সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইরানের কট্টরপন্থীরা জোরালো আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এ চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ কিংবা হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য কামরান গাজানফারি বলেন, ‘তারা (ইরানের শাসকগোষ্ঠী) যে বলছে, আমরা জয়ী হয়েছি এবং যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে—এটা স্পষ্টতই মিথ্যা।’
কট্টরপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ভগ্নিপতি এবং রাজানিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেইসাম নিলি সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ‘বিপর্যয়কর আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইরানিদের নীরব না থাকার আহ্বান জানান।
সমালোচনার মুখে ইরানি কর্মকর্তারা পাল্টা জবাব দিয়েছেন। আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি এক অডিও বার্তায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।
মেহদি মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামানোর বিষয়টিও আছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো নতুন অঙ্গীকার করতে বাধ্য করা হয়নি।
ফলে ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ভেতরেই ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ মাত্রায় রূপান্তর করার মতো বিকল্প উপায়ও আছে। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মোহাম্মাদি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির খসড়া থেকে ‘ইরানি ব্যবস্থাপনা’ বাক্যাংশটি বাদ দেওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।
মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির সমালোচকদের বক্তব্য তথ্য ও ব্যাখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, সমালোচকেরা পুরোনো খসড়ার ভিত্তিতে মন্তব্য করছেন বলেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করে থাকা বিভিন্ন জাহাজ দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছোট মালবাহী জাহাজ বলে মনে হচ্ছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির রূপরেখায় এ বিষয়ে মাত্র একটি বক্তব্য আছে। সেটি হলো—ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং কিনবেও না।
মোহাম্মাদি বলেন, ‘এটাই আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি।’
মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানকে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে বেশি সুবিধা দেবে। ওই চুক্তি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছিল।
মোহাম্মাদির মতে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা রাখে।
মোহাম্মাদি বলেন, ‘এবার এমন নয় যে আমরা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেব এবং তারপর তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অপেক্ষায় বসে থাকব। এমন কোনো অলীক আশাবাদ আমাদের নেই। হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা চাইলে যেকোনো সময়, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এটি বন্ধ করে দিতে পারি।’
তবে চুক্তির রূপরেখায় বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থের অর্ধেক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, ‘আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কোনো অর্থ দেবে না। আরব দেশগুলো এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তারা তা দিতে বাধ্য। কারণ, আমরা তাদের চেয়ে শক্তিশালী। তারা এই অঞ্চলে আমাদের ক্ষমতা দেখেছে এবং আমাদের শক্তির জায়গাটা উপলব্ধি করতে পেয়েছে।’
মোহাম্মাদি আরও দাবি করেন, ‘এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, আরব দেশগুলো ইরানের সার্বভৌমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে এবং বিভিন্ন ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।’
ইরানে যাঁরা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সমালোচনা করছেন, তাঁরা মূলত পার্লামেন্টের একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটি পেদারি ফ্রন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আছেন জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির কট্টরপন্থী সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান, প্রভাবশালী ভাষ্যকার ও কায়হান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি।
চুক্তিবিরোধীরা তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভও করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উই উইল নট অ্যাকসেপ্ট’ (আমরা মেনে নেব না) হ্যাশট্যাগ প্রচার শুরু করেছে।
তবে সরকারের সমর্থকেরা বলছেন, পেদারি ফ্রন্ট মূলত যেকোনো ধরনের সমঝোতারই বিরোধী এবং তারা সাধারণ ইরানি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁদের মতে, অধিকাংশ ইরানি বোঝেন যেকোনো পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাধারণত সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না।
এক খোলাচিঠিতে হোসেন শরিয়তমাদারি লিখেছেন: ‘গালিবাফ ও আরাগচির কাছে আমাদের কাছে জানতে চাইতে হবে যে রমজান যুদ্ধের (১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপুর যুদ্ধ) সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াটা কি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার ছিল না? প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়ে কি শত্রুর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ রুদ্ধ করে তাকে প্রায় শ্বাসরোধের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়নি? তাহলে কোন যুক্তি এবং কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এ ভদ্রলোকেরা এমন একটি ভাগ্যনির্ধারক হাতিয়ার ছেড়ে দিতে যাচ্ছেন?’
কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান কার্যত পেদারি ফ্রন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। তিনিও প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।
নাবাভিয়ান প্রশ্ন তোলেন: ‘তাহলে কি ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজও অবাধে চলাচল করতে পারবে? এটি তো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেরই প্রস্তাব। এখন থেকে শুধু সামরিক নয়, ইসরায়েলের সব জাহাজ এবং সব শত্রু দেশের জাহাজও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে।’
চুক্তিবিরোধীদের এতটা স্বাধীনতা দেওয়া নিয়ে ইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে—যদি সরকার এই গোষ্ঠীকে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়, তাহলে চুক্তির সমর্থকদেরও একই ধরনের স্বাধীনতা দিতে হবে। তখন পরিষ্কার হয়ে যাবে যে অধিকাংশ ইরানি জনগণ চুক্তি করার ব্যাপারে সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করে। আর সংখ্যালঘু একটি গোষ্ঠী চিৎকার-চেঁচামেচি করে, রাষ্ট্রীয় রেডিও-টেলিভিশন ব্যবহার করে কিংবা সমাবেশের অপব্যবহার করে তাদের ইচ্ছা সরকার ও জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।
কট্টরপন্থীদের এই সমালোচনা পরোক্ষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে। কারণ, তিনি এই চুক্তিটিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা চুক্তির চেয়ে ভালো বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।
তবে বাস্তবে দুটি চুক্তির সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কারণ, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত আকারের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। আর এ সমঝোতা স্মারকে মূলত যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে যে তিনি একটি ব্যয়বহুল, অস্থিতিশীল এবং কথিতভাবে অবৈধ যুদ্ধের মাধ্যমে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন, যা কূটনৈতিক পথেই অর্জন করা যেত।
ট্রাম্পকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে এই চুক্তিটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার করা চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। ট্রাম্প নিজেই ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।
নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”
আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।
আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।
তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।