ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা শুরু করে, তখন তেহরান আশপাশের আরব দেশগুলোয় পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় সৌদি আরবও হামলার শিকার হয়। এর জবাবে ইরানেও একাধিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
যদিও সৌদির এ হামলা চালানো হয়েছে বেশ গোপনে। বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা রয়েছে-এমন দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও ইরানের দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, ইরানের ভূখণ্ডে সৌদি আরবের এমন সরাসরি সামরিক অভিযানের খবর আগে কখনোই জানা যায়নি। কাজেই এটা স্পষ্ট করছে যে প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সৌদি আরব অনেক বেশি সাহসী হয়ে উঠছে।
ওই দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমানবাহিনী গত মার্চের শেষের দিকে অভিযান পরিচালনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের একজন বলেন, ‘সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ার পরই পাল্টা জবাব দিতে হামলার পথ বেছে নেয়।’
সৌদি আরবের এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। আর সৌদি সরকার এসব হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার কিংবা অস্বীকার-কোনোটাই করেনি। আদৌ হামলা চালানো হয়েছিল কি না, জানতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থাটি। এ বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি কিছু বলতে চাননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক রয়েছে সৌদি আরবের। নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য দেশটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক ছাতার নিচে থাকা সৌদি আরবকেও অরক্ষিত করে তুলেছে। ওই সময় মার্কিন সুরক্ষাবলয় ভেদ করেই সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে ইরান।
প্রতিবেশীদের পাল্টা আঘাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও দ্রুত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশে হামলা চালায়। এর মধ্যে সৌদি আরবও ছিল। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে।
ইরানের পক্ষ থেকে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোয় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নয়; বরং বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, তেল শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালি। এতে বাধাগ্রস্ত হয় বিশ্ববাণিজ্য। ক্ষতির মুখে পড়ে ইরানের তেলসমৃদ্ধ প্রতিবেশীরাও।
ওই সময় ইরানে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত-গত সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এর পরপরই সৌদি আরবের ‘গোপনে’ হামলার খবর জানাল রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সময়ে ইরানের হামলায় বিপর্যস্ত উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো যে পাল্টা আঘাত হেনেছে, সে খবর এত দিন অনেকটা আড়ালে ছিল। কিন্তু যুদ্ধের সময় দেশ দুটির (সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব) মনোভাব পুরোপুরি ভিন্ন দেখা গেছে। আরব আমিরাত বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। দেশটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ক্ষয়ক্ষতির মূল্য আদায় করতে চেয়েছে। তেহরানের সঙ্গে খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবকে সংঘাত আরও বাড়তে না দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উত্তেজনা প্রশমন, সংযম প্রদর্শন ও উত্তেজনা কমানোর পক্ষে আমরা আমাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি, যাতে এ অঞ্চল ও সৌদি আরবের জনগণের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।’
হামলা ও উত্তেজনা প্রশমন
সংশ্লিষ্ট ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানকে এসব হামলার কথা জানানো হয়েছে। আরও হামলা হলে কড়া পাল্টা জবাবের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এরপর দেশ দুটি নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে। উত্তেজনা কমিয়ে আনতে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছায়।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান-বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে সৌদি আরবের প্রতিশোধমূলক হামলা এবং এরপর উত্তেজনা কমিয়ে আনার পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ বাস্তবে উপলব্ধি করেছে যে নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য মূল্য ডেকে আনতে পারে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা প্রশমনের এ অনানুষ্ঠানিক চেষ্টা বাস্তব রূপ পায়। বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। জবাব মেলেনি।
ইরানের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, তেহরান ও রিয়াদ উত্তেজনা কমাতে রাজি হয়েছে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ‘শত্রুতা বন্ধ করা, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকানো’।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরব। আঞ্চলিক নানা সংঘাতে এত দিন দেশ দুটি পরস্পরবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সমর্থন করে এসেছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতার ফলে দেশ দুটি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে একমত হয়।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বেশির ভাগ উপসাগরীয় দেশ জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে গভীর সংকটে পড়ে। তবে লোহিত সাগর দিয়ে নৌ চলাচল উন্মুক্ত থাকায় জ্বালানি তেল রপ্তানি চালু রাখতে পেরেছে সৌদি আরব। এ কারণে যুদ্ধের মধ্যেও দেশটি অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক সুরক্ষিত থাকতে পেরেছে।
হামলা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
গত ১৯ মার্চ রাজধানী রিয়াদে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘প্রয়োজন মনে করলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।’ এর ঠিক তিন দিন পর রিয়াদে নিযুক্ত ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও ইরানি দূতাবাসের চারজন কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সৌদি আরব।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চের একেবারে শেষের দিকে এসে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসতে শুরু করে। দেশ দুটির মধ্যে একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়। এর পেছনে কাজ করেছিল পারস্পরিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং হামলা হলে কড়া পাল্টা জবাব দেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের হুমকি।
যদিও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। এপ্রিলের ১ থেকে ৬ তারিখে সংখ্যাটি নেমে দাঁড়ায় ২৫-এর কিছু বেশিতে।
ওই সময়ে ইরাকের ভূখণ্ড থেকেও সৌদি আরবে বেশ কিছু হামলা হয়েছিল। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশটির দিকে ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
এ পরিস্থিতিতে ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিশোধ নিতে নতুন করে ভাবতে শুরু করে সৌদি আরব। তবে দৃশ্যপটে হাজির হয় পাকিস্তান। সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে দেশটি। সেই সঙ্গে চলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, সংযমের আহ্বান। সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উত্তেজনা অনেকটা ফিকে হয়।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।
নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”
আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।
আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।
তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।