফা প্রস্তাব তৈরি করে তেহরান।


ইরানে যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তেহরান চায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। আর ট্রাম্প চাইছেন ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ বন্ধ করুক। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করে ইরান। পরে ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ শুরু করে। যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেও নৌ অবরোধ চলতে থাকে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের জাহাজে হামলা, আটক এবং বাধা দেওয়ার ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবটিতে কী আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা গ্রহণ করবেন কি না।


ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে কী আছে


ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাবটি মূলত ওয়াশিংটনের দেওয়া ৯ দফা শান্তি পরিকল্পনার জবাব। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রস্তাবের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দুই মাসের একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। ইরানের এই ১৪ দফা পরিকল্পনা মূলত একটি বিস্তৃত শান্তিকাঠামো, যা শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে ইঙ্গিত করছে।


নতুন শান্তি প্রস্তাবে ইরান বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চেয়ে যুদ্ধ অবসানের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চায়। এ ছাড়া তারা ৩০ দিনের মধ্যে সব বিষয় নিষ্পত্তি করতে চায়।


নতুন প্রস্তাবে ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, শতকোটি ডলার মূল্যের জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, সব শত্রুতা বন্ধ (লেবাননসহ) এবং ‘হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।


গত বছরের জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছিল ইরান। দেশটি ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসন না হওয়ার নিশ্চয়তা চায়। ইসরায়েল এর আগে ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় নাশকতা চালিয়েছে।


ট্রাম্প কি এ প্রস্তাব গ্রহণ করবেন


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন, তিনি ইরানের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইরান বাজে আচরণ করলে ওয়াশিংটন নতুন করে হামলা শুরু করবে।


গত শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত আছেন।


কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেও আবার হামলা শুরু করা না–করা প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট আগের মতোই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।


হামলা আবার শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে সেটা আবারও ঘটার সম্ভাবনা আছে।’


ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো অবস্থানে’ আছে। তিনি দাবি করেন, ইরান সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। কারণ, কয়েক মাসের সংঘাত ও নৌ অবরোধে দেশটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন। কারণ, গত ৪৭ বছরে ইরান মানবজাতি এবং বিশ্বকে যে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে, তার জন্য যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি তারা।


কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মুসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের নতুন প্রস্তাবটি না পড়েই বা এর সম্পর্কে পুরোপুরি তথ্য না নিয়েই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।


আগের শান্তি প্রস্তাবগুলোতে কী ছিল


ইরানে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির এক দিন আগে তেহরান একটি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিকের প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানের ১০ দফা ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব’, তবে ‘যথেষ্ট ভালো নয়’।


২৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা ১৫ দফা পরিকল্পনার জবাবে গত ৭ এপ্রিল ইরান এ প্রস্তাব দিয়েছিল।


ওয়াশিংটনের ওই পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ ছিল। তাতে বলা হয়েছিল, এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করবে।


ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য বলছে, প্রস্তাবে নাতাঞ্জ, ইস্পাহান ও ফোরদোতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, ইরানের পক্ষ থেকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার স্থায়ী অঙ্গীকার, ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক অবকাঠামোর সব অংশ পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া, হরমুজ প্রণালি আবারও চালু করা এবং ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো ছিল। এ ছাড়া এতে জাতিসংঘের সেই ব্যবস্থার অবসান করার কথা বলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়।


তবে ইরান এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা বলেছিল, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে। এর পরিবর্তে তারা তাদের ১০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল।


বর্তমানে পরিস্থিতি কী


যুদ্ধবিরতি চলতে থাকলেও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শনিবার বলেছে, হামলার জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। কারণ, আগের চুক্তিগুলো মানার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনীহা দেখেছিল তারা।


গতকাল রোববার আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছে, ‘এটার অর্থ একটাই, তা হলো ট্রাম্পকে এখন অসম্ভব এক সামরিক অভিযান পরিচালনা অথবা ইরানের সঙ্গে একটি খারাপ চুক্তির মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প সুযোগগুলো কমে এসেছে।’


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম গেছে বেড়ে।


ইরানকে চাপ দিতে গত ১৩ এপ্রিল সব ইরানি বন্দরে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেল ও গ্যাস–সংকট আরও তীব্র হয়। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ২৯ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৬৫ ডলারের মতো।


ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে ‘খুব লাভজনক ব্যবসা’ বলার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে।


ট্রাম্প ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা পণ্যবাহী যান দখল করেছি। তেল দখল করেছি। এটি একটি খুব লাভজনক ব্যবসা। কে ভাবতে পেরেছিল যে আমরা জলদস্যুর মতো আচরণ করব! আমরা কিন্তু কোনো খেলা খেলছি না।’


এই মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘জলদস্যুতার এক নিন্দনীয় স্বীকারোক্তি’ বলে আখ্যা দেয়।


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি আল–জাজিরাকে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ট্রাম্পের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে এবং পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করছে।


ত্রিতা পারসি বলেন, ‘আলোচনা চলছিল এবং অবরোধ থাকুক বা না থাকুক, তা চলতে পারত।’


পারসি আরও বলেন, ‘নৌ অবরোধ ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং উল্টো এটি কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।’


তাঁর মতে, নৌ অবরোধ আরোপের আগে ট্রাম্প কূটনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন। যদি তিনি সেই অবস্থায় সময়কে কাজে লাগাতেন, তাহলে ইরানের বিপরীতে তিনি অনেক শক্ত অবস্থানে থাকতেন।


ট্রাম্প জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় একটি নৌ চলাচল বিষয়ক জোট গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ভাবছেন। এর নাম হতে পারে মেরিটাইম ফ্রিডম কন্সট্রাক্ট (এমএফসি)। এর উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।


যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটের মূল কাজ হবে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা, কূটনৈতিক সমন্বয় করা এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।



সর্বশেষ সব খবর

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১১ পিএম

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।


রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।


মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।


নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”


মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”


আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।


আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।


সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।


তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।


অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।


জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।


এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।


তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।


ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।


তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।


বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।


ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।


মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।


সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।


অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৭ পিএম

ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।


কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’


সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।


সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।


ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।


হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।


কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।


সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।


সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।


পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।


 




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। 


অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।


এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।


শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।


ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।


ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।


বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।


ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।


এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।


বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।


রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।


এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর