থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা
মানুষের ভালোবাসা ও ঘৃণা- থাকসিন সিনাওয়াত্রার জীবনে দুটিই সমানে সমান। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এই শতকের শুরুতে জনমুখী ও জনপ্রিয় নানা নীতির মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন।
এসব নীতির কারণে গ্রামীণ জনপদে তিনি ও তাঁর দল বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই সাফল্যের জন্য থাকসিনকে বড় মূল্যও দিতে হয়েছে। থাইল্যান্ডের ক্ষমতাবান শ্রেণি এবং রক্ষণশীল গোষ্ঠীর চোখে তিনি ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত, কর্তৃত্ববাদী এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী একজন নেতা। এ জন্য থাকসিন ও তাঁর পরিবারকে তারা প্রচণ্ড রকমের অপছন্দ করত।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় দুর্নীতির দায়ে থাকসিনের এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। আট মাস সাজা ভোগের পর গতকাল সোমবার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। গত দুই দশকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া থেকে শুরু করে একাধিক মামলায় দণ্ডিত হওয়া পর্যন্ত থাকসিনকে নানা রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এসব সংকট থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের প্রভাব শেষ করে দিতে পারত।
বিশ্লেষকদের মতে, থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখনো তাঁর দল ফিউ থাই পার্টির মূল নিয়ন্ত্রক। চলতি বছরের নির্বাচনে দলটি রেকর্ডসংখ্যক আসন হারালেও শেষ পর্যন্ত নতুন ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দিতে সক্ষম হয়েছে। থাকসিনের ভাগনে মন্ত্রিসভায় জায়গাও পেয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি বিশেষজ্ঞ পল চেম্বার্স মনে করেন, মুক্তি পাওয়ার পর থাকসিন এখন ফিউ থাই পার্টির কার্যক্রমে আরও সরাসরি ভূমিকা নেবেন। এ নিয়ে সংশয়ও আছে চেম্বার্সের। কারণ, থাকসিনের বয়স। ৭৬ বছর বয়সী থাকসিন এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতৃত্বে ফিরে আসার অবস্থায় নেই। তাই তিনি দলটির জনসমক্ষের নেতৃত্ব নিজের পরিবারের তরুণ প্রজন্মের হাতেই ছেড়ে দিতে পারেন বলে মনে করে চেম্বার্স।
২০০১ সালে এবং পরে আবার ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন থাকসিন। ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর দুই বছর পর তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান। তবে নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেও দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা কখনো বন্ধ করেননি।
দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অনুপস্থিত অবস্থায় দণ্ডিত হওয়ার পরও থাকসিন সিনাওয়াত্রা বারবার দেশে ফেরার কথা বলছিলেন। অবশেষে ২০২৩ সালের আগস্টে নিজ দল ফিউ থাই পার্টির ক্ষমতায় ফেরার দিনে তিনি দেশে ফেরেন। ব্যাংককে পৌঁছানোর পর তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে বীরের মতো স্বাগতও জানান।
দেশে ফেরার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তাঁর সাজা এক বছরে নামিয়ে আনেন। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে থাকসিন ব্যাংককে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। এতে ধারণা করা হয় যে তিনি আসলে কারাপ্রকোষ্ঠের ভেতরে থাকেননি।
গত সেপ্টেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, থাকসিন যথাযথভাবে সাজা ভোগ করেননি। এরপর আদালত তাঁকে আবার এক বছরের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ব্যবসা পরিচালনা থেকে দেশ পরিচালনায়
থাকসিন সিনাওয়াত্রার জন্ম ১৯৪৯ সালে উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই প্রদেশের প্রভাবশালী একটি চীনা অভিবাসী পরিবারে। তিনি প্রথমে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
পরে একের পর এক ডেটা নেটওয়ার্কিং ও মোবাইল ফোন কোম্পানি গড়ে বিপুল সম্পদের মালিক হন। এসব প্রতিষ্ঠানকে পরে টেলিকম প্রতিষ্ঠান শিন করপোরেশনে রূপান্তর করা হয়। ১৯৯৮ সালে থাকসিন রাজনীতিতে নামেন, গড়ে তোলেন থাই রাক থাই পার্টি। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেন।
