ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি সড়কে দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ছবি: রয়টার্স
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ ঘিরে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি চালু হবে। এরপর একটি চুক্তির জন্য আলোচনার টেবিলে বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। এই মধ্যস্থতার বিষয়ে জানাশোনা আছে—এমন একটি সূত্র গতকাল বুধবার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। এর আগে সূত্রের বরাতে একই তথ্য দেয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। এক পাতার ওই সমঝোতা স্মারকে থাকা ১৪ দফার কিছু অংশও প্রকাশ করেছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যে অগ্রগতি হচ্ছে, তার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া যাচ্ছিল। অ্যাক্সিওসে খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিত করছেন তিনি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত যদি সত্যিই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হয়, তা হবে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের জন্য স্বস্তির খবর। যেমন সমঝোতার সম্ভাবনার খবরেই গতকাল জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল কমে ১০০ ডলারের নিচে নামে। যুদ্ধের জেরে এই তেলের দাম দ্বিগুণ বেড়ে ১২০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। এ ছাড়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি প্রাণহানিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি তো হয়েছেই।
সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তাঁরা ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছেন। দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান চলছে। তবে প্রস্তাবের জবাব এখনো দেওয়া হয়নি। আর সূত্রের বরাতে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবে অগ্রহণযোগ্য কিছু বিষয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, তিনি আশা করছেন গতকালের ঘটনাগুলো ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তির দিকে অগ্রগতির পথ তৈরি করেছে। আশা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরান একটি জবাব দেবে।
৩০ দিনের আলোচনায় চূড়ান্ত চুক্তি
ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে এক টেবিলে বসাতে সফলও হয়েছিল তারা। সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। এরপর চেষ্টা করেও দুই পক্ষকে আর একসঙ্গে বসানো যায়নি। যদিও পাকিস্তানের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বার্তা আদান-প্রদানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
আড়ালের ওই বার্তা আদান-প্রদানের ফলেই এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল পাকিস্তানি একটি সূত্র রয়টার্সকে বলে, ‘আমরা এটি খুব তাড়াতাড়ি শেষ করব। আমরা কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ আর অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বাস করে, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ সম্ভব। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যমটির খবর অনুযায়ী, ওই সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হলে চূড়ান্ত একটি চুক্তি করতে দুই পক্ষ ৩০ দিনের আলোচনায় বসবে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এ আলোচনা হতে পারে।
খসড়া স্মারকের দফা অনুযায়ী, আলোচনার ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ তুলে নেবে ইরান। আর ইরানের বন্দরে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর ব্যত্যয় হলে আবার হামলা শুরু করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পও গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, হরমুজ চালু করার চুক্তিতে ইরান রাজি না হলে, ‘আরও বড় পরিসরে ও তীব্রতার’ সঙ্গে দেশটিতে হামলা চালানো হবে।
আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইরানের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার খুব কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের দাবি, ইরান এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায়। যদিও তেহরান বরাবরই বলে এসেছে, তারা কখনোই এমন অস্ত্র বানাবে না।
যুদ্ধ শুরুর পরও দুই দেশের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে অগ্রগতির খবর সামনে আসেনি। এখন অ্যাক্সিওস বলছে, খসড়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত ও পরমাণু অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দেবে ইরান। বিনিময়ে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। জব্দ থাকা ইরানের দুই হাজার কোটি ডলারও ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ইরান কত সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখবে, তারও একটি ধারণা দিয়েছে অ্যাক্সিওস। সূত্রের বরাতে তারা বলেছে, এই সময়টা ১২ বা ১৫ বছর হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। আর তেহরানের দাবি, সময়সীমাটা পাঁচ বছরে সীমিত রাখা হোক। সময়সীমা শেষে ইরান ৩ দশমিক ৬৭ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৫ সালে একটি পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। ২০১৯ সালে সেই চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে যান। তাই আবার দুই দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি অতটা সহজ হবে না বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬-এর সাবেক প্রধান জন সয়ার্স। বিবিসিকে তিনি বলেন, কিন্তু পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান এক বা দুই দিনের আলোচনায় হবে না। ২০১৫ সালের চুক্তির সময় প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনা চলেছিল।
লেবাননে নৃশংসতা থামছে না
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। প্রায় ছয় সপ্তাহ ওই অভিযানের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে যায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ২২ এপ্রিল ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেন ট্রাম্প। এরপর গতকাল এপিক ফিউরি অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ পর্ব শেষ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইছে—রুবিওর বক্তব্য তারও একটি ইঙ্গিত। তবে থামছে না ইসরায়েল। ৮ এপ্রিল থেকে তারা ইরানে হামলা বন্ধ রাখলেও লেবাননে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবানন সরকারের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতিকে পাশ কাটিয়ে গতকালও টায়ার, খিরবেত সেলমসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
লেবাননে এ নিয়ে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ফলে ইসরায়েল দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নির্মূলের কথা বললেও দেখা যাচ্ছে বেসামরিক মানুষই বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। গতকালও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ১২টি শহর থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরে যেতে বলেছে ইসরায়েল।
আসলে ইসরায়েলের জনগণই চায় না যুদ্ধ শেষ হোক। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ ইসরায়েলি চায়, ইরানের বিরুদ্ধে আবার পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে আসুক ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ‘ইরানে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর আরও একটি তালিকা আমরা প্রস্তুত করেছি। আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি, যেন ইরানে আবার একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত অভিযান শুরু করা যায়।’
হরমুজ চালু কতটা সহজ হবে
যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি দর-কষাকষিতে ইরানের মূল হাতিয়ার হলো হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পরই বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটি। যুক্তরাষ্ট্রেরও তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইরানের এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে পাল্টা চাপে ফেলতে ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে অবরোধ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এর লক্ষ্য ছিল ইরানে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ যাওয়া-আসা বন্ধ করা। এরপর আবার গত সোমবার হরমুজে প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণার পর প্রণালিটিতে সামরিক-বেসামরিক জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আবার উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ নিয়ে যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ ও এর আশপাশের জলসীমায় ২৬টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। তবে ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর বলেছে, হরমুজ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ পারাপার নিশ্চিত করা হবে। আর সমঝোতা স্মারকে ঐকমত্য হলে, দুই দেশই অবরোধ তুলে নিতে পারে।
হরমুজ পুরোপুরি চালু হলে হামলার শঙ্কা কমবে। এরপরও যুদ্ধের আগে যেমন দিনে প্রায় ১৪০টি জাহাজ প্রণালিটি পাড়ি দিত, সে পর্যায়ে পৌঁছানো অতটাও সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সাইমন মেয়ল আল-জাজিরাকে বলেন, ইরান এখন কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রেরও পথ বদলের ইতিহাস রয়েছে। ফলে সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষ যদি সই করে, তারপরও হরমুজ পাড়ি দিতে বেসামরিক জাহাজগুলো খুবই সতর্ক থাকবে। অনেকে প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে চাইবে না। এমন অবস্থায় তাদের মধ্যে ধাপে ধাপে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।