এশিয়া অঞ্চলে আর্থিক সংকট চলার সময় থাইল্যান্ডের অর্থনীতি গভীর মন্দায় ডুবে ছিল। তখন থাইল্যান্ডের অন্যতম ধনী ব্যক্তি থাকসিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি নিজের ব্যবসায়িক দক্ষতা ব্যবহার করে গ্রামীণ দরিদ্র জনগণকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনবেন।
তাঁর ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এই অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। এরপরও ২০০৫ সালের নির্বাচনে থাকসিন বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। নগদ সহায়তা ও ঋণ মওকুফ নীতির কারণে গ্রামীণ ভোটারদের বড় অংশ তাঁকেই সমর্থন দিয়েছিল।
কিন্তু পরের বছর থেকে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে থাকসিন চাপে পড়েন। বিশেষ করে শিন করপোরেশনের শেয়ার বিক্রিতে করছাড় ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়।
কয়েক মাস ধরে গণবিক্ষোভ চলার পর ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর ট্যাংক ব্যাংককে ঢোকে এবং থাকসিনের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। থাকসিন তখন ছিলেন নিউইয়র্কে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে।
২০০৭ সালে তাঁর থাই সম্পদ জব্দ করা হলেও তিনি ইংল্যান্ডের ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি কিনে নেন। পরে আবুধাবি-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর কাছে সেটি বড় অঙ্কের মুনাফায় বিক্রিও করেন।
পারিবারিক রাজনীতি
২০০৬ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আদালতের আদেশে থাই রাক থাই দলটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে পরে সেটিই ফিউ থাই পার্টিতে রূপ নেয়। ২০১১ সালে থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তাঁকেও ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
অনেকের চোখে থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখনো ফিউ থাই পার্টির প্রকৃত নিয়ন্ত্রক। ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলটি দ্বিতীয় হয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারির ভোটে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
থাকসিন এমন এক সময়ে থাইল্যান্ডে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন, যখন ফিউ থাই পার্টি একটি জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ছিল। অনেকেই তখন এ জোট সরকারকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সমঝোতা’ হিসেবে দেখেছিল। এই জোটে সেনা-সমর্থিত দলগুলোও ছিল। এমনকি ২০১৪ সালে ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সাবেক সেনাপ্রধানও ছিলেন এই জোটে।
থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন পরে ফিউ থাই পার্টির নেতৃত্বে আসেন এবং ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রায় এক বছর পর সাংবিধানিক আদালত তাঁকে পদচ্যুত করেন।
এরপর রক্ষণশীল ভূমিজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল প্রধানমন্ত্রী হন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হন। এ সময় অনেকের মধ্যে ধারণা জন্ম নেয় যে অনুতিনের দল ও থাকসিনের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এতে দুই পক্ষ একজোট হয় এবং বিনিময়ে থাকসিনের মুক্তি নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্লেষক পল চেম্বার্সের মতে, থাইল্যান্ডের ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে নিজের পুরোনো অবস্থান এখন প্রগতিশীল পিপলস পার্টি এবং তাদের পূর্বসূরি দলগুলোর কাছে ছেড়ে দিয়েছেন থাকসিন। এসব দল রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনীতে সংস্কারের দাবি তুলেছে। বিশেষ করে ২০২৩-২০২৫ সালের জোট সরকারে ফিউ থাই পার্টি রাজতন্ত্রপন্থীদের সঙ্গে আপস করতে প্রস্তুত হওয়ার পর এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
চেম্বার্সের মতে, ‘বয়স্ক থাকসিন শক্তিতেও এখন অনেক দুর্বল। তিনি হয়তো এখন ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর জন্য কিছুটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য হতে পারেন, কিন্তু আগের মতো বড় চ্যালেঞ্জ আর নন।’
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।
নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”
আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।
আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।
তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